মানুষ মাত্রই ভুল। চলার পথে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বা আবেগের বশবর্তী হয়ে আমরা মাঝে মধ্যে এমন কিছু করে ফেলি, যা অন্যায়। সেই ভুলের বোঝা বয়ে বেড়ানোটা মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অন্যায় করার চেয়েও বড় অন্যায় হলো সেই ভুল নিয়ে জেদ ধরে বসে থাকা বা তা অস্বীকার করা। তারুণ্যের এই বয়সে ভুল হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে সংশোধন করাই হলো প্রকৃত সাহসিকতা। জানাচ্ছেন আশরাফ হোসেন
অপরাধবোধকে ইতিবাচকভাবে নিন
কোনো ভুল বা অন্যায় করার পর যদি আপনার মনে খটকা লাগে বা খারাপ লাগে, তবে বুঝবেন আপনার বিবেক এখনো জাগ্রত। এই অপরাধবোধ আপনাকে অপরাধী বানানোর জন্য নয়, বরং সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। বিষণ্নতায় না ভুগে বরং ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন আপনি ঠিক কোথায় ভুল করেছেন। নিজের ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং এটি মানসিক শক্তির পরিচয়।
দায়বদ্ধতা স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা
অন্যায়টি যদি অন্য কারও সঙ্গে হয়ে থাকে, তবে প্রথম কাজ হলো নিঃসংকোচে ক্ষমা চাওয়া। অজুহাত না দেখিয়ে সরাসরি নিজের দোষ স্বীকার করুন। অনেক সময় আমরা ‘কিন্তু’ বা ‘তবে’ যোগ করে নিজের অন্যায়কে হালকা করার চেষ্টা করি, যা সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়ায়। আপনি যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন বা কারও ক্ষতি করে থাকেন, তবে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করুন। মনে রাখবেন, একটি ছোট্ট ‘সরি’ অনেক বড় বিবাদ মিটিয়ে দিতে পারে।
ক্ষতিপূরণের চেষ্টা
শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়, যদি সম্ভব হয় তবে সেই অন্যায়ের ফলে হওয়া ক্ষতি পূরণ করার চেষ্টা করুন। আপনি যদি কারও কোনো বস্তুগত ক্ষতি করেন, তবে তা সারিয়ে দিন বা বদলে দিন। আর যদি মানসিকভাবে কাউকে আঘাত করেন, তবে আপনার ভালো ব্যবহার দিয়ে সেই ক্ষত ভরাট করার চেষ্টা করুন। আপনার কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ হওয়া উচিত যে আপনি সত্যিই অনুতপ্ত।
নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুন
অন্যের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিজের কাছেও ক্ষমা পাওয়া জরুরি। অনেকেই আছেন যারা একটি ভুলের জন্য মাসের পর মাস নিজেকে দোষারোপ করেন এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন। এতে জীবন থমকে যায়। মানুষ হিসেবে আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। ভুল থেকে শিক্ষা নিন কিন্তু সেই ভুলকে আপনার পরিচয় হতে দেবেন না। নিজেকে কথা দিন যে, ভবিষ্যতে একই ধরনের অন্যায় আপনি আর করবেন না।
নতুন শুরুর সংকল্প
অতীতকে আমরা বদলাতে পারব না, কিন্তু বর্তমানকে কাজে লাগিয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারি। যে পরিস্থিতির কারণে আপনি অন্যায়টি করেছিলেন, সেই পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত বড় কেউ বা বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন। ভালো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। জীবন আমাদের প্রতিটা মোড়েই নতুন করে শুরু করার সুযোগ দেয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একজন উন্নত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই হোক লক্ষ্য।