আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বাঙ্গি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। লাভজনক হওয়ায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বাঙ্গির আবাদ হলেও সময়মতো ফল না আসায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অধিকাংশ চাষি। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় এ সংকট আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার ফসলি জমিগুলোতে চোখে পড়ছে সবুজ বাঙ্গিখেত। চলতি মৌসুমে বাঙ্গি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ হেক্টর জমি। তবে কৃষকদের বাড়তি আগ্রহে আবাদ হয়েছে প্রায় ৫৫ হেক্টর জমিতে। এর ফলে এলাকায় কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি বাঙ্গির আবাদ হয়েছে।
রমজানে ইফতারের সময় তরমুজের পাশাপাশি বাঙ্গিও এখন জনপ্রিয় খাদ্য হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় দিন দিন ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে এই ফলে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ভাঙ্গায় প্রতিবছরই বাড়ছে বাঙ্গি চাষ।
তবে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া বিরূপ থাকায় এবং পোকার আক্রমণে অধিকাংশ জমিতে সময়মতো ফল আসেনি। দুই-একটি জমিতে ফল হলেও বেশির ভাগ জমিতে এখনো ফল ধরেনি। এতে করে চাষিদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
অহিদ নামের এক কৃষক জানান, এক বিঘা জমিতে বাঙ্গি চাষ করতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন হলে সেই জমি থেকে ৭০-৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি সম্ভব।
মাঠে গিয়ে দেখা যায়, যেসব জমিতে ফল এসেছে সেখান থেকে বাঙ্গি সংগ্রহ করছেন কৃষকরা। আর যেসব জমিতে ফল আসেনি, সেসব জমিতে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তবে পোকার আক্রমণে গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফল আসতে দেরি হচ্ছে।
মাসুদ নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে বাঙ্গি চাষ করি। কিন্তু রমজান প্রায় চলে এলেও এখনো ফল আসেনি। রোজার মাস চলে গেলে ভালো দাম পাওয়া যাবে না। তখন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’
হায়দার নামের আরেক কৃষক জানান, ‘এই বছর যারা বাঙ্গি চাষ করেছে তাদের বেশির ভাগেরই ফলন ভালো হবে না। আবহাওয়া ভালো না থাকায় আর ভাইরাসের আক্রমণে সময়মতো ফল আসছে না।’
তবে কেউ কেউ ভালো ফলন পেয়ে স্বস্তির কথা জানান। রহমান নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘আমি সবার আগে চাষ করেছিলাম। তাই আমার জমিতে ফল আগে এসেছে। বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছি। ফরমালিন না থাকায় এখানকার বাঙ্গি খুবই সুস্বাদু।’
তিনি আরও জানান, চুরি ঠেকাতে জমির পাশেই একটি ছোট ঘর তুলে পাহারা দিতে হয়।
এদিকে দেখা যায়, কেউ কেউ নিজের উৎপাদিত বাঙ্গি রাস্তার পাশে বসেই বিক্রি করছেন। গাড়ি থামিয়ে পথচারী ও ক্রেতারা সেই বাঙ্গি কিনে নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল মামুন বলেন, ‘এই বছর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বাঙ্গির আবাদ বেশি হয়েছে। তবে কিছু জমিতে সাদা মাছির আক্রমণ দেখা দিয়েছে। আমরা কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছি।’
কৃষকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বাঙ্গি চাষের ওপর সরকারের কোনো প্রকল্প আমাদের দপ্তরে নেই। সে কারণে কোনো প্রণোদনা বা প্রদর্শনী দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ভবিষ্যতে প্রকল্প এলে কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে।’