যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে আত্মত্যাগের অঙ্গীকার করা দম্পতিদের নিয়ে রাজধানী তেহরানে গণবিয়ের আয়োজন করেছে ইরান। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শতাধিক নবদম্পতি অংশ নেন।
গত সোমবার (১৮ মে) রাতে তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়।
এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ইমাম হোসেন স্কয়ারেই ১১০টির বেশি দম্পতির বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানায় ইরানি সংবাদমাধ্যম।
যুদ্ধকালীন মনোবল বাড়াতে অনুষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও সম্প্রচার করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী দম্পতিরা ‘জানফাদা’ বা আত্মত্যাগ কর্মসূচিতে নাম লিখিয়েছেন।
এই কর্মসূচির আওতায় অংশগ্রহণকারীরা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবন উৎসর্গের প্রস্তুতির অঙ্গীকার করেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় মানবঢাল গঠন করাও এর অংশ হতে পারে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-সহ লাখো মানুষ এই কর্মসূচিতে নাম নিবন্ধন করেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দম্পতিরা মেশিনগান সংযুক্ত সামরিক জিপে করে অনুষ্ঠানে আসছেন। ধর্মীয় নেতার উপস্থিতিতে মঞ্চে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মঞ্চজুড়ে ছিল বেলুন ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বিশাল প্রতিকৃতি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহরের প্রকাশিত ভিডিওতে এক নববধূ বলেন, “দেশ হয়তো যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, কিন্তু তরুণদের বিয়ে করার অধিকারও আছে।”
আরেক বর জানান, হজরত আলী (রা.) ও হজরত ফাতিমা (রা.)-এর বিবাহবার্ষিকীর দিনে বিয়ে করতে পেরে তারা আনন্দিত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন। এর মধ্যেই ইরানের এই আয়োজন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: জিও নিউজ
অমিয়/