মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনা ও সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে এর প্রতিক্রিয়া পড়ছে সরাসরি, যার ধাক্কা এসে লাগছে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। অনেক এলাকায় পাম্পগুলোতে তেলের সংকট তৈরি হচ্ছে, কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড। পরিবহন খাত থেকে শুরু করে কৃষি ও শিল্প- সবখানেই এর প্রভাব পড়ছে। সাধারণ মানুষ পড়ছে চরম ভোগান্তিতে।
এ পরিস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, এটি এক ধরনের সামাজিক চাপও সৃষ্টি করছে। যানবাহনের ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, আর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা হয়ে উঠছে আরও কঠিন। জ্বালানিসংকট যেন ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর সংকটের রূপ নিচ্ছে। এমন অবস্থায় প্রয়োজন দূরদর্শী পরিকল্পনা ও বিকল্প উদ্যোগ। নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব বাড়ানো, জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার মাধ্যমে এ সংকট কিছুটা হলেও মোকাবিলা করা সম্ভব। সবশেষে বলা যায়, দূরের যুদ্ধ কখনোই দূরে থাকে না, তার প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ‘জ্বালানি তেলশূন্য পাম্প’ আজ শুধু একটি শিরোনাম নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য এক সতর্কবার্তা।
মোহাম্মদ সিফাত মিয়া
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]