ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

বাজেটে প্রধান সংকট দ্রব্যমূল্য, ডলারের ক্রমবর্ধমান মূল্য : সিপিবি

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ০৮:৩৯ পিএম
বাজেটে প্রধান সংকট দ্রব্যমূল্য, ডলারের ক্রমবর্ধমান মূল্য : সিপিবি
ছবি : খবরের কাগজ

আসন্ন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং ডলারের ক্রমবর্ধমান মূল্যকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক এম এম আকাশ। তিনি বলেন, বাজেটে অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সরকারের শ্রেণিগত পক্ষপাতিত্ব ও উন্নয়ন দর্শনের গতিমুখের একটি প্রতিফলন দেখা যাবে। 

বুধবার (১৫ মে) রাজধানীতে সিপিবির প্রধান কার্যালয়ে ‘বাজেট: গণমানুষের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। 

সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে এই প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় আলোচক ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক তাজুল ইসলাম, অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমীর, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। এ ছাড়া সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি কৃষক, শিক্ষক, বিভিন্ন খাতের শ্রমিক, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, নারী ও যুবক সমাজের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, দ্রব্যমূল্য ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচার- এসব অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, লুটেরা রাজনীতির সংকট। এ জন্য বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার জরুরি। আসন্ন বাজেটে খাদ্য-কাজ-চিকিৎসা-শিক্ষা ও বাসস্থানের নিশ্চয়তার জন্য বরাদ্দ সুনিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ওই বরাদ্দের টাকা যাতে সংশ্লিষ্টদের জন্য দুর্নীতি, দলবাজি ও স্বজনপ্রীতি ছাড়াই যাতে খরচ হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

তারা বলেন, বাজেটের আগে সরকার ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও বড়লোকদের সঙ্গে সংলাপ করে। যারা দেশের টাকা পাচার করছে, ব্যাংকের টাকা নিয়ে শোধ করে না, তাদের সঙ্গে সংলাপ করে। অথচ দেশের অর্থনীতির চাকা যারা সচল রেখেছে, সেই শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে সংলাপ করে না। কমিউনিস্ট পার্টি এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করল তারা প্রকৃতপক্ষে গণমানুষের রাজনৈতিক দল। 

অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ক্ষমতাসীন সরকারের ঘনিষ্ঠজনই বলতে শুরু করেছেন যে বিদেশে অর্থ পাচারের শতকরা ৯০ ভাগ ঘটছে ব্যাংকিং চ্যানেলে। শুধু ২০২২-২৩ অর্থবছরেই ১৪ হাজার ১০৬টি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে, যা আগের বছরের তুলনায় শতকরা ৬৫ ভাগ বেশি। বর্তমানে ঋণখেলাপি ও টাকা পাচারকারীরা ক্ষমতা কাঠামোয় যে রকম শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে গেছেন, তাতে তাদের ট্যাক্সের আওতায় আনা না গেলে সরকারি বাজেটের আয় দিয়ে ব্যয় সংকুলান করা যাবে না। পাচারের টাকা ফেরত আনতে শীর্ষ ঋণখেলাপিদের নাম প্রকাশ ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন তিনি। 

অধ্যাপক আকাশ আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত যেটুকু প্রবৃদ্ধির সূচক দৃশ্যমান হয়েছে, তার মূলে রয়েছেন আমাদের কৃষক, পোশাকশিল্পের নারী শ্রমিক, মাঝারি ও ক্ষুদ্রশিল্পের অসংখ্য উদ্যোক্তা। এসব উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীকে আরও বিকাশের সুযোগ প্রদান ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্য-নিরসনকারী উন্নয়ন প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।’

অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, সমসাময়িক অবস্থা বিবেচনা করে বাজেট প্রণীত হচ্ছে। তাতে আসল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এর মূল কারণ রাজনৈতিক। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ডলারসংকট এগুলো আসলে মূল সংকটের বহিঃপ্রকাশ। ডলার দেশে যথাযথভাবে আসে না, আবার ডলার দেশ থেকে চলে যায়। যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া সম্পদের লুটপাট ঠেকানো যাবে না।

অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী নামে কয়েকটি খাতে শুধু বরাদ্দ দিয়ে দেশের মানুষের সংকট সমাধান করা যাবে না। সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল কথা হবে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব বিষয়ে মানুষের দায়িত্ব নেওয়া। আমাদের অর্থনীতি সেটা বহন করতে পারে। করের টাকা লুটপাট নয়, জনস্বার্থে ব্যবহার করতে হবে।’

সভায় সিপিবি নেতারা বলেন, সরকারের ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। আবার ঋণ করে ঋণ শোধ করার ধারা চলার মধ্য দিয়ে ঋণের পরিমাণ আরও বেড়ে চলবে। আইএমএফ এবং কিছু দেশের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বর্তমান অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কিন্তু এসব শক্তির নির্দেশ উপেক্ষা করতে পারবে না। 

সিপিবি নেতাদের ভাষ্যমতে, এবার সরাসরি আইএমএফের নির্দেশে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি তুলে দেওয়ার নামে মূল্যবৃদ্ধির উৎসব দেখা যাবে।

সরকারের চাপে স্বাধীন সাংবাদিকতা আর নেই : রিজভী

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৫:১৫ পিএম
সরকারের চাপে স্বাধীন সাংবাদিকতা আর নেই : রিজভী
ডিআরইউয়ের অনুষ্ঠানে কথা বলছেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি : খবরের কাগজ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের চাপে এখন আর দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা নাই। দেশে যখন মানুষের ভোটাধিকার থাকে না, মানুষের কথা বলার অধিকার থাকে না এমন সময়ে সাংবাদিকদের ভয়ের মধ্যে কাজ করতে হয়। আর বর্তমানে দেশে সেই অবস্থা বিরাজমান। 

রবিবার (২৬ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) তিন দশক পূর্তি অনুষ্ঠানে বিএনপির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের জন্য সুখকর বিষয় নয়। সাংবাদিকদের জন্য এই আইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এমন একটি আইন, যে আইন থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না।’ 

তিনি বলেন, ‘যারা মুক্ত চিন্তার মানুষ, তারা তাদের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে কারাবন্দি হয়েছেন। এমন একটি আইন দেশে বিদ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে সংবাদপত্রের পথচলা দুঃসাধ্যের বিষয়।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে দুপুর ১২টার দিকে সেগুনবাগিচায় সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। 

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম আজাদ, ডিইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হক, রফিক মোহাম্মদ, ডিআরইউ বহুমুখী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেনসহ সংগঠনের সাবেক নেতা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শফিকুল ইসলাম/সালমান/

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় নেতা-কর্মীদের ৬ নির্দেশনা ছাত্রদলের

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:০১ পিএম
ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় নেতা-কর্মীদের ৬ নির্দেশনা ছাত্রদলের
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

ঘূর্ণিঝড় রেমালের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রোধে ও জানমালের নিরাপত্তায় নেতা-কর্মীদের ৬টি নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

রবিবার (২৬ মে) দলটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনাগুলো হলো- উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষকে রেমালের ধ্বংসাত্মক প্রবণতা সম্পর্কে জরুরিভাবে সতর্ক করার প্রয়োজনে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার কাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে, গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং বাঁধ সংস্কারের কাজে সহযোগিতা করতে হবে। শুকনো কিংবা রান্না করা খাবার, খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখতে হবে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রতিটি ইউনিটে অন্তত এক‌টি রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখতে হবে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে কিংবা সংকটে এক‌টি দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সবসময়ই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। রেমালের বিধ্বংসী প্রবণতা থেকে উপকূলের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের প্রতি এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

ক্রমান্বয়ে আরও শক্তি সঞ্চয় করে উপকূলের দিক ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের কাছের দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শফিকুল ইসলাম/সালমান/

হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা দুলু

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:২৮ পিএম
হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা দুলু
অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু

হার্ট অ্যাটাক হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। 

শনিবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। 

দুলুর ব্যক্তিগত সহকারী শামসুল আলম রনি জানান, শনিবার রাতে বাসায় হার্ট অ্যাটাক করলে তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
 
দুলুর রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তার পরিবার।

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

ফেনীর ৩ উপজেলায় প্রচার আছে আমেজ নেই

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
ফেনীর ৩ উপজেলায় প্রচার আছে আমেজ নেই

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ফেনীর তিনটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট চেয়ে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা নিজেকে বিজয়ী করতে ভোটারদের দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় নির্বাচনি মাঠে ভোটের আমেজ নেই। তবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ফেনী সদর, দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠিত হবে। তিন উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আটজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে শক্তিশালী কেউ না থাকায় নির্বাচনে মাঠে শুধু দোয়াত-কলমের প্রার্থীরা ফুরফুরে মেজাজে আছেন। তারা বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের বর্ধিত সভা, মহিলা সমাবেশ ও পথসভা করে নির্বাচনকে সরগরম রাখার চেষ্টা করছেন। এ জন্য অনেকে বলছে নামমাত্র ভোট। মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে ভোটের আমেজ নেই।

তবু শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় প্রার্থীরা হাটবাজার থেকে শুরু করে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন ছেয়ে গেছে শহর ও গ্রাম। চলছে মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা। তবে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের তেমন আগ্রহ নেই। সরকারদলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য প্রার্থীদের কোথাও গণসংযোগ বা নির্বাচনি প্রচার করতে দেখা যায়নি। শুধু শহরকেন্দ্রিক সামান্য কিছু পোস্টার ছাড়া আর কিছু নেই তাদের।

ফেনী সদর উপজেলার ভোটার আবুল কাশেম বলেন, ‘ভোট হলেও কি, না হলেও কি। এখানে সবাই জানে কে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন তো নামমাত্র। ভোট করে এত টাকা-পয়সা খরচ না করলেও হয়।’

দাগনভূঞা পৌরসভার ভোটার নুরুল আলম বলেন, ‘পুরো উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতনের আধিপত্য। এখানে নির্বাচন করে অন্য কোনো প্রার্থী জয়ী হবে এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছু না। তার সঙ্গে যে প্রার্থী রয়েছে তিনি ডামি প্রার্থী। এটি লোক দেখানো নির্বাচন ছাড়া আর কিছু না।’

ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী শুসেন চন্দ্র শীল বলেন, ‘আমরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য গণসংযোগ, পথসভা ও মহিলা সমাবেশ করছি। আমি মনে করি ভোট একটি গণতন্ত্রের উৎসব। এই উৎসব আমরা সবাইকে নিয়ে করতে চাই। আমি গণসংযোগ ও পথসভায় ভোটারদের ব্যাপক সাড়া দেখছি। আমার বিশ্বাস আগামী ২৯ মে ফেনী সদর উপজেলায় একটি ভোটবিপ্লব ঘটবে। সেই ভোটবিপ্লবে আমার প্রতীক দোয়াত কলমে সর্বোচ্চ ভোট পড়বে।

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী জহির উদ্দিন মাহমুদ লিটন জানান, বিগত পাঁচ বছর এই উপজেলার মানুষের সুখে দুঃখে বিপদে-আপদে সব সময় মানুষের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের বাইরেও এই উপজেলায় সরকারের অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। আমার প্রতি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সেই আস্থা এবং বিশ্বাস থেকে মানুষ আগামী ২৯ মে নির্বাচনে আমার প্রতীক দোয়াত-কলমে সর্বোচ্চ ভোট দেবে।

জেলা যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমান দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দোয়াত-কলম প্রতীকে প্রার্থী দিদারুল কবির রতন জানান, বিগত ১৫ বছর এই উপজেলার মানুষের সেবা করছি। এই উপজেলার অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন যেমন রাস্তাঘাট ব্রিজ-কালভার্ট করছি। উপজেলার প্রতিটি মানুষের বাড়ির দরজায় আমার শ্রম-ঘাম রয়েছে। এ জন্য উপজেলার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে আগামীতেও পাশে থাকার সুযোগ দেবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান নির্বাচনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের সমস্যা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। এতে বোঝা যাচ্ছে নির্বাচনি মাঠ ভালো রয়েছে।

জানা গেছে, ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, মোটরসাইকেল প্রতীকে মনজুর আলম, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগ সভাপতি দিদারুল কবির রতন, চিংড়ি মাছ প্রতীকে বিজন ভৌমিক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ ছাড়া সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টন, ঘোড়া প্রতীকে পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নূর আলম মিস্টার, লাঙ্গল প্রতীকে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিবুল হক, আনারস প্রতীকে মজলিশপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া দাগনভূঞা ও সোনাগাজীতে দুজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে।

সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাইয়ের দাবি : এই পরিবারে জন্ম হওয়াটাই ভুল

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:২৪ এএম
সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাইয়ের দাবি : এই পরিবারে জন্ম হওয়াটাই ভুল
শাহাদাত হোসেন

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন ভাইদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এই পরিবারে জন্ম হওয়াটাই আমার ভুল হয়েছে। আমি যদি এটা জানতাম, তাহলে আমার মাকে বলতাম, আমাকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলো।’

গত শুক্রবার রাতে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে নির্বাচনি প্রচারের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি তৃতীয় ধাপে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে টেলিফোন প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ওবায়দুল কাদেরের আরেক ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র। তিনি এ নির্বাচনে গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপুলকে আনারস প্রতীকে প্রার্থী দিয়ে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে নেমেছেন।

শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমার প্রার্থিতা বাতিল করতে গোলাম শরীফকে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে আপিল করিয়েছেন আমার ভাই আবদুল কাদের মির্জা। আদালত তাদের নাকচ করে দিয়ে আমার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিয়েছেন। এরপর তারা এখন নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’

শাহাদাত অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে পুলিশ। আমি হাইকোর্ট থেকে আটজনের জামিন এনেছি। এখন অজ্ঞাত আসামি বলে আমার লোকদের হয়রানি করা হচ্ছে। প্রতিরাতে পিপুলের হেলমেট বাহিনী আমার নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। আমার টেলিফোন প্রতীকের কোনো কর্মী বা এজেন্ট বাড়িতে ঘুমাতে পারছে না। মেয়রের নির্দেশে এসবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কাউন্সিলর রাসেল।’