ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ জয় দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের ২৫ মে থেকে বছরব্যাপী 'নজরুল বর্ষ' পালনের ঘোষণা কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার আপিল আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মা-মেয়েকে হত্যা মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ ব্রাজিল-মরোক্কো ম্যাচের সেরা ৭ ছবি চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি অভিযান আজ শুরু বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম? হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস
Nagad desktop

লিচুতে ৬০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৫ এএম
লিচুতে ৬০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা
উপজেলার মধ্য সাহাপুর মন্ত্রীর মোড় মালিথাপাড়া এলাকার লিচুবাগান। ছবি: খবরের কাগজ

গত বছর আবাদ তেমন না হওয়ায় ঈশ্বরদীর লিচুবাগান মালিকরা লোকসান গুনেছেন। তবে এবার তারা লিচু থেকে লাভের আশা করছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে ৩ লাখের বেশি গাছের প্রতিটিতে অসংখ্য লিচু। বাম্পার ফলনের আশা লিচুসংশ্লিষ্ট সবার। এক মাস পরেই কৃষক, ব্যাপারী লিচু বাজারজাত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। 

কৃষকরা বলছেন, গরমের তীব্রতা একটু বেশি থাকলেও লিচু আবাদের অনুকূলে রয়েছে আবহাওয়া। লিচু পরিপক্ব হতে এখন গরম, বৃষ্টি দুটোরই প্রয়োজন রয়েছে। কয়েক দিন আগে বৃষ্টি যেমন হয়েছে, পাশাপাশি গরমও পড়ছে। তবে গরমের তীব্রতা এখনকার চাইতে আরও বেশি হলে লিচুর জন্য ক্ষতি হতে পারে।

উপজেলা কৃষি বিভাগও মনে করছে, লিচু পরিপক্ব হওয়ার আগ পর্যন্ত আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে, তাহলে এবার ঈশ্বরদীর লিচুর অর্থনীতি হবে ৬০০ কোটি টাকা।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহজুড়ে ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। ২০ এপ্রিল ৩৬ দশমিক ৫, ২১ এপ্রিল ৩৭, ২২ এপ্রিল ৩৮, ২৩ এপ্রিল ৩৬ দশমিক ২, ২৪ এপ্রিল ৩৭ দশমিক ২ এবং ২৫ এপ্রিল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে তিন হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ রয়েছে। লিচু বাগানের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৬০টি। গাছের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০। প্রতিটি গাছে ৪ থেকে সাড়ে ৫ হাজার লিচু ধরে থাকে। এ ছাড়া লিচু আবাদ হয়ে থাকে এমন সব এলাকার বাড়ি, বাড়িসংলগ্ন ভিটা জমিতে ২ থেকে ৪টি করে লিচুগাছ রয়েছে। প্রতিবছর লিচুর গাছের সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলার ছলিমপুর, সাহাপুর, পাকশী, দাশুড়িয়া, মুলাডুলি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় শত শত লিচুর বাগান রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি লিচু বাগান রয়েছে ছলিমপুর ও সাহাপুর ইউনিয়নে। ঈশ্বরদীতে মোজাফফর ও বোম্বাই জাতের লিচুর বেশি আবাদ হয় বলে এখানকার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

উপজেলার লিচু বাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ দেখা যায়। অনেক ব্যবসায়ীরা মুকুল দেখে লিচুবাগান ক্রয় করেন। তবে বেশির ভাগ বাগান মালিক নিজেই পরিচর্যা করে লিচু আবাদ করছেন। গাছে লিচু ধরে রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। 

দুই-তিনজন লিচুবাগান মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতবারের চাইতে এবার বেশির ভাগ গাছে লিচুর মুকুল আসে। মুকুল থেকে লিচু এখন পরিপক্ব হচ্ছে। এক মাস মধ্যে লিচু পরিপূর্ণ হবে। পরিপূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত বড় ধরনের যদি কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না আসে তাহলে ঈশ্বরদীতে এবার লিচুর বাম্পার ফলন হবে। কৃষকরা লাভবান হবেন। 

উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের মধ্য সাহাপুর মন্ত্রীর মোড় মালিথা পাড়া এলাকার ১৫০ লিচুগাছের মালিক আবুল বাশার মালিথা বলেন, কয়েক দিনের গরমে তার শুধু একটি গাছ থেকে বেশ কিছু লিচুর গুটি ঝরে পড়েছে। বাকি অন্যসব গাছের অবস্থা ভালো। তিনি প্রথম থেকে সময়মতো গাছে পানি দেওয়া এবং নিয়মমাফিক কীটনাশক স্প্রে করছেন। তিনি জানান, আবহাওয়া এখনো লিচু আবাদের অনুকূলে আছে। এক মাসের মধ্যে লিচু পরিপক্ব হবে। তবে এ সময়ের মধ্যে তাপমাত্রার তীব্রতা যদি এখনকার চাইতে বেশি বেড়ে যায় তাহলে লিচুর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে লিচুর গুটি ধরে রাখার জন্য পরিচর্যা করা হচ্ছে।

কোনো ব্যাপারীর কাছে গাছ বিক্রি না করে নিজেই দেখভাল করে লিচু বিক্রি করবেন এমন ৫০০ লিচুগাছের মালিক উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়াড় সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার প্রতিটি গাছে অসংখ্য লিচু ধরেছে। শুরুতেই এবার গাছে গাছে চোখ-মন ভরানো মুকুল ছিল। তিনি জানান, ৩৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠা লিচুবাগানের ৫০০ গাছ বছরজুড়ে পরিচর্যা করা হয়। অপেক্ষায় থাকা হয় লিচু মৌসুমের। মৌসুম শুরু হলে গাছ পরিচর্যা থেকে শুরু করে লিচু পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত রাত-দিন ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। তিনি বলেন, গুটি থেকে পরিপূর্ণ লিচু হওয়ার সময়টুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আবহাওয়া লিচুর অনুকূলে থাকলে ফল আর লাভ দুটোই এবার পাওয়া যাবে। তিনি জানান, মে মাসের শেষে অথবা জুনের প্রথম সপ্তাহে লিচু পরিপক্ব হবে। পরিপক্ব হওয়ার আগ পর্যন্ত সার্বিকভাবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৫০০ গাছ থেকে ৫০ লাখ টাকার লিচু বিক্রির আশা করছেন চাষি আরিফুল ইসলাম।

সাহাপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, গাছে গাছে শুধু লিচু আর লিচু। লিচুগাছের মালিকরা অত্যন্ত খুশি। তারা এখন লিচুগাছ পরিচর্যা ও লিচুর গুটি রক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেননা, সাহাপুর ইউনিয়নে লিচুগাছের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চাষিদের লিচু আবাদের বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ঈশ্বরদীর লিচুর খ্যাতি রয়েছে দেশব্যাপী। উপজেলায় এবার ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ রয়েছে। গাছের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টি। দেশি মোজাফফর, বোম্পে চায়নাজাতের লিচুর আবাদ বেশি হয় ঈশ্বরদীতে। ইতোমধ্যে কয়েকবার আমরা লিচুর বাগানগুলো ঘুরে দেখেছি। গাছে গাছে শুধু লিচু আর লিচু। দেখে মনে হচ্ছে এবার লিচুর বাম্পার ফলন হবে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে আবহাওয়ার ওপর। তাপমাত্রার যথেষ্ট তীব্রতা রয়েছে। তবে এর চাইতে বেশি হলে লিচুর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তিনি জানান, লিচুগাছের সংখ্যা ও গাছ প্রতি লিচুর ফলন অনুযায়ী আশা করা যায় এবার ঈশ্বরদীতে লিচুর অর্থনীতি হবে ৬০০ কোটি টাকা। 

ঈশ্বরদীর লিচু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’
পাইকারি লিচু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী অঞ্চলের লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতি মৌসুমে হাজার হাজার টন লিচু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হয়। তবে চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত দাবদাহ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচুর উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাজার পরিস্থিতি, দাম, চাহিদা ও ব্যবসার নানা দিক নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন ঈশ্বরদী উপজেলার শাহপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের পাইকারি লিচু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজশাহী ব্যুরো প্রধান এনায়েত করিম

খবরের কাগজ: লিচু ব্যবসার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলেন?

মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম: আমরা মূলত পাইকারি ব্যবসা করি। লিচুবাগানে মুকুল আসার পর থেকেই বাগান কিনে নিই এবং পুরো মৌসুমজুড়ে পরিচর্যা করি। এরপর ফল সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করি। দীর্ঘদিন ধরেই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছি।

খবরের কাগজ: চলতি মৌসুমের বাজার পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?

রকিবুল ইসলাম: বাজার মোটামুটি ভালো। ক্রেতাদের চাহিদাও রয়েছে। কিন্তু এ বছর প্রাকৃতিক কারণে লিচু খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত রোদে অনেক লিচু পুড়ে গেছে এবং ঝরে পড়েছে। ফলে উৎপাদন কমে গেছে।
খবরের কাগজ: গত বছরের তুলনায় ব্যবসা কেমন হচ্ছে?

আরও পড়ুন: ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’

রকিবুল ইসলাম: চাহিদার দিক থেকে বাজার ভালো। কেনাবেচাও বাড়ার কথা ছিল। কিন্তু উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমরা প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারছি না। লিচু পোড়ার কারণে চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়েই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

খবরের কাগজ: লিচু পোড়ার কারণ কী বলে মনে করেন?

রকিবুল ইসলাম: আমাদের মতে এটি পুরোপুরি আবহাওয়াজনিত সমস্যা। দীর্ঘ সময় তীব্র রোদ, তাপপ্রবাহ এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে এমনটা হয়েছে। কীটনাশকের কারণে এভাবে লিচু পোড়ে বলে আমরা মনে করি না।

খবরের কাগজ: বর্তমানে লিচুর বাজারদর কত?

রকিবুল ইসলাম: বাগান পর্যায়ে প্রতি হাজার লিচু ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকাও পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী।

খবরের কাগজ: বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার অবস্থা কেমন?

রকিবুল ইসলাম: বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। ফলে বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। সরবরাহ আরও কমলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খবরের কাগজ: দেশের কোন কোন অঞ্চলে বেশি লিচু যাচ্ছে?

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ

রকিবুল ইসলাম: রাজধানী ঢাকা ছাড়াও খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বেশি লিচু পাঠানো হচ্ছে।

খবরের কাগজ: পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব কেমন?

রকিবুল ইসলাম: পরিবহন খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এতে ব্যবসার ব্যয় অনেক বেড়েছে এবং লাভের পরিমাণ কমে গেছে।

খবরের কাগজ: লিচু রপ্তানির সম্ভাবনা কতটা?

রকিবুল ইসলাম: বাংলাদেশের লিচুর মান খুব ভালো। সরকারি সহযোগিতা ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বিদেশে লিচু রপ্তানির বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

খবরের কাগজ: ব্যবসার প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

রকিবুল ইসলাম: সারের দাম, কীটনাশকের দাম এবং শ্রম ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেই অনুযায়ী বাজারদর সব সময় পাওয়া যায় না। এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

খবরের কাগজ: মৌসুমের শেষ দিকে দামের কী অবস্থা হতে পারে?

রকিবুল ইসলাম: সাধারণত মৌসুমের শেষ দিকে দাম বেড়ে যায়। এ বছর উৎপাদন কম হওয়ায় দাম আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে যে দাম রয়েছে, তা থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

দিনাজপুরের চাষি মনিরুজ্জামান চৌধুরী ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’
লিচুচাষি মনিরুজ্জামান চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের শীর্ষ লিচু উৎপাদন এলাকা দিনাজপুরে এবার চায়না-থ্রি জাতের লিচুর ফলন তুলনামূলক ভালো হলেও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, শিলাবৃষ্টি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উদ্বেগে রয়েছেন চাষিরা। এ পরিস্থিতি, বাজার দর, উৎপাদন খরচ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার লিচুচাষি মনিরুজ্জামান চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক খবরের কাগজের রাজশাহী ব্যুরোপ্রধান এনায়েত করিম।

দৈনিক খবরের কাগজ : কত বিঘা জমিতে লিচুর চাষ করেছেন?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: গত বছর প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে লিচুর চাষ করেছিলাম। এ বছর সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২১ বিঘা হয়েছে। আমার বাগানে চায়না-থ্রি, বোম্বাই, মাদ্রাজি ও বেদানা জাতের লিচু রয়েছে। তবে এ বছর বেদানা, মাদ্রাজি ও বোম্বাই জাতের গাছে খুব একটা মুকুল আসেনি। অন্যদিকে চায়না-থ্রি জাতের ফলন বেশ ভালো হয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ: গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন কেমন হয়েছে?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: চায়না-থ্রি জাতের ফলন গত বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়ার কারণে কিছু ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির ফলে ফল ঝরে গেছে এবং পরিচর্যার খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও বাড়তি ব্যয়ের চাপ রয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ: আবহাওয়ার প্রভাব কতটা পড়েছে?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: আবহাওয়ার প্রভাব অনেক বেশি ছিল। কখনো প্রচণ্ড দাবদাহ, আবার হঠাৎ বৃষ্টি হয়েছে। এতে মুকুল ঝরে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে পুড়েও গেছে। ফলে বাড়তি পরিচর্যা করতে হয়েছে। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে বেশি কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ: রোগবালাইয়ের আক্রমণ কেমন ছিল?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: আবহাওয়ার কারণে রোগবালাইয়ের চাপ অন্য বছরের তুলনায় বেশি ছিল। তাই নিয়মিত নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। তা না হলে ফলনের ক্ষতি আরও বেশি হতো।

দৈনিক খবরের কাগজ: প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ কত হয়েছে?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: প্রতি বিঘায় গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন লিচু সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ১০ থেকে ১১ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০ লিচু প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসাবে প্রতি বিঘা থেকে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুন: ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’

দৈনিক খবরের কাগজ: বর্তমান বাজার দরে বিক্রি করে লাভ হচ্ছে, নাকি লোকসান?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: এখনো বাজারে চাহিদা কিছুটা কম। ঈদের কারণে ক্রেতা কম ছিলেন। তবে ঈদ শেষ হওয়ায় মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় চাহিদা বাড়ছে। ফলে দামও বাড়তে শুরু করেছে। এতে কৃষক কিছুটা লাভবান হবে।

দৈনিক খবরের কাগজ: লিচু কোথায় বিক্রি করছেন?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: বেশির ভাগ লিচু বাগান থেকেই বিক্রি হয়। ঢাকা ও বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগানে আসেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও ক্রেতারাও বাগান পরিদর্শন করে লিচু কিনে নিয়ে যান। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করছেন।

দৈনিক খবরের কাগজ: সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: সরকার যদি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করে, তাহলে কৃষকরা একসঙ্গে সব ফল বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। এতে ভালো দাম পাওয়া সম্ভব হবে। কেননা, লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি। পাশাপাশি লিচু ও আম রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে হবে। আর কৃষকদের ব্যবহৃত বালাইনাশক যেন সঠিক দামে ও মানসম্মতভাবে পাওয়া যায়, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন। 

পাবনার লিচুবাগান মালিক মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’
বাগান মালিক মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

পাবনা জেলার লিচু উৎপাদনকারী উপজেলাগুলোর মধ্যে কয়েকটি অঞ্চলে এ বছর ভালো ফলনের আশা জাগলেও শেষ মুহূর্তে বৈরী আবহাওয়া বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে এনেছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, রোদ ও বৃষ্টির প্রভাবে লিচুর একটি বড় অংশ পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে দাম থাকলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ মিলছে না। দৈনিক খবরের কাগজকে এমন বাস্তবতার কথা জানান পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার শাহপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের বাগান মালিক মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজশাহী ব্যুরো প্রধান এনায়েত করিম।

খবরের কাগজ: গত বছরের তুলনায় এবার ফলন কেমন হয়েছে?

হামিদুল ইসলাম: গত বছর তেমন ফলন ছিল না। এবার শুরুতে ব্যাপক ফলন ছিল। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় অনেক লিচু পুড়ে ও নষ্ট হয়ে গেছে।

খবরের কাগজ: কোন জাতের লিচু বেশি চাষ করেছেন এবং কেন?

হামিদুল ইসলাম: আমাদের বোম্বাই জাতের লিচু বেশি। আগে থেকেই বোম্বাইয়ের গাছ বেশি লাগানো ছিল, তাই এখন বোম্বাইয়ের পরিমাণ বেশি।

খবরের কাগজ: আবহাওয়া উৎপাদনে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে?

হামিদুল ইসলাম: প্রভাব তো পড়েছেই। অনেক লিচু নষ্ট হয়েছে। আমাদের ছোট একটি গ্রামেই আনুমানিক ৬ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।

খবরের কাগজ: রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণ কেমন ছিল?

হামিদুল ইসলাম: পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে স্প্রে করা হয়েছিল। তেমন আক্রমণ ছিল না। মূল ক্ষতি হয়েছে আবহাওয়ার কারণে।

খবরের কাগজ: শ্রমিক ও পরিচর্যার খরচ কতটা বেড়েছে?

হামিদুল ইসলাম: শ্রমিকের দৈনিক মজুরি প্রায় ১ হাজার টাকা। একটি ঝুড়ির দাম ১২০ টাকা। ঢাকায় পাঠাতে গাড়ি ভাড়া বাড়তি। এসব খরচ যোগ করলে অনেক চাপ পড়ে।

খবরের কাগজ: বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে লাভ হচ্ছে?

হামিদুল ইসলাম: ঢাকার বাজারে গত দুই-তিন দিন লাভ তো নেই-ই, উল্টো বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে এমন অবস্থা। যারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, তাদেরও খুব বেশি কিছু থাকছে না।

খবরের কাগজ: পাইকাররা কি ন্যায্য দাম দিচ্ছেন?

হামিদুল ইসলাম: পাইকাররা বাজার অনুযায়ী দাম দিচ্ছেন। তারা যদি নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে পরের দিন আর আসবেন না। পরিস্থিতি সবার জন্যই কঠিন।

খবরের কাগজ: এখন কোথায় বিক্রি করছেন–বাগানে নাকি বাজারে?

হামিদুল ইসলাম: এখন মূলত বাগান থেকেই বিক্রি হচ্ছে। সেখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

খবরের কাগজ: বাগানে কত দামে বিক্রি হচ্ছে?

হামিদুল ইসলাম: মানভেদে ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ৪০০-২ হাজার ৫০০, এমনকি ২ হাজার ৮০০ টাকাও হয়েছে। হাটে সাধারণত ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০-২ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে।

খবরের কাগজ: সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

হামিদুল ইসলাম: সরকার হয়তো এই ক্ষতি পুরো বহন করবে না। কিন্তু কৃষক ও বাগান মালিকরা বড় চাপের মধ্যে আছেন। আমাদের এলাকায় যে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, তা সামলানো সহজ নয়। কোনো সহায়তা বা কার্যকর উদ্যোগ থাকলে কৃষকের উপকার হবে।

খবরের কাগজ: চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বলুন। 

হামিদুল ইসলাম: এ বছর লিচুর ফলন শুরুতে আশাব্যঞ্জক হলেও শেষ সময়ে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে চিত্র বদলে গেছে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, পরিবহন ব্যয়ও চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে বাজারে ভালো দাম দেখালেও প্রকৃত লাভের অঙ্ক ছোট হয়ে আসছে। কৃষক ও বাগানমালিকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং বাড়তি উৎপাদন ব্যয় সামাল দেওয়া।

নওগাঁয় চড়ামূল্যে কিনতে হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগ শঙ্কায় আমচাষিরা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম
নওগাঁয় চড়ামূল্যে কিনতে হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগ শঙ্কায় আমচাষিরা
ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁয় নিরাপদ আম উৎপাদনের অন্যতম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং। যেখানে  আমকে একটি বিশেষ ব্যাগে ঢেকে রাখা হয়। ফলে আম পোকামাকড়ের আক্রমণ  থেকে রক্ষা পায়। কীটনাশকের ব্যবহার না করে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি  ব্যবহার বেশ কয়েক বছর ধরেই জনপ্রিয় উত্তরের জেলা নওগাঁয়।

প্রতিবছরই আমের নতুন নতুন বাগান বাড়ছে এই জেলায়। সেই সাথে তৈরি হচ্ছে নতুন উদ্যোক্তাও। বেশ কিছু তরুণ উদ্যোক্তা রপ্তানির উদ্দেশ্যে এই ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব আমের সিংহভাগই রপ্তানি করা হয় বিদেশে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই এই ব্যাগের চাহিদা ও দাম ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ বছর চাহিদামতো ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় আম ব্যাগিং করতে পারেননি নওগাঁর অনেক চাষী। আবার যতটুকু ব্যাগ মিলছে, তাও কিনতে হয়েছে দ্বিগুন দামে।

আম চাষিরা জানান, গতবছর প্রতিটি ফ্রুট ব্যাগের দাম পড়েছিল ৩ টাকা ৭০ পয়সা। কিন্তু এবার তা কিনতে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সায়। আবার বাড়তি দাম দিয়েও ব্যাগ কিনতে পারেননি অনেক চাষী। 

নওগাঁর পোরশা উপজেলার ছাতড়া গ্রামের তরুন আম চাষি তানিম মাহমুদ ও ফয়সাল এবার যৌথভাবে ১৬৮ বিঘা জমি লিজ নিয়েছেন। যেখানে বারি-৪ আম্রপালি ও গৌঢ়মতিসহ বিভিন্ন জাতের আম গাছ রয়েছে। এরমধ্যে ১৬ একর জমিতে সাড়ে ৩ লাখ আম ফ্রুট বেগিং করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু চাহিদামতো ব্যাগ পাননি তারা। 

পার্শ্ববর্তী সাপাহার উপজেলার সবচেয়ে বড় উদ্যোক্তা সোহেল রানা। প্রতিবছর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে আম রপ্তানি করে থাকেন। তিনি জানান, এ বছর ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা ছিলো ৩ লাখ পিস। এর বিপরীতে মাত্র ১৫ হাজার পিস কিনতে পেরেছি। তাও আবার চড়া দামে কিনতে হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ব্যবহার করা ৪৫ হাজার পিস ফ্রুট ব্যাগ ছিল। এ নিয়ে মোট ৬০ হাজার পিস ব্যানানা ম্যাংগো আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। কিছু আম আছে ফ্রুট ব্যাগ ছাড়া ভাল হয় না। বিশেষ করে গৌড়মতি আমে ফ্রুট ব্যাগিং না করলে দাগ পড়ে এবং পোকা লাগে। এ কারণে চাহিদামতো ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হতে হলো।

আমচাষিরা বলছেন, এপ্রিল মাস থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করার সময়। এ বছর ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় অনেক চাষী আমে ব্যাগিং করতে পারেননি। খোলা আম বাজারে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি হয়ে থাকে। তবে ফ্রুট ব্যাগিং করা আম ক্রেতাদের কাছে চাহিদা থাকায় বাজারে প্রকারভেদে ৭-৮ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি হয়ে থাকে।

এদিকে, ফ্রুট ব্যাগ স্বল্পতার কারণে গত ৩-৪ বছর আগে যেসব গাছ রোপন করা হয়েছিল সেসব গাছে এবার আম এসেছে। এতে ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা আরও বেড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। যা থেকে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৮৬ হেক্টর জমির আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি জাতের ১ কোটি ১১ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ পিস আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। গত বছর সাপাহার ও পোরশা উপজেলা থেকে বিভিন্ন রপ্তানিকারকের মাধ্যমে ২৮৪ টন আম্রপালি, খিরসাপাত ও ব্যানানা ম্যাংগো আম মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানি হয়েছিল।

ফ্রুট ব্যাগ স্বল্পতা ও দাম বৃদ্ধির কথা শিকার করছেন নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, খুব দ্রুতই কৃষকদের মাঝে উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে আম উৎপাদনের আগ্রহ বাড়ছে। এ কারনে রপ্তানি পরিসর বাড়াতে রপ্তানিযোগ্য এবং কীটনাশকমুক্ত আম ‍উৎপাদন ও ভাল দাম পেতে কৃষকদের মাঝে ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা বেড়েছে। শেষ সময়ে এসে আমচাষিদের কাছে ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যেসব কোম্পানি ফ্রুট ব্যাগ সরবরাহ করেন তারা দিতে পারেননি।

হারুন চৌধুরী/খাদিজা রুমি/

চাকরি না পেয়ে ইউটিউব দেখে আম চাষ, লক্ষাধিক টাকা আয়

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
চাকরি না পেয়ে ইউটিউব দেখে আম চাষ, লক্ষাধিক টাকা আয়
মাদারীপুরের সফল আম চাষি। ছবি: খবরের কাগজ

চাকরির পেছনে দীর্ঘদিন ছুটেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি মাদারীপুরের তরুণ শাহান্দার হাওলাদার। তবে হতাশ না হয়ে তিনি বেছে নেন কৃষি পেশা। ইউটিউব দেখে আধুনিক আমচাষের কৌশল শিখে গড়ে তোলেন বাণিজ্যিক আমবাগান। বর্তমানে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের পূর্ব মাদ্রা গ্রামের বাসিন্দা শাহান্দার হাওলাদার ২০১৫ সালে লেখাপড়া শেষ করার পর দীর্ঘদিন চাকরির চেষ্টা করেন। একের পর এক চেষ্টা করেও চাকরি না পাওয়ায় তিনি বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেন। এ সময় ইউটিউবে আধুনিক কৃষি ও আম চাষবিষয়ক বিভিন্ন ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে প্রায় চার একর জমির ওপর গড়ে তোলেন একটি বাণিজ্যিক আমবাগান। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হলেও ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সফলতা অর্জন করেন তিনি।

বর্তমানে তার বাগানে রুপালি ও হিমসাগর জাতের উন্নতমানের আম উৎপাদিত হচ্ছে। বাগান পরিচর্যা ও অন্য কাজে প্রতিদিন প্রায় ১২ জন শ্রমিক কাজ করছেন। ফলে নিজের স্বাবলম্বীর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মাদারীপুর জেলায় ৩৫৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৭৮ মেট্রিক টন উৎপাদন ধরে জেলার মোট আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ২৩৪ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার আম বাণিজ্য হতে পারে বলে আশা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।

মাদ্রা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক রাকিব হাসান  জানান, শাহান্দার এলাকার তরুণদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। তিনি প্রমাণ করেছেন যে চাকরির পেছনে না ছুটেও কৃষিভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে সফল হওয়া সম্ভব।

আমবাগান মালিক শাহান্দার হাওলাদার বলেন, ‘চাকরি না পেয়ে একসময় অনেক হতাশ ছিলাম। পরে ইউটিউব থেকে আমচাষের বিভিন্ন বিষয় শিখে কাজ শুরু করি। প্রথম দিকে অনেক কষ্ট ছিল। তবে এখন আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাগান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাদারীপুরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ শাশ্বতী ছন্দা দেবনাথ বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর মাদারীপুরে গত বছরের তুলনায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। শাহান্দার হাওলাদার আমাদের এখান থেকে পরামর্শ নিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, আম চাষ অনেক লাভজনক। যারা বেকার আছেন তারা ইচ্ছা করলে আমাদের এখান থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে বাগান করতে পারেন। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষক ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা করে থাকে।