ঢাকা ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪

মঞ্চে মঞ্চে ফুল হয়ে ফুটুক-‘পুণ্যাহ’

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০২:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৩:২৭ পিএম
মঞ্চে মঞ্চে ফুল হয়ে ফুটুক-‘পুণ্যাহ’

নাট্যকেন্দ্রের নাটক ‘পুণ্যাহ’। নাটকটির ৩০তম মঞ্চায়ন হয়ে গেলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র এক্সপেরিমেন্টাল হল ৭ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা ৭.১৫ মিনিটে। অর্কের হাত, মাথা ছুয়েছিলো বলে নাটকটির শুরু থেকে শেষ দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো। ইউসুফ হাসান অর্ক আমার অনুজ। অনুজ হলেও শিল্প সাধনায় আমার অগ্রজ। ইউসুফ হাসান অর্কর কথা বলতে গেলে কত কথাই মনের ভিতরে গুমরিয়া ফেরে! 

‘পুণ্যাহ’ নাটকটি লিখেছেন বদরুজ্জামান আলমগীর। সে অনেক আগেই জেনেছিলাম বদরুজ্জামান আলমগীরকে। সৃষ্টির আনন্দে আনন্দে সে কেবলি নাচে। বদরুজ্জামান আলমগীর ও ড. অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক একই সুতার মালা। কেউ কখনো কাউকেই ছাড়িয়ে যাননি। ছাড়িয়ে যাননি বলে ‘পুণ্যাহ’ একটি ঢাকার মঞ্চে আলোচিত নাম। সংলাপ, কথকতায়, বর্ণনায় ও সংগীতে সংগীতে নাটকটি পূর্ণতা পায়। অর্কের কাজে একটি Magic আছে। ‘পুণ্যাহ’ নাটকে সেই Magic দেখলাম। ইউসুফ হাসান অর্কের হাতের ছোঁয়ায় পান্ডুলিপি পূর্ণতা পায় সুষম চলনে বলনে।

বাংলা নাটকের বিশেষ ধর্ম সংগীত ধর্মিতা। অর্ক শুধু একজন নির্দেশক নন। তিনি নিজেই গীতিকার, সুরকার ও অভিনেতা। নাটকের কাহিনী এগিয়ে চলে অভিনয়ে অভিনয়ে সুরে সুরে কখনো দেহ ভাষা পায়। আমাদের বুঝতে কষ্ট হয় না নাটকের মর্মবাণী। 

পুণ্যাহ নাটকটির মধ্যে মাদকতা আছে। আছে অভিনয়। আছে গান। আছে পাপ-পূণ্যের হিসাব। সুখ-দুঃখকে কী শেষ পর্যন্ত জয় করতে পেরেছিলো আম্বিয়া। প্রথম থেকেই আমার আম্বিয়ার জন্য কষ্ট হয়। নাটকটি দেখেছি কেঁদেছি। কখনো হাসিতে হাসিতে ফেটে পড়েছি।

‘পুণ্যাহ’ নাটকটি অনেক আগের লেখা। এর জন্য নির্দেশককে অনেক কষ্ট করে সমকালীন অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মঞ্চে সৃজন করলো আরেক পুন্যাহ। বহু গ্রামের মধ্যে একটি গ্রাম কাকরগাছি। এই গ্রামকে ঘিরে নাটকের অগ্রযাত্রা। এই গ্রামের সবকিছু চলছিলো ঠিকঠাক।

কিন্তু তৈয়ব-আম্বিয়ার প্রেম। মৌলবী খায়রুল বাশারের ৩২ বছরের ইমামতি জীবন। বটকৃষ্ণ কবিরাজ ভালোইতো চলছিলো কাকরগাছি গ্রাম। সাধারণ মানুষের মধ্যে সুখও ছিলো দুঃখও ছিলো। দুঃখকে জয় করবার বাসনাও ছিলো! এমনকী ঘটে গেলো সে কাকরগাছি গ্রামে। নির্দেশক বারবার খুঁজবার চেষ্টা করেছেন। পাপ কী পূণ্য কী! সুখ কী দুঃখ কী! যদিও আমি বহুদিন পাপ কী পূণ্য কী খুঁজবার চেষ্টা করলাম। পাওয়াটা কী পূণ্যি! ভালোবাসার মধ্যে কী পূণ্যি নাই। একটি অকাল ঝড় এসে কাকরগাছি গ্রাম লন্ড-ভন্ড করে দিলো। মানুষের চাওয়া পাওয়ার হিসেব গোজামিল হয়ে গেলো। ঝাকরগাদি গ্রাম মৃত্যুপুরীতে পরিণত হলো। খালি লাশ আর লাশ। যারা বেঁচে ছিলো তারাতো বাঁচলোই। এখন কাকরগাছিতে শুধু শোক আর শোক। মৌলভী খায়রুল বাসার এই ঝড়ের ক্ষতির জন্য পাপ খুঁজতে থাকেন। বটকৃষ্ণ কবিরাজ কম যান না। ভালোবাসা গুনা। কবিরাজ মশাইও তাই বললো। এই জটলার মধ্যে বহু চরিত্রের আগমন ঘটে। নানা দেহ ভঙ্গিমায়।

গান ছাড়া বাংলা নাটক হয় না। তা জানা যায় গীতি কবিদের রচনা থেকে। আসলেই প্রযোজনাটি দেখে মনে হলো গীতিবাদ্য বাদ দিয়ে বাংলা নাটক হয় না। তাইতো ড. অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক অভিনয়ে অভিনয়ে গান বাঁধছেন। সেই গানই ‘পুণ্যাহ’ নাটকটি সুন্দর হয়ে উঠলো। 

আমি আম্বিয়ার জন্য কাঁদি। এখনো কাঁদি। ভালোবেসে সে তৈয়বকে বেঁধেছিলো। জানতে পারি এক সময় আমিয়ার পেটে বাচ্চা। পেটে হাত দিয়ে আম্বিয়া হাসে। তৈয়ব, চলো আমরা ঢাকা চলে যাই। তৈয়ব অস্বীকার করে। তাহলে কী আম্বিয়ার পাপি! পাপ পূণ্যের যাতাকলে চলে জীবন। পাপ-পূণ্যের হিসেব মেলে না। পাপ আর পাপী অনুসন্ধান চলে নিয়ত।

মৌলভী খায়রুল বাশার এ দুর্যোগ মনে নিতে পারে না। গজব পড়েছে গজব। আম্বিয়া কী তৈয়বকে ভালোবেসে ভুল করেছে! হ্যাঁ, ভুল। সে ভুলের মাসুল তাকে গুনতে হচ্ছে। আম্বিয়ার পেটে তৈয়বের বাচ্চা। খায়রুল বাশার পাপ খোঁজে পাপীর মধ্যে! তাহলে কে পাপী? পুরুষরা বরাবরই পাপ খোঁজে নারীর মধ্যে! কিন্তু তৈয়বের পাপ সমাজ দেখে না। সমাজের চোখ আছে। এ সমাজ আন্ধা কানা। তৈয়বের বাচ্চা আম্বিয়ার পেটেই তৈয়ব অন্যসব পুরুষের মতো শেষ পর্যন্ত নারীর দিকে অঙ্গুলি ইশারা করে। বিচার কার বিচার! শেষ পর্যন্ত পাপীকে খুঁজে বের করে মৌলভী খায়রুল বাশার। বটকৃষ্ণ মহারাজ কমে ছাড়ে না। 

চমৎকার একটি দৃশ্য সৃজন করেন ইউসুফ হাসান অর্ক। আম্বিয়াকে যখন তৈয়ব অস্বীকার করে। আমি চোখের জলে ভাসি। ঔষধ খেয়ে আম্বিয়ার বাচ্চা রক্ত ও লালার স্রোতে বেরিয়ে আসে। আম্বিয়ার দেখে তৈয়বের মতো দেখতে রক্ত ও লালার স্রোতে সে দেখে তৈয়বকে। আম্বিয়া শেষ আশ্রয় চেয়েছিলো তৈয়বের কাছে। তৈয়ব কী আশ্রয় দিয়েছিলো আম্বিয়াকে! না পুরুষরা এমনই। আমরা সব ধোয়া তুলসি পাতা। আম্বিয়া হয় পাপী। এই পাপীর জন্য এই তো কাকরগাছি গ্রামে ঝড় হয়েছিলো। গ্রাম যেনো মৃত্যুপুরী। আম্বিয়ার পাপে কাকরগাছিতে রক্ত বন্যা বয়ে গেলো। মৌলভী খায়রুল বাশার পাপী খুঁজে পায়। তৈয়ব নয় আম্বিয়াই পাপী। আম্বিয়াকে পাথর ছুড়ে মারা হয়। মৃত্যুকে নিয়ে আম্বিয়া বেঁচে থাকে। এতো বাঁচা নয়। আম্বিয়া হাহাকারে হাহাকারে তৈয়বই রক্ত লালার স্রোতে মাটি রক্তাক্ত হয়। 

ড. অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্কের হাতে যে গীতল নাটকটি উপহার পেলাম তা বাংলা নাটকের মূল থেকে শাখা প্রশাখা বিস্তার করে। নাটকে আমরা তো শেকড় সন্ধানী। তাঁর হাতে সেই শেকড়ের যে আলোড়নে আমরা দুলে উঠি। কখনো নাচি। কখনো কাঁদি। কখনো হাসি। 

গান যে বাংলা নাটকের প্রাণ। সেই গানকেই দেহভাষে ফুটিয়ে তুলেছেন অর্ক। ‘পুণ্যাহ’ নাটকটি বাংলা নাটকে স্থান করে নেবে। এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। 

অভিনেতা অভিনেত্রীরা তাদের কথনে, গানে, দেহভাষ্যে দারুন ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন নাটকটি। ইউসুফ হাসান অর্কের হাতে গানও অভিনয় হয়ে ওঠে। বোঝা যায় অর্কের গীতল ভাষাটি। প্রতিটি অভিনেতা অভিনেত্রী কী সংলাপে কী অভিনয়ে কী বচনে কী কথায় দারুন অভিনয় করেছেন। ইউসুফ হাসান অর্ক তো বাজিকর। তাইতো পুতুলি নাচে। গান গায়। কথায় কথায় গানে গানে একটি অপূর্ব সৃজন নাট্য। 

কাকরগাছি গ্রাম। একটি ঝড়। সব লন্ড ভন্ড হয়ে যায়। যারা বেঁচে ছিলো তারা মুখোমুখি হয়। পাপ অথবা পূণ্যের। তারা খুঁজে পায় কী পাপ কিংবা পাপী?

বলেছি আগেও, নাটকটি রচনা করেছেন বদরুজ্জামান আলমগীর। নাটক সম্বন্ধে বলতে যেয়ে নাট্যকার বলছেন, ‘মনে হয়, ওখানে আমি নেই, ঘটনাগুলো ঘটছে নিজের গরজে, আমি তার অংশ নই-অনুষঙ্গগুলো নিজস্ব পরিপ্রেক্ষিতের অধীন। কিন্তু কার্যত আমরা আছি ওখানে- কেন্দ্রে আছি।” 

সহজ কথা সহজ হিসেব। তারপরও সহজ নয়। আম্বিয়া কী তৈয়বকে ভালোবেসেছিলো। নাকি আম্বিয়া না বুঝে আগুনে ঝাপ দিয়েছিলো। শরীরী ওম শেষ পর্যন্ত পুরুষকে ছোঁয় না নারীকে ছোঁয়। পুরুষ কী কালে কালে ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়ে যাবে। আম্বিয়া হবে পাপী অথবা যখন করবে পাপ। পুরুষ এতোসব ভাবে না। তাইতো প্রথম পাথরটি আম্বিয়ার গায়ে ছুঁড়েছিলো তৈয়ব। আমার কাছে আম্বিয়া শীতলা মা। সর্বস্ব দিয়ে তৈয়বকে ভালোবসেছিলো। সেই পুরোন কথা নতুন করে বলবার সময় এসেছে। 

‘পুণ্যাহ’ নাটকে নির্দেশক ইউসুফ হাসান অর্ক বলছেন অথবা বয়ান করছেন, “সাম্প্রতিক পৃথিবীর যে বিপর্যকাল, তা আমাদেরকে এমন কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন করেছিলো। সেই দায় তেখেই ‘পুণ্যাহ’ নিয়ে কাজ করার তাগিদ অনুভব করেছি আমরা। একটি বিধ্বস্ত জনপদ এখানে প্রেক্ষাপট মাত্র। তারই বিবৃতিমূলক কাহিনী বয়ানে নাটককার যেমন তার চরিত্র-চিত্রন, দ্বানিদ্বকতা ইত্যাদির নানা উদ্ভাস রচনা করেছেন, আমরাও তেমনি একটি সহজ প্রতিভঙ্গিতে নিরাভরণ ক্যানভাসে পাপ-পুণ্য, ন্যায়-অন্যায়, ঠিক-ভুল ইত্যাদি ধারণা সম্পর্কে আমাদের দরদিয়া অভিব্যক্তি নির্মাণ করবার প্রয়াস পেয়েছি।

ইউসুফ হাসান অর্ক আমার কাছে আরাধ্য দেব। তাকে নিয়ে অথবা তাঁর সৃষ্টি নিয়ে নতুন করে বলার থাকে না। আমার মতো দীনহীন লেখকের সাধ্য কী তার সৃষ্টি নিয়ে লিখবার! তবুও ভক্তের কিছু দায় থাকে কলম কালিতে লিখবার। আজকে প্রথম যখন দেখি তখনই আমার ভালোবাসা তৈরি হয়েছিলো। ৩০ বছর পর ওর নাটক নিয়ে যখন লিখতে বসেছি সেই ভালোবাসা একটুও কমেনি। বরং বেড়েছে। 

‘পুণ্যাহ’ নাটকটি ১ ঘন্টা ৪১ মিনিট। শুরু থেকে শেষ অবধি নাটকটি দেখেছি।  কাহিনী বলবার এক অসাধারণ রীতি ইউসুফ হাসান অর্ক আবিষ্কার করেছেন। আবিষ্কারই বলবো। এর আগে এরকম নাটক দেখিনি। বাংলা নাটক যখন মুক্তির কথা বলছে, তখন মনে হলো মুক্তির পথ দিয়ে নাটক হাঁটছে। ভালো লাগে তখন নাটক যখন তার চেনা গন্ডী ধরে হাঁটছে। 

চেনা আর অচেনাকে আমি দেখে নিয়েছি। নাটক সব সময়ই মানুষের কথা বলে। মানুষের ভালোবাসা, হিংসা, দ্বেষ সব সময়ই নাটকের বিষয় হয়েছে। অর্ক পারলেন। নাটকের পরতে পরতে কাহিনীর বৈচিত্র আমাকে দারুন ভাবে উদ্বেলিত করেছে। 

নাটক তো মানুষের শরীরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। শরীর যখন কথা বলে তখনই নাটক হয়। আমাদের বাংলা নাটকতো গীতল। কী তার ভাষায়, কী তার গানে, কী তার সংলাপ বর্ণনায়। যাই হোক, ইউসুফ হাসান অর্ক নতুন কালের থিয়েটার নিয়ে হাজির হয়েছেন। কী তার চিন্তায় কী তার ব্যাখ্যায়। কী তার দ্বাদ্বিকতায়। সত্য হোক থিয়েটার।    

যাদের নিয়ে আমরা কথা বলি। যারা অভিনয় করে মঞ্চ দাবড়ে বেড়ায়। তারাই মূল। তাদের বলাই তো মূল। বলতে যেয়ে আমরা চুপ থাকি। তাদের কথায় আসি। 

‘পুণ্যাহ’ নাটকটিতে যারা অভিনয় করেছেন তাদের কথা না বললেই নয়। 

যারা সুন্দর অভিনয় করে দিনকে রাত রাতকে দিন বানায়। নিজেকে সাজিয়ে নাটকের কাহিনী এগিয়ে চলে তারা হলেন অভিনেতা। ‘পুণ্যাহ’ নাটকে যারা অভিনয় করেছেন- তারা হলেন: ঝুনা চৌধুরী। ছোটবেলায় ইটের উপর বসে যার নাটক দেখেছি। তাঁর অভিনয়ের চলন ভালো। একবারও তিনি অতি অভিনয় করেননি। লেখায় সবাইকে নিয়ে লেখা পাতা আটকে যায়। যারা অভিনয় করলেন। ইকবাল বাবু। ইউসুফ হাসান অর্ক, শেখ মাহবুবুর রহমান, রামকৃষ্ণ মিত্র হিমেল, হাবিব মাসুদ, মনামী ইসলাম কনক, শহিদুল্লাহ সবুজ প্রমুখ। 

‘পুণ্যাহ’ নাটকটি লিখেছেন বদরুজ্জামান আলমগীর মঞ্চ, সংগীত ও নির্দেশনা- ইউসুফ হাসান অর্ক। সহ নির্দেশনা- হাবিব মাসুদ, আলো -অম্লান বিশ্বাস, পোশাক-খন্দকার সাজিয়া আফরিন, আলোক চিত্র- বারীণ ঘোষ - ব্রুশিয়ার, স্মরণিকা -পংকজ নিনাদ, প্রযোজনা উপদেষ্টা- তারিক আনাম খান, প্রযোজনা অধিকর্তা-ঝুনা চৌধুরী। 

নাটক সত্যের কথা বলে। জীবনের কথা বলে। শরীরের চলনে-বলনে। সংগীতে সংগীতে। পুণ্যাহ হোক সবার। তাইতো পুণ্যাহ। আম্বিয়া তুমি হেরে যাওনি। বরং পুরুষ শাসিত সমাজে তুমি একজন প্রতিকী নারী। তুমি হেরে গেছো বলে তারা মিথ্যাবাদী। চলুক সত্যের সন্ধান। বাজিকর ইউসুফ হাসান অর্কের জয় হোক। অর্ক জিতে গেলে আমরা জিতে যাই। পূণ্য হোক ‘পুণ্যাহ’। 


সব শেষে বলি, ইউসুফ হাসান অর্কের ‘পুণ্যাহ’র জয় হোক। প্রতি রাত্রিতে বাজিকর ইউসুফ হাসান অর্কের হাতের বাজি হোক ‘পুণ্যাহ’। অঙ্গুলিতে ফুটে উঠুক ‘পুণ্যাহ’।

 কলি

কথায় গানে বাতিঘরের ২০ বছর

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫২ এএম
কথায় গানে বাতিঘরের ২০ বছর
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। ছবি: খবরের কাগজ

গল্প, কবিতা, উপন্যাস, অনুবাদ- সাহিত্যের সব শাখার বরেণ্য লেখকরা জড়ো হলেন বিকেলে। এসেছিলেন এ প্রজন্মের সব নন্দিত কবি, গল্পকার, অনুবাদকরা। শুভেচ্ছা আশীর্বাদ জানাতে এসেছিলেন অগ্রজ প্রকাশকরা। লেখক, প্রকাশকের অভূতপূর্ব মিলনমেলা হয়ে উঠেছিল চেইন বুক শপ বাতিঘরের ২০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান।

ঢাকার বাংলামোটরে চেইন বুক শপ বাতিঘরের ‘মুক্ত আলাপ ও গান’ আয়োজনে মুখর ছিল শনিবার (১৩ জুলাই) বিকেলে। 

আয়োজনের মধ্যমণি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘বাংলাদেশ একটা ভয়ংকর জায়গা। এখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালে তাকে পালিশ করতে অনেক লোক দাঁড়িয়ে যায়। সেখানে লাইব্রেরি করা তো খুবই কঠিন।’

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা শহরে লাইব্রেরি থাকলেও সেগুলো কেন চলে না, তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘শহরে শহরে লাইব্রেরিগুলো চলছে না। কারণ পাঠক হেঁটে গিয়ে বই পড়তে চায় না। আমরা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে যখন বই পড়া কর্মসূচি শুরু করেছিলাম, তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম মানুষের হাতে বই ধরাব। ইতোমধ্যে দুই কোটি পাঠকের হাতে বই ধরিয়েছি। কিন্তু এর পেছনেও অনেক লোক লেগে গেছে। মানুষ এত ক্ষুদ্রমনা!’

সারা দেশে ২০০টি বইমেলার আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে একটি বড় বইমেলা হয়, সেটি ঢাকায়। কিন্তু সারা দেশকে বঞ্চিত রেখে শুধু রাজধানীকে বৈভবপূর্ণ করে জাতি সম্পূর্ণ হতে পারে না। এই বইমেলা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

প্রকাশকদের উদ্দেশে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘যারা বইয়ের দোকান করে, তাদের প্রকাশক হওয়ার দরকার নেই। আবার যারা প্রকাশক, তাদের বইয়ের দোকান করার দরকার নেই। চেইন বুক শপকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলেই তারা যেন প্রকাশনায় যুক্ত হয়।’

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বইয়ের দোকান পরিচালনা করা বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ। সেখানে ২০ বছর ধরে বুক শপ পরিচালনা ও প্রকাশনার মাধ্যমে বইপ্রেমীদের আকৃষ্ট করার জন্য বাতিঘরকে অভিনন্দন জানাতে হয়। তবে বাতিঘরকে শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য দিয়ে বিবেচনা করলে হবে না। বাতিঘর একটি সামাজিক উদ্যোগ, এটিকে সামাজিক ব্যবসা হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। এটি জ্ঞানপিপাসু মানুষের আকর্ষণের জায়গা হয়ে থাকুক।’ 

লেখক-গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বাতিঘর বই বিক্রেতা, নাকি প্রকাশনা এ নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। কখনো মনে হয়, বাতিঘরে প্রকাশনা কম গুরুত্ব পাচ্ছে। আসলে প্রকাশক হিসেবে টিকে থাকা খুব চ্যালেঞ্জের। সে চ্যালেঞ্জ বাতিঘর একা মোকাবিলা করবে, নাকি আরও সব প্রকাশনার সঙ্গে মিলে করবে, তাও দেখার বিষয়। কথা হলো, পাঠক যদি থাকে তাহলে লেখকও থাকবে, প্রকাশকও থাকবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, এই কংক্রিটের শহরে বাতিঘর হলো মরূদ্যান। ওয়াটারস্টোনের মতো একটি চেইন বুক শপ হবে এই ঢাকায়, সেখানে বই পড়ার অভ্যাস ফিরে আসবে, বইয়ের জন্য এত টাকা বিনিয়োগ হবে, এটিই তো ছিল অবিশ্বাস্য।

কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান, আলতাফ পারভেজ, কবি ও প্রাবন্ধিক এজাজ ইউসুফী, ইফতেখারুল ইসলাম, মোহিত কামাল, লেখক কিযী তাহনিন, কবি-সাংবাদিক সোহরাব হাসান, লেখক-অনুবাদক মোজাফফর হোসেন, লেখক অরুণ বিশ্বাস শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও সময় প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ, অনুপম প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মিলন কান্তি নাথ, ভাষাচিত্র প্রকাশক খন্দকার সোহেল এই মিলনমেলায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। 

‘নানা প্রভাববলয়ে আত্মসমর্পণ করছে সাহিত্য’, অভিমত সাহিত্যিক-প্রকাশকদের

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ১১:১৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৭ এএম
‘নানা প্রভাববলয়ে আত্মসমর্পণ করছে সাহিত্য’, অভিমত সাহিত্যিক-প্রকাশকদের
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে সাহিত্য নানাভাবে প্রভাববলয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী ও প্রকাশকরা। প্রভাবাচ্ছন্ন প্রক্রিয়া-সৃষ্ট সাহিত্যকে তারা উল্লেখ করছেন হলুদ সাহিত্য নামে। এমন সাহিত্যকে তারা সমাজ ধ্বংসের অন্যতম উপকরণ হিসেবেও চিহ্নিত করেন।

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে সময় প্রকাশন আয়োজিত হুমায়ূন কবিরের প্রবন্ধ ‘হলুদ সাহিত্যের ছলচাতুরী ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। সময় প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় আলোচক ছিলেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। অনুষ্ঠানে লেখক হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক আলম খোরশেদ, দীপু মাহমুদ, মোহিত কামালসহ আরও অনেকে।  

হুমায়ূন কবিরের  ‘হলুদ সাহিত্যের ছলচাতুরী ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ প্রবন্ধগ্রন্থে ৮০ পৃষ্ঠায় ৪টি বিষয়ে ৮টি নিবন্ধ সংকলিত হয়েছে। 

অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘হলুদ সাহিত্য বলতে আমি বুঝি, যেখানে উদ্দেশ্যমূলক প্রচার আছে। যার মধ্যে সত্য নেই কিন্তু সত্যের ভান আছে। সেখানে আলোচ্য বিষয় হলো সাহিত্য ও সত্যের মধ্যে সম্পর্ক কী? চিন্তার মধ্যে যে দুর্বলতা রয়েছে, সে প্রশ্নও রয়েছে হলুদ সাহিত্যে। আমরা বিশেষ করে বিশ্বসাহিত্য উচ্চারণ করছি। এই বিশ্বসাহিত্যের কত আনা সবুজ, কত আনা হলুদ, কত আনা কালো? এসব আলোচনা করলে অনেক সমস্যা বেরিয়ে আসবে।’

মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘বইটিতে ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে। প্রবন্ধগুলোর মধ্যে বর্তমানময়তা রয়েছে। প্রতিটি প্রবন্ধ যাপিতজীবন ও স্থান-কালের সঙ্গে নিজের অবস্থান বাস্তবতার কাঠামোতে বর্ণনা করেছেন প্রাবন্ধিক।

প্রাবন্ধিক হুমায়ূন কবির পেশায় চিকিৎসক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে বিপ্লবোত্তর ইরানে কাটিয়েছেন দুই বছর। ওই সময়ে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘পারস্য পরবাসে’ ইতোমধ্যেই বিপুলভাবে আলোচিত।

জয়ন্ত/এমএ/

প্রবর্তিত হচ্ছে ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৫:৫৩ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৫:৫৯ পিএম
প্রবর্তিত হচ্ছে ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’
ছবি: সংগৃহীত

বহুমাত্রিক লেখক প্রয়াত শান্তনু কায়সারের স্মৃতিতে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ঐতিহ্য’ এবং ‘শান্তনু কায়সার স্মৃতি পাঠাগার ও চর্চা কেন্দ্র, সাজনমেঘ’-এর যৌথ উদ্যোগে প্রবর্তিত হতে যাচ্ছে ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’। শান্তনু কায়সারের সাহিত্যচর্চার পাঁচটি ক্ষেত্র- কবিতা, কথাসাহিত্য (গল্প/ উপন্যাস), প্রবন্ধ-গবেষণা, নাটক এবং অনুবাদ বিষয়ে উদ্ভাবনাময়, মৌলিকতামণ্ডিত এবং প্রতিশ্রুতিবান বাংলা ভাষায় রচিত পাণ্ডুলিপির জন্য এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

গত ২৮ মে ২০২৪ তারিখ পুরানা পল্টনস্থ ঐতিহ্য কার্যালয়ে ঐতিহ্য’র প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান নাইম এবং শান্তনু কায়সারের পরিবারের পক্ষে তার কনিষ্ঠ পুত্র রাসেল রায়হানের মধ্যে এ সংক্রান্ত যৌথ আলোচনায় ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’ প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

ঐতিহ্য’র কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাকিবুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রতি বছর পাঁচটি বিষয়ে জমাকৃত পাণ্ডুলিপির মধ্যে পুরস্কারের জন্য গঠিত বিচারকদের বাছাই করা সেরা তিনটি পাণ্ডুলিপির (পাঁচটি ক্ষেত্রের যে কোনও ক্ষেত্রের তিনটি সেরা পাণ্ডুলিপি) লেখককে প্রতিটি ৫০ হাজার টাকা অর্থমূল্যের এ পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হবে। সেরা তিনটি পাণ্ডুলিপি পরবর্তী বছর অমর একুশে বইমেলায় ‘ঐতিহ্য’ থেকে বই আকারে প্রকাশিত হবে।

রাকিবুজ্জামান জানান, প্রতি বছর অধ্যাপক শান্তনু কায়সারের জন্মদিন ৩০ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ পুরস্কার ঘোষণা ও প্রদান করা হবে। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট নবীন বা প্রবীণ লেখক ‘শান্তনু কায়সার স্মারক বক্তৃতা’ প্রদান করবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর তারিখে সর্বোচ্চ ত্রিশ বছর অথবা এর নিম্নে যে কোনও বয়সী জন্মসূত্রে বাংলাদেশি কবি-লেখককরা এ পুরস্কারে জন্য আবেদন করতে পারবেন। ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪’-এর জন্য ১৫ জুলাই থেকে পাণ্ডুলিপি আহ্বান করেছেন আয়োজকরা। পাণ্ডুলিপি জমাদানের শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর। পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা বা শব্দসংখ্যার কোনো সীমারেখা নেই। [email protected] ই-মেইল ঠিকানায় ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪-এর জন্য পাণ্ডুলিপি জমা দেওয়া যাবে। পাণ্ডুলিপি ওয়ার্ড ফাইল বা ও পিডিএফ ফরমেটে মেইল করতে হবে অথবা ডাকযোগে হার্ডকপি পাঠাতে হবে ঐতিহ্য শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪, ঐতিহ্য, ৩/১-এইচ পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০)। 

ইতোমধ্যে বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে এমন রচনা পাণ্ডুলিপি আকারে জমা দেওয়া যাবে না। কোনো ধরণের চৌর্যবৃত্তি বা প্ল্যাজারিজম আশ্রয় নিলে পুরস্কার ঘোষিত হলেও অভিযোগ পাওয়া মাত্র বাতিল হবে। পুরস্কারের জন্য যেকোনো ধরনের সুপারিশ বা অনুরোধ পুরস্কারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

জয়ন্ত/এমএ/

কবি মাকিদ হায়দার মারা গেছেন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ১১:৩০ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৪ এএম
কবি মাকিদ হায়দার মারা গেছেন
কবি মাকিদ হায়দার

কবি মাকিদ হায়দার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

বুধবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে আটটায় উত্তরার নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন সত্তর দশকের অন্যতম এই কবি।

তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
 
মাকিদ হায়দারের ছেলে আসিফ হায়দার সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কবি দীর্ঘদিন নানা রোগে ভুগছিলেন। তাকে বিকেলে পাবনায় পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হবে।

মাকিদ হায়দার ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পাবনা জেলার দোহারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হাকিমউদ্দিন শেখ ও মা রহিমা খাতুন। তারা সাত ভাই ও সাত বোন। তিনি ছেলেদের মধ্যে ষষ্ঠ। তার ভাই রশীদ হায়দার, জিয়া হায়দার, দাউদ হায়দার, জাহিদ হায়দার, আবিদ হায়দার ও আরিফ হায়দার সবাই দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত।

তার উল্লেখযোগ্য লেখার মধ্যে রয়েছে, ‘রোদে ভিজে বাড়ি ফেরা’ ‘আপন আঁধারে একদিন’ ‘রবীন্দ্রনাথ: নদীগুলা’ ‘বাংলাদেশের প্রেমের কবিতা’ ‘যে আমাকে দুঃখ দিলো সে যেনো আজ সুখে থাকে’ ‘কফিনের লোকটা’ ‘ও প্রার্থ ও প্রতিম’ ‘প্রিয় রোকানালী’ ‘মমুর সাথে সারা দুপুর’।

মাকিদ হায়দার ২০১৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাছাড়া বিভিন্ন সাহিত্য পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।

অমিয়/

লিটলম্যাগ সম্মাননা পাচ্ছেন ৯ সম্পাদক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৪, ০৫:৫১ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:২৬ পিএম
লিটলম্যাগ সম্মাননা পাচ্ছেন ৯ সম্পাদক
ছবি: সংগৃহীত

সাহিত্যের ছোটকাগজ তথা লিটলম্যাগ সম্পাদনায় তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের জন্য ৯ জন লিটলম্যাগ সম্পাদক পেতে যাচ্ছেন শিল্পকলা একাডেমির ‘লিটল ম্যাগাজিন সম্মাননা-২০২৪’। আগামী বুধবার (১০ জুলাই) বিকাল ৪টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। 

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। আলোচক হিসেবে থাকবেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি আয়োজন করা হবে লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনী। 

জাতীয় চিত্রশালার ৫নং গ্যালারিতে ১০ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। ২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দেশে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত ছোটকাগজ নিয়ে প্রদর্শনী আয়োজন ও গুরুত্বপূর্ণ ছোটকাগজকে সম্মাননা প্রদান করছে। 

ষাটের দশক থেকে একুশের চেতনাকে ধারণ করে লিটল ম্যাগাজিন চর্চা প্রসার লাভ করে। আশির দশকে বাংলাদেশে লিটল ম্যাগাজিন চর্চা জনপ্রিয় হয়ে উঠে। বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল চর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সংগঠন বা গোষ্ঠীর মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় লিটল ম্যাগাজিন। শিল্প-সাহিত্য চর্চার বিকাশে লিটলম্যাগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাহিত্যিক ও শিল্পবোদ্ধারা। কবি, লেখক, বুদ্ধিজীবীরা কোন না কোনোভাবে একসময় লিটলম্যাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 

জয়ন্ত/এমএ/