ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ১০ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। এদিকে, যুদ্ধ চতুর্থ বছরে পদার্পণ করার পরও যখন যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনা চলছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার বলেছেন যে রাশিয়ার রাতের হামলায় এক ডজনেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে সাতটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন, ‘‘এটা গুরুত্বপূর্ণ যে এখন সবাই দেখুক রাশিয়া কী করছে... কারণ এটি স্পষ্টতই যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে নয়।’’ তিনি যোগ করেন, ‘‘তাদের লক্ষ্য এখনও আমাদের রাষ্ট্রকে ধ্বংস করা এবং আমাদের জনগণের ওপর সর্বোচ্চ যন্ত্রণা দেওয়া।’’
কিয়েভ এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা বারবার বলেছে যে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিডকে অকেজো করে দিতে চাইছে এবং টানা চতুর্থ শীতকালে বেসামরিক নাগরিকদের তাপ, আলো এবং চলমান জল থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা একে শীতকালকে ‘‘অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা’’ বলে অভিহিত করেছেন।
রাশিয়ার খেরসন আঞ্চলের প্রধান ওলেক্সান্ডার প্রকুদিন-এর মতে, রাশিয়ার আক্রমণে আঞ্চলিক রাজধানী খেরসন সহ খেরসন অঞ্চলের কিছু অংশ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।
রাশিয়ার সারাতোভ অঞ্চলে ড্রোন হামলা
দক্ষিণ-পশ্চিমের রাশিয়ার সারাতোভ অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ, যেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুশ সেনা ঘাঁটি রয়েছে, জানিয়েছে যে একটি ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হয়েছে এবং একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি কিন্ডারগার্টেন এবং ক্লিনিকেও কয়েকটি জানালা উড়ে গেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা রাতে রাশিয়ার ভূখণ্ডের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ৪১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে।
এই সর্বশেষ আক্রমণগুলি এমন সময়ে ঘটল যখন ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ গতকাল শুক্রবার বলেছেন যে রাশিয়ার পুলিশ এবং ন্যাশনাল গার্ড পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাসে (যা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চল নিয়ে গঠিত) থেকে যাবে এবং শিল্প-সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের তত্ত্বাবধান করবে, এমনকি যদি একটি শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রায় চার বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আলোচনা চলতে থাকায় ইউক্রেন যুদ্ধের পরে ডনবাসে মস্কোর উপস্থিতি বজায় রাখার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
শান্তি প্রচেষ্টার গতি বাড়ায় এবং ইউরোপীয় নেতারা আলোচনার পথ নির্দেশ করতে চাওয়ায়, জার্মানি আগামীকাল সোমবার আলোচনার জন্য জেলেনস্কিকে আতিথ্য দিতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির জন্য চাপ দেওয়ায়, মার্কিন আলোচকরা কয়েক মাস ধরে প্রতিটি পক্ষের দাবিগুলি সমন্বয় করার চেষ্টা করছেন।
রাশিয়ার বাহিনী দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড কার হাতে থাকবে, এটি নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতা প্রধান বাধার সম্মুখীন হয়েছে। ইউক্রেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় শক্তিগুলি এখনও কিয়েভের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার রূপরেখা তৈরি করার চেষ্টা করছে যা মস্কোর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায়, সম্প্রতি কৃষ্ণ সাগরে শত্রুতা তীব্র হয়েছে।
রাশিয়ার বাহিনী ইউক্রেনের দুটি বন্দরে আক্রমণ করেছে এবং তিনটি তুর্কি মালিকানাধীন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার মধ্যে খাদ্য সরবরাহ বহনকারী একটি জাহাজও ছিল।
ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পুনর্গঠন মন্ত্রী ওলেক্সেই কুলেবার মতে, গতকার শুক্রবার ওডেসা শহরে হামলায় বন্দরের শস্য সাইলোতে আগুন লেগে যায়।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান শনিবার সতর্ক করে দিয়েছেন যে কৃষ্ণ সাগরকে ‘‘সংঘর্ষের এলাকায়’’ পরিণত করা উচিত নয়।
এরদোয়ান বলেন, ‘‘কৃষ্ণ সাগরে সকলের নিরাপদ চলাচল প্রয়োজন,’’ এবং তিনি বন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাগুলিতে আক্রমণের উপর একটি ‘‘সীমিত যুদ্ধবিরতি’’-এর আহ্বান জানান। ইউক্রেনের শস্য এবং রাশিয়ার তেল ভূমধ্যসাগরের দিকে পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ বসফরাস প্রণালী তুরস্ক নিয়ন্ত্রণ করে। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি
মাহফুজ/