পয়লা বৈশাখের মেলা হলো বাঙালির প্রাণের মেলা। অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে সব ধর্ম-বর্ণের হাজারও মানুষ সমবেত হয়ে থাকে এ মেলায়। কিন্তু আনন্দ, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের এ মিলনমেলায় নিরাপত্তার দিকটি অবহেলা করা হলে উৎসবের আনন্দ ম্লান হয়ে যেতে পারে। বড় জনসমাগম মানেই হলো কিছু বাড়তি ঝুঁকি। নিরাপত্তায় ত্রুটি থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানের মেলায় নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে। ভিড়ের মধ্যে শিশু হারিয়ে যাওয়া, চুরি-ছিনতাই, পদদলিত হওয়াসহ নানা দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও থাকে। পকেটমারেরা মেলায় ভিড়ের মধ্যে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে পকেট কেটে মানিব্যাগ বা দামি জিনিসপত্র চুরির জন্য। আবার ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যও এসময় বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। হাতে থাকা দামি ঘড়ি, ফোন ইত্যাদি ছিনতাইয়ের জন্য সদা তৎপর হয়ে থাকে। বিশেষ করে নারীরা মেলায় ভিড়ের মধ্যে হেনস্তার শিকার হয়ে থাকে। ইতিপূর্বে বৈশাখী মেলায় নারীদের জন্য অনেক আপত্তিকর ঘটনাও ঘটেছে। মেলা কর্তৃপক্ষের উচিত ভিড় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বদা সজাগ থাকা প্রয়োজন। মেলায় চুরি-ছিনতাই কিংবা উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনা যেন না ঘটতে পারে এজন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা প্রয়োজন। বিশেষ ক্ষেত্রে সেনা মোতায়েনও অবশ্য জরুরি। মেলার ভেতরে ও আশপাশে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে । পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। তাই বৈশাখী মেলার আনন্দকে নির্বিঘ্ন ও সতেজ রাখতে দেশের সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করছি।
মো. শাহরিয়ার সৌরভ
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
[email protected]