বিশ্বের মিঠাপানির প্রাণ-বৈচিত্র্যের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মিঠাপানির মাছ, কাঁকড়া ও চিংড়িসহ প্রায় ২৫ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্তির উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
গত ৮ জানুয়ারি বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) পরিচালিত এই বিশ্লেষণে ২৩ হাজার ৪৯৬টি প্রজাতির মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, অন্তত ৪ হাজার ২৯৪টি প্রজাতি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
আইইউসিএন-এর মিঠাপানি জীববৈচিত্র্য শাখার প্রধান এবং গবেষণার প্রধান লেখক ক্যাথরিন সায়ার বলেন, ‘মিঠাপানি জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত তথ্যের অভাবকে আর নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। পৃথিবীর মোট প্রজাতির ১০ শতাংশের আবাসস্থল এই মিঠাপানির আধারগুলো, যা কোটি কোটি মানুষের পানীয় জল ও জীবিকার প্রধান উৎস।’
গবেষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে ক্রাস্টেশিয়ান বা খোলসধারী প্রাণী। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ কাঁকড়া, ক্রেফিশ ও চিংড়ি বিলুপ্তির পথে। এ ছাড়া ২৬ শতাংশ মিঠাপানির মাছ এবং ১৬ শতাংশ ফড়িং প্রজাতি ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, এই সংকটের পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করছে। তাদের মতে, অর্ধেকেরও বেশি বিপন্ন প্রজাতির ওপর কৃষি ও বনায়ন থেকে আসা রাসায়নিক ও বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। যত্রতত্র বাঁধ নির্মাণ ও পানি উত্তোলনের ফলে মাছের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।
পরিবেশবিদরা আরও বলেন, ‘বাইরের দেশ থেকে আসা ক্ষতিকর মাছ বা প্রাণীর কারণে স্থানীয় অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে। স্পেনের ‘স্কুয়ালিয়াস প্যালাসিওসি’ মাছটিকে এ বছর আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।’
‘আঞ্চলিক প্রভাব’ প্রতিবেদনে ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালা, শ্রীলঙ্কার আর্দ্র অঞ্চল, ভিক্টোরিয়া হ্রদ ও টিটিকাকা হ্রদকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বাঘ বা হাতির মতো স্থলচর প্রাণীদের জন্য নেওয়া সাধারণ সংরক্ষণ ব্যবস্থা জলজ প্রাণীদের রক্ষায় কার্যকর নয়।
আইইউসিএন বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব রাঘবন বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমঘাটে বাঘ সংরক্ষণের উদ্যোগ বিপন্ন হাম্পব্যাকড মাহাসির মাছকে রক্ষা করতে পারবে না। জলজ প্রাণীদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক নদী সুরক্ষা এবং বালু উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি।’
আইইউসিএন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড কনজারভেশন কংগ্রেস’-এ এই তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী চার বছরের বৈশ্বিক সংরক্ষণ নীতি নির্ধারণ করা হবে। সংস্থাটি সরকার ও শিল্পখাতকে তাদের পানি ব্যবস্থাপনা নীতিতে এই বৈজ্ঞানিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
জয়ন্ত/রিফাত/