ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩১, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

হারানো বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:৫১ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:৫১ পিএম
হারানো বিজ্ঞপ্তি

মা সবসময় বারণ করত বাবুকে। বলত, ‘কী দরকার বাপু ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর। খেয়ে দেয়ে কাজ পাও না, বিপদ বাড়ানো।’ বাবা হাসত আর বলত, ‘ও তো ভালো কাজ করছে, যুবক ছেলে প্রতিবাদ না করলে কি চলে।’ আমিও মায়ের মতো ভীতু। বাবুকে বলতাম, ‘ভাই তোর দরকার নেই মানববন্ধনে যাওয়ার। আর তো কেউ আসে নাই, দেখ।’ ও হাসত আর বলত, ‘একজনকে তো আগাতেই হবে, নইলে কীভাবে হবে? শুনিস নাই, অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তারে তৃণসম দহে।’ বলতে বলতে নাশতা না করেই ব্যাকপ্যাক নিয়ে বের হলো।

ওই যে গেল আর ফিরল না। ‘একে দেখেছেন, ছবিটা ভালো করে দেখেন, বাবু আমার ভাই, ভার্সিটিতে সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র, ভালো নাম আহানাফ চৌধুরী।’ রাস্তায়, অলিগলিতে এগুলো বলা আমার প্রতি মুহূর্তের কাজ হয়েছে। আমার ভাই ঘরে ফেরেনি। তার দোষ, সে প্রতিবাদ করেছিল।
আসিরন বুয়ার ৯ বছরের মেয়ে সুমাইয়াকে যখন ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছিল প্রভাবশালী নেতার কুপুত্র, তখন কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। আমার ভাই আর ওর বয়সী ছেলেরা প্রতিবাদ করে মিডিয়ার নজরে এনেছিল। ফলস্বরূপ, কেসটা কোর্টে উঠেছিল। লোকদেখানো আসামি গ্রেপ্তার ও কিছু লেখালেখি, আদালতে দৌড়াদৌড়ি।

কিছুদিন পরে আসামি জামিনে বের হয়ে সবাইকে প্রকাশ্যে হুমকি। বাদীকে কেস তুলে নেওয়ার জন্য চাপাচাপি। আসিরন বুয়াকে বলে, ‘দোষ তোর। এত পোলাপান পয়দা করে ছেড়ে দিছিস কেন? কিচ্ছু করতে পারবি না আমাদের, টাকা নিয়ে গ্রামে চলে যা, নাহলে তোকেও দেখে নেব।’

এসব দেখে সবাই চুপ হয়ে গেল। যারা প্রতিবাদ করেছিল, তারাও অজানা কারণে গুটিয়ে গেল। শুধু বাবু চুপ করল না। ও বাসা থেকে বের হলো আসিরন বুয়াকে সঙ্গে নিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে বলে। আর ঘরে ফেরেনি আমার ভাইটা।

এরপর আমাদের দৌড়াদৌড়ি। থানা থেকেই শুরু হলো। থানায় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা কেউ সহযোগিতা তো করলই না, উল্টো ঠাট্টা-মশকরা করল। নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি, মানববন্ধন, প্রেস কনফারেন্স, ছোটাছুটি, মর্গ, হাসপাতাল, ফেসবুক, লেখালেখি কোনোকিছুই আমার ভাইকে ফিরিয়ে আনতে পারল না।

আসিরন বুয়াকে বাধ্য করা হলো মামলা প্রত্যাহার করতে। তিনি মামলা তুলে নিয়ে গ্রামে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন,

‘আপা, বিচার বলতে কিছু নাই, মানুষ বলতেও কিছু নাই, শুধু চোখ-কান বুইজা ঘরে থাকবেন। বাবু ভাই ফিরব।’

মা আগেই স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী। বাবা রিটায়ার করে শুধু ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকে।

একদিন হঠাৎ বাবা কোথা থেকে একটা হারিকেন জোগাড় করে আনল। ‘এই শহরে হারিকেন দিয়ে কী করবা?’ প্রশ্ন করতেই বাবা বলল, ‘মাঝে মাঝেই তো লোডশেডিং হয়, রাতে বাবু এসে যদি ভাবে বাসায় কেউ নেই, তাই গেটের সামনে জ্বালিয়ে, ঝুলিয়ে রাখব।’ বাবার কথা শুনে শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম।

মাঝে মাঝে লোডশেডিং হয়। পুরো মহল্লা অন্ধকার হয়ে যায়, শুধু টিমটিম করে জ্বলে আমাদের বাড়িটা; অন্ধকার দূর করার দূত হয়ে নিকষ কালো অন্ধকারের ভেতর ছোট্ট আলোর বিন্দু হয়ে জ্বলে।

মহাম্মাদপুর, মাগুরা

 কলি

ফেসবুক ফিরিয়ে দিল বন্ধুত্ব

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:৪৭ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:৪৭ পিএম
ফেসবুক ফিরিয়ে দিল বন্ধুত্ব
বাঁ থেকে লিপিকা, টুনু, সীমা ও সানী (সংগৃহীত)

ফেসবুক কি কেবল কেড়ে নেয়? নাকি ফিরিয়েও দেয়? ডিজিটাল দুনিয়া এখনকার শিশুদের শৈশব কেড়ে নেওয়ার যেই অভিযোগ, তার ঠিক উল্টো একটা চিত্রও আছে। কারও শৈশব-কৈশোরও ফিরিয়ে দিচ্ছে এই ফেসবুক। যেমনটা ফিরে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লিপিকা ইকবাল।

গত ১৮ মে সন্ধ্যাটি লিপিকা ইকবালের জন্য অতীতকে কাছে টেনে নেওয়ার দিন বলা চলে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে বসবাসকারী লিপিকা একটি পুরোনো ছবির দিকে তাকিয়ে ভাবছিলেন তার হারানো তিন বন্ধুর কথা। হৃদয়ের গহিনে জমে থাকা স্মৃতিরা ফিরে আসছিল বারবার। মনের কোণে জেগে ওঠে হারানো বন্ধুদের খুঁজে পাওয়ার তাড়না।

সেই লক্ষ্যেই হয়তো তিনি বন্ধুদের খোঁজে মে মাসের ১৮ তারিখ ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ গ্রুপে ১৯৯০ সালে চার বান্ধবীর তোলা একটি ছবি পোস্ট করেন। যেই ছবি দিয়ে তিনি খুঁজে বেড়ান হারানো তিন বন্ধু মাকসুদা খানম টুটু, সানোয়ারা বেগম সানী এবং মাহমুদা খানম সীমাকে।

ছোট্ট ওই পোস্ট মুহূর্তেই হাজারো মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। পোস্টের ক্যাপশনে লিপিকা লেখেন, ‘গত ৩০ বছর ধরেই খুঁজে চলেছি আমার এই তিন বান্ধবীকে। ছবির সবচেয়ে বামে বসে আছি আমি (লিপি)। আমার পাশে টুটু, তারপরে সীমা আর সবার শেষে সানী। আমরা ১৯৯০ সালে তেজগাঁও কলেজে বিএ পাস কোর্সে ভর্তি হই।’ লিপিকার এই আবেগমিশ্রিত স্ট্যাটাসটি পোস্ট করার মিনিট দশেকের মধ্যেই সন্ধান পাওয়া যায় মাকসুদা খানম টুটুর। রাত ১০টায় সানোয়ারা বেগম সানী ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সন্ধান মেলে মাহমুদা খানম সীমার।

লিপিকা ইকবাল ছবি পোস্ট করার পর সেই গ্রুপে শুরু হয় যাচাই-বাছাই। দুষ্প্রাপ্র ছবি সমগ্র গ্রুপের কর্ণধার গিরিধর দে বলেন, ‘আমরা লিপিকার তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রচার শুরু করি। পোস্টটি প্রচারের পরপরই টুটু এবং সানীকে খুঁজে পাই। এরপর সীমাকেও খুঁজে পাই। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করানো হয়।’

৩০ বছর ধরে খুঁজতে থাকা বান্ধবীদের ছোট্ট একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে অতিদ্রুত খুঁজে পেয়ে যাবেন তা যেন ভাবতেই পারেননি লিপিকা ইকবাল। তিনি বলেন, ‘আমি তো ভাবতেও পারিনি। আল্লাহ আমার মনের কথা শুনতে পেরেছেন আলহামদুলিল্লাহ। এই পেজ না থাকলে তা কি সম্ভব হতো? ৩০ বছরের স্বপ্ন ৩০ মিনিটেই সত্য হলো।’

বন্ধুত্বের সম্পর্ক কি কখনো হারায়? তৃতীয় বন্ধু সানী বলেন, ‘বন্ধুত্বের এই সম্পর্ক কোনোদিন হারায় না। আবারও এক হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এই পুনর্মিলনকে সীমা তুলনা করেছেন, ‘জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার হিসেবে।’

এই ঘটনা পরিষ্কার করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সঠিকভাবে ব্যবহার করলে তা আমাদের জীবনে কল্যাণ ও সুখের মুহূর্তের উপলক্ষও সামনে নিয়ে আসতে পারে। ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেড়ে নেওয়ার একচেটিয়া অভিযোগ কিংবা হাহাকারের মাঝে এই ঘটনা আমাদের কাছে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল যে ফেসবুক বন্ধুত্ব ফিরিয়েও দিচ্ছে।

কলি 

বৃষ্টির সময় ‘কই মাছ’ কেন মাটিতে উঠে আসে?

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:৪৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:৪৩ পিএম
বৃষ্টির সময় ‘কই মাছ’ কেন মাটিতে উঠে আসে?

আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো পড়ছে মাছ। আর তা কুড়িয়ে নিচ্ছে পথচারীরা। ইন্টারনেটের কল্যাণে এমন দৃশ্য হরহামেশাই দেখা যায়। সাধারণত প্রবল বাতাস বা জলস্রোতের কারণে সমুদ্র থেকে মাছ বৃষ্টি হয়। যখন কোনো ঝড় বা টর্নেডো সমুদ্র অতিক্রম করে তখন প্রবল টানে মাছগুলো আকাশে উঠে যায়। ঝড়ের গতি কমলে বৃষ্টির মতো আকাশ থেকে মাছ পড়ে। হন্ডুরাস, শ্রীলঙ্কা, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ঘটনা দেখা যায়।

কিন্তু একটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন, বর্ষাকালে যখন প্রচুর বৃষ্টি হয়, তখন আশপাশের পুকুর, খাল-বিল থেকে কই মাছ মাটিতে উঠে আসে। কখনো কি ভেবেছেন কেন এমন হয়?

বর্ষাকালে প্রচণ্ড বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় আশপাশের পুকুর, খাল-বিল, নদীর পাড়ে জীবন্ত কই মাছ লাফালাফি করে, এই ঘটনাকে গ্রামের ভাষায় ‘মাছ উজানো’ বলে। উজান হলো স্রোতের বিপরীত দিকে যাওয়া। কেন এমন হয়? নিশ্চয়ই প্রশ্নটা আপনার মনেও এসেছে। এই বিষয়ে জানতে হলে প্রথমে ট্যাক্সিস সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

ট্যাক্সিস একটা টার্ম; যার অর্থ প্রাণীর দিকমুখিতা। সহজভাবে বললে, বিভিন্ন পরিবেশে (যেমন- তাপ, চাপ, আলো, শব্দ) প্রাণীর ছুটে চলা। যখন বিভিন্ন পরিবেশের দিকে প্রাণী ছুটে চলে, তখন তাকে পজিটিভ ট্যাক্সিস বলা হয়। কই মাছের ট্যাক্সিস হলো পজিটিভ ট্যাক্সিস।

কোনো প্রাণী যখন স্রোতের দিকে চলে কখন তাকে রিওট্যাক্সিস বলে। যা এক প্রকার পজিটিভ ট্যাক্সিস। বৃষ্টি হলে পুকুর বা নদীতে পানি বেড়ে যায়। তখন স্রোতের দিকে কই মাছ চলতে শুরু করে; বিষয়টিকে অনেকেই নতুন পানিতে যাওয়া বলে থাকেন। আর কই মাছের পাখনা বেশ শক্ত তাই তারা মাটির ওপরেও নড়াচড়া করতে পারে।

আরেকটি কারণও আছে অবশ্য। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে পুকুর বা জলাশয়ের পানিতে অক্সিজেন এবং খাবারের ঘাটতি তৈরি হয়। কই মাছ বৃষ্টির পানি পাওয়ায় সে অক্সিজেন ও খাবারের জন্য স্রোতের সঙ্গে রিওট্যাক্সিসে সাড়া দেয়। শুধু কই-ই নয়; শিং, মাগুর, গুতুম মাছও বৃষ্টির সময় স্রোতের দিকে এবং পুকুর পাড়ে উঠে আসে। তাই শুধুমাত্র বৃষ্টি বা বজ্রপাতের জন্যই যে কই মাছ ডাঙায় উঠে আসে এই বিষয়টি ঠিক নয়।

কলি 

ক্রিকেট দুনিয়ার কিছু মজার তথ্য

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:৪২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:৪২ পিএম
ক্রিকেট দুনিয়ার কিছু মজার তথ্য

দেড় শ বছরেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে চলছে ক্রিকেট খেলা ৷ ক্রিকেটের এই দেড় শ বছরের ইতিহাসে শুধু যে জয়-পরাজয়ের ঘটনাই ঘুরেফিরে এসেছে, তা কিন্তু নয় ৷ কখনো কখনো ফলাফলকে একদম ছাপিয়ে গিয়ে কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে এই বাইশ গজের বিনোদনে। এসব তথ্য কখনো খুব মজার, কখনো অবিশ্বাস্য; আবার কখনো বেদনা-জাগানিয়া। ক্রিকেট মাঠে ঘটে যাওয়া সেই রকম কিছু অদ্ভুত ঘটনা নিয়েই এবারের লেখা-

শহীদ আফ্রিদি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার দ্রুততম শতকটি করেছিলেন ওয়াকার ইউনিসের কাছ থেকে ধার করা ব্যাট ব্যবহার করে।

১৯৭৫ সালের ওয়ার্ল্ড কাপের একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের বিখ্যাত ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ৬০ ওভার ব্যাট করে রান করেছিলেন মাত্র ৩৬ রান। সেই ম্যাচে ভারত ২০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল।

সবচেয়ে লম্বা টেস্ট ম্যাচ ছিল ৯ দিনের। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার এই ম্যাচ শুরু হয় ১৯৩৯ সালের ৩ মার্চ। কোনো হার-জিত ছাড়াই খেলা শেষ হয় নবম দিনের দিন।

বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানের দাদা ইফতিখার আলী খান পতৌদি একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি ইংল্যান্ড ও ভারত দুটি দেশেরই জাতীয় দলে খেলেছেন।

কিংবদন্তি ক্রিকেটার লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকার নিজ দেশ ভারতের পক্ষে খেলার আগে প্রথমে পাকিস্তানের পক্ষে খেলেছিলেন! ১৯৮৭ সালে ভারত-পাকিস্তানের প্র্যাকটিস ম্যাচে এমন ঘটনা ঘটে। শচীন পাকিস্তানের পক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ফিল্ডিংয়ে নামেন। ওই খেলায় কোনো কারণে পাকিস্তান টিমে তখন বদলি খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন না।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেসলি হিল্টন একমাত্র ক্রিকেটার, হত্যার দায়ে যাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছিল।

আব্বাস আলী বেগ প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার, যাকে মাঠে কোনো নারী চুম্বন করে। ১৯৬০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্ট ম্যাচে বেগ অর্ধশতক হাঁকান। এ সময় অতি উৎসাহী এক তরুণী মাঠে ঢুকে বেগকে জড়িয়ে ধরে গালে চুম্বন করেন।

ক্রিকেট খেলায় ৪২টি ক্রিকেট-আইন আছে, যা বিভিন্ন প্রধান ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রণয়ন করেছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব। ক্রিকেটের আইনে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুর পরিবর্তন হয়েছে। শুধু একটি আইনের পরিবর্তন হয়নি, সেটা হলো ক্রিকেট পিচের দৈর্ঘ্যের।

মুত্তিয়া মুরালিধরন এখন পর্যন্ত একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৯ উইকেট পেয়েছিলেন ৫১ রান খরচ করে। অন্যদিকে টেস্ট ক্রিকেটে ১৯৫৬ সালের ২৬ জুলাই এক টেস্ট ম্যাচে দুই ইনিংসে ১৯ উইকেট পেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের স্পিন বোলার জিম লেকার। তিনি দুই ইনিংসে ৬৮ ওভার বল করে মাত্র ৯০ রান দিয়ে ১৯ উইকেট পেয়েছিলেন।

১৯৭৫ ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপকে ভাইদের বিশ্বকাপ নামে ডাকা যেতে পারে। সে সময় আটটি দল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিল। অস্ট্রেলিয়ায় ছিল দুই চ্যাপেল, ইয়ান ও গ্রেগ, আপন দুই ভাই। পাকিস্তানে ছিল দুই মোহাম্মদ, মুশতাক ও সাদিক মোহাম্মদ। কিন্তু তাদের ছাড়িয়ে যায় নিউজিল্যান্ড, যে দলে তিনজন হ্যাডলি ছিল, রিচার্ড, ব্যারি ও ডেইলে, আর সেই সঙ্গে হেওয়ার্থ ছিল দুজন, জিওফ হেওয়ার্থ ও হেডলে হেওয়ার্থ, সেই হিসেবে নিউজিল্যান্ড দলের ১১ জনের মধ্যে দুই পরিবারের পাঁচজন সদস্য ছিলেন দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে আপন ভাই না হলে পাকিস্তান দলের হয়ে দুই চাচাতো ভাই এই বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। তারা হলেন দলের অধিনায়ক মজিদ খান ও ইমরান খান। সেবার বিশ্বকাপ জয় করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলেও ছিলেন দুই চাচাতো ভাই। দলের অন্যতম সদস্য ল্যান্স গিবসের চাচাতো ভাই ছিলেন দলের অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড।

কলি

সাপের বন্ধু রাজু

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:৩৮ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:৩৮ পিএম
সাপের বন্ধু রাজু
লোকালয়ে আসা বিপদগ্রস্ত সাপ উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দিচ্ছেন রাজু। এতে করে সাপগুলো বেঁচে যাচ্ছে ও সাপ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে । (সংগৃহীত)

ছোটবেলায় সাপের খেলা দেখতে বসেছিলেন। সাপুড়ে দুটি সাপ তার হাতে দিলে তা তর তর করে গলা পেঁচিয়ে ধরে। কিন্তু ছোবল মারেনি। এরপর বড় হয়ে দেখলেন, অকারণে মানুষ নিষ্ঠুরভাবে সাপ হত্যা করছে। আর ছোটবেলায় সাপ গলা পেঁচিয়ে ধরলেও দংশন না করায় সাপের প্রতি তার এক ভালোলাগা, ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছিল। দিন দিন এই ভালোবাসায় যেন তিনি হয়ে উঠেছেন সাপের বন্ধু।

এ পর্যন্ত বিষধর, বিষহীন মিলিয়ে মোট ২৫০টিরও বেশি সাপ উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দিয়েছেন। সেবাযত্ন দিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন ২০টিরও বেশি অসুস্থ সাপ। সাপ ছাড়াও পাখি, বানর, প্যাঁচা, কচ্ছপসহ প্রায় ৫০টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছেন তিনি। সাপপ্রেমী এই মানুষটির নাম মো. রাজু আহমেদ। বর্তমানে বাংলাদেশ স্নেক রেসকিউ টিমের সভাপতি তিনি। গ্রামের বাড়ি পাবনার ভাঙ্গুড়ার চরপারা গ্রামে। বাবা সাকোয়াত হোসেন এবং মা মোছাম্মদ রিনা খাতুনের তিন সন্তানের মধ্যে বড় তিনি। স্নেক রেসকিউ টিম সম্পূর্ণ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর বেশির ভাগ সদস্য ছাত্র। বর্তমানে এ টিমে মোট ৫০ জন সদস্য ও ২০০ জন তথ্যদাতা আছেন। সংগঠনটি এ পর্যন্ত ২ হাজার ২০০-এর বেশি সাপ উদ্ধার করে উপযুক্ত স্থানে অবমুক্ত করেছে বলে রাজু জানান।

রাজু ২০২০ সাল থেকে বিপদগ্রস্ত সাপ উদ্বার করে আসছেন। তবে প্রথম সাপ উদ্ধারকর্মের সূচনা হয় ক্লাস ফাইভে পড়াকালীন। নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরতেন। তখন জালে জলঢোঁড়া সাপ উঠলে তা জাল থেকে বের করে বনে ছেড়ে দিয়েছেন। বসতবাড়ি, পুকুরে পাতা জালসহ বিভিন্নভাবে সাপ আটকা পড়লে মানুষ তাকে খবর দেয়। তিনি বিনা পারিশ্রমিকে বাসাবাড়ি থেকে সেই সাপ উদ্ধার করে ছেড়ে দেন উপযুক্ত স্থানে।

বই পড়ে, ডিসকভারি ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকসহ এ ধরনের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রোগ্রাম দেখে রাজু জানতে পারেন সাপ বিষয়ে নানা তথ্য। প্রথমদিকে বিষহীন সাপ উদ্ধার করতেন। পরে স্নেক রেসকিউ টিম থেকে প্রশিক্ষণ নেন। তারপর বিষধর সাপ ধরা শুরু করেন। তিনি এ পর্যন্ত যে সাপগুলো উদ্ধার করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাসেলস ভাইপার, রাজ গোখরা, খৈয়া গোখরা, শঙ্খিনী, গ্রিন পিট-ভাইপার ও নির্বিষ অজগর, কুকরি, বেত আঁচড়া, দুধরাজ, ফণীমনসা ইত্যাদি।

সাপ উদ্ধারে রাজুর অনেক সাফল্য থাকলেও শুরুটা তার একদম ভালো হয়নি। ‘বেদে, খেয়ে দেয়ে কাজ নাই সাপ ধরে’ এমন কটূক্তি তিনি শুনেছেন। এসব একদমই পাত্তা দেননি। তিনি বলেন, মানুষের কথায় আমি পাত্তা দিইনি। যারা আমাকে কটাক্ষ করেছে তাদের অনেকেই এখন আমার প্রশংসা করে।

তবে বিপদগ্রস্ত সাপ উদ্ধারে চ্যালেঞ্জও আছে কিছু। অনেকে ভাবে, সাপুড়েদের মতো বিন বাজিয়ে সাপ উদ্ধার করা হবে। উদ্ধারকারী লোকটি বয়স্ক হবে। এমন আরও কত কী। অনেকে আবার সাপ উদ্ধারের পর টাকা চেয়ে বসে। এদের বোঝানো মুশকিল হয় যে, বিপদগ্রস্ত সাপ উদ্ধার করা হয়েছে বনে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। বিক্রির জন্য নয়। সাপ উদ্ধার করতে রাজু এ পর্যন্ত পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছেন। সাপ উদ্ধারের পর উৎসাহী জনতাকে তিনি বুঝিয়ে বলেন, সাপ দেখলে 
করণীয় কী। সাপে কাটলে কী করতে হবে, এমন আরও অনেক কিছু।

সাপের তো বনে থাকার কথা। কেন লোকালয়ে, বসতবাড়িতে বারবার আসছে। এমন প্রশ্ন অনেকেরই থাকতে পারে। এ প্রশ্নের জবাবটা রাজুর কাছ থেকেই জানা যাক। তিনি বলেন, নির্বিচারে বনভূমি ও লোকালয়ের আশপাশের বনজঙ্গল কেটে ফেলায় সাপসহ সব বন্যপ্রাণীর আবাস নষ্ট হচ্ছে। ফলে সাপ খাবারের খোঁজে বাড়িঘরের কাছে চলে আসছে। এতে সাপ-মানুষ সংঘাত বাড়ছে।

সাপ উদ্ধারে রাজুর দল আর বনবিভাগ একে অপরকে সহযোগিতা করে। রাজু জানান, বন বিভাগ প্রতিটি রেসকিউ সম্পর্কে অবগত থাকে। উদ্ধার করতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে বন বিভাগের সহায়তা নেন। আবার বন বিভাগের যেসব এরিয়ায় সাপ উদ্ধার টিম আছে, সেসব এরিয়ায় উভয় মিলেই একসঙ্গে সাপ উদ্ধার করেন।

রাজুর সাপ উদ্ধার কার্যক্রম বিভিন্ন মহলের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, রাজু লোকালয়ে আসা বিপদগ্রস্ত সাপ উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দিচ্ছে। এতে এক দিকে সাপগুলো বেঁচে যাচ্ছে আবার অন্যদিকে সাপ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সাপের আবাসস্থল রক্ষা করতে হবে।

কলি  

আহত জীবনের রং

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০১:৩৭ পিএম
আপডেট: ২৫ মে ২০২৪, ০১:৩৭ পিএম
আহত জীবনের রং

কবিতার মতো সুন্দর একটা বিকেল। মসজিদের গম্বুজে সূর্যের আলোর প্রতিবিম্ব। এমন সুন্দর বিকেলে মন উদাস হয়ে যায়। মনে হয় জীবনটা যদি বিকেলের মতো সুন্দর, স্নিগ্ধ আর মুগ্ধময় হতো!

নুরুন্নাহার ছেঁড়া কাঁথায় মুখ গুঁজে বসে আছে। ভাঙা জানালা দিয়ে তেরছাভাবে ঘরে ঢুকছে বিকেলবেলার রোদ। সাধারণত বিকেল বেলায় রোদের তেজ কম থাকে। সামান্য তেজ আর মুগ্ধতার মিশ্রণে দিনের শেষবেলা মুগ্ধময় হয়ে ওঠে। কিন্তু আজকাল গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। সূর্য ডুবে গেলেও গরমের রাজত্ব যেন একটুও নড়চড় হয় না। এমন রৌদ্রদগ্ধ সময়ে নুরুন্নাহারের শীত লাগছে। কাঁথার মধ্যেই আড়মোড়া দিয়ে আবার গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকে।

পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। খাবার মতো ভাত পাতিলে আছে। গত রাতের বেঁচে যাওয়া ছোট মাছের ঝোল আর ডাল ভর্তা আছে। সকালে ফুলির মা একবাটি কবুতরের গোশত দিয়ে বলে গেছে- ‘পোয়াতি মাইয়াগো ভালো ভালো খাওন লাগে। এতদিন নিজের খাবার খাইছো। কিন্তু এহন তো দুইজনেরটা খাওন লাগব। তোর সোয়ামীটা কি মানুষ, না অন্য কিছু নাহার!’ নুরুন্নাহার কিছু বলেনি। নির্বিকার তাকিয়ে ছিল বস্তির শেষ মাথার দিকে। তারপর যাওয়ার সময় ফুলির মা নুরুন্নাহারের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে গেছে- ‘ভাত দুগা খাইয়া লইস, নাইলে অসুস্থ হইয়া যাবি তো, যে আইতাছে হেরে সুস্থমতো পৃথিবীতে আনা লাগবে না!’ নুরুন্নাহার হুহু কেঁদে উঠে বলে- ‘খালা আমার জীবনটা এমন কেন?’ কী সান্ত্বনা দেবে ফুলির মা বুঝে উঠতে পারে না। কিছুক্ষণ নাহারের মাথাটা কোলে নিয়ে বসে থেকে চলে যায়।

নুরুন্নাহারের খেতে ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে সে মরে যাবে, পৃথিবীতে জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটুকু ছাড়ছে। মরে যাওয়ার আগে মানুষের ইচ্ছে করে আরও কয়েকটা দিন বাঁচতে। কিন্তু নুরুন্নাহারের বাঁচতেও ইচ্ছে করছে না। ইচ্ছে করছে দ্রুত এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে। নুরুন্নাহার ভাবে- আমি যদি মারা যাই, তাহলে আমার ভেতরে যে আছে সে তো পৃথিবীতে আসতে পারবে না! ভাবতেই দুচোখ জলে ভরে যায় তার।

সূর্য ডুবে গেছে। আজকে মনে হয় বৃষ্টিও হবে। ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। এমন সময় উঠানে ছপছপ পানির শব্দ হয়। মতি মিয়া আসছে। মতি ঘরে ঢুকেই স্পষ্ট ভাষায় গালাগাল শুরু করবে হয়তো। নাহার তা শোনার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু সে অবাক হয়ে দেখল, মতি ঘরে ঢুকে সোজা ভাতের পাতিলের কাছে চলে গেল। কোনো শব্দ করল না। বেচারার মনে হয় ক্ষুধা বেশিই লাগছে আজকে। মতি মিয়ার গালির বর্ষণ শুরু হয় আরও কিছুক্ষণ পরে, তরকারির বাটিটা হাতে নেওয়ার পরে যখন বাসি গন্ধে নাক-মুখ কুঁচকে যায়। বাটিটা মেঝেতে ছুড়ে দিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে নাহারের উপর। চুল ধরে টান দিয়ে চৌকি থেকে নিচে ফেলে দেয়। চৌকির কোণায় লেগে কপাল খানিক কেটে যায় তার। সেখান থেকে রক্ত বের হচ্ছে। এই মুহূর্তে উঠে বসার মতো অনুভূতি কিংবা শক্তি কিছুই তার নেই। চোখের কোণ বেয়ে শান্তভাবে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু। নুরুন্নাহার কল্পনায় আগত সন্তানের চেহারা দেখার চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছুতেই দেখতে পারছে না। বারবার শুধু মতি মিয়ার রোদেপোড়া তামাটে রুক্ষ চেহারাখানা ভেসে উঠছে।

নুরুন্নাহারের এই মুহূর্তে জানতে ইচ্ছে করছে- ‘মতি কি এখনো তাকে ভালোবাসে!’

রাত কয়টা বাজে ঠিক জানা নেই। মতি এতক্ষণ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে এখন পাথরের মূর্তির মতো বসে আছে। তার সামনে পড়ে আছে নুরুন্নাহারের নিথর শরীর। একজন কাঠখোট্টা রুক্ষ মানুষের বুকের ভেতর তিরতির করে ভালোবাসা বেড়ে ওঠে। কিন্তু পারিবারিক দুরবস্থা, আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে সেসব ভালোবাসা বেশির ভাগ সময়ই প্রকাশ পায় না। শোকের দিনগুলোয় তা অশ্রু হয়ে গড়িয়ে পড়ে! 

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ, ঢাকা। 

কলি