পঞ্চগড়ের রাজনগর এলাকায় প্রতিবেশীর তিনতলা বাড়ির ছাদে আঙুর চাষে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছেন মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মাস্টার্সের ছাত্র আল ফারুক সবুজ। বাগানটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন অনেক মানুষ।
জানা গেছে, উদ্যোক্তা সবুজ গত তিন বছর আগে তার বাড়িতে প্রথম একটি আঙুর গাছের চারা রোপন করেন কিন্তু গাছে আঙুর ধরলেও আঙুরের স্বাদ হয় টক। পরবর্তীতে তিনি এর স্বাদ টক কেন হয়, এ নিয়ে কাজ করেন এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে বিদেশি জাতের আঙুর ফলের চারার সন্ধান পান। কিন্তু তার বাড়িতে চাষ করার মতো জায়গা না থাকায় তিনি বাড়ির পাশের এক প্রতিবেশী চাচার তিনতলা বাড়ির ছাদ ফাঁকা থাকায় সেখানে আঙুর চাষের কথা ভাবেন।
প্রতিবেশীর চাচার কাছে আঙুরের বাগান করার কথা বললে চাচা বাগান করতে অনুমতি দেন। অনুমতি নিয়ে তিন তলার ছাদে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন আঙুর বাগান। তার কোনো প্রশিক্ষণ বা পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না, ইন্টারনেট আর নিজের প্রচেষ্টাই ছিল তার ভরসা। পরবর্তীতে তিনি ধীরে ধীরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ১৮-২০ জাতের ৩৬টি চারা সংগ্রহ করে রোপন করেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে এক বছরের মাথায় তিনি ভালো ফলন পেতে শুরু করেন।
এখন তিনি আঙুর উৎপাদনের পাশাপাশি চারা তৈরি করেও বিক্রি শুরু করেছেন। এ বছর তার বাগানের সব গাছেই ফল এসেছে। আঙুরের আকৃতি ও রঙ দুটোই আকর্ষণীয় আর স্বাদে বেশ মিষ্টি।
সবুজের এমন ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নজর কেড়েছে স্থানীয়দের। তার এই আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
সবুজের বাগান দেখতে আসা আব্দুল জব্বার বলেন, ছাদে আঙুর বাগান শুনেই মুলত দেখতে আসা। আঙুর খেয়েও দেখলাম অনেক মিষ্টি, সবুজের উদ্যােগকে আমরা অভিনন্দন জানাই৷
বাগান দেখতে আসা এমি আক্তার বলেন, বাজারের আঙুরের চেয়ে এই বাগানের আঙুরের স্বাদ হাজার গুণ ভালো। তাই বাড়িতে রোপন করার জন্য আমি চারা নিয়েছি।
বাগানের উদ্যােক্তা সবুজ বলেন, আমি প্রথমে আমার বাড়িতে একটি আঙুর গাছের চারা রোপন করি। গাছে ফলও ভালো পাই। কিন্তু ফল ছিল টক। ফলন ভালো কিন্তু স্বাদ টক দেখে আমার আমার কৌতুহল হয়। পরবর্তীতে আমি এটা নিয়ে কাজ করি। অনেক জাতের আঙুর গাছের খবর পাই কিন্তু আমার গাছ লাগানোর জায়গা নেই। পরে আমার বাড়ির পাশের প্রতিবেশী চাচাকে তার ছাদে বাগান করার কথা বললে তিনি অনুমতি দেন। ভালো ফলন পাচ্ছি, পাশাপাশি আমি চারাও বিক্রি করছি। কৃষি বিভাগ বা সরকার যদি আমাকে সহযোগিতা করে, পাশে থাকে তাহলে আমার স্বপ্ন হলো- এই অর্গানিক আঙুর আমার পুরো জেলায় আমি ছড়িয়ে দেব।
সবুজর বাবা সহিদুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলের গাছের প্রতি অন্যরকম ভালবাসা ছিল। সে কিছু আঙুর গাছ প্রথমে বাড়িতে রোপন করে, গাছে ফলনও ভালো আসে কিন্তু এর স্বাদ টক হওয়ায় সে এটা নিয়ে কাজ করে। হঠাৎ দেখি আমার প্রতিবেশীর ছাদে বেশ কিছু গাছ রোপন করে। এখন দেখি সব গাছে তার ভালো ফল আসছে, পাশাপাশি সে এখন চারাও বিক্রি করছে। সরকর যদি তাকে সহযোগিতা করে তাহলে সে আরও এগিয়ে যাবে।
ছাদের মালিকের ও সবুজর প্রতিবেশী আলহাজ মতিয়ার রহমান বলেন, সবুজ আমার প্রতিবেশী, সে আঙুরের গাছ রোপন করবে এমন উদ্যােগের কথা শুনে তাকে আমি অনুমতি দিই। গাছ রোপন করার পর তার গাছের প্রতি পরিচর্যা ও ভালবাসা দেখে অবাক হয়েছি। সে একেকটা করে গাছ রোপন করে ছাদে একটি বাগান তৈরি করে ফেলেছে, গাছে ফলও আসছে, তার এমন উদ্যােগকে স্বাগত জানাই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরক্তি উপ-পরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, নিজের জায়গা না থাকলেও থেমে থাকেননি কৃষি উদ্যােক্তা কলেজছাত্র সবুজ। প্রতিবেশীর ছাদেই গড়ে তুলেছেন স্বপ্নের আঙুর বাগান। তার এমন উদ্যােগকে আমরা স্বাগত জানাই। আমাদের কৃষি বিভাগ তার পাশে থাকবে।
রনি মিয়াজী/নাঈম