ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

বাংলাদেশেই উঠেছিল ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা!

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ০১:৩৭ পিএম
বাংলাদেশেই উঠেছিল ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা!

কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জনজীবনে স্বস্তি নেমে এলেও এর আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা চলে তাপপ্রবাহ। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল মানুষ। হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছিল।

গত ৩০ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলার ইতিহাসে এটি ছিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। আর দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। চুয়াডাঙ্গায় সেদিন যেন বাতাসে অদৃশ্য আগুন জ্বলছিল। পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়ায় জেলার অধিকাংশ গ্রামের টিউবওয়েলে পানি উঠছিল না। এ ছাড়া পানি দিয়েও রক্ষা করা যায়নি আবাদ করা সবজি। শুকিয়ে গিয়েছিল সড়কের পাশে লাগানো বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছসহ গাছের পাতা।

দেশ স্বাধীনের পর রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা থেকে জানা যায়, স্বাধীনতার পর দেশে এ যাবৎকালের রেকর্ড সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠেছিল। ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে এ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল। মূলত, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বছরের এই সময়ে চুয়াডাঙ্গাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বরাবরই অসহনীয় তাপমাত্রা বিরাজ করে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বাংলাদেশের বেশির ভাগ স্থানেই মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে সূর্যের কিরণ বা রশ্মি লম্বালম্বিভাবে এসে পড়ে। অল্প কিছু এলাকায় বাঁকাভাবে পড়ে। আরও সহজ করে বলতে গেলে, এপ্রিল মাসে সূর্য থেকে বাংলাদেশের অবস্থান অন্য সময়ের তুলনায় সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে। যার কারণে সূর্যের তাপ বেশি পরে এই অঞ্চলে।
চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এবং উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, দিনাজপুর, নওগাঁ এলাকার বাতাস উত্তপ্ত থাকার আরেকটি কারণ হলো ‘লু হাওয়া’। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারতের দিল্লি, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান। এ সময় ওখানের তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করে। চুয়াডাঙ্গাসহ ওইসব জেলা দিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে ভারত থেকে যে গরম বাতাস বা লু হাওয়া প্রবেশ করে তা বাংলাদেশের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

কলি 

আহত জীবনের রং

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০১:৩৭ পিএম
আহত জীবনের রং

কবিতার মতো সুন্দর একটা বিকেল। মসজিদের গম্বুজে সূর্যের আলোর প্রতিবিম্ব। এমন সুন্দর বিকেলে মন উদাস হয়ে যায়। মনে হয় জীবনটা যদি বিকেলের মতো সুন্দর, স্নিগ্ধ আর মুগ্ধময় হতো!

নুরুন্নাহার ছেঁড়া কাঁথায় মুখ গুঁজে বসে আছে। ভাঙা জানালা দিয়ে তেরছাভাবে ঘরে ঢুকছে বিকেলবেলার রোদ। সাধারণত বিকেল বেলায় রোদের তেজ কম থাকে। সামান্য তেজ আর মুগ্ধতার মিশ্রণে দিনের শেষবেলা মুগ্ধময় হয়ে ওঠে। কিন্তু আজকাল গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। সূর্য ডুবে গেলেও গরমের রাজত্ব যেন একটুও নড়চড় হয় না। এমন রৌদ্রদগ্ধ সময়ে নুরুন্নাহারের শীত লাগছে। কাঁথার মধ্যেই আড়মোড়া দিয়ে আবার গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকে।

পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। খাবার মতো ভাত পাতিলে আছে। গত রাতের বেঁচে যাওয়া ছোট মাছের ঝোল আর ডাল ভর্তা আছে। সকালে ফুলির মা একবাটি কবুতরের গোশত দিয়ে বলে গেছে- ‘পোয়াতি মাইয়াগো ভালো ভালো খাওন লাগে। এতদিন নিজের খাবার খাইছো। কিন্তু এহন তো দুইজনেরটা খাওন লাগব। তোর সোয়ামীটা কি মানুষ, না অন্য কিছু নাহার!’ নুরুন্নাহার কিছু বলেনি। নির্বিকার তাকিয়ে ছিল বস্তির শেষ মাথার দিকে। তারপর যাওয়ার সময় ফুলির মা নুরুন্নাহারের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে গেছে- ‘ভাত দুগা খাইয়া লইস, নাইলে অসুস্থ হইয়া যাবি তো, যে আইতাছে হেরে সুস্থমতো পৃথিবীতে আনা লাগবে না!’ নুরুন্নাহার হুহু কেঁদে উঠে বলে- ‘খালা আমার জীবনটা এমন কেন?’ কী সান্ত্বনা দেবে ফুলির মা বুঝে উঠতে পারে না। কিছুক্ষণ নাহারের মাথাটা কোলে নিয়ে বসে থেকে চলে যায়।

নুরুন্নাহারের খেতে ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে সে মরে যাবে, পৃথিবীতে জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটুকু ছাড়ছে। মরে যাওয়ার আগে মানুষের ইচ্ছে করে আরও কয়েকটা দিন বাঁচতে। কিন্তু নুরুন্নাহারের বাঁচতেও ইচ্ছে করছে না। ইচ্ছে করছে দ্রুত এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে। নুরুন্নাহার ভাবে- আমি যদি মারা যাই, তাহলে আমার ভেতরে যে আছে সে তো পৃথিবীতে আসতে পারবে না! ভাবতেই দুচোখ জলে ভরে যায় তার।

সূর্য ডুবে গেছে। আজকে মনে হয় বৃষ্টিও হবে। ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। এমন সময় উঠানে ছপছপ পানির শব্দ হয়। মতি মিয়া আসছে। মতি ঘরে ঢুকেই স্পষ্ট ভাষায় গালাগাল শুরু করবে হয়তো। নাহার তা শোনার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু সে অবাক হয়ে দেখল, মতি ঘরে ঢুকে সোজা ভাতের পাতিলের কাছে চলে গেল। কোনো শব্দ করল না। বেচারার মনে হয় ক্ষুধা বেশিই লাগছে আজকে। মতি মিয়ার গালির বর্ষণ শুরু হয় আরও কিছুক্ষণ পরে, তরকারির বাটিটা হাতে নেওয়ার পরে যখন বাসি গন্ধে নাক-মুখ কুঁচকে যায়। বাটিটা মেঝেতে ছুড়ে দিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে নাহারের উপর। চুল ধরে টান দিয়ে চৌকি থেকে নিচে ফেলে দেয়। চৌকির কোণায় লেগে কপাল খানিক কেটে যায় তার। সেখান থেকে রক্ত বের হচ্ছে। এই মুহূর্তে উঠে বসার মতো অনুভূতি কিংবা শক্তি কিছুই তার নেই। চোখের কোণ বেয়ে শান্তভাবে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু। নুরুন্নাহার কল্পনায় আগত সন্তানের চেহারা দেখার চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছুতেই দেখতে পারছে না। বারবার শুধু মতি মিয়ার রোদেপোড়া তামাটে রুক্ষ চেহারাখানা ভেসে উঠছে।

নুরুন্নাহারের এই মুহূর্তে জানতে ইচ্ছে করছে- ‘মতি কি এখনো তাকে ভালোবাসে!’

রাত কয়টা বাজে ঠিক জানা নেই। মতি এতক্ষণ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে এখন পাথরের মূর্তির মতো বসে আছে। তার সামনে পড়ে আছে নুরুন্নাহারের নিথর শরীর। একজন কাঠখোট্টা রুক্ষ মানুষের বুকের ভেতর তিরতির করে ভালোবাসা বেড়ে ওঠে। কিন্তু পারিবারিক দুরবস্থা, আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে সেসব ভালোবাসা বেশির ভাগ সময়ই প্রকাশ পায় না। শোকের দিনগুলোয় তা অশ্রু হয়ে গড়িয়ে পড়ে! 

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ, ঢাকা। 

কলি

ফ্যাকাশে হয়ে গেছে প্রবাল প্রাচীর

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০১:৩৩ পিএম
ফ্যাকাশে হয়ে গেছে প্রবাল প্রাচীর
পৃথিবীর তাপমাত্রা আর ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে সারা বিশ্বে থাকা প্রবালগুলোর বেশির ভাগই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে ।(সংগৃহীত)

প্রবাল এক ধরনের অমেরুদণ্ডী সামুদ্রিক প্রাণী। প্রবালকে বলা হয় সমুদ্রের স্থপতি। বহিরাবরণ শক্ত হওয়ার কারণে অনেক সময় একে ভুল করে পাথর ভাবা হয়। পলিপ নামের অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণীর সমন্বয়ে তৈরি হয় একেকটি প্রবাল।

সাধারণত গভীর সমুদ্র যেখানে আলো প্রায় পৌঁছায় না বললেই চলে, সেখানে রংবেরঙের বিভিন্ন প্রজাতির প্রবালের দেখা মেলে। এদের দেহ নিঃসৃত ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3) জমাট বেঁধে কঠিন বহিঃকঙ্কাল তৈরি করে।

প্রবাল সমুদ্রের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক। প্রবালের বিশাল কাঠামোয় প্রায় ২৫ শতাংশ সামুদ্রিক প্রজাতি বাস করে। আশঙ্কার কথা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার উপকূল থেকে শুরু করে কেনিয়া ও মেক্সিকোর উপকূলরেখা পর্যন্ত প্রবাল প্রাচীরের রং ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। তার মানে এগুলো ক্ষয়ে যাচ্ছে। গত তিন দশকের মধ্যে চতুর্থবারের মতো এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বিশ্বের শীর্ষ প্রবাল প্রাচীর পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএস ন্যাশনাল ওশিয়ানিক অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) কোরাল রিফ ওয়াচের সমন্বয়কারী ডেরেক মানজেলো বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তারই ফলে বিশ্বের অন্তত ৫৪টি দেশ ও ভূখণ্ডে প্রবালের রং পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।’

মানজেলো আরও বলেন, ‘প্রবাল মূলত অমেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের বাইরের আবরণে ক্যালসিয়াম কার্বনেট নিঃসরণে শক্ত ও প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো রয়েছে। বাইরের এই শক্ত আবরণ রঙিন এককোষী শৈবালের বাসস্থান হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সমুদ্রের পানির তাপমাত্রার অসামঞ্জস্যের ফলে এই রঙিন শৈবালগুলো প্রবালের গায়ে থাকতে পারছে না। অন্যদিকে এই শৈবাল ছাড়া প্রবালও টিকে থাকতে পারে না। কারণ প্রবালের পুষ্টির জোগান দেয় এই রঙিন শৈবালগুলো।’ অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর ৫৪ শতাংশের বেশি প্রবাল প্রাচীর ক্ষয়ে যাচ্ছে বলে জানান মানজেলো।

এল-নিনো সাধারণত সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটায়। গত বছর সমুদ্রের পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা ১৯৭৯ সালের রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে এল-নিনোর প্রভাবকেও দায়ী করা হচ্ছে। জলবায়ুর এই বিরূপ পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশমন্ত্রী তানিয়া প্লিবারসেক বলেন, ‘আমরা জানি বিশ্বব্যাপী প্রবাল প্রাচীরের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো জলবায়ুর পরিবর্তন। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফও হুমকির মুখে রয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে উপকূলীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হওয়ায় ক্যারিবিয়ান প্রবাল প্রাচীরগুলো ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।’

মেক্সিকো ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটির সামুদ্রিক পরিবেশবিদ লরেঞ্জো আলভারেজ-ফিলিপ বলেন, ‘দক্ষিণ গোলার্ধে মার্চ মাসে প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের প্রাচীরগুলো ক্ষয় হতে শুরু করে। বিশ্বের অনেক প্রবাল প্রাচীর এই তীব্র তাপের চাপ থেকে পুনরুদ্ধার করা যাবে না বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। সেই সঙ্গে আমরা এখনই বলতে পারছি না যে এই অত্যধিক গরমের চাপ কীভাবে প্রবাল প্রাচীরগুলো মোকাবিলা করবে। এটি বিজ্ঞানের জন্যও নতুন একটি ঘটনা।’ 

প্রাক-শিল্প যুগে বিজ্ঞানীরা যে বৈজ্ঞানিক মডেলগুলো দিয়েছিলেন, সেখানে তারা উল্লেখ করেছেন পৃথিবীর তাপমাত্রা যদি আর ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায় তাহলে সারা বিশ্বে থাকা প্রবালগুলোর ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘের আন্তঃসরকার প্যানেলের ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানান, আর ১ দশমিক ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেই প্রবাল প্রাচীরকে ঘিরে গড়ে ওঠা বাস্তুসংস্থান বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

কেনিয়ার মোম্বাসার উপকূলীয় মহাসাগর গবেষণা ও উন্নয়ন এবং ভারতীয় মহাসাগরের পূর্ব আফ্রিকার প্রধান পরিবেশবিদ ডেভিড ওবুরা বলেন, ‘একটি বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা হলো, আমরা প্রবাল প্রাচীরের জন্য হুমকিস্বরূপ সীমারেখা অতিক্রম করে ফেলেছি। যদি জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনের প্রধান কারণ কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ বন্ধ না করি, তাহলে প্রবাল প্রাচীরের হারিয়ে যাওয়া আমরা আটকাতে পারব না।’প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হলে মাছের মতো প্রাণীর আবাসও ধ্বংস হবে। প্রবাল প্রাচীর হারিয়ে গেলে পৃথিবীর ঝুঁকি আরও বাড়বে।

সূত্র: রয়টার্স

কলি

অদ্ভুত যত বৃষ্টি

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০১:২৯ পিএম
অদ্ভুত যত বৃষ্টি

বৃষ্টি কি শুধু পানির হয়? বৈচিত্র্যময় পৃথিবীতে শুধু পানির নয়, আরও বিভিন্ন ধরনের বৃষ্টির দেখা মেলে। অদ্ভুত কিছু বৃষ্টি নিয়ে জানাচ্ছেন টি এইচ মাহির

মাছের বৃষ্টি: আকাশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পড়ছে মাছ। আর তা কুড়িয়ে নিচ্ছে পথচারীরা। প্রায়ই বিভিন্ন দেশে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এমন ঘটনা প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট দুই ধরনের হতে পারে। প্রাকৃতিকভাবে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। প্রবল বাতাস বা জলস্রোতের কারণে সমুদ্র থেকে মাছ বৃষ্টি হয়। যখন কোনো ঝড় বা টর্নেডো সমুদ্র অতিক্রম করে তখন প্রবল টানে মাছগুলো আকাশে উঠে যায়। ঝড়ের গতি না কমা পর্যন্ত মাছগুলো আকাশেই থাকে। যখন বাতাসের গতি কমে যায় তখন বৃষ্টির মতো আকাশ থেকে মাছ পড়ে। জাপানে এ ধরনের ঘটনা বেশি দেখা যায়।

রক্ত বৃষ্টি: রক্তের মতো লাল লাল ফোটায় ভেসে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। দেখে আঁতকে উঠতে পারেন আপনি। পৃথিবীতে বিভিন্ন সময় এ ধরনের রক্তবৃষ্টি বা লালবৃষ্টির ঘটনা ঘটেছিল। ২০০১ সালে ভারতের এক গ্রামে বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে লাল ফোঁটায় বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল বন্যাও হয়। রাস্তাঘাট ডুবে যায় লাল পানিতে। ২০১২ সালে শ্রীলংকায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হয় উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটে।

আবার আগ্নেয়গিরির ছাই মেশার কারণেও লালবৃষ্টি হয়। আবার বায়ুমণ্ডলে মাইক্রোস্কোপিক শৈবাল বা ধূলিকণার উপস্থিতির কারণে বৃষ্টির জল লাল বা বাদামি রঙের দেখায়। লাল রং রক্তের ছাপ দিতে পারে, তাই এর নাম রক্তবৃষ্টি। লাল রঙের বৃষ্টির মতো সবুজ রঙের পানির বৃষ্টিও হয়। এই ধরনের ঘটনা ঘটে মূলত বায়ুমণ্ডলে পরাগ বা শৈবালের উপস্থিতির কারণে। 

হীরের বৃষ্টি: হীরের বৃষ্টি মূলত মেরু অঞ্চলে ঘটে। সেখানে ডায়মন্ড নয় বরফের এক ধরনের স্ফটিক আকাশ থেকে ঝরে পড়ে বলেই এই নাম। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। অদ্ভুত সুন্দর এই বৃষ্টিতে তেমন কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয় না মেরু অঞ্চলের বাসিন্দাদের।

বালির ঝড়বৃষ্টি: বালির ঝড় সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত। মরু অঞ্চলে তুমুল বালিঝড়ের কথা শোনা যায় প্রায়ই। তুমুল বেগে বাতাসের সঙ্গে বালির বৃষ্টি হয় মরু অঞ্চলে। মরু অঞ্চল ছাড়াও ঝড় বা ধূলিঝড়ের সময়, বালি বা ধূলিকণার সূক্ষ্ম কণা বায়ুমণ্ডলে উঠে যায়। যখন বৃষ্টিপাত হয়, তখন এই কণাগুলো বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে মাটিতে পড়তে পারে, যার ফলে বালি বা ধুলো এবং পানির মিশ্রণ ঘটে।

ছাই বৃষ্টি: শুনতে যেমন ভয়ংকর তেমনি এই বৃষ্টি প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময়, ছাইকণা বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয় এবং বৃষ্টিপাতের সময় মাটিতে পড়ে যায়। এই ছাই যা ফসল, অবকাঠামো এবং শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিভিন্ন দেশে আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাতের সময় বৃষ্টি হলে এই ঘটনা দেখা যায়।

সূত্র: উইকিপিডিয়া ও এক্সপ্লোরেসওয়েব

কলি

দামি পানির গোপন রহস্য

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০১:২৬ পিএম
দামি পানির গোপন রহস্য
সব ধরনের পানি সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। পানিতে মিনারেলস যেন যথাযথ থাকে, খাওয়ার আগে এটুকু দেখে নিলেই যথেষ্ট । (সংগৃহীত)


মানুষ কিংবা অন্য কোনো প্রাণী পানি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না। তাই পানির অপর নাম জীবন। সব ধরনের প্রাণের বেঁচে থাকার জন্য পানি অপরিহার্য। পৃথিবীতে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ অংশ জুড়ে পানির অস্তিত্ব রয়েছে। দেশে এক লিটার পানি কিনতে খরচ হয় ২৫ থেকে ৪০ টাকা। শুনলে অবাক হবেন বিশ্বের এমন পানিও আছে, যার এক বোতলের দাম লাখ লাখ টাকা!

প্রকৃতির দান পানির কেন এত দাম হবে, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই সাধারণ মানুষের। এমন কী আছে হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনের এই মিশেলে, যার জন্য আকাশছোঁয়া দাম? এই বিলাসী পানি কখনো হয়তো সংগ্রহ করা হয়েছে হাওয়াই দ্বীপের ভলকানিক পাথর থেকে, কোনো ক্ষেত্রে তা সংগৃহীত নরওয়ের কোনো গলিত হিমবাহ থেকে বা তাসমানিয়ায় ঘাসে জমা শিশিরবিন্দু থেকে। এ ধরনের পানিকে বলা হয় ‘পিয়োরেস্ট অব পিয়োর’। তবে এসব দামি পানির বিশেষ গুণও রয়েছে। তাই তার এত কদর। প্রকৃতির দান পানির কেন এত দাম হবে, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই সাধারণ মানুষের। জেনে নিন বিশ্বের সবচেয়ে দামি পানির রহস্য ও উপকারিতা কী কী রয়েছে-

স্প্রিং ওয়াটার
স্প্রিং ওয়াটার। এ পানির নাম যেমন সুন্দর তেমনি এর দামও আকাশছোঁয়া। এই পানি সংগ্রহ করা হয় নদী বা ঝরনার উৎসমুখ থেকে অর্থাৎ তা হিমবাহের বরফগলা পানি, যাতে সেরা মিনারেলস পাওয়া যায় এবং তা বিশুদ্ধ। স্প্রিং ওয়াটার সংগ্রহের বেশ কিছু নিয়ম আছে। সেই জায়গায় ওই অবস্থায় তা সংগ্রহ করতে হবে এবং বোতলবন্দিও সেখানেই করা হবে। তাই যথাযথভাবে নিয়ম মেনে স্প্রিং ওয়াটার সংগ্রহ করা হচ্ছে কি না এবং তা প্রকৃতই স্প্রিং ওয়াটার কি না সেটা বলা সম্ভব নয়, যদি না তা খুবই বিখ্যাত কোনো সংস্থার হয়, যারা সব সময় নিজেদের মান সম্পর্কে সচেতন। পুষ্টিবিদদের মতে, এই পানি অবশ্যই শরীরের জন্য খুব ভালো।

অ্যাকোয়া দ্য ক্রিন্তালো ট্রিবুতো আ মোদিগিলানি
বিশ্বের সবচেয়ে দামি পানি মনে করা হয় ‘অ্যাকোয়া দ্য ক্রিন্তালো ট্রিবুতো আ মোদিগিলানি’কে। কারণ, এতে লুকিয়ে রয়েছে হাজারো রহস্য। এই পানিতে নাকি মেশানো রয়েছে ৫ গ্রাম ২৪ ক্যারেটের খাঁটি সোনা। এতে পানিতে ক্ষারের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এর পানি সংগ্রহ করা হয় পৃথিবীর তিনটি স্থান যেমন- ফ্রান্সের একটি ঝরনা, ফিজি দ্বীপের একটি প্রস্রবণ এবং আইসল্যান্ডের হিমবাহ থেকে। শুধু পানি নয়, ৭৫০ মিলিলিটার পানির বোতলেও রয়েছে চমক।

কারণ, এ পানির বোতল তৈরি করা হয়েছে ২৪ ক্যারেটের সোনা দিয়ে। বোতলটির নকশা করেছেন ফার্নান্দো আলতামিরানো নামে একজন জনপ্রিয় শিল্পী। এক দশক আগে এ পানির বোতলের দাম ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬০ লাখ। এখন এর দাম আরও বেড়েছে। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের সাধ্যের অনেকটা বাইরে এই পানি। এই জলের দামের আর এক কারণ অবশ্য তার বোতলের ডিজাইন এবং প্যাকেজিং। প্ল্যাটিনামে মোড়া সীমিত সংস্করণের অসাধারণ দেখতে এই বোতলে ছয় হাজার হীরা খচিত। পানিতে মিশ্রিত রয়েছে ২৩ ক্যারেটের পাঁচ গ্রাম সোনার ভস্ম। অতএব বোঝাই যাচ্ছে দামের কারণ।

নিগারি
মানুষের ওজন কমাতে, শক্তি জোগাতে এবং ত্বকের গুণমান সমুন্নত রাখতে সাহায্য করে নিগারি পানি। এ পানি সম্পর্কে এমনটাই বলা হয়ে থাকে। সমুদ্রপৃষ্ঠের এক হাজার ফুট নিচে হাওয়াই দ্বীপ থেকে এ পানি সংগ্রহ করা হয়। এ পানি অন্যান্য ব্যয়বহুল বোতলজাত পানির চেয়ে বেশি তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম, এ পানি আরও বেশি তৃপ্তিদায়ক বলে বিবেচনা করা হয়। অনেক প্রখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ফিটনেস প্রশিক্ষক এ পানি পান করতে সুপারিশ করে থাকেন। ৭৫০ মিলিলিটারের এক বোতল পানি ৪০২ ডলারে বিক্রি হয়।

ফিলিকো
পানিও যে সুস্বাদু হয় তা ফিলিকো পানি পান করলেই বোঝা যায়। দাবা খেলার গুটির সঙ্গে পরিচয় থাকলে খুব সহজেই ফিলিকোর বিশেষভাবে ডিজাইন করা বোতলগুলো চেনা যাবে। নকশায় রাজকীয় ভাব রাখতে এর বোতলের নকশা করা হয়েছে দাবার রাজা এবং রানির গুটির মতো করে। স্বরভস্কি ক্রিস্টালের কাচের বোতল দেখতে বেশ মার্জিত এবং এর পানিও খুব সুস্বাদু। এ পানি সংগ্রহ করা হয় জাপানের কোবের নুনোবিকি নামে পরিচিত অতি বিশুদ্ধ ঝরনা থেকে। এ পানির ৭৫০ মিলিমিটারের বোতলের দাম রাখা হয়েছে ২১৯ ডলার।

ব্লিং এইচ২০
আরেকটি দামি পানির নাম ব্লিং এইচ২০। এ পানি অত্যাধুনিক রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায়। ব্লিং ওয়াটার যেখান থেকে আসে ঠিক সেখানেই বোতলজাত করা হয়। টেনেসির গ্রেট স্মোকি পর্বতমালার গোড়ায় অবস্থিত ইংলিশ মাউন্টেন ঝরনা থেকে এ পানি সংগ্রহ করা হয়। এ পানির স্বাদ অক্ষুণ্ন রাখতে ৯টি পর্যায়ে পরিশোধন করা হয়। এ পানি অত্যাধুনিক রেস্তোরাঁ, স্পাগুলোয় পরিবেশন করা হয়। ব্লিংয়ের বোতল খোলার অভিজ্ঞতা অনেকটা দামি শ্যাম্পেইনের বোতল খোলার মতো। এর প্রতিটি ৭৫০ মিলিলিটার বোতলের দাম রাখা হয়েছে ৪০ ডলার।

ভিন
ভিনের পানি এসেছে ফিনল্যান্ড থেকে। একে বিশ্বের সবচেয়ে বিশুদ্ধ এবং সতেজ পানির অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে ঝরনা থেকে এ পানি সংগ্রহ করা হয় সেটি ফিনিশ ল্যাপল্যান্ডের কাছে অবস্থিত। ফিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক আর্কটিক অঞ্চল বলে পরিচিত কোনিসাজো ঝরনায় পৌঁছানোর আগে এ পানি প্রাকৃতিকভাবে বেশ শীতল পরিবেশের মধ্য দিয়ে ফিল্টার করা হয়। এরপর এ পানি সংগ্রহ করা হয়। তৃষ্ণা মেটাতে এর অস্বাভাবিক গুণসহ আরও বেশকিছু কারণে এ পানিকে বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ৭৫০ মিলিলিটারের বোতলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ ডলার।

অ্যাকোয়া ডেকো
অ্যাকোয়া ডেকো অন্যতম ব্যয়বহুল পানি। ডেকো শব্দের অর্থ শৈল্পিক। পানির বোতল হিসেবে এ বোতলের শৈল্পিক সৌন্দর্য সেটাই প্রমাণ করে। মানুষের হাতের ছোঁয়া কানাডার একটি বিশুদ্ধ ঝরনা থেকে এ পানি দৃষ্টিনন্দন চমৎকার এ বোতলে সংগ্রহ করা হয়।

২০০৭ সালে এ পানি সেরা নন-কার্বনেটেড পানীয়র স্বীকৃতি হিসেবে স্বর্ণপদক জয় করেছিল। বিলাসী পানি পায়ীদের কাছে এ পানির বিশেষ কদর রয়েছে। বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং স্পাতে বিক্রি হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ৭৫০ মিলিলিটারের বোতলজাত এ পানির দাম রাখা হয়েছে ১২ মার্কিন ডলার।

ডিস্টিলড ওয়াটার
ডিস্টিলড ওয়াটার পানি ফুটিয়ে বাষ্পে পরিণত করা হয়। তারপর সেই বাষ্পকে ফের পানিতে পরিবর্তিত করা হয়। ফলে এর মধ্যে কোনো মিনারেলস থাকে না। এই পানি খেলে কোনো রকম পেটের সমস্যা হবে না। কিন্তু ক্রমাগত যদি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজবিহীন ডিস্টিলড ওয়াটার খাওয়া হয়, তা শরীরের জন্য উপযোগী নয়।

অ্যালক্যালাইন ওয়াটার
অ্যালক্যালাইন ওয়াটার ইদানীং খুবই জনপ্রিয় হয়েছে সেলেব্রিটিদের সুবাদে। সাধারণ পানির পিএইচ লেভেলের চেয়ে অ্যালক্যালাইন ওয়াটারের পিএইচ লেভেল বেশি থাকে। তাই মনে করা হয় যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা খুব বেশি তারা অ্যালক্যালাইন ওয়াটার খেলে ভালো থাকবেন। রিসার্চ বলছে না যে দীর্ঘদিন ধরে অ্যালকালাইন ওয়াটার খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। এতে কিছুটা হলেও মিনারেলস থাকে, তবে তা যে শরীরের জন্য ১০০ শতাংশ ভালো, তা বলা যায় না। আবার অনেকে ভাবেন অ্যালক্যালাইন ওয়াটার ক্যানসারের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় এবং তা বয়স ধরে রাখে—এর কোনোটিই কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রমাণিত নয়। অ্যালক্যালাইন ওয়াটারে মিনারেলস ইনফিউজ করা হলে তাকে ব্ল্যাক ওয়াটার বলা হয়। এই পানিও খুব দামি।

সব ধরনের পানি সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। পানি যেন পরিস্রুত হয় এবং তাতে মিনারেলস যেন যথাযথ থাকে, খাওয়ার আগে এটুকু দেখে নিলেই যথেষ্ট। এতে পেটের গোলমাল বা অন্য রোগের ভয় থাকে না।

পানি বিশুদ্ধ করার সবচেয়ে পুরোনো ও কার্যকর পদ্ধতির একটি হলো সেটা ফুটিয়ে নেওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) নির্দেশনা হলো, পানিতে বলক এসে ফুটতে শুরু হওয়ার পর মাত্র ১ মিনিট জ্বালালেই পানিতে থাকা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়া নিষ্ক্রিয় হয়। পানি ফোটানোর মাধ্যমেই ক্ষতিকর জীবাণু দূর করা সম্ভব হলেও পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত থাকতে ফিল্টারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ করা যেতে পারে।

কলি

শ্রেয়ার কথা

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ০১:৫৮ পিএম
শ্রেয়ার কথা

এখন বা এক মুহূর্ত পর কী হতে যাচ্ছে, তা কেবল সৃষ্টিকর্তাই জানেন। এইতো মনে পড়ে, কিছুদিন আগে শ্রেয়াকে যখন প্রেগনেন্সি রিপোর্টটা দেখিয়ে বললাম ‘তুমি মা হতে চলেছ’, খুশিতে ওর চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। আমি কোনো দিন কাউকে এত খুশি হতে দেখিনি।

কিছুদিন পর শ্রেয়াকে নিয়ে শ্রীপুরে জয়ন্তী দেবীর মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দিই। বাসা থেকে বেশ দূরে। আমি নিজেই ড্রাইভিং করছিলাম। হঠাৎ ঝড় শুরু হলো। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। আমরা একটি বাড়িতে আশ্রয় নিই। চার দেয়ালে ঘেরা অনেক পুরোনো বাড়ি। আশপাশে গাছগাছালি ছাড়া আর কোনো বাড়িঘর ছিল না। একজন বৃদ্ধ চাচা আমাদের আশ্রয় দেন। বাড়িটিতে তিনি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। খুব সম্ভবত তিনি বাড়ির কেয়ারটেকার। বললাম, ‘চাচা, আমরা বিপদে পড়েছি। ঝড় কমলেই চলে যাব। কিছুটা সময় এখানে থাকতে দিন।’ তিনি বললেন, ‘আজ রাতটা অনেক খারাপ। ভয় নেই, রাতটা এখানে থাকেন। সকালে চলে যাবেন।’

এই কথা বলে তিনি আমাদের জন্য খাবার আনতে গেলেন। ফিরে এসে বললেন, ‘আজ রাতটা সুবিধার না, ভুলেও কেউ বাইরে যাবেন না। এই যে দেখেন, কিছুক্ষণ আগে ঝড় ছিল, এখন নেই। একটু পর আবার শুরু হবে।’ শ্রেয়া বলল, ‘চাচা, আজ রাতটা খারাপ বলছেন কেন?’ তিনি বললেন, ‘মা, আপনারা এ যুগের মানুষ, বিশ্বাস করবেন না। এই গ্রামে জয়ন্তী দেবী মন্দির নামে একটি মন্দির আছে। আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে মন্দিরের দেবী প্রতি বছর একজন করে কুমারী মেয়ে নিয়ে যেত। এখন বছরের এই রাতে একজন করে কুমারী মেয়ে বের হয়, যে মানুষের ক্ষতি করে।’ শ্রেয়া বলল, ‘আপনি কি এখন পর্যন্ত কোনো মেয়েকে মন্দির থেকে বের হতে দেখেছেন?’

’না, আমি দেখেনি। তবে অনেকেই দেখেছে।’

অল্প কিছু সময়ের ব্যবধানে দরজায় কেউ কড়া নাড়ল। দরজার ওপাশ থেকে একটি মেয়ে ডাকছে, ‘কেউ আছেন? দয়া করে দরজাটা খুলুন। আমি অনেক বিপদে পড়েছি।’ আমি দরজাটা খুলতে গেলে চাচা আমার সামনে দাঁড়ান। আমাকে বাধা দিয়ে বলেন, ‘বাবা, আপনার পায়ে ধরি, দরজাটা খুলবেন না। খুললে আমরা সবাই বিপদে পড়ব।’

‘কী বলেন! একটা মানুষ বিপদে পড়ে ডাকছে। আর আমরা দরজা খুলব না?’

চাচাকে ধাক্কা দিয়ে আমি দরজাটা খুলে দিই। আধ ভেজা হয়ে ১৭-১৮ বছরের মেয়েটি কাঁপতে কাঁপতে ঘরে ঢুকেই বলল- ‘দয়া করে আজ রাতটা আমাকে থাকতে দিন। আমি ট্রেনে যাচ্ছিলাম। পাশের রেলস্টেশনে ট্রেনটা থামল। আমি কিছু খাবার কেনার জন্য নামলাম। আর তখনই ট্রেনটা আমাকে রেখে চলে গেল। এর মধ্যে ঝড় শুরু হলো। অনেকটা সময় ছোটাছুটি করার পর এ বাড়িটি দেখতে পাই। প্লিজ, রাতটা আমাকে এখানে থাকতে দিন। সকালে ভোরের ট্রেনে চলে যাব।’

থাকার জন্য চাচা মেয়েটিকে একটি রুম দেখিয়ে দিলেন।

ঝড় আবার থেমে গেল। আমি আর শ্রেয়া শুয়ে পড়লাম। হঠাৎ খেয়াল করি, শ্রেয়া ভীষণ কাঁপছে। ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম, ‘শ্রেয়া, তোমার কি খারাপ লাগছে?’

‘আমার অনেক ভয় হচ্ছে। দেবীটা তোমাকে মেরে ফেলবে। চল আমরা চলে যাই।’

আমি হেসে বললাম, ‘কী সব উলটাপালটা বলছ? দেবী আবার আসল কোথা থেকে?’

‘দেখোনি, দেবীর মতো মেয়েটি কেমন করে তাকিয়ে ছিল। মেয়েটি মানুষ না, মানুষরূপী দেবী। ও আমাদের পিছে পিছে ওই জয়ন্তী দেবী মন্দির থেকে এসেছে।’ বলেই আমাকে জড়িয়ে ধরে ও ঘুমিয়ে পড়ল। সকালে ঘুম থেকে উঠে মেয়েটাকে আর দেখা গেল না। দরজা খোলা ছিল। খুব সম্ভবত ভোরের ট্রেনে মেয়েটি চলে গেছে।

ওই রাতের পর থেকে শ্রেয়া অস্বাভাবিক সব আচরণ করতে শুরু করে। শ্রেয়ার অস্বাভাবিক আচরণ আমাকে অনেক দূরে ঠেলে দেয়। শুধু ভাবতাম, আর কয়েকটা দিন। মা হলেই ও ভালো হয়ে যাবে। একটা ফুটফুটে কন্যা সন্তানসহ আমি আমার পুরোনো শ্রেয়াকে ফিরে পাব। প্রার্থনাই শেষ সম্বল।

আমি আবার ছুটে চলি জয়ন্তী দেবী মন্দিরে। যাওয়ার পথে ওই চার দেয়াল ঘেরা পুরোনো বাড়িটি দেখে কেয়ারটেকার চাচাকে খুঁজতে যাই। যা জানতে পারি, তার সারমর্ম হচ্ছে ‘সেদিনের ওই ঝড়ের রাতের পর একটি মেয়ের লাশ পাওয়া যায় বাড়িটির পুকুরপাড়ে। তার জন্য কেয়ারটেকারকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি বলে হাজতবাস করছেন।’

তারপর নিম্ন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়ে, অনেক কষ্টে নিজেকে অপরাধী এবং চাচাকে মুক্ত করি। কারণ, সেই রাতে আমার জীবননাশের আশঙ্কার কথা ভেবে মেয়েটাকে শ্রেয়াই পুকুরে ফেলে দিয়েছিল, পরে জানতে পেরেছিলাম। আজ আমার হাজতবাসের তৃতীয় দিন। খুব অস্থির অনুভব করছিলাম। এই অস্থিরতার মধ্যে শ্রেয়ার দুই বাক্যের একটি চিঠি আসে।

‘আমি এবং তোমার মেয়ে দুজনই ভালো আছি। আর আমি তোমার মেয়ের নাম রেখেছি জয়ন্তী।’ 
-তোমার শ্রেয়া


ইঙ্গোলস্ট্যাড, জার্মানি

 কলি