ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

কনডেম সেলে রাখা নিয়ে রায় স্থগিত

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ০৯:১৮ পিএম
কনডেম সেলে রাখা নিয়ে রায় স্থগিত
ছবি : সংগৃহীত

মৃত্যুদণ্ডের আদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিদের কনডেম সেলে বন্দি রাখা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। 

বুধবার (১৫ মে) রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত রায় স্থগিত ঘোষণা করেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। এ সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করতে বলা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং রিটের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বক্তব্য উপস্থাপন করেন। 

মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিদের কনডেম সেলে বন্দি রাখা কেন অবৈধ ও বেআইনি হবে না এবং কেন জেল কোডের ৯৮০ বিধি অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে গত বছর ৫ এপ্রিল রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কনডেম সেলে থাকা বন্দিদের বিষয়ে ৬ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রুলের শুনানি শেষে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিদের কনডেম সেলে বন্দি রাখা অবৈধ এবং জেল কোডের ৯৮০ বিধি অসাংবিধানিক উল্লেখ করে গত সোমবার রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে কনডেম সেলে থাকা বন্দিদের সাধারণ সেলে আনতে দুই বছর সময় দেন হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের বেঞ্চ। 

চট্টগ্রাম কারাগারে কনডেম সেলে থাকা জিল্লুর রহমানসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন বন্দির পক্ষে দুই বছর আগে এ রিট করেন আইনজীবী শিশির মনির। অপর দুই বন্দি হলেন সিলেট কারাগারে থাকা সুনামগঞ্জের আব্দুর বশির ও কুমিল্লা কারাগারে থাকা খাগড়াছড়ির শাহ আলম। রিটে মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার আগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কনডেম সেলে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।

বেনজীরের আরও ১১৯ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৫:২৪ পিএম
বেনজীরের আরও ১১৯ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা আরও ১১৯টি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

রবিবার (২৬ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আসসামছ জগলুল হোসেন এ নির্দেশ দেন। 

দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ২৩ মে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত বেনজীর আহমেদের ৮৩টি দলিলের সম্পদ জব্দের নির্দেশ এবং তার স্ত্রী ও মেয়ের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবগুলোও অবরুদ্ধ করতে আদেশ দিয়েছিলেন।

এর আগে, গত ২২ এপ্রিল বেনজীরের দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাউদ্দিন রিগ্যান হাইকোর্টে রিট করেন।

সম্প্রতি ‘বেনজীরের ঘরে আলাদিনের চেরাগ’ শিরোনামে একটি জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পুলিশের সাবেক আইজিপি ও র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের সাহাপুর ইউনিয়নে সাভানা ইকো রিসোর্ট নামে অভিজাত ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র। আর তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি কোম্পানি থাকার কথা উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকে চিঠি দেন জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। 

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ৩৪ বছর ৭ মাস চাকরি করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে অবসরে যান। অবসর গ্রহণের পর দেখা যায়, বেনজীর আহমেদের স্ত্রী ও কন্যাদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে, যা তার আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক।

বেনজীর আহমেদ তার পদের অপব্যবহার করে আয়ের তুলনায় প্রতিবেদনে উল্লিখিত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করেছেন বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, চিঠিতে জানান সুমন। 

এমন পরিস্থিতিতে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী, বড় মেয়ে এবং ছোট মেয়ের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ সংগ্রহের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে দুদককে অনুরোধ করেন তিনি।

আইনের প্যাঁচে দিশেহারা বর্ণা!

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:২৯ পিএম
আইনের প্যাঁচে দিশেহারা বর্ণা!
প্রতীকী ছবি

উচ্চ আদালতের রায়ের পরও দেনমোহরের মামলার কোনো স্থায়ী সমাধান পাচ্ছেন না মাদারীপুরের বালিয়া গ্রামের সুবর্ণা আক্তার বর্ণা। মাদারীপুর জেলা পারিবারিক আদালত এবং পরে হাইকোর্টের রায়ের পরও শেষ হয়েও হলো না বিচার!

মাদারীপুর জেলার বালিয়া গ্রামের অনাথ মেয়ে সুবর্ণা আক্তার বর্ণা। ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল পুলিশে কর্মরত মফিজুল ইসলাম রিপনের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন দাবিতে সুবর্ণাকে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করতো।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৩ মে নির্যাতন চরম আকার ধারণ করে। ওইদিন স্বামীসহ পরিবারের লোকজন বর্ণাকে মারধর করে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

পরে এ বিষয়ে মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। যার নম্বর ২১৫/১৭, তারিখ ২৫-০৫-২০১৭। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর এই মামলায় ঘোষিত রায় তার বিপক্ষে যায়।

অপরদিকে মাদারীপুর জেলা পারিবারিক আদালতে দায়ের করা মামলায় (নং-২৫/২০১৭) বিবাদী মফিজুল ইসলাম রিপনকে স্ত্রীর মোহরানার টাকা পরিশোধের রায় ঘোষণা করেন বিচারক। 

পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মফিজুল ইসলাম রিপন। কিন্তু হাইকোর্ট তার আপিল বাতিল করে সুবর্ণা আক্তারকে প্রাপ্য মোহরানা থেকে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। 

পরে হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা করতে পুনরায় মাদারীপুর জেলা আদালতে আবেদন করেন মফিজুল ইসলাম রিপন। 

মাদারীপুর জেলা পারিবারিক আদালত মফিজুলকে অনতিবিলম্বে দুই লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। 

নিম্ন আদালতের এই নির্দেশের পর এই রায়ের বিরুদ্ধে মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন মফিজুল। পরে চলতি বছরের ২৮ মার্চ ওই আদালতের বিচারক মো. ইসমাইল হোসেন মফিজুল ইসলাম রিপনকে প্রাপ্য মোহরানার টাকা প্রতিমাসে পাঁচ হাজার করে পরিশোধের নির্দেশ দেন।

রায়ে যদি ধরে নেওয়া হয়, বিবাদী অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সময়সীমা অনুসরণ করবে তাহলেও এই হারে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করতে আট বছর চার মাস সময় লাগবে। বিভিন্ন অজুহাতে এই সময়সীমা আরও বেড়ে যেতে পারে।

ফলে প্রক্রিয়াটি অসহায় বাদীর জন্য খুবই কষ্টকর ও হয়রানিমূলক হবে। 

আইনের প্যাঁচে বিবাদী অনির্দিষ্টকাল বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে বলে মনে করেন বাদী। 

তিনি মনে করেন, মফিজুল ইসলাম রিপন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নানা অপকৌশলের মাধ্যমে ক্রমাগত ন্যায্য বিচার লাভ ও প্রতিকার লাভের সকল উপায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে। 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে এর প্রতিকার চেয়েছেন সুবর্ণা আক্তার বর্ণা।

এমপি আনার হত্যা, ৩ আসামি রিমান্ডে

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৫:৪৬ পিএম
এমপি আনার হত্যা, ৩ আসামি রিমান্ডে
ছবি : খবরের কাগজ

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (২৪ মে) আদালত এই নির্দেশ দেন। আসামিদের রিমান্ড চেয়ে পুলিশের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত এ আদেশ দেন।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (আদালতে দায়িত্বরত) এসআই জালাল উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, রিমান্ড শুনানিতে কোনো আইনজীবী আসামিদের পক্ষে দাঁড়াননি।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি আব্দুস সাত্তার দুলাল বলেন, এই ঘটনাটি নৃশংস। কাউকে এভাবে হত্যা করা যায় ভাবলে গা শিউরে ওঠে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অবশ্যই এ মামলায় রিমান্ড পাওয়া উচিৎ। আর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো শিলাস্তি রহমান আদালতের কাছে দাবি করেন, এসব ঘটনার কিছুই তিনি জানেন না।

পুলিশের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আদালত আসামিদের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুক্রবার (২৪ মে) তাদেরকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুল ইসলাম আদালতে এই রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তিন আসামি হলেন- শিমুল ভূইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভূইয়া ওরফে আমানুল্যা সাইদ, তানভীর ভূইয়া ও শিলাস্তি রহমান।

উল্লেখ্য এমপি আনার গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে। ১৩ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন আনার।

পরে গত ১৮ মে বরাহনগর থানায় আনার নিখোঁজের বিষয়ে একটি জিডি করেন তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস। এরপরও খোঁজ মেলেনি তিনবারের এই সংসদ সদস্যের। তিনদিন পর গত ২২ মে গণমাধ্যমে খবর আসে, কলকাতার পার্শ্ববর্তী নিউটাউন এলাকায় বহুতল সঞ্জীবা গার্ডেনস নামে একটি আবাসিক ভবনের বিইউ ৫৬ নম্বর রুমে আনার খুন হয়েছেন। তবে এখনও তার মরদেহের সন্ধান মেলেনি।

এদিকে এমপি আনার নিখোঁজের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ মে রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় অপহরণ মামলা করেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। মামলায় তিনি কাউকে আসামি করেননি। পরে পুলিশ আটক এই তিনজনকে এই মামলায় আসামি করে।

মামলার এজাহারে ডরিন উল্লেখ করেন, ৯ মে রাত ৮টার দিকে আমার বাবা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সংসদ সদস্য ভবনের বাসা থেকে গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ১১ মে ৪টা ৪৫ মিনিটে বাবার সঙ্গে মোবাইলে ভিডিও কলে কথা বললে বাবার কথাবার্তায় কিছুটা অসংলগ্ন মনে হয়। এরপর বাবার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলে বন্ধ পাই।

‘১৩ মে আমার বাবার ভারতীয় নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ আসে। মেসেজে লেখা ছিল- ‘আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সঙ্গে ভিআইপি আছে। আমি অমিত শাহের কাছে যাচ্ছি। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নেই। পরে ফোন দেবো।’

‘এ ছাড়াও আরও কয়েকটি মেসেজ আসে। মেসেজগুলো বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা করে থাকতে পারে।’

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আমরা বিভিন্ন জায়গায় বাবার খোঁজখবর করতে থাকি। আমার বাবার কোনো সন্ধান না পেয়ে বাবার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস কলকাতার বারানগর পুলিশ স্টেশনে সাধারণ ডায়েরি করেন। বাবাকে খোঁজাখুজি অব্যাহত রাখি। পরবর্তীসময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাবাকে অপহরণ করেছে। বাবাকে সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুজি করেও পাইনি।

মাহমুদুল আলম/এমএ/

 

পি কে হালদারের দুই সহযোগীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০১:২৩ এএম
পি কে হালদারের দুই সহযোগীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে গ্রেপ্তার পি কে হালদারের সহযোগী ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তৎকালীন দুই পরিচালক বাসুদেব ব্যানার্জি ও তার স্ত্রী পাপিয়া ব্যানার্জিকে ৪ জুনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। 

তাদের জামিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ মে) এ নির্দেশ দেন আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। শুনানিতে দুদকের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। বাসুদেব ব্যানার্জি ও পাপিয়া ব্যানার্জির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী। 

গত ৯ মে পৃথক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বাসুদেব ব্যানার্জি ও পাপিয়া ব্যানার্জির ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের বেঞ্চ। জামিনের শর্ত ছিল পাসপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তারা বিদেশ যেতে পারবেন না।

হাইকোর্টের দেওয়া এ জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে দুদক আবেদন করলে ১৩ মে তা মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আদেশ সংশোধন ও প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করে আসামিপক্ষ। শুনানি শেষে তাদের ৪ জুনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেন সর্বোচ্চ আদালত।

জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২১ সালে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

বেনজীরের ৩৩ অ্যাকাউন্টসহ সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ০৯:৪৬ পিএম
বেনজীরের ৩৩ অ্যাকাউন্টসহ সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের ২৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ মোট ৩৩টি অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আস্ সামছ জগলুল হোসেনের আদালত এই নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু রাতে খবরের কাগজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তিনি বলেন, ওই সময় আমি এই আদালতে উপস্থিত ছিলাম না। অন্য একটি মামলায় অন্য একটি আদালতে ছিলাম। আদালত থেকে বের হয়ে বিষয়টি জেনেছি।

আদালতসূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীরের ৮৩টি দলিলের সম্পদ জব্দের আদেশ দেন আদালত।

সম্প্রতি ‘বেনজীরের ঘরে আলাদিনের চেরাগ’ শিরোনামে একটি জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পুলিশের সাবেক আইজিপি ও র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের সাহাপুর ইউনিয়নে সাভানা ইকো রিসোর্ট নামে অভিজাত ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র। আর তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি কোম্পানি থাকার কথা উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বেনজীরকে ঘিরে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতে বেনজীর আহমেদের বাড়ি ও দামি ফ্ল্যাটের খোঁজ পাওয়া গেছে। ঢাকার কাছের এলাকায় তার বিঘার পর বিঘা জমি রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুই মেয়ের নামে বেস্ট হোল্ডিংস ও পাঁচতারা হোটেল লা মেরিডিয়ানের রয়েছে দুই লাখ শেয়ার, পূর্বাচলে রয়েছে ৪০ কাঠার সুবিশাল জায়গাজুড়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি, যার আনুমানিক মূল্য কমপক্ষে ৪৫ কোটি টাকা। একই এলাকায় আরও আছে ২২ কোটি টাকা মূল্যের ১০ বিঘা জমি। যদিও ৩৪ বছর ৭ মাসের দীর্ঘ চাকরিজীবনে বেনজীর আহমেদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট আয় মাত্র ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ টাকার মতো হওয়ার কথা।

প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকে চিঠি দেন জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ৩৪ বছর ৭ মাস চাকরি করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে অবসরে যান। অবসর গ্রহণের পর দেখা যায়, বেনজীর আহমেদের স্ত্রী ও কন্যাদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে, যা তার আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক।

বেনজীর আহমেদ তার পদের অপব্যবহার করে আয়ের তুলনায় প্রতিবেদনে উল্লিখিত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করেছেন বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, চিঠিতে জানান সুমন। এমন পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী, বড় মেয়ে এবং ছোট মেয়ের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ সংগ্রহের জন্য তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদককে অনুরোধ করেন তিনি।