লালমনিরহাটে চলতি বছর ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বীজসংকট এবং সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এতে কৃষকরা উদ্বিগ্ন। কারণ মানসম্মত বীজের অভাব ও উচ্চ খরচে আলু চাষে লাভ হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা। কৃষি অফিস সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করলেও বীজের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট কাটানোর দিকে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
লালমনিরহাটে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলু চাষে কিছুটা সুবিধা হলেও কৃষকরা এখনো বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা স্বল্পমেয়াদি আগাম আমন ধান ঘরে তুলে জমির হালচাষ, পরিচর্যা, সার প্রয়োগ এবং হিমাগার থেকে বীজ সংগ্রহ ও বপনে ব্যস্ত রয়েছেন। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে তারা আশঙ্কা করছেন, তারা যদি ন্যায্য দাম না পান, তবে তাদের লাভ হবে না বরং ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
জেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এ বছর বীজসংকটসহ অন্যান্য সমস্যা মোকাবিলা করতে তারা সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নজরদারি চালাচ্ছেন। তারা আশা করছেন, মানসম্মত আলুবীজ ও প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক সরবরাহ করা হলে দেশে আলুর চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে এবং দামও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।
জেলার বীজ চাহিদা ১২ হাজার ৮৪৪ টন। প্রতি কেজি বীজ সরকার-নির্ধারিত মূল্য ৬৮ টাকা হলেও বাজারে তা ৮০-৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কার্টন আলুবীজের দাম ৬০৯ টাকা প্রতি কেজি পড়ছে। এটি কৃষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ। আদিতমারী উপজেলার কৃষক আব্দুল আহাদ বলেন, ‘এবার ৩০ বিঘার ওপরে আলু আবাদের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু বীজসংকটের কারণে অর্ধেক জমিতে আলু চাষ করতে পেরেছি।’ তিনি জানান, মানসম্মত বীজ পাওয়া না যাওয়ায় এবং অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
হাতীবান্ধা উপজেলার কৃষক খাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রায় চার একর জমিতে আলু চাষের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু বীজসংকটের কারণে এবার আলু চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না।’ অন্যদিকে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা এলাকার কৃষক ফজলার রহমান বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার আলুবীজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি উপকরণের দামও বেড়েছে, যা আমাকে দুশ্চিন্তায় রেখেছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন বলেন, ‘এ অঞ্চলের আলুবীজ প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় বীজ সংগ্রহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত আলু থেকেই বীজ সংগ্রহ করে থাকেন, তাদের বীজসংকট নেই। তবে ব্যবসায়ীদের একটি চক্র স্টক করে রাখার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’