গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৫৩ জনের।
শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯২ শিশু। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৩ জনে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ২৬৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জনের শরীরে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১০ হাজার ১৮৫ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৫ হাজার ২৭৫ জন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে খুলনায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
লাইসেন্স বাতিল হওয়া মগবাজারের আদ-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো (রেফারকৃত) রোগীদের তাৎক্ষণিক ভর্তি ও যথাযথ চিকিৎসা দিতে রাজধানীর বড় ছয়টি সরকারি হাসপাতালকে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক সরকারি চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে৷
এর আগে গত ১১ জুন এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ঢাকার বড় মগবাজারের আদ-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন বা সেখান থেকে স্থানান্তরিত রোগীদের চিকিৎসা সংকট এড়াতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যে ছয়টি সরকারি হাসপাতালকে আদ-দ্বীনের রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও ভর্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—
# ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
# স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
# শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
# মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
# কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল
# বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, আদ-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উক্ত হাসপাতাল থেকে রেফারকৃত কোনো রোগী এলে তাকে যেন ফিরিয়ে না দিয়ে তাৎক্ষণিক যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
জয়ন্ত সাহা/এসএন
সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন শেষে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৫২৪৯১ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) হজ অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, তিনটি নির্ধারিত বিমান সংস্থার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মোট ১২৩টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫৫টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৪৭টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১২৩টি ফ্লাইটের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ২৮৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় ৪৮ হাজার ২০২ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।
এবার হজ পালন করতে গিয়ে ৩৩ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারীসহ মোট ৪৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১৩ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন।
হজ বুলেটিন অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪১০ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি আরবের মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬২ হাজার ২৪৩ জনকে এবং আইটি হেল্প ডেস্ক মক্কা ও মদিনায় ২৭ হাজার ৪১০ জন হাজিকে সেবা প্রদান করেছে।
এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ২১ মে প্রাক হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজ শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
এসএন/
‘গণমানুষের বাজেট’ আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে। যারা দলীয়করণ বলছে, তারা খুবই নিকৃষ্ট লোক।’
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে কক্সবাজার পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ কী বিএনপির জন্য নেওয়া হয়েছে। অবশ্যই নয়, এটি বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তসহ সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। মানুষের চাহিদা হলো— নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই বাজেট কি গণমুখী নয়? এটি কি দরিদ্রবান্ধব নয়? এটি কি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন নয়? নিঃসন্দেহে এই বাজেট গণমুখী, দরিদ্রবান্ধব এবং জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এছাড়া আমাদের যে অঙ্গীকারগুলো ছিল— কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, সেসব বিষয়ও এই বাজেটে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই বাজেটে একদিকে জনগণের ওপর করের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে রাজস্ব আয়ের পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলে উন্নয়ন বাজেটে দেশীয় আয়ের অবদানও বাড়বে। আমরা যদি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সবসময় ব্যাংক ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকি, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরশীলতার চক্র থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না। সেই লক্ষ্য থেকেই আমরা রাজস্বভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এটিই আমাদের সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং নির্বাচনী জোটের সমর্থনে গঠিত সরকারের বাজেট। কেউ যদি এটিকে ‘দলীয় বাজেট’ বলে আখ্যায়িত করেন, তাহলে আমি বলব— গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারের বাজেটকে শুধুমাত্র দলীয় বাজেট হিসেবে চিহ্নিত করা একটি অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত মন্তব্য।
এসএন/
প্রায় এক ঘণ্টা বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক হয়েছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামসহ মেটার বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্ম।
এর আগে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বড় ধরনের বিভ্রাটের খবর আসে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। আর সচল হওয়ার খবর পাওয়া যায় রাত সোয়া ৮টার দিকে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেবা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম— ডাউনডিটেক্টরে জমা হওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটের পর থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারে সমস্যা নিয়ে অভিযোগ বাড়তে থাকে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে অ্যাপ ব্যবহারে।
ডাউনডিটেক্টরের পরিসংখ্যান বলছে, মোট অভিযোগের ৫৬ শতাংশই ছিল অ্যাপ-সংক্রান্ত। এছাড়া ২৬ শতাংশ ব্যবহারকারী লগইন সমস্যার কথা জানান। ওয়েবসাইট ব্যবহারে সমস্যার অভিযোগ আসে ১১ শতাংশ প্রতিবেদনে।
ব্যবহারকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, রোমানিয়া, মিয়ানমার, মধ্যপ্রাচ্য ও ফিলিপিন্সসহ বিশ্বের নানা অংশে সেবা বন্ধ থাকে।
সমস্যার কারণে কিছু ব্যবহারকারী ফেসবুক অ্যাপ চালু করতে, অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে কিংবা স্বাভাবিকভাবে সেবা ব্যবহার করতে বাধার মুখে পড়েন।
এসএন/