নির্দিষ্ট সময়ে কৃষকের মাঝে সরকারি প্রণোদনার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করেছেন। পাশাপাশি আবহাওয়া ছিল অনুকূল। সব মিলিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে এবার গমের ফলন ভালো হয়েছে।
গমচাষিরা জানান, মাঠে সোনালি রঙের গম দেখে তারা খুব খুশি। খরচ কম, পরিশ্রম কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় গম চাষে আগ্রহ বাড়ছে তাদের। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। বেশিরভাগ জমিতে বারী-৩২ ও বারী-৩৩ জাতের গমের আবাদ করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, এ বছর গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৯৫ হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে ২ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি। প্রতি হেক্টরে ৪ টন হারে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪২০ টন।
ঈশ্বরদীর সাতটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় গমের আবাদ হয়। এর মধ্যে সলিমপুর, সাহাপুর ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়।
কৃষকরা জানান, আবহাওয়া ভালো ছিল। পোকার আক্রমণ ও রোগবালাই ছিল না। তাই ফলন ভালো হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, এবার কৃষকরা ভালো লাভ করবেন। মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা
সুজন কুমার রায় বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূল ছিল। পোকার আক্রমণ ও রোগবালাই ছিল না। তাই গমের আবাদ ভালো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গমের দানা বের হওয়ার সময় এক পশলা বৃষ্টির দরকার ছিল। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকদের বেশি সেচ দিতে হয়েছে। বৃষ্টি হলে ফলন আরও ভালো হতো।’
তিনি জানান, বৃষ্টির অভাবে কিছু জমির আবাদ কম হয়েছে। এবার অনেক কৃষক কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে গম কেটেছেন।
সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী গ্রামের চাষি তানজিদ আহমেদ বলেন, ‘আমি তিন বিঘা জমিতে বারী-৩৩ জাতের গমের চাষ করেছি। নির্দিষ্ট সময়ে আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছি। জমি থেকে গম কাটা ও মাড়াই শেষ হয়েছে। পেয়েছি ৪৭ মণ গম।’ তিনি বলেন, ‘এই আবাদে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। প্রতিমণ ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে গম বিক্রি করে পাব ৭০ হাজার ৫০০ টাকা। লাভ হবে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা।’ তিনি আরও বলেন, ‘গম চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম। লাভ বেশি। সময়মতো পানি ও সার দেওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে।’
একই ইউনিয়নের চরমিরকামারী গ্রামের চাষি আইনুল হক বলেন, ‘ছয় বিঘা জমিতে বারী-৩৩ ও বারী-৩২ জাতের গমের আবাদ করেছি। পেয়েছি ৩৬ মণ গম।’ তিনি বলেন, ‘বারী-৩৩ জাতের দুই বিঘায় পেয়েছি ২০ মণ। বারী-৩২ জাতের দুই বিঘায় পেয়েছি ১৬ মণ। বারী-৩২ জাতের ফলন কিছুটা কম হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছয় বিঘা জমির আবাদে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। ৩৬ মণ গম বিক্রি করে পাব ৫৪ হাজার টাকা। লাভ হবে ২৪ হাজার টাকা।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন, ‘এ বছর ২ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৪২০ টন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো ছিল। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা তদারকি করেছেন। এতে গমের আবাদ ভালো হয়েছে।’
তিনি জানান, কৃষকদের মাঝে নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।