ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

দাম্পত্য কলহ নিরসনে ইসলামের শিক্ষা

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ১৮ মে ২০২৪, ০৯:৪৬ এএম
দাম্পত্য কলহ নিরসনে ইসলামের শিক্ষা
প্রতীকী ছবি

স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্ক আল্লাহতায়ালার বিশেষ নেয়ামত। পৃথিবীর সব ধর্ম এই সম্পর্কের গুরুত্ব ও বৈধতা প্রদান করেছে। বিবাহের মাধ্যমে দাম্পত্য সম্পর্কই একমাত্র মানব সৃষ্টির ও বংশবিস্তারের বৈধ প্রক্রিয়া। জান্নাতের মধ্যে আদম (আ.) এত আরাম-আয়েশের মধ্যে থেকেও একাকিত্ব বোধ করায় আল্লাহতায়ালা তার জন্য হাওয়া (আ.)-কে সঙ্গী হিসেবে সৃষ্টি করেন। স্বামী এবং স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনের গুরুত্ব অপরিসীম। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সহায়ক ও পরিপূরক—যেন একই বৃন্তে দুটি ফুল। পরস্পরের যেমন চাহিদা রয়েছে, তেমনি রয়েছে অধিকার। আবার উভয়ের রয়েছে বিশেষ দায়িত্ব ও কর্তব্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীদের কাছে সর্বোত্তম ব্যক্তি।’ (তিরমিজি, ৩৮৯৫) 

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘পুরুষরা নারীদের প্রতি দায়িত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ একের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয়ও করে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৩৪)


পবিত্র কোরআনে নারীদের প্রতি পুরুষদের আচরণের বিষয়ে আল্লাহতায়ালা বহু আয়াত নাজিল করেছেন। সংসার টিকিয়ে রাখাকেও আল্লাহ অধিক পছন্দ করেন। সংসারে রাগ-অভিমান নিত্যনৈমিত্তিক ও স্বাভাবিক ব্যাপার। অভিমান কিংবা অল্পতে ভেঙে পড়া নারীর স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্য। নারীর অভিমানের পাল্লা ভারি হয়ে গেলে কিংবা পুরুষের বোঝার ভুলের কারণে তৈরি হয় ভুল বোঝাবুঝি। আর এভাবেই সম্পর্কের টানাপোড়েন-বিচ্ছেদের মতো নিকৃষ্ট ব্যাপার এখন প্রতিনিয়ত ঘটছে।

 
স্বামীকে ভালোবাসা যেমন স্ত্রীর কর্তব্য ও ইবাদতের অংশ। তেমন স্ত্রীকে ভালোবাসা স্বামীর। ইসলাম বৈবাহিক সম্পর্ক জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকিয়ে রাখার তাগিদ দেয় এবং সে লক্ষ্যে ধৈর্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণের নির্দেশনা প্রদান করে।


দাম্পত্য কলহ নিরসনে কোরআনে দিকনির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘পুরুষরা নারীর দায়িত্বশীল। কেননা আল্লাহ তাদের একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এ জন্য যে পুরুষ তাদের ধনসম্পদ ব্যয় করে। সুতরাং ভালো স্ত্রীরা অনুগতা এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে আল্লাহ যা সংরক্ষিত করেছেন তা হেফাজত করে। স্ত্রীদের মধ্যে যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা করো তাদের সদুপদেশ দাও, তারপর তাদের শয্যা ত্যাগ করো এবং তাদের (মৃদু) প্রহার করো। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ অন্বেষণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান, শ্রেষ্ঠ। তাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধ আশঙ্কা করলে তোমরা তার (স্বামী) পরিবার থেকে একজন এবং তার (স্ত্রী) পরিবার থেকে একজন সালিশ নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ে নিষ্পত্তি চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৩৪-৩৫)


উল্লিখিত আয়াতে আদর্শ স্ত্রীর দুটি গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্বামীর আনুগত্য এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে সতীত্ব রক্ষা করা। বিবাদসংক্রান্ত আয়াতে এ দুটি গুণের উল্লেখ করার মাধ্যমে আল্লাহ এ ইঙ্গিতই করছেন যে, বেশির ভাগ দাম্পত্য কলহের পেছনে অবাধ্যতা ও অনৈতিকতাই দায়ী। সুতরাং স্বামীর অবাধ্যতা ও অনৈতিকতা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। 


ইসলামি বিধানে স্ত্রীর ওপর স্বামীর কিছু অধিকার রয়েছে। এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো—১. সতীত্বের হেফাজত করা। ২. স্বামীর অনুগত থাকা এবং সেবা করা। ৩. স্বামীর সাধ্যের বাইরে কোনো আবদার না করা। ৪. স্বামীর অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া এবং কাউকে ঘরে প্রবেশ করতে না দেওয়া। ৫. স্বামীর সম্পদ বিশ্বস্ততার সঙ্গে সংরক্ষণ করা। ৬. স্বামীর কথা মেনে চলা। 


স্বামীর ওপর রয়েছে স্ত্রীর কিছু অধিকার। এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো—১. মোহর আদায় করা। ২. স্ত্রীর ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করা। ৩. বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। ৪. সম্ভব হলে কাজের লোকের ব্যবস্থা করা। ৫. স্ত্রীর ওপর জুলুম না করা। 


স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১০) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে স্থাপিত ভালোবাসার সম্পর্ক তুলনাহীন। আমি অন্য কোনো ক্ষেত্রে এমন গভীর সম্পর্ক দেখি না।’ (ইবনে মাজাহ)

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

 

সানা কি, কখন পড়া হয়?

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৫০ পিএম
সানা কি, কখন পড়া হয়?
আরবিতে সানা লেখা ছবি

সানা আরবি শব্দ, অর্থ প্রশংসা, স্তুতি, গুণগান ইত্যাদি। তবে সানা শব্দটি প্রশংসা ইত্যাদি অর্থে হলেও এটি বিশেষ এক দোয়া বোঝায়, যা নামাজে তাকবিরে তাহরিমা (নামাজের প্রথম তাকবির) বলে হাত বাঁধার পর পড়া হয়। পুরো নামাজে একবারই পড়তে হয় এই দোয়া, একাধিকবার পড়ার নিয়ম নেই। একাকী নামাজ হোক বা জামাতে নামাজ, ইমাম, মুক্তাদি সবাই সানা পড়ে থাকেন। কেউ নামাজে মাসুবক হলে তিনি ইমামের সঙ্গে নামাজ শেষে যখন ছুটে যাওয়া নামাজের জন্য দাঁড়াবেন তখন সানা পড়ে নেবেন।

জামাতের নামাজে ইমাম মুক্তাদি সবাই আল্লাহ আকবার বলে হাত বেঁধে অনুচ্চস্বরে সানা পড়বে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) নামাজ শুরু করে (তাকবিরে তাহরিমার পর এই দোয়া) পড়তেন, 

سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالِىْ جَدُّكَ وَلَا اِلَهَ غَيْرُكَ

বাংলা উচ্চারণ: সুবহানা কাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গায়রুক। 

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনার নাম অতি বরকতময়। আপনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং আপনি ছাড়া কোনো উপাসক নেই। (আবু দাউদ, হাদিস: ২৪৩, ৮০৪; নাসায়ি, হাদিস: ৮৯৯, ৯০০)

ফিকাহবিদ আলেমরা বলেন, ইমাম নামাজ শুরুর পর শব্দ করে কেরাত পড়ার সময় কেউ নামাজে শরিক হলে কিংবা রুকু অবস্থায় শরিক হলে সে সানা পড়বে না। অনেকে আছেন, ইমামকে রুকুতে পাওয়ার পর হাত বেঁধে দ্রুত সানা পড়েতে শুরু করেন। তখন সানা পড়তে পড়তে ইমামের রুকু শেষ হয়ে যায়, ফলে ওই রাকাত ছুটে যায়; এটা ঠিক নয়। কোনো কারণে নামাজের শুরুতে সানা পড়তে না পারলে রুকু বা সেজদাতে তাসবিহ পাঠের জায়গায় সানা পড়া যাবে। তবে এটি পড়া আবশ্যকীয় নয়। 

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক 

 

ফজরের কাজা নামাজ পড়ার নিয়ম ও সময়

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
ফজরের কাজা নামাজ পড়ার নিয়ম ও সময়
ফজরের নামাজরত মুসল্লিদের ছবি

ফজর নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এই নামাজ মুমিন ও মুনাফিকদের মাঝে পার্থক্যকারীও বটে। কেননা এই নামাজ এমন একসময় আদায় করা হয়, যখন মুমিন ছাড়া কারও পক্ষে জাগ্রত হওয়া সহজ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুনাফিকদের ওপর ফজর ও এশার নামাজ অপেক্ষা অধিক ভারী নামাজ আর নেই। যদি তারা এর ফজিলত ও গুরুত্ব জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছার ওপর ভর করে হলেও অবশ্যই (মসজিদে) উপস্থিত হতো।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৫৭, মুসলিম, হাদিস: ১৫১৪) 

কখনো যদি ঘুম থেকে জেগে ফজর নামাজ যথা সময়ে পড়া সম্ভব না হয়, তাহলে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ আদায় করে নিতে হবে। যদি ওই সময় নামাজের নিষিদ্ধ সময় না হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সূর্য উঠার আগে ফজরের নামাজের এক রাকাত পায়, সে ফজরের নামাজ পেল। আর যে ব্যক্তি সূর্য ডুবার আগে আসরের নামাজের এক রাকাত পেল, সে আসরের নামাজ পেল।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৭৯)

যদি সময় এতটা কম থাকে যে, শুধু দুই রাকাতই পরা যায়, তাহলে ফরজ দুই রাকাত পরে নেবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত আদায় করতে পারেনি, সে সূর্য উঠার পর তা আদায় করবে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৪২৩)

এ ব্যাপারে ফিকহের কিতাবে রয়েছে, ছুটে যাওয়া ফজরের নামাজ যদি ওই দিন জোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই তথা দ্বিপ্রহরের আগেই কাজা করা হয়, তাহলে দুই রাকাত দুই রাকাত করে- মোট চার রাকাত পড়তে হবে। আর যদি জোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাওয়ার পর কাজা করা হয়, তাহলে শুধু দুই রাকাত ফরজ পড়তে হবে। সুন্নত পড়ার দরকার নেই। 

লেখক: আলেম ও গবেষক

 

কুনুতে নাজেলার উচ্চারণ, অর্থ ও কেন পড়া হয়?

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ১০:২৪ এএম
কুনুতে নাজেলার উচ্চারণ, অর্থ ও কেন পড়া হয়?
মুসল্লিদের নামাজরত ছবি

মানুষের জীবনে বিপদাপদ আসতেই পারে। বিপদ এলে প্রথমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। বিপদ-আপদে বা ইসলামের শত্রুদের জন্য হেদায়াতের দোয়া বা বদদোয়া করাই হলো ‘কুনুতে নাজেলা’। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিপদের সময় ফজরের নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সময় কুনুতে নাজেলা পড়েছেন। (বুখারি, ২/৬৫৫; মুসলিম, ১/২৩৭)

কোনো জাতির জন্য দোয়া বা বদদোয়ার প্রয়োজন হলে ফজরের নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) কুনুতে নাজেলা পড়তেন। (ইবনে খুজাইমা, ১০৯৭; আসারুস সুনান, ২/২০)

হানাফি মাজহাব মতে কাফের, মুশরিক ও জালেমদের পক্ষ থেকে বা আসমানি কোনো বিপদের মুখোমুখি হলে কুনুতে নাজেলা পড়া উচিত। (ফাতওয়ায়ে শামি, ২/৪৪৮-৪৪৯)

কুনুতে নাজেলা কখন পড়তে হয়
ফজরের নামাজের ফরজের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু থেকে উঠে ইমাম আওয়াজ করে কুনুতে নাজেলা পড়বেন, এ সময় মুসল্লিরা আস্তে আস্তে আমিন বলবেন। দোয়া শেষে নিয়মানুযায়ী নামাজের অবশিষ্ট সেজদা, শেষ বৈঠক ইত্যাদির মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন। (এলাউস সুনান, ৬/৮১)

কুনুতে নাজেলা

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا ، وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ ، وَأَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ ، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِهِمْ ، وَانْصُرْهُمْ عَلَى عَدُوِّكَ وَعَدُوِّهِمْ، اللَّهُمَّ الْعَنْ كَفَرَةَ أَهْلِ الْكِتَابِ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِكَ ، وَيُكُذِّبُونَ رُسُلَكَ ، وَيُقَاتِلُونَ أَوْلِيَاءَكَ اللَّهُمَّ خَالِفْ بَيْنَ كَلِمَتِهِمَ ، وَزَلْزِلْ أَقْدَامَهُمْ، وَأَنْزِلْ بِهِمْ بَأْسَكَ الَّذِى لاَ تَرُدُّهُ عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُثْنِى عَلَيْكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ، وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ، وَلَكَ نُصَلِّى وَنَسْجُدُ، وَلَكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ ، نَخْشَى عَذَابَكَ الْجَدَّ، وَنَرْجُو رَحْمَتَكَ، إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكَافِرِينَ مُلْحَقٌ.

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাগ ফিরলানা ওয়ালিল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত, ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত, ওয়া আল্লিফ বাইনা কুলুবিহিম, ওয়া আসলিহ জাতা বাইনিহিম, ওয়াংসুরহুম আলা আদুওয়িকা ওয়া আদুওয়িহিম, আল্লাহুম্মাল আন কাফারাতা আহলিল কিতাবিল্লা জিনা ইয়াসুদ্দুনা আন সাবিলিকা, ওয়া ইউকাজজিবুনা রুসুলাকা, ওয়া ইউকাতিলুনা আওলিয়াআকা, আল্লাহুম্মা খালিফ বাইনা কালিমাতিহিম, ওয়া জালজিল আকদামাহুম, ওয়া আনজিল বিহিম বাসাকাল্লাজি লা তারুদ্দুহু আনিল কাওমিল মুজরিমিন, আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতায়িনুকা ওয়া নাসতাগফিরুকা ওয়া নুসনি আলাইকা ওয়ালা নাকফুরুক ওয়া নাখলাউ ওয়া নাতরুকু মাই-ইয়াফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইইয়াকা নাবুদু ওয়া লাকা নুসাল্লি, ওয়া নাসজুদু, ওয়া লাকা নাসআ, ওয়া নাহফিদু, নাখশা আজাবাকালঝাদ্দা, ওয়া নারজু রাহমাতাক। ইন্না আজাবাকা বিল কাফিরিনা মুলহিক।’ 

বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ, ক্ষমা করুন আমাদের এবং মুমিন নারী-পুরুষদের, আর মুসলমান নারী-পুরুষদের। তাদের অন্তরসমূহ জুড়িয়ে দিন আর তাদের মাঝে মীমাংসা করে দিন। তাদের সাহায্য করুন আপনার ও তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে। হে আল্লাহ, অভিসম্পাত বর্ষণ করুন কাফের সম্প্রদায়ের ওপর, যারা আপনার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং যারা অস্বীকার করে রাসুলদেরকে আর যুদ্ধবিগ্রহ করে ওলিদের সাথে। হে আল্লাহ, বিভেদ সৃষ্টি করে দিন তাদের ঐক্যের মাঝে এবং কম্পন সৃষ্টি করুন তাদের পদযুগলে আর নাজিল করুন এমন শাস্তি যা অপরাধী থেকে অপসারণ করা হয় না। বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, হে আল্লাহ, আমরা আপনার নিকট সাহায্য এবং ক্ষমা চাই, সকল মঙ্গল আপনার দিকেই ন্যস্ত করি। আপনার অকৃতজ্ঞ হই না। যারা আপনার নাফরমানি করে আমরা তাদের পরিত্যাগ করে চলি। বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, হে আল্লাহ, আমরা আপনারই দাসত্ব করি, আপনার জন্যে নামাজ পড়ি এবং  আপনাকেই সিজদাহ করি। আমরা আপনার দিকে দৌড়াই ও এগিয়ে চলি। আপনার কঠিন আজাবকে ভয় করি এবং রহমতের আশা রাখি আর আপনার আজাব তো কাফেরদের জন্যই র্নিধারিত। (বা্ইহাকি, হাদিস: ২৯৬২)

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক

 

লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ০৮:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ০৮:৫৪ পিএম
লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান
ছবি : সংগৃহীত

‘লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে শনিবার মুখরিত ছিল ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দান। সেখানে সমবেত হয় বিশ্বের ১৬০ দেশের ১৫ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। মক্কা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৪ বর্গমাইল আয়তনের এই আরাফাত ময়দান। এখানে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেলাইবিহীন দুই খণ্ড সাদা কাপড় পরে হাজির ছিলেন হজযাত্রীরা। এ সময় আরাফাত ময়দানে হাজীযাত্রীরা তাসবিহ পাঠ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফের প্রার্থনা করেন। খবর বাসসের।

ইসলামী রীতি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের নবম দিনটি আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে ইবাদতে কাটানোই হলো হজ। শ্বেতশুভ্র পোশাকে আবৃত লাখ লাখ হজযাত্রী আরাফাত ময়দানের জাবালে রহমতের পাদদেশ ও মসজিদে নামিরার আশপাশে অবস্থান নিয়ে জীবনের পরম কাঙ্ক্ষিত হজ পালন করেন। জান্নাত থেকে বিতাড়িত মানবজাতির পিতা হজরত আদম (আ.) ও মাতা হজরত হাওয়া (আ.) পৃথিবীতে দীর্ঘদিন একাকী ঘুরতে ঘুরতে এ আরাফাতের ময়দানে এসেই মিলিত হন। এই ময়দানে ‘রব্বানা জালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা লানাকুন্না মিনাল খসিরিন’- এ দোয়া পড়ার পর আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন। ১৪০০ বছরেরও আগে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (স.) এখানেই বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। এ কারণে আরাফাতে উপস্থিত না হলে হজের আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণাঙ্গ হয় না। এখানে হজযাত্রীরা ফজর ছাড়াও এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন।

শুক্রবার রাতেই অধিকাংশ হজযাত্রীকে মোয়াল্লিমরা গাড়িতে করে নিয়ে আসেন আরাফাতে নির্ধারিত তাদের তাঁবুতে। তবে অনেকে শনিবার সকালে আসেন। তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন। 
আরাফায় অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের মূল খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ মাহের বিন হামাদ আল-মুআইকিলি। 

মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগ জানায়, এ বছর আরাফার ময়দান থেকে প্রচারিত হজের খুতবার অনুবাদ প্রচারিত হয় বিশ্বের ৫০টি ভাষায়। এবারে হজের খুতবার বাংলা অনুবাদের দায়িত্বে ছিলেন সৌদি আরবে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের চার শিক্ষার্থী ড. খলীলুর রহমান, আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান মাক্কী, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব। গত বছরও তারা এ দায়িত্বে ছিলেন। 

সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মাগরিব না আদায় করেই মুজদালিফার উদ্দেশে আরাফাত ময়দান ছাড়েন হজযাত্রীরা। সেখানে যাওয়া মাত্র মাগরিব ও এশা এক আজানে, দুই ইকামতে আদায় করেন। এরপর মুজদালিফায় উন্মুক্ত আকাশের নিচে মাথা খোলা অবস্থায় রাত্রি যাপন করেন হজযাত্রীরা। আজ রবিবার তারা মুজদালিফার মিনায় প্রতীকী ‘শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের' জন্য নুড়ি সংগ্রহ করবেন। এ জন্য পুরো মুযদালিফাজুড়ে বিশেষ ধরনের ছোট ছোট পাথর ছড়িয়ে রাখা হয়। 

প্রতিবছরের মতো এবারও হজের দিন ভোরে কাবা আচ্ছাদিত করা হয় নতুন চাদরে।

প্রসঙ্গত, গত বছর সৌদি আরবে ১৮ লক্ষাধিক লোক হজ পালন করেন। যাদের প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশী।

 

 

তাকবিরে তাশরিক কী, কেন ও কখন পড়তে হয়?

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ০১:১৮ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ০১:২০ পিএম
তাকবিরে তাশরিক কী, কেন ও কখন পড়তে হয়?
মসজিদে হারামে নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা। ছবি : হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয়

জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাজ থেকে ১৩ তারিখ আসরের নামাজ পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর তাকবির বলতে হয়। একে তাকবিরে তাশরিক বলে। এ সময়ে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার বলা ওয়াজিব। তিনবার বললে সুন্নতের সওয়াব পাওয়া যায়। পুরুষরা উচ্চৈঃস্বরে এবং নারীরা নিচুস্বরে বলবে। (হেদায়া, ১/২৭৫)

ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়া হোক বা একাকী, ওয়াক্তের মধ্যে পড়া হোক বা কাজা, নামাজি ব্যক্তি মুকিম হোক বা মুসাফির, শহরের বাসিন্দা হোক বা গ্রামের—সবার ওপর ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। ফরজ নামাজের পর তাকবির বলতে ভুলে গেলে, স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকবির পড়ে নেবে। (দুররে মুখতার, ২/১৮০)

তাকবিরে তাশরিকের বাংলা উচ্চারণ
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

তাকবিরে তাশরিকের বাংলা অর্থ
আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, তিনি ছাড়া সত্যিকার আর কোনো উপাসক নেই। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান আর সমস্ত প্রশংসা শুধুমাত্র তাঁরই জন্য। (দারু কুতনি, ১৭৫৬)

যেভাবে এলো তাকবিরে তাশরিক
তখন ইবরাহিম (আ.) ছেলে ইসমাইল (আ.)-কে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে গলায় ছুরি রাখলেন। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে নবি ইবরাহিম (আ.)-এর জন্য পরীক্ষা। তিনি এ পরীক্ষায় পাস করলেন। আল্লাহ জিবরাইল (আ.)-কে একটি দুম্বা নিয়ে ইবরাহিম (আ.)-এর কাছে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। জিবরাইল (আ.) ছুটলেন দুনিয়ার দিকে। জিবরাইল (আ.) আশঙ্কা করছিলেন, তিনি যেতে যেতেই ইবরাহিম (আ.) ছেলেকে জবাই করে বসবেন। তিনি আসমান থেকে আওয়াজ করে বললেন, ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার।’ ইবরাহিম (আ.) আওয়াজ শুনে আসমানের দিকে তাকালেন। দেখলেন জিবরাইল আসছেন দুম্বা নিয়ে। তিনি আনন্দে আওয়াজে বললেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’ পিতার কণ্ঠে এ কথা শুনে ইসমাইল (আ.) উচ্চারণ করলেন, ‘আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ তাদের এ কথা আল্লাহর পছন্দ হয়। তিনি মুসলিমদের জন্য এই বাক্যমালা আইয়ামে তাশরিকে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পড়াকে আবশ্যক করে দেন। এটি পড়া ওয়াজিব। (ফাতাওয়ায়ে শামি, ২/১৭৮, ইনায়া শরহুল হিদায়া, ১/৪৬৪)

তাকবিরে তাশরিকের ফজিলত
পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যেন তারা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২৮)। বিখ্যাত সাহাবি ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, এখানে ‘নির্দিষ্ট দিন বলতে ‘আইয়ামে তাশরিক’ ও ‘আল্লাহর স্মরণ’ বলতে তাকবিরে তাশরিক বোঝানো হয়েছে। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এই দিনগুলোতে তাকবিরে তাশরিকের আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমল উত্তম নয়...। ’ (বুখারি, হাদিস: ৯৬৯)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক