এবারের ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি কমাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে টহল দল। আগে সেসব স্থানে যানজট হতো, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে বসানো হয়েছে রোড ডিভাইডার। এ সড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার এলাকায় যানজট না থাকলেও মেঘনা টোলপ্লাজায় যানবাহন আটকে থাকলে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া অটোরিকশা ও অযান্ত্রিক যানবাহনচালকদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এর ফলে মহাসড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
মহাসড়কের কাঁচপুর, মদনপুর, মোগরাপাড়া ও মেঘনা ব্রিজের টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানজট এড়াতে শতাধিক পুলিশ সদস্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। এসব এলাকায় ইউর্টান, ইউলুপসহ আলাদা লেন নির্মাণ করায় আগে যেখানে যানজট হতো এবার সে আশঙ্কা নেই। এমনকি রোড ডিভাইডার বসানো হওয়ায় যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করতে পারে। একই সঙ্গে মেঘনা টোলপ্লাজায় যানজট এড়াতে তদারকি বাড়িয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। গত বছরও এ সড়কে যানজট এড়িয়ে নির্বিঘ্নে রাজধানী ছাড়তে পারছেন যাত্রীরা। তবে মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে এখনো স্ট্যান্ড থাকায় সেখানে দিয়ে যান চলাচল বিঘ্ন হতে পারে। তা ছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ দুটি মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত থাকা মদনপুর-গাজীপুর এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের যানবাহনের চাপে প্রায় প্রতিদিনই যানজট হচ্ছে। পুরো সড়কের মধ্যে চলাচল করছে অটোরিকশা ও অযান্ত্রিক যানবাহন। এমনকি উল্টোপথেও এসব যানবাহন দিন-রাত চালিয়ে যাচ্ছেন চালকরা। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে।
গত রবিবার সকালে মেঘনা টোলপ্লাজায় গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো টোল আদায় কাউন্টারের সঙ্গে নতুন করে আরও ছয়টি কাউন্টার বসানো হয়েছে। এতে প্রতি মিনিটে ৩০-৩২টি গাড়ি পারাপার হচ্ছে। তবে ঈদের তিন দিন আগে থেকে এই সড়কের ওপর যাত্রীদের চাপ দ্বিগুণ হওয়ায় বেড়ে যাবে যানবাহনের সংখ্যাও। সে সময় একই পরিমাণ গাড়ি টোলপ্লাজা দিয়ে পারাপার হলে টোল দেওয়ার অপেক্ষায় আটকে পড়তে পারে যাত্রীবাহী যানবাহনসহ পণ্যবাহী গাড়িগুলো। এতে যানজটের আশঙ্কা থেকেই যায়।
মেঘনাঘাট টোলপ্লাজার কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আলিম খবরের কাগজকে বলেন, পুরোনো ছয়টি কাউন্টার চালু আছে। তার সঙ্গে নতুন করে আরও ছয়টি কাউন্টার খোলা হয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে টোলপ্লাজার প্রত্যেকটি কাউন্টার সচল থাকবে। যাত্রীবাহী যানবাহনগুলো যাতে সহজেই তাদের গন্তব্যস্থলে যেতে পারবে, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। আগে এখানে যানজট হলেও এবার শঙ্কা কম। তবে পণ্যবাহী যানবাহন একই সময় আসা-যাওয়া করলে কাউন্টারগুলোতে চাপ বেড়ে যাবে। এতে করে যানবাহনের চাপ বাড়বে বলে উল্লেখ্ করেন তিনি।
মোগরাপাড়া এলাকায় চট্টগ্রামগামী একটি বাস কাউন্টারের পরিচালক মাসুম জানান, প্রতিবছর থেকে এবার বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি। যদি মহাসড়কের ব্যবস্থাপনা বর্তমান অবস্থার মতো চলে, তাহলে যানজটের আশঙ্কা কম থাকবে বলে আশা করা যায়। অন্যথায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে।
কাঁচপুর এলাকায় খাগড়াছড়িগামী টিকিট বিক্রয়কারী সোহাগ হোসেন বলেন, ‘প্রচুর যাত্রী থাকায় আমরা টিকিট বিক্রিতে হিমশিম খাচ্ছি। মহাসড়কগুলোতে এখনো তেমন যানজট নেই। কিন্তু মেঘনা সেতুর টোলপ্লাজা ও গোমতী সেতুর টোলপ্লাজায় যদি বিলম্ভ হয়, তাহলে ঈদের আগে যাত্রীদের গন্তব্যস্থানে পৌঁছাতে ভোগান্তি পোহাতে হবে।’
এ পথের নিয়মিত যাত্রী সোনারগাঁয়ের মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে গেলেই মেঘনা টোলপ্লাজা থেকে যানজট দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে মোগরাপাড়া এলাকা ছাড়িয়ে কেওডালা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। যদি ১ ঘণ্টার মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক করা না যায়, তাহলে এখানে কয়েক হাজার গাড়ি আটকে পড়ে। এ ছাড়া মেঘনা সেতুতে টোল আদায়ে বিলম্ব এবং মহাসড়কে যানবাহন বিকল কিংবা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে গেলে যানজট সৃষ্টি হতে দেখা যায়। এতে গন্তব্যস্থানে পৌঁছাতে যেমন সময় ব্যয় হয়, তেমনি সড়কে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সোনারগাঁয়ের সভাপতি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, এ সড়কের কয়েকটি এলাকায় এখনো স্ট্যান্ড রয়েছে। কাঁচপুর, মদনপুর ও মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় লোকাল বাসের স্ট্যান্ড থাকায় সার্ভিস লেনে যানবাহন আটকে পড়ে। সড়কে যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা চলে। পাশাপাশি মহাসড়কটি ঘিরে মদনপুর মোড় ও মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সড়কের পাশে বহু অবৈধ স্থাপনা ও ছোট যানবাহনের স্ট্যান্ড থাকায় প্রায়ই যানজট লেগে যায়। তবে ঈদে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি এড়াতে হলে এসব বিষয়ে তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদ বলেন, গতবারের চেয়ে এবার মহাসড়কে আরও বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকার পাশাপাশি টহল দল থাকছে। এমনকি দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় দ্রুত যেতে অ্যাম্বুলেন্সেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কে যেকোনো যানবাহন বিকল হয়ে গেলে কিংবা কোনো সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত সরানোর জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড় ও মদনপুর অংশে দুটি রেকার রাখা হয়েছে। যানজট এড়িয়ে মানুষকে তাদের গন্তব্যস্থানে পৌঁছাতে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোনো সংস্কারকাজ চলমান না থাকায় যাত্রীরা সহজেই তাদের গন্তব্যস্থলে যেতে পারবেন। তবে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ স্থাপনা না থাকলে আর যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করলে যানজটের কোনো শঙ্কাই থাকবে না।