আজকের দিনে আমাদের সকাল শুরু হয় ফেসবুকের নোটিফিকেশনে আর রাত শেষ হয় ইনস্টাগ্রামের রিলে। সোশ্যাল মিডিয়া এখন আমাদের দ্বিতীয় ঘর। কিন্তু এই চকচকে দুনিয়ার আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু অন্ধকার গলি। আপনি যেমন রাস্তায় বের হওয়ার সময় সাবধানে চলেন, ঠিক তেমনি ভার্চুয়াল জগতেও আপনার নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন ‘ডিজিটাল বডিগার্ড’। আর সেই বডিগার্ড অন্য কেউ নয়, স্বয়ং আপনি!
আপনার তথ্য কি আসলেই আপনার?
আমরা যখন হুটহাট কোথাও ঘুরতে গিয়ে লোকেশন ট্যাগ করি বা ব্যক্তিগত ফোন নাম্বার প্রোফাইলে দিয়ে রাখি, তখন আমরা আসলে অচেনা হাজারও মানুষকে আমাদের ড্রয়িংরুমে ঢোকার আমন্ত্রণ জানাই। সাইবার অপরাধীরা এই ছোট ছোট তথ্য ব্যবহার করে আপনার পরিচয় চুরি করতে পারে। এমনকি আপনার ছবি এডিট করে আপনাকে বিপদে ফেলার চেষ্টাও করতে পারে। তাই তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা এখন বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার লড়াই।
পাসওয়ার্ড যখন দুর্ভেদ্য দুর্গ
অনেকেই নিজের নাম বা জন্মতারিখ দিয়ে সহজ পাসওয়ার্ড রাখেন। এটা ঠিক তেমন, যেমন চোরের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেওয়া। সোশ্যাল মিডিয়া সেফটির প্রথম ধাপ হলো একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড। অক্ষর, সংখ্যা এবং স্পেশাল ক্যারেক্টার (যেমন- @, #, $) মিলিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করুন। আর সবচেয়ে জরুরি হলো ‘টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’ চালু রাখা। এটি আপনার অ্যাকাউন্টের চারপাশে এমন এক দেয়াল তৈরি করবে, যা ভাঙা হ্যাকারদের জন্য প্রায় অসম্ভব।
অচেনা ‘ফ্রেন্ড’ কি আসলেই বন্ধু?
ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অপশনে কার ছবি আছে বা কে কত সুন্দর মেসেজ দিচ্ছে, তা দেখে কাউকে বন্ধু বানানো ঠিক নয়। সাইবার জগতে অনেকেই ছদ্মনাম বা অন্যের ছবি ব্যবহার করে ওত পেতে থাকে। কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত ছবি বা সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার আগে অন্তত দশবার ভাবুন। মনে রাখবেন, ইন্টারনেটে একবার কোনো কিছু আপলোড হয়ে গেলে তা মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব। আজকের একটি ভুল ক্লিক ভবিষ্যতে আপনার বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সাইবার বুলিংয়ে দমে যাওয়ার কিছু নেই
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় দেখা যায়, কেউ কাউকে নিয়ে ট্রল করছে বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে। একেই বলে সাইবার বুলিং। যদি কেউ আপনাকে অনলাইনে বিরক্ত করে বা হুমকি দেয়, তবে ভয় পেয়ে লুকিয়ে থাকবেন না। স্ক্রিনশট নিয়ে প্রমাণ রাখুন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সেই ব্যক্তিকে ব্লক করুন। প্রয়োজনে আপনার বিশ্বস্ত বড় কাউকেও বা আইনি সংস্থাকে জানান। মনে রাখবেন, চুপ থাকা মানেই অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া।
ফেক নিউজ ও ডিজিটাল সুস্থতা
সোশ্যাল মিডিয়ায় যা দেখেন তার সবটুকুই সত্যি নয়। কোনো খবর শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করুন। ভুল তথ্য বা গুজব ছড়ালে আপনি নিজেও আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন। পাশাপাশি, সারা দিন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখুন। লাইক বা কমেন্টের সংখ্যা দিয়ে নিজের যোগ্যতা বিচার করবেন না।
মনে রাখবেন, সোশ্যাল মিডিয়া হলো একটি বিশাল সমুদ্র। আপনি এখানে সাঁতার কাটবেন নাকি ডুবে যাবেন, তা নির্ভর করবে আপনার সচেতনতার ওপর। স্মার্টফোন ব্যবহার করার চেয়েও বেশি জরুরি হলো ‘স্মার্টলি’ তা ব্যবহার করা। আপনার নিরাপত্তা আপনার হাতেই। তাই আজই আপনার প্রাইভেসি সেটিংস চেক করুন এবং নিরাপদ থাকুন।