নড়াইলে গাছের ডাল-পালা কেটে পাখির আবাসস্থল নষ্ট করার প্রতিবাদ জানালো হাজার হাজার চড়ুই পাখি। গতকাল রবিবার সন্ধ্যার আগে নিজেদের আবাসস্থলে এসে ডাল-পালাহীন গাছে বসে তারা এ প্রতিবাদ জানান। এমন একটি ভিডিও রবিবার রাতে সামাজিক ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনা দেখে পাখিপ্রেমীরা গাছের ডালপালা কাটার দায়ে অভিযুক্ত মুজিবুর রহমান পান্নার বিরুদ্ধে শাস্তিরমুলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি।
জানা গেছে, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা শহরের লক্ষীপাশা-কালনা মহাসড়কের পাশে উপজেলা সামনে কয়েকটি সরকারি গাছে কয়েক শত দেশীয় পাখি বসবাস করত। রবিবার ভোরে ওই এলাকার ব্যবসায়ী পান্না সেখানের একটি গাছের সবগুলো ডাল-পালা কেটে গাছটিকে ন্যাড়া করে ফেলে। সন্ধ্যার আগে ওই গাছে বাসরত হাজার হাজার পাখি সেখানে এসে হাজির হন। পাখিগুলো তাদের আবাসস্থল কেটে নষ্ট করায় তারা সেখানে এসে ওই কাটা গাছের উপরে বসে, কেউ বা গাছের উপর দিয়ে উড়ে বেড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। এ দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা গাছ কাটার দায়ে অভিযুক্ত পান্নার বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় চা দোকানী বৃষ্টি খানম বলেন, আমি প্রায় দুই বছর এখানে চায়ের দোকান দিয়েছি। প্রতিদিন হাজার হাজার চড়ুই পাখি ওই আম গাছে রাত থাকতো। হঠাৎ করে রবিবার ভোরে গাছের সকল ডাল-পালা পান্না কেটে ফেলেছে। সন্ধ্যার আগে হাজার হাজার পাখি এসে তাদের থাকার জায়গা না পেয়ে সে কি দৃশ্য বলে বোঝানো যাবে না।
কামরুল ইসলাম বলেন, এখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পাখি দেখতে আসতো। অনেক এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তারা ছবি তুলত, সেলফি তুলে বন্ধুদের কাছে সেই ছবি পাঠাতো। হঠাৎ করে গাছটিরে সব ডালপালা কেটে ফেলায় আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি। আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযুক্ত পান্নার শাস্তি দাবি করছি।
ফিরোজ শেখ বলেন, পান্না দীর্ঘদিন যাবৎ পাখিদের ওই গাছ থেকে তাড়াবার জন্য মতলব আটছিলেন। আমরা অনেকবার তাকে সতর্ক করেছি আমাদের কথা শোনেনি। আর আমরা বাজারে আসার আগেই ভোরবেলা আম গাছটির সব ডাল-পালা কেটে ফেলেছে। আমরা পান্নার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।
লক্ষীপাশা আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বলেন, সরকারি জমির আম গাছে বসাবস করতো কয়েক হাজার চড়ুই পাখি তারা কারো ক্ষতি করতো না। সরকারি যায়গার গাছের ডালপালা কাটা ও পাখির আবাসস্থল ধ্বংস করা আইনত অপরাধ। অপরাধি যেই হোক না কেন তার শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
লক্ষীপাশা আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক টি এম ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, আমি রোববার বিকালে বাসা থেকে বের হয়ে দেখি আম গাছটির সকল ডাল-পালা কেটে ফেলা হয়েছে। পাখির আবাসস্থল এভাবে নষ্ট করা আইনত অপরাধ। আমি অভিযুক্ত পান্নার বিচার দাবি করছি।
অভিযুক্ত মুজিবুর রহমান পান্না বলেন, আমার দোকানের সামনে আমি আম গাছ লাগিয়েছিলাম গাছে পাখিরা বসবাস করতো। যায়গা নোংরা করতো। তবে গাছকাটা ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রিয়াদ বলেন, সরকারি জায়গার গাছ কাটা এবং বন্য প্রানী আইনে পাখির আবাসস্থল নষ্ট করা অপরাধ।এ বিষয়টি এখন অবগত হলাম। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।