ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ছিলেন গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ আন্দোলনের সহযাত্রী: স্মরণসভায় বিশিষ্টজনরা

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ০১:০১ পিএম
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ছিলেন গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ আন্দোলনের সহযাত্রী: স্মরণসভায় বিশিষ্টজনরা
রাজনীতিসচেতন ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের প্রয়াণবার্ষিকীতে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিকরা। ছবি: খবরের কাগজ

রাজনীতিসচেতন ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আনিসুজ্জামান জাতির দুর্দিনে পথ দেখিয়ে গেছেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী এবং গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ আন্দোলনের সহযাত্রী। 

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জীবন ও কর্ম স্মরণে স্মরণসভায় এ মন্তব্য করেছেন শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিকরা।

মঙ্গলবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে কালি ও কলম পত্রিকার আয়োজনে অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সাবেক সভাপতি মাহফুজা খানম, কবি পিয়াস মজিদ। 

মঙ্গলবার ছিল বাংলা একাডেমির প্রয়াত সভাপতি, শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের চতুর্থ প্রয়াণবার্ষিকী। 

অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে কালি ও কলমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি লেখালেখির মাধ্যমে তরুণদের জাগাতে চেয়েছিলেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি তরুণদের সেখানে ঘাটতি আছে। তাকে স্মরণ করে সেই কাজটাই আমরা করতে চাই। তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন চিন্তা প্রসারিত করতে হবে। আমরা সকলেই মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী। আমরা সেই বিশ্বাসকে প্রসারিত করব।’

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সাবেক সভাপতি মাহফুজা খানম বলেন, নতুন প্রজন্মকে মানবিক, উদারতা, অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাসহ নানা কর্মে অবদান রেখেছেন। রাজনৈতিক বিভাজন, ধর্মীয় উন্মাদনা, সন্ত্রাস, মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় রোধে জাতীয় জাগরণের আশায় অনেককে একত্রিত করার নানা কর্মকাণ্ডে তিনি যুক্ত ছিলেন।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের চতুর্থ প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল আজিমপুর কবরস্থানে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা। একাডেমির পরিচালক ডা. মো. হাসান কবীরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে অনুষ্ঠিত মোনাজাতে অংশ নেন একাডেমির বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, উপপরিচালক, সহ-পরিচালক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

সাম্যের বেলায় বারবার নজরুল ফিরে আসেন আমাদের মাঝে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:২০ এএম
সাম্যের বেলায় বারবার নজরুল ফিরে আসেন আমাদের মাঝে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী
ছবি : খবরের কাগজ

যখন আমরা সাম্যের কথা ভাবি, নারী পুরুষর সমতার কথা ভাবি, ধনী-দরিদ্রদের মধ্যে সাম্যের কথা ভাবি, সব সাম্যের বেলায় বারবার নজরুল ফিরে আসেন আমাদের মাঝে। তিনি আমাদের শানিত করেন প্রতি মুহূর্তে।

শনিবার (২৫ মে) বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদ কালী নারায়ণ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও নেতাজি সুভাষ-কাজী নজরুল সোশ্যাল অ্যান্ড কালচার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট আয়োজিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মদিবসে অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আশরাফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণব ভার্মা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোভন রাংসা প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আজকের যে স্মার্ট বাংলাদেশ তা গড়তে হলে আমাদের প্রত্যেককে মানুষ হতে হবে, বিজ্ঞানমনস্ক, কুসংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মান্ধতামুক্ত। এর জন্য যে অনুপ্রেরণা তা নজরুল আমাদের দিয়ে যাচ্ছেন। কাজেই তার যে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিশাল ভাণ্ডার আছে তার মধ্যে আমাদের অবগাহন করতে হবে, এর নির্যাস নিতে হবে।

তিনি বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে আমাদের মধ্যে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, কূপমণ্ডূকতা, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প আমাদের সমাজকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে বর্তমান প্রজন্মকে। তারাই পারবে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে অসাম্প্রদায়িক সাম্যের পৃথিবী গড়ে তুলতে। এর জন্য প্রত্যেককে শুধু নজরুল পড়া নয়, নজরুলকে অনুভব করতে হবে, হৃদয় ও মস্তিষ্কে ধারণ করতে হবে। নজরুলের যে বিজ্ঞানমনস্কতা এটিও ধারণ করতে হবে। 

অনুষ্ঠানে কবি নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে অংশ নেন দেশ বরেণ্য আবৃত্তিকার ও শিল্পীরা। 

পলাশ প্রধান/অমিয়/

স্মারকগ্রন্থ উন্মোচনে বিশিষ্টজনরা কবি আসাদ চৌধুরীর কবিতার বৈশিষ্ট্য সমাজ সম্পৃক্তি, সৌহার্দ্য

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১২:০৪ এএম
কবি আসাদ চৌধুরীর কবিতার বৈশিষ্ট্য সমাজ সম্পৃক্তি, সৌহার্দ্য
ছবি : সংগৃহীত

বাংলার মাটি-মানুষের প্রতি কবি আসাদ চৌধুরীর মমত্ববোধ ছিল প্রখর। কবিতায় তিনি যখন খ্যাতির শীর্ষে আরোহণ করেছেন, তখন জাত্যাভিমান ভুলে আসাদ চৌধুরী ছুটে গেছেন বাংলার প্রান্তিকে। গণমানুষের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্তিকে আরও বেশি নিবিড় করে তুলতে মরিয়া হয়ে বাংলার আলপথ ধরে ছুটে গেছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।

শুক্রবার (২৪ মে) বিকেলে রাজধানীর বাংলামটরে কাঠপেন্সিল সাহিত্য সংসদের ‘কবি আসাদ চৌধুরী স্মারকগ্রন্থ’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছেন কবির পরিবার ও বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্টজনরা।

অনুষ্ঠানে কবি আসাদ চৌধুরীর স্ত্রী সাহানা চৌধুরী, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, কবি আসাদ মান্নান, অধ্যাপক ড. সুকোমল বডুয়া কবি জীবনের নানা স্মৃতি নিয়ে আলোকপাত করেন। কথাসাহিত্যিক আতা সরকার, অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, কবি ও সম্পাদক ইমরান মাহফুজও স্মৃতিচারণ পর্বে যুক্ত হন।

সাহানা চৌধুরী বলেন, মানুষকে বড় ভালোবাসতেন তিনি। তাই তো তিনি সারা জীবন ঘুরে বেড়িয়েছেন বাংলার আনাচেকানাচে। সংসারের দিকে তার তাকানোর সময় ছিল না কখনো কখনো। সৎ ও নিরহঙ্কার মানুষ ছিলেন। মৃত্যুর পর তার মরদেহ আমরা বাংলাদেশে আনতে পারিনি। আমি চাইনি, তার মরদেহ কাঁটাছেড়া করে ফ্রিজিং করা হোক। তবে কানাডার মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেও তার কবরে কিন্তু বাংলাদেশের মাটি রয়েছে।

সিরাজ উদ্দীন আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে কবি আসাদ চৌধুরীকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। আমি কবি আসাদ চৌধুরীর নাম স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করেছিলাম। কিন্তু সিলেকশন কমিটিতে তো সবাই আমলা। সেখানে কথাসাহিত্যিক কেউ নেই।

আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, মানুষের প্রতি সমাজের প্রতি সম্পৃক্তি, সৌহার্দ্য আসাদ চৌধুরীর কবিতার প্রধানতম বৈশিষ্ট্য। তার কবিতায় বারবার উঠে এসেছে বাঙালি জাতীয়তাবাদ।

অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী নাসিম আহমেদ, শায়লা আহমেদ, তারিক হাসিব, আলমগীর ইসলাম শান্ত ও তালহা বিন শরীফ। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন ঐশিকা নদী।

৪৪৮ পাতার এই স্মারকগ্রন্থে বাংলাদেশের প্রথিতযশা লেখক, কবি, কথাসাহিত্যিকদের ৭৪টি প্রবন্ধ, ৩০টি কবিতা ঠাঁই পেয়েছে। আসাদ চৌধুরীর ৫টি কবিতা অনূদিত হয়েছে এই গ্রন্থে।

কবি আসাদ চৌধুরীর কবিতা নিয়ে আবদুল মান্নান সৈয়দ, প্রশান্ত মৃধা, মামুন সিদ্দিকীদের পাঠ মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এই গ্রন্থে। এছাড়া বাংলাদেশের বেশকয়েকজন কবি, সাহিত্যিকের উদ্দেশে আসাদ চৌধুরীর চিঠি ও তার নানা আলোকচিত্র ঠাঁই পেয়েছে এই গ্রন্থে। এর দাম রাখা হয়েছে ৮০০ টাকা। পরিবেশক হিসেবে রয়েছে পাঠক সমাবেশ ও বাতিঘর।

জয়ন্ত/এমএ/

নান্দনিক শিল্পকর্মে রূপকার এসএম সুলতান-কাইয়ুম চৌধুরীকে স্মরণ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৫:১০ পিএম
নান্দনিক শিল্পকর্মে রূপকার এসএম সুলতান-কাইয়ুম চৌধুরীকে স্মরণ
ছবি : খবরের কাগজ

মাটি ও মানুষকে উপজীব্য করে নান্দনিক শিল্পকলায় বাংলাদেশের ছবি এঁকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে বেগবান করে তোলা দুই মনীষী এসএম সুলতান ও কাইয়ুম চৌধুরীকে স্মরণ করল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। 

শুক্রবার (২৪ মে) সকালে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ অনুষ্ঠানে বাংলার চিত্রকলা আন্দোলনের দুই পথিকৃৎকে স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চারুকলা বিভাগের শিক্ষক, শিল্প সমালোচকরা।

‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনে এসএম সুলতানের জীবন ও নন্দনতত্ত্বের প্রাসঙ্গিকতা’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এসএম সুলতান তার গণমুখী শিল্পকর্মের মাধ্যমে আপন সংস্কৃতিকে, নিজস্ব সত্ত্বাকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। তিনি বলতেন, শিল্পকলা ব্যক্তির রুচিবোধকে জাগিয়ে তুলে, প্রগতিশীল করে তুলে। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিল্পকলা বা নন্দনতত্ত্বভিত্তিক আলোচনা নগরকেন্দ্রিক না রেখে তা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। পঞ্চাশ-ষাট দশকের যে রাজনীতি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের পথে ধাবিত করেছিল তার সঙ্গে সংস্কৃতির সংযোগ ছিল। এখন সেই রাজনীতি সংস্কৃতিচর্চা থেকে বহু দূরে সরে গেছে। সে জায়গায় এসএম সুলতানের নন্দনতত্ত্ব আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠে।’ 

জাফর ওয়াজেদ বলেন, ‘এসএম সুলতানকে নিয়ে নানা শিল্পী, গুণীজন নানা সময়ে বিরূপ মূল্যায়ন করেছেন। সাদেক খান লিখেছেন, এসএম সুলতান সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি ইউরোপের রেনেসাঁয় উদ্বুব্ধ হয়েছিলেন বলেও লিখেছেন সাদেক খান। বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর এসএম সুলতানের শিল্পকর্ম টিকে থাকবে কি-না এ প্রশ্নও তুলেছিলেন। অথচ এসএস সুলতান তার বলশালী বাস্তবধর্মী ও বিমূর্ত ধারার ছবিতে আমাদের মনোজগতে বড় প্রভাব রেখেছিলেন। নব্বইয়ের দশকে আমরা যারা স্বৈরাচারবিরোধী সাংস্কৃতিক আন্দোলন করেছি, আমাদের সেই লড়াইয়ে এসএম সুলতানের ছবি বড় নাড়া দিয়েছিল।’ 

পরে ‘কাইয়ুম চেীধুরী নান্দনিক শিল্পের রূপকার’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক মামুন কায়সার। আলোচক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক মইনুল হোসেন জাবের, এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন নন্দনতত্ত্ববিদ বুলবন ওসমান ।

মামুন কায়সার বলেন, ‘কাইয়ুম চৌধুরী দেশজ উপাদান আর আধুনিকার সংমিশ্রণে নিজেকে উল্লেখ্য করে তোলার কাজে সফল হয়েছিলেন। নদী, নৌকা, নৌকার গলুই, মাছ, বৃক্ষ, পত্রপুষ্প, পাখি আর নারী অবলীলায় খেলেছে তার চিত্রপটে। রেখার বলিষ্ঠতা, রঙ লেপনে তিনি উদার হয়ে সৃষ্টি করেছেন একের পর এক চিত্রমালায়।’ 

তিনি বলেন, ‘কাইয়ুম চৌধুরী শুরুতে কিউইজমে প্রভাবিত হলেও পরে নিজস্ব ধারা প্রণয়নে সক্ষম হন। উচ্চকিত ও উজ্জ্বল রঙ নির্বাচনে তিনি অকপট। তার চিত্রকলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি সরাসরি বাস্তবধর্মী ছবি আঁকেননি আবার বিমূর্ত ধারাতেও কাঠামো নির্মাণ করেননি। স্বল্প ফর্মে রঙ আর স্পেসের খেলায় তিনি বাংলার গ্রামীণ জীবনকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে বুঝতে কষ্ট হয় না এই দেশের প্রতি তার নিবেদন কতটা! কালো কালি, জল রঙ, অ্যাক্রেলিক আর পেস্টেল-সবেতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য ছিলেন।’ 

মামুন কায়সার বলেন, ‘চিত্রকলার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিল্পকলাতেও কাইয়ুম চৌধুরী অনবদ্য। তিনি এ দেশের গ্রাফিক ডিজাইনের জনক, তাকে ছাড়া প্রকাশনা জগত কল্পনাই করা যেত না।’ 

শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, ‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ৬২ জন মনীষীদের জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করবেন দেশবরেণ্য চারুকলা শিল্পী, অধ্যাপক ও শিল্প সমালোচকরা। 

শুক্রবারের আয়োজনে উপমহাদেশের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ওস্তাদ আয়েত আলী খানের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক রীনাত ফওজিয়া। তার প্রবন্ধের শিরোনাম ‘ওস্তাদ আয়েত আলী খান : জীবন ও কর্ম’। এ পর্বে আলোচক হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট সুরকার ও সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান । পরে ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ’র ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন লেখক-গবেষক ও নাট্যনির্মাতা ইরানী বিশ্বাস। প্রবন্ধের শিরোনাম ‘মুকুটবিহীন সুরসম্রাট ওস্তাদ আলী আকবর খান’। এতে আলোচক হিসেবে ছিলেন সংগীত পরিচালক এজাজ ফারাহ্।

জয়ন্ত সাহা/সালমান/

বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে শিল্পচর্চা ধ্বংস হয়ে গেছে: মামুনুর রশীদ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৯:১৪ এএম
বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে শিল্পচর্চা ধ্বংস হয়ে গেছে: মামুনুর রশীদ
অনুশীলন প্রাক্তনীর উদ্যোগে তারেক খান স্মরণসভা

বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে শিল্পচর্চা ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ। 

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) অনুশীলন প্রাক্তনীর উদ্যোগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে অকাল প্রয়াত থিয়েটারকর্মী, টিভি নাট্যনির্মাতা তারেক খানের স্মরণসভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

স্মরণসভায় মামুনুর রশীদ বলেন, ‘অনুশীলন নাট্যদলের সাবেক নিবেদিতপ্রাণ তারেক খান মুসলিম পরিবারের মধ্যে সর্বশেষ সংগ্রামী শিল্পী। দারিদ্র্য ও পরিবারের মতের বিরুদ্ধে এত সংগ্রাম করে আর কেউ আসবে বলে মনে হয় না।’ 

তারেক খান ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন মামুনুর রশীদের মামাতো ভাই ও দীর্ঘদিনের নাট্যসারথি। 

অনুশীলন নাট্যদলের কর্ণধার মলয় ভৌমিক তার স্মৃতিচারণে বলেন, ‘দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে দেশের প্রায় সব শিল্পীকেই নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শিল্পী হয়ে উঠতে হয়। তারেক খানের বেড়ে ওঠা ঠিক তেমনই। বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগে পড়াতে তার বাবা শুরুতে আপত্তি করলেও পরে মেনে নিয়েছিলেন।’ পরবর্তী সময়ে তারেক খানের বাবা তাকে নিয়ে গর্ব করতেন বলেও স্মৃতিচারণ করেন মলয় ভৌমিক। 

স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সমাজকর্মী অ্যাডভোকেট আব্রাহম লিংকন বলেন, ‘সংস্কৃতি চর্চা যারা করেন তাদের অনেকের মধ্যে রাজনীতি নেই। কিন্তু তারেক খান এমন একজন সংস্কৃতিকর্মী, যিনি রাজনীতিতেও ছিলেন। অনুশীলন প্রাক্তনীর কর্মীদের মধ্যে এই বোধ আছে।’ 

নাট্যকর্মী তারেক খানের স্মৃতিচারণ করেন তার মেয়ে গল্পকার ও অভিনেত্রী উনাইসা তিজান খান, অনুশীলন নাট্যদল ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের প্রাক্তন কর্মীরা। স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন অনুশীলন প্রাক্তনীর আহ্বায়ক কামাল আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন দীপু মাহমুদ ও আল জাবির। স্মরণসভায় গান ও কবিতার মাধ্যমে তারেক খানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কণ্ঠশিল্পী মানসী, বিপ্লব, আবৃত্তিশিল্পী সৈয়দ আপন আহসানসহ অন্যরা।

থিয়েটারকর্মী, টিভি নাট্যনির্মাতা তারেক খান গত ১৫ মে গাজী টিভিতে কর্মরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বিজ্ঞপ্তি

সালমান/

রবির গানে মুখর সন্ধ্যা

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১১:১৫ এএম
রবির গানে মুখর সন্ধ্যা
ছায়ানট সাংস্কৃতিক ভবনে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের আয়োজন। ছবি: খবরের কাগজ

‘প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে’, ‘আকাশজুড়ে শুনিনু’, ‘খরবায়ু বয় বেগে’-একে একে তিনটি রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করলেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সদস্যরা। শিল্পী স্বাতী রায় গাইলেন ‘ভালোবেসে সখী নিভৃত যতনে’, দীপ্র নিশান্ত পরিবেশন করেন ‘বুঝি ওই সুদূরে’। এরপর মঞ্চে এল খুদে শিল্পীরা। রাজধানীর সেন্ট গ্রেগরি উচ্চ বিদ্যালয় এবং উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনুশ্রী সাহা, অনন্যা চক্রবর্তী রোদ্রু, আহনাফ আলভী আল-নূর শোনাল বেশ কয়েকটি রবীন্দ্র সংগীত। শেষে বরেণ্য শিল্পী লাইসা আহমদ লিসা গেয়ে শোনালেন ‘ধায় যেন মোর’, বুলবুল ইসলাম গাইলেন ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা’। 

রবিঠাকুরের আনন্দগানে মুখর সে সন্ধ্যার আয়োজন করে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখা। গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর ছায়ানট ভবনের রমেশচন্দ্র স্মৃতি মিলনায়তনে ‘তোমার খোলা হাওয়া’ শীর্ষক সংগীতসন্ধ্যার আয়োজনে অতিথি ছিলেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের নির্বাহী সভাপতি ড. আতিউর রহমান, সহসভাপতি মফিদুল হক। 

স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ (সোয়াস) ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন সম্প্রতি ড. আতিউর রহমানকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে। এ উপলক্ষে আতিউর রহমানকে সম্মাননা জানানো হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। ইউনেস্কোর সম্মাননা প্রাপ্তিতে অভিনন্দন জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হককে। বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী লাইসা আহমদ লিসাকে এদিন সম্মাননা জানায় পরিষদ। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পরিষদের ঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক কৃষ্টি হেফাজ।

পরে ‘কথন’ পর্বে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের নির্বাহী সভাপতি ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আর্থ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চিন্তার সঙ্গে এখন আমরা পরিষদের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। প্রকৃতিপ্রেমী রবীন্দ্রনাথ পরিবেশ ভাবনার পাশাপাশি সমাজের নানা বৈষম্য নিয়ে যে প্রবন্ধগুলো রচনা করে গেছেন, সেগুলো আমরা তরুণদের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। রবীন্দ্রনাথ তো শুধু কবি নন, তার আর্থ-সামাজিক ভাবনা তো একালের অর্থনীতিবিদরাও ভাবতে পারছেন না। একটি জাতি কতটা উন্নত হয়েছে তা নির্ভর করে মনের স্বাতন্ত্র্য, মন্যুষত্বের গৌরব অর্জনও কিন্তু উন্নয়নের অংশ। সে কথাই রবীন্দ্রনাথ বলে গেছেন।’

জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সহসভাপতি মফিদুল হক বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের গানগুলো কোনটি প্রকৃতি, কোনটি প্রেম আর কোনটি পূজা পর্যায়ের সে কথা এখন ভুলে যাওয়াই ভালো। রবীন্দ্রনাথের কিছু গান সময়কে অতিক্রম করেছে। হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বি জীবন যখন ক্রমাগত জটিল হয়ে যায়, সেখানে আমরা তরুণ প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথের গানগুলো নিয়ে যেতে চাই।’