নিজেদের মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠায় ত্যাগে-আত্মত্যাগে আমরা নিজ ভাষার প্রতি কি অতটা শ্রদ্ধাশীল হতে পেরেছি? আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। কিন্তু আমরা কি রাষ্ট্রভাষাকে সর্বস্তরে প্রচলন ও প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি? পারিনি। সে ব্যর্থতার দায় দুঃখজনক হলেও আমাদের বহন করতে হচ্ছে।...
বাংলাদেশ ভূখণ্ডজুড়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তাবাদে আমরা কেবল একটি ভাষাতেই কথা বলে থাকি। দ্বিতীয় বা বিকল্প কোনো ভাষার প্রয়োজন হয় না। এটি যে আমাদের কত বিশাল প্রাপ্তি তা অনুভব করেছি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ভ্রমণে গিয়ে। হাতেগোনা দু-চারটি প্রদেশ ছাড়া ভারতের সব প্রদেশ ঘুরে দেখার ও জানার অভিজ্ঞতা হয়েছে। নানা কারণে অসংখ্যবার গিয়েছি ভারতে। ভারতের মানচিত্রকে ভাগ করে করে অনেক দফায় সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছিল বিশাল ভারত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। বহুভাষা-সংস্কৃতির বৈচিত্র্যপূর্ণ ভারত নিঃসন্দেহে মহাদেশতুল্য।
পশ্চিমবঙ্গের অনেকে আমাদের দেশজুড়ে মাত্র একটি ভাষা প্রচলনের জন্য আমাদের ভাগ্যবান মনে করেন। তাদের দেশে তো পরের কথা- নিজেদের প্রদেশেই প্রাদেশিক ভাষা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। প্রদেশজুড়ে প্রাদেশিক ভাষায় কথা বলার উপায় পর্যন্ত নেই। বিকল্প হিন্দির আশ্রয় নিতেই হয়। বাঙালিদের প্রদেশ পশ্চিমবাংলার রাজধানী কলকাতা নগরীতে বাংলাভাষী মানুষের সংখ্যা আনুপাতিক হারে কমে সংখ্যালঘুতে দাঁড়িয়েছে। কলকাতা নগরীও এখন সম্পূর্ণরূপে বাংলা ভাষা-সংস্কৃতিনির্ভর নয়। হিন্দির আগ্রাসনে এবং অন্য ভাষাভাষীদের প্রভাবে কলকাতায় বাংলা ভাষার ব্যবহার ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে। ট্রামে, বাসে, রিকশায়, ট্যাক্সিতে, হাটে-বাজারে, রাস্তায়-ফুটপাতে, শপিংমলে, হোটেলে যেখানেই কথা বলার প্রয়োজন হবে, কথা বলতে হয় ইংরেজি বা হিন্দিতে, বাংলায় নয়। এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে কলকাতার বাঙালিরা পর্যন্ত। পুরাতন কলকাতার বাসিন্দাদের সিংহভাগ বাঙালি হওয়ায় সেখানে বাংলা ভাষার একচেটিয়া প্রচলন ছিল একসময়। এ ছাড়া সেন্ট্রাল কলকাতাসহ পুরো কলকাতায় বাংলায় কথা বলার সুযোগ নেই বললে মোটেই ভুল হবে না।
লাখ লাখ বাঙালি ডেইলি প্যাসেঞ্জার হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে কলকাতায় আসা-যাওয়া করে। বনগাঁ, রানাঘাট, চুঁচড়া, বর্ধমান, হাওড়া, উত্তর-দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর এমনকি খড়গপুর হতেও ট্রেনে-বাসে চেপে পেশাজীবী মানুষ কর্মস্থল কলকাতায় আসে এবং কাজ শেষে ফিরে যায় যে যার গন্তব্যে। ছুটির দিন ব্যতীত নিত্যই এ দৃশ্য দেখা যায়। শিয়ালদহ-হাওড়া-ধর্মতলার রেল ও বাস স্টেশনগুলোতে সকাল-বিকেলের এ দৃশ্য নিত্যদিনের। কলকাতার স্থায়ী অনেক বাসিন্দা মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের কাছে উচ্চমূল্য পেয়ে বসতভিটা বিক্রি করে নতুন আবাস গড়েছে শহরতলি ও মফস্বলে। কলকাতা শহরে বাঙালি সংখ্যালঘুতে পরিণত হওয়ার এটাও অন্যতম কারণ। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কলকাতাকে এখন বাংলা ভাষা-সংস্কৃতির একমাত্র শহর বলার উপায় নেই। বহু ভাষাভাষী, বর্ণ, সম্প্রদায় ও জাতির শহর কলকাতা। ভারতের বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের আবাস হওয়ায় সেখানে গড়ে উঠেছে মাড়োয়ারি, পাঞ্জাবি, গুজরাটি ভাষাভাষীদের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। সেখানে নিজ নিজ ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় তারা শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। অথচ বাংলামাধ্যম স্কুলগুলো বন্ধ হওয়ার পথে।
বিশাল ভারতে স্বীকৃত ভাষা প্রায় ২৭টি। এ ছাড়া রয়েছে অস্বীকৃত প্রচুর আঞ্চলিক ভাষাও। সরকারি ভাষা হিন্দি হলেও সরকারি ভাষার অবাধ প্রচলন কিন্তু সব প্রদেশে নেই। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে তো নয়ই। দক্ষিণ ভারতের চার রাজ্যের মধ্যে একমাত্র অন্ধ্র প্রদেশের রাজধানী সিকান্দ্রাবাদ-হায়দ্রাবাদে হিন্দি-উর্দু ভাষার প্রচলন সামান্য দেখলেও অপর তিন রাজ্যের কোথাও সরকারি হিন্দি ভাষার প্রচলন দেখিনি। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ উপনিবেশের গোড়াপত্তনে দেশীয় বিশ্বাসঘাতকদের অবদানের প্রচুর নজির রয়েছে। তেমন এক বিশ্বাসঘাতক হায়দ্রাবাদের নিজাম। যার বিশ্বাসঘাতকতায় এবং সহযোগিতায় ইংরেজদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল বীর টিপু সুলতানকে পরাজিত এবং হত্যা করাও। প্রতিদানে ইংরেজ শাসক নিজামকে পুরস্কৃত করেছিল হায়দ্রাবাদের শাসনকর্তা রূপে। ভারতের এ ধরনের অসংখ্য করদরাজ্য ছিল। ব্রিটিশ অধীন করদরাজ্যগুলোর শাসন ক্ষমতা ছিল দেশীয় শাসকদের হাতে। ইংরেজ তাঁবেদার মুসলিম শাসক নিজামদের কারণেই হায়দ্রাবাদে তেলেগু ভাষার পাশাপাশি উর্দু ভাষার প্রচলন ছিল। সেই সুবাদে দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের রাজধানী হায়দ্রাবাদে-সিকান্দ্রাবাদে উর্দু ভাষার প্রচলন দেখেছি। তবে রাজধানীর বাইরে গোটা প্রদেশজুড়ে তেলেগু ভাষাই প্রচলিত। কেরালা, কর্ণাটক, অন্ধ্র ও তামিলনাড়ু- দক্ষিণের এ চার রাজ্যে স্ব স্ব ভাষা ও সংস্কৃতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে সরকারি ভাষা হিন্দির প্রবেশের সুযোগ-উপায় কোনোটি নেই। ওই চার রাজ্যের মালায়ালম, কানাড়া, তেলেগু এবং তামিল ভাষার একমাত্র বিকল্প ভাষাটি হচ্ছে ইংরেজি, সরকারি ভাষা হিন্দি নয়। নিজ ভাষা-সংস্কৃতির প্রতি দক্ষিণের চার রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাবোধ-ভালোবাসা অভূতপূর্ব এবং শিক্ষণীয়ও বটে।
নিজেদের মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠায় ত্যাগে-আত্মত্যাগে আমরা নিজ ভাষার প্রতি কি অতটা শ্রদ্ধাশীল হতে পেরেছি? আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। কিন্তু আমরা কি রাষ্ট্রভাষাকে সর্বস্তরে প্রচলন ও প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি? পারিনি। সে ব্যর্থতার দায় দুঃখজনক হলেও আমাদের বহন করতে হচ্ছে। দক্ষিণ ভারতের ওই চার রাজ্যের মানুষ সরকারি ভাষা হিন্দিকে কেবল অগ্রহণ করেনি, সচেতনভাবেই প্রত্যাখ্যান করেছে। হিন্দি ভাষা-সংস্কৃতি রুখতে দ্বিতীয় বা বিকল্প ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভাষাকে সানন্দে গ্রহণ করেছে। দক্ষিণ ভারতের চার রাজ্যের সাধারণ মানুষ পর্যন্ত অন্য ভাষাভাষী মানুষের সঙ্গে বিকল্প ভাষা ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলে থাকে। চার রাজ্যের চার পৃথক ভাষা। কোনোটির সঙ্গে কোনোটির মিল নেই। মালায়ালম, কানাড়া, তেলেগু, তামিল এই চার ভাষাভাষীর মানুষ একে অপরের সঙ্গে যার যার মাতৃভাষায় নয়, কথা বলে বিকল্প ভাষা ইংরেজিতে। ভাষার প্রশ্নে কেউ কাউকে ছাড় দেয় না। নিজ ভাষা সংস্কৃতির প্রতি আনুগত্য-অহংকার দেখে হতবাক হয়েছিলাম।
স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের মন্তব্যটি ছিল প্রাসঙ্গিক এবং তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত একদিন স্বাধীন হবে। স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রভাষা কী হবে? শান্তি নিকেতনে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ অনেকের উপস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘ভারতবর্ষের প্রদেশগুলোতে প্রাদেশিক ভাষার প্রচলন যেমন আছে ঠিক তেমনি থাকবে। তবে রাষ্ট্রভাষা হতে হবে ইংরেজি।’ এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সরকারি ভাষার প্রচলন ও ব্যবহারে সরকারি বাধ্যবাধকতা বা সরাসরি চাপ নেই বলেই প্রদেশগুলো প্রাদেশিক ভাষার পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারছে। পাশাপাশি এটাও অসত্য নয়- কেন্দ্রীয় সরকারের সব দপ্তরে হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। ভারতের প্রদেশগুলোতে প্রাদেশিক ভাষা রক্ষা-প্রচলন এবং ব্যবহারের সব দায়দায়িত্ব প্রদেশগুলোর হলেও বাস্তবক্ষেত্রে তা নানা কারণে সম্ভব হচ্ছে না। যেমনটি পশ্চিমবঙ্গে। কেননা পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বাংলাভাষীরা ইতোমধ্যে সংখ্যালঘুতে পরিণত। এ ছাড়া রয়েছে সর্বভারতীয় প্রচার-প্রতিষ্ঠার হাতছানি। খ্যাতিবান বাঙালি গায়ক, সুরকার, কাহিনিকার, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক হতে অনেক গুণী শিল্পী-কুশলীরা সর্বভারতীয় প্রচার-প্রতিষ্ঠার মোহে কলকাতা ছেড়ে মুম্বাই পাড়ি দিয়ে বাংলা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যহানিতে অবদান রেখেছেন। বাংলা সংস্কৃতির ক্ষতিসাধন সেখান থেকেই শুরু। অথচ কলকাতার বাংলা চলচ্চিত্র, বাংলা গান উপমহাদেশজুড়ে এক সময় প্রভাব বিস্তার করেছিল। আজকে বাংলা চলচ্চিত্রের যৎসামান্য সৃজনশীল চলচ্চিত্র ছাড়া সিংহভাগ বাংলা ছবিই হিন্দি এবং দক্ষিণ ভারতীয় স্থূল বাণিজ্যিক ছবির রিমেক। অথচ এক সময় বাংলা চলচ্চিত্রের রিমেক এবং বাংলা কথাসাহিত্য অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণের হিড়িক পড়েছিল ভারতজুড়ে। নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিসর্জন দিয়ে পরনির্ভর হওয়ার এ প্রবণতার কারণে ঐতিহ্যপূর্ণ বাংলা চলচ্চিত্র, বাংলা গান মোটেও মর্যাদার আসনে নেই। বাঙালি দর্শক-শ্রোতা পর্যন্ত অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে অপসংস্কৃতির দাঙ্গাবাজি-অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ হিন্দি নাচে-গানে। এতে করে মুনাফাবাজ চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে মওকার সব সুযোগ। বাংলা ভাষা-সংস্কৃতির এ অপরিসীম ক্ষতির বিষয় বিবেচনা না করার খেসারত তাদেরই দিতে হচ্ছে চড়ামূল্যে। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বলেছিলেন, একমাত্র বাঙালি হওয়ার কারণে এবং হিন্দি ভাষায় অধিক পারদর্শী নয় বলেই সব যোগ্যতার পরও দলে এবং সরকারে শীর্ষ পদপ্রাপ্তি তার হয়নি।
দক্ষিণ ভারতের চার রাজ্যে হিন্দি চলচ্চিত্র, হিন্দি গানের প্রবেশ তারা রুখেছে নিজেদের ভাষা-সংস্কৃতির অধিকতর চর্চার মধ্যদিয়ে। নিজ ভাষার চলচ্চিত্র তাদের কাছে অধিক সমাদৃত বলেই হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্র সেখানে প্রবেশের সুযোগ পায়নি। দক্ষিণ ভারতীয়দের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ হিন্দি জানে না, বোঝে না, তাই বলেও না। দক্ষিণের গায়ক-অভিনেতা-অভিনেত্রী অনেকে হিন্দি ছবিতে গান এবং অভিনয় করলেও মুম্বাইয়ে স্থায়ী হয়ে নিজেদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে ত্যাগ করেননি। তামিল গায়ক প্রয়াত বালা সুব্রামনিয়াম দক্ষিণে এত জনপ্রিয় ও সমাদৃত ছিলেন যে, তাকে রিটার্ন টিকিট দিয়ে মুম্বাই বা অন্য কোথাও গান গাইতে নিতে হতো। প্রচুর হিন্দি গান গেয়ে সর্বভারতীয় জনপ্রিয়তা পেলেও, তিনি মোহে পড়ে চেন্নাই ছেড়ে মুম্বাইয়ে স্থায়ী হননি। অথচ বাংলা ভাষা-সংস্কৃতির ঐতিহ্যপূর্ণ কলকাতার এমন দুর্দশা দেখে হতাশ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। এক সময়ে কলকাতায় নির্মিত বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রের দাপুটে অবাঙালি অভিনেতা-গায়ক কে এল সায়গলের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে সমালোচনা এবং কটাক্ষ করেছিলেন চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। অবাঙালি সায়গলের অশুদ্ধ বাংলা উচ্চারণে বাংলা ভাষার ক্ষতির কথাও বলেছিলেন। হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্র নির্মাণের সব অনুরোধ-আবেদন সযত্নে প্রত্যাখ্যান করে সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, যে ভাষা ভালোভাবে বলতে ও বুঝতে সক্ষম নন, সে ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মাণ তার পক্ষে অসম্ভব। অথচ সত্যজিৎ রায়কে পর্যন্ত একপর্যায়ে ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ নামক হিন্দি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হয়েছিল। যার পেছনে হয়তো ইচ্ছের চেয়েও অধিক লোভনীয় অন্য কারণ নিশ্চয় ছিল। এ বরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় যথার্থই বলেছিলেন, ‘বাংলা ভাষার সাহিত্য-সংস্কৃতির লালন-পালন পশ্চিমবাংলাকেন্দ্রিক থাকবে না। তা বাংলাদেশকেন্দ্রিকই হবে।’ তার সে মন্তব্যের বাস্তবতা এখন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, নতুন দিগন্ত
.jpg)


