ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

নান্দনিক শিল্পকর্মে রূপকার এসএম সুলতান-কাইয়ুম চৌধুরীকে স্মরণ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৫:১০ পিএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ০৫:১০ পিএম
নান্দনিক শিল্পকর্মে রূপকার এসএম সুলতান-কাইয়ুম চৌধুরীকে স্মরণ
ছবি : খবরের কাগজ

মাটি ও মানুষকে উপজীব্য করে নান্দনিক শিল্পকলায় বাংলাদেশের ছবি এঁকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে বেগবান করে তোলা দুই মনীষী এসএম সুলতান ও কাইয়ুম চৌধুরীকে স্মরণ করল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। 

শুক্রবার (২৪ মে) সকালে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ অনুষ্ঠানে বাংলার চিত্রকলা আন্দোলনের দুই পথিকৃৎকে স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চারুকলা বিভাগের শিক্ষক, শিল্প সমালোচকরা।

‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনে এসএম সুলতানের জীবন ও নন্দনতত্ত্বের প্রাসঙ্গিকতা’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এসএম সুলতান তার গণমুখী শিল্পকর্মের মাধ্যমে আপন সংস্কৃতিকে, নিজস্ব সত্ত্বাকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। তিনি বলতেন, শিল্পকলা ব্যক্তির রুচিবোধকে জাগিয়ে তুলে, প্রগতিশীল করে তুলে। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিল্পকলা বা নন্দনতত্ত্বভিত্তিক আলোচনা নগরকেন্দ্রিক না রেখে তা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। পঞ্চাশ-ষাট দশকের যে রাজনীতি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের পথে ধাবিত করেছিল তার সঙ্গে সংস্কৃতির সংযোগ ছিল। এখন সেই রাজনীতি সংস্কৃতিচর্চা থেকে বহু দূরে সরে গেছে। সে জায়গায় এসএম সুলতানের নন্দনতত্ত্ব আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠে।’ 

জাফর ওয়াজেদ বলেন, ‘এসএম সুলতানকে নিয়ে নানা শিল্পী, গুণীজন নানা সময়ে বিরূপ মূল্যায়ন করেছেন। সাদেক খান লিখেছেন, এসএম সুলতান সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি ইউরোপের রেনেসাঁয় উদ্বুব্ধ হয়েছিলেন বলেও লিখেছেন সাদেক খান। বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর এসএম সুলতানের শিল্পকর্ম টিকে থাকবে কি-না এ প্রশ্নও তুলেছিলেন। অথচ এসএস সুলতান তার বলশালী বাস্তবধর্মী ও বিমূর্ত ধারার ছবিতে আমাদের মনোজগতে বড় প্রভাব রেখেছিলেন। নব্বইয়ের দশকে আমরা যারা স্বৈরাচারবিরোধী সাংস্কৃতিক আন্দোলন করেছি, আমাদের সেই লড়াইয়ে এসএম সুলতানের ছবি বড় নাড়া দিয়েছিল।’ 

পরে ‘কাইয়ুম চেীধুরী নান্দনিক শিল্পের রূপকার’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক মামুন কায়সার। আলোচক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক মইনুল হোসেন জাবের, এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন নন্দনতত্ত্ববিদ বুলবন ওসমান ।

মামুন কায়সার বলেন, ‘কাইয়ুম চৌধুরী দেশজ উপাদান আর আধুনিকার সংমিশ্রণে নিজেকে উল্লেখ্য করে তোলার কাজে সফল হয়েছিলেন। নদী, নৌকা, নৌকার গলুই, মাছ, বৃক্ষ, পত্রপুষ্প, পাখি আর নারী অবলীলায় খেলেছে তার চিত্রপটে। রেখার বলিষ্ঠতা, রঙ লেপনে তিনি উদার হয়ে সৃষ্টি করেছেন একের পর এক চিত্রমালায়।’ 

তিনি বলেন, ‘কাইয়ুম চৌধুরী শুরুতে কিউইজমে প্রভাবিত হলেও পরে নিজস্ব ধারা প্রণয়নে সক্ষম হন। উচ্চকিত ও উজ্জ্বল রঙ নির্বাচনে তিনি অকপট। তার চিত্রকলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি সরাসরি বাস্তবধর্মী ছবি আঁকেননি আবার বিমূর্ত ধারাতেও কাঠামো নির্মাণ করেননি। স্বল্প ফর্মে রঙ আর স্পেসের খেলায় তিনি বাংলার গ্রামীণ জীবনকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে বুঝতে কষ্ট হয় না এই দেশের প্রতি তার নিবেদন কতটা! কালো কালি, জল রঙ, অ্যাক্রেলিক আর পেস্টেল-সবেতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য ছিলেন।’ 

মামুন কায়সার বলেন, ‘চিত্রকলার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিল্পকলাতেও কাইয়ুম চৌধুরী অনবদ্য। তিনি এ দেশের গ্রাফিক ডিজাইনের জনক, তাকে ছাড়া প্রকাশনা জগত কল্পনাই করা যেত না।’ 

শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, ‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ৬২ জন মনীষীদের জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করবেন দেশবরেণ্য চারুকলা শিল্পী, অধ্যাপক ও শিল্প সমালোচকরা। 

শুক্রবারের আয়োজনে উপমহাদেশের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ওস্তাদ আয়েত আলী খানের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক রীনাত ফওজিয়া। তার প্রবন্ধের শিরোনাম ‘ওস্তাদ আয়েত আলী খান : জীবন ও কর্ম’। এ পর্বে আলোচক হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট সুরকার ও সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান । পরে ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ’র ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন লেখক-গবেষক ও নাট্যনির্মাতা ইরানী বিশ্বাস। প্রবন্ধের শিরোনাম ‘মুকুটবিহীন সুরসম্রাট ওস্তাদ আলী আকবর খান’। এতে আলোচক হিসেবে ছিলেন সংগীত পরিচালক এজাজ ফারাহ্।

জয়ন্ত সাহা/সালমান/

মঞ্চে মঞ্চে ফুল হয়ে ফুটুক-‘পুণ্যাহ’

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০২:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৩:২৭ পিএম
মঞ্চে মঞ্চে ফুল হয়ে ফুটুক-‘পুণ্যাহ’

নাট্যকেন্দ্রের নাটক ‘পুণ্যাহ’। নাটকটির ৩০তম মঞ্চায়ন হয়ে গেলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র এক্সপেরিমেন্টাল হল ৭ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা ৭.১৫ মিনিটে। অর্কের হাত, মাথা ছুয়েছিলো বলে নাটকটির শুরু থেকে শেষ দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো। ইউসুফ হাসান অর্ক আমার অনুজ। অনুজ হলেও শিল্প সাধনায় আমার অগ্রজ। ইউসুফ হাসান অর্কর কথা বলতে গেলে কত কথাই মনের ভিতরে গুমরিয়া ফেরে! 

‘পুণ্যাহ’ নাটকটি লিখেছেন বদরুজ্জামান আলমগীর। সে অনেক আগেই জেনেছিলাম বদরুজ্জামান আলমগীরকে। সৃষ্টির আনন্দে আনন্দে সে কেবলি নাচে। বদরুজ্জামান আলমগীর ও ড. অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক একই সুতার মালা। কেউ কখনো কাউকেই ছাড়িয়ে যাননি। ছাড়িয়ে যাননি বলে ‘পুণ্যাহ’ একটি ঢাকার মঞ্চে আলোচিত নাম। সংলাপ, কথকতায়, বর্ণনায় ও সংগীতে সংগীতে নাটকটি পূর্ণতা পায়। অর্কের কাজে একটি Magic আছে। ‘পুণ্যাহ’ নাটকে সেই Magic দেখলাম। ইউসুফ হাসান অর্কের হাতের ছোঁয়ায় পান্ডুলিপি পূর্ণতা পায় সুষম চলনে বলনে।

বাংলা নাটকের বিশেষ ধর্ম সংগীত ধর্মিতা। অর্ক শুধু একজন নির্দেশক নন। তিনি নিজেই গীতিকার, সুরকার ও অভিনেতা। নাটকের কাহিনী এগিয়ে চলে অভিনয়ে অভিনয়ে সুরে সুরে কখনো দেহ ভাষা পায়। আমাদের বুঝতে কষ্ট হয় না নাটকের মর্মবাণী। 

পুণ্যাহ নাটকটির মধ্যে মাদকতা আছে। আছে অভিনয়। আছে গান। আছে পাপ-পূণ্যের হিসাব। সুখ-দুঃখকে কী শেষ পর্যন্ত জয় করতে পেরেছিলো আম্বিয়া। প্রথম থেকেই আমার আম্বিয়ার জন্য কষ্ট হয়। নাটকটি দেখেছি কেঁদেছি। কখনো হাসিতে হাসিতে ফেটে পড়েছি।

‘পুণ্যাহ’ নাটকটি অনেক আগের লেখা। এর জন্য নির্দেশককে অনেক কষ্ট করে সমকালীন অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মঞ্চে সৃজন করলো আরেক পুন্যাহ। বহু গ্রামের মধ্যে একটি গ্রাম কাকরগাছি। এই গ্রামকে ঘিরে নাটকের অগ্রযাত্রা। এই গ্রামের সবকিছু চলছিলো ঠিকঠাক।

কিন্তু তৈয়ব-আম্বিয়ার প্রেম। মৌলবী খায়রুল বাশারের ৩২ বছরের ইমামতি জীবন। বটকৃষ্ণ কবিরাজ ভালোইতো চলছিলো কাকরগাছি গ্রাম। সাধারণ মানুষের মধ্যে সুখও ছিলো দুঃখও ছিলো। দুঃখকে জয় করবার বাসনাও ছিলো! এমনকী ঘটে গেলো সে কাকরগাছি গ্রামে। নির্দেশক বারবার খুঁজবার চেষ্টা করেছেন। পাপ কী পূণ্য কী! সুখ কী দুঃখ কী! যদিও আমি বহুদিন পাপ কী পূণ্য কী খুঁজবার চেষ্টা করলাম। পাওয়াটা কী পূণ্যি! ভালোবাসার মধ্যে কী পূণ্যি নাই। একটি অকাল ঝড় এসে কাকরগাছি গ্রাম লন্ড-ভন্ড করে দিলো। মানুষের চাওয়া পাওয়ার হিসেব গোজামিল হয়ে গেলো। ঝাকরগাদি গ্রাম মৃত্যুপুরীতে পরিণত হলো। খালি লাশ আর লাশ। যারা বেঁচে ছিলো তারাতো বাঁচলোই। এখন কাকরগাছিতে শুধু শোক আর শোক। মৌলভী খায়রুল বাসার এই ঝড়ের ক্ষতির জন্য পাপ খুঁজতে থাকেন। বটকৃষ্ণ কবিরাজ কম যান না। ভালোবাসা গুনা। কবিরাজ মশাইও তাই বললো। এই জটলার মধ্যে বহু চরিত্রের আগমন ঘটে। নানা দেহ ভঙ্গিমায়।

গান ছাড়া বাংলা নাটক হয় না। তা জানা যায় গীতি কবিদের রচনা থেকে। আসলেই প্রযোজনাটি দেখে মনে হলো গীতিবাদ্য বাদ দিয়ে বাংলা নাটক হয় না। তাইতো ড. অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক অভিনয়ে অভিনয়ে গান বাঁধছেন। সেই গানই ‘পুণ্যাহ’ নাটকটি সুন্দর হয়ে উঠলো। 

আমি আম্বিয়ার জন্য কাঁদি। এখনো কাঁদি। ভালোবেসে সে তৈয়বকে বেঁধেছিলো। জানতে পারি এক সময় আমিয়ার পেটে বাচ্চা। পেটে হাত দিয়ে আম্বিয়া হাসে। তৈয়ব, চলো আমরা ঢাকা চলে যাই। তৈয়ব অস্বীকার করে। তাহলে কী আম্বিয়ার পাপি! পাপ পূণ্যের যাতাকলে চলে জীবন। পাপ-পূণ্যের হিসেব মেলে না। পাপ আর পাপী অনুসন্ধান চলে নিয়ত।

মৌলভী খায়রুল বাশার এ দুর্যোগ মনে নিতে পারে না। গজব পড়েছে গজব। আম্বিয়া কী তৈয়বকে ভালোবেসে ভুল করেছে! হ্যাঁ, ভুল। সে ভুলের মাসুল তাকে গুনতে হচ্ছে। আম্বিয়ার পেটে তৈয়বের বাচ্চা। খায়রুল বাশার পাপ খোঁজে পাপীর মধ্যে! তাহলে কে পাপী? পুরুষরা বরাবরই পাপ খোঁজে নারীর মধ্যে! কিন্তু তৈয়বের পাপ সমাজ দেখে না। সমাজের চোখ আছে। এ সমাজ আন্ধা কানা। তৈয়বের বাচ্চা আম্বিয়ার পেটেই তৈয়ব অন্যসব পুরুষের মতো শেষ পর্যন্ত নারীর দিকে অঙ্গুলি ইশারা করে। বিচার কার বিচার! শেষ পর্যন্ত পাপীকে খুঁজে বের করে মৌলভী খায়রুল বাশার। বটকৃষ্ণ মহারাজ কমে ছাড়ে না। 

চমৎকার একটি দৃশ্য সৃজন করেন ইউসুফ হাসান অর্ক। আম্বিয়াকে যখন তৈয়ব অস্বীকার করে। আমি চোখের জলে ভাসি। ঔষধ খেয়ে আম্বিয়ার বাচ্চা রক্ত ও লালার স্রোতে বেরিয়ে আসে। আম্বিয়ার দেখে তৈয়বের মতো দেখতে রক্ত ও লালার স্রোতে সে দেখে তৈয়বকে। আম্বিয়া শেষ আশ্রয় চেয়েছিলো তৈয়বের কাছে। তৈয়ব কী আশ্রয় দিয়েছিলো আম্বিয়াকে! না পুরুষরা এমনই। আমরা সব ধোয়া তুলসি পাতা। আম্বিয়া হয় পাপী। এই পাপীর জন্য এই তো কাকরগাছি গ্রামে ঝড় হয়েছিলো। গ্রাম যেনো মৃত্যুপুরী। আম্বিয়ার পাপে কাকরগাছিতে রক্ত বন্যা বয়ে গেলো। মৌলভী খায়রুল বাশার পাপী খুঁজে পায়। তৈয়ব নয় আম্বিয়াই পাপী। আম্বিয়াকে পাথর ছুড়ে মারা হয়। মৃত্যুকে নিয়ে আম্বিয়া বেঁচে থাকে। এতো বাঁচা নয়। আম্বিয়া হাহাকারে হাহাকারে তৈয়বই রক্ত লালার স্রোতে মাটি রক্তাক্ত হয়। 

ড. অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্কের হাতে যে গীতল নাটকটি উপহার পেলাম তা বাংলা নাটকের মূল থেকে শাখা প্রশাখা বিস্তার করে। নাটকে আমরা তো শেকড় সন্ধানী। তাঁর হাতে সেই শেকড়ের যে আলোড়নে আমরা দুলে উঠি। কখনো নাচি। কখনো কাঁদি। কখনো হাসি। 

গান যে বাংলা নাটকের প্রাণ। সেই গানকেই দেহভাষে ফুটিয়ে তুলেছেন অর্ক। ‘পুণ্যাহ’ নাটকটি বাংলা নাটকে স্থান করে নেবে। এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। 

অভিনেতা অভিনেত্রীরা তাদের কথনে, গানে, দেহভাষ্যে দারুন ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন নাটকটি। ইউসুফ হাসান অর্কের হাতে গানও অভিনয় হয়ে ওঠে। বোঝা যায় অর্কের গীতল ভাষাটি। প্রতিটি অভিনেতা অভিনেত্রী কী সংলাপে কী অভিনয়ে কী বচনে কী কথায় দারুন অভিনয় করেছেন। ইউসুফ হাসান অর্ক তো বাজিকর। তাইতো পুতুলি নাচে। গান গায়। কথায় কথায় গানে গানে একটি অপূর্ব সৃজন নাট্য। 

কাকরগাছি গ্রাম। একটি ঝড়। সব লন্ড ভন্ড হয়ে যায়। যারা বেঁচে ছিলো তারা মুখোমুখি হয়। পাপ অথবা পূণ্যের। তারা খুঁজে পায় কী পাপ কিংবা পাপী?

বলেছি আগেও, নাটকটি রচনা করেছেন বদরুজ্জামান আলমগীর। নাটক সম্বন্ধে বলতে যেয়ে নাট্যকার বলছেন, ‘মনে হয়, ওখানে আমি নেই, ঘটনাগুলো ঘটছে নিজের গরজে, আমি তার অংশ নই-অনুষঙ্গগুলো নিজস্ব পরিপ্রেক্ষিতের অধীন। কিন্তু কার্যত আমরা আছি ওখানে- কেন্দ্রে আছি।” 

সহজ কথা সহজ হিসেব। তারপরও সহজ নয়। আম্বিয়া কী তৈয়বকে ভালোবেসেছিলো। নাকি আম্বিয়া না বুঝে আগুনে ঝাপ দিয়েছিলো। শরীরী ওম শেষ পর্যন্ত পুরুষকে ছোঁয় না নারীকে ছোঁয়। পুরুষ কী কালে কালে ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়ে যাবে। আম্বিয়া হবে পাপী অথবা যখন করবে পাপ। পুরুষ এতোসব ভাবে না। তাইতো প্রথম পাথরটি আম্বিয়ার গায়ে ছুঁড়েছিলো তৈয়ব। আমার কাছে আম্বিয়া শীতলা মা। সর্বস্ব দিয়ে তৈয়বকে ভালোবসেছিলো। সেই পুরোন কথা নতুন করে বলবার সময় এসেছে। 

‘পুণ্যাহ’ নাটকে নির্দেশক ইউসুফ হাসান অর্ক বলছেন অথবা বয়ান করছেন, “সাম্প্রতিক পৃথিবীর যে বিপর্যকাল, তা আমাদেরকে এমন কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন করেছিলো। সেই দায় তেখেই ‘পুণ্যাহ’ নিয়ে কাজ করার তাগিদ অনুভব করেছি আমরা। একটি বিধ্বস্ত জনপদ এখানে প্রেক্ষাপট মাত্র। তারই বিবৃতিমূলক কাহিনী বয়ানে নাটককার যেমন তার চরিত্র-চিত্রন, দ্বানিদ্বকতা ইত্যাদির নানা উদ্ভাস রচনা করেছেন, আমরাও তেমনি একটি সহজ প্রতিভঙ্গিতে নিরাভরণ ক্যানভাসে পাপ-পুণ্য, ন্যায়-অন্যায়, ঠিক-ভুল ইত্যাদি ধারণা সম্পর্কে আমাদের দরদিয়া অভিব্যক্তি নির্মাণ করবার প্রয়াস পেয়েছি।

ইউসুফ হাসান অর্ক আমার কাছে আরাধ্য দেব। তাকে নিয়ে অথবা তাঁর সৃষ্টি নিয়ে নতুন করে বলার থাকে না। আমার মতো দীনহীন লেখকের সাধ্য কী তার সৃষ্টি নিয়ে লিখবার! তবুও ভক্তের কিছু দায় থাকে কলম কালিতে লিখবার। আজকে প্রথম যখন দেখি তখনই আমার ভালোবাসা তৈরি হয়েছিলো। ৩০ বছর পর ওর নাটক নিয়ে যখন লিখতে বসেছি সেই ভালোবাসা একটুও কমেনি। বরং বেড়েছে। 

‘পুণ্যাহ’ নাটকটি ১ ঘন্টা ৪১ মিনিট। শুরু থেকে শেষ অবধি নাটকটি দেখেছি।  কাহিনী বলবার এক অসাধারণ রীতি ইউসুফ হাসান অর্ক আবিষ্কার করেছেন। আবিষ্কারই বলবো। এর আগে এরকম নাটক দেখিনি। বাংলা নাটক যখন মুক্তির কথা বলছে, তখন মনে হলো মুক্তির পথ দিয়ে নাটক হাঁটছে। ভালো লাগে তখন নাটক যখন তার চেনা গন্ডী ধরে হাঁটছে। 

চেনা আর অচেনাকে আমি দেখে নিয়েছি। নাটক সব সময়ই মানুষের কথা বলে। মানুষের ভালোবাসা, হিংসা, দ্বেষ সব সময়ই নাটকের বিষয় হয়েছে। অর্ক পারলেন। নাটকের পরতে পরতে কাহিনীর বৈচিত্র আমাকে দারুন ভাবে উদ্বেলিত করেছে। 

নাটক তো মানুষের শরীরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। শরীর যখন কথা বলে তখনই নাটক হয়। আমাদের বাংলা নাটকতো গীতল। কী তার ভাষায়, কী তার গানে, কী তার সংলাপ বর্ণনায়। যাই হোক, ইউসুফ হাসান অর্ক নতুন কালের থিয়েটার নিয়ে হাজির হয়েছেন। কী তার চিন্তায় কী তার ব্যাখ্যায়। কী তার দ্বাদ্বিকতায়। সত্য হোক থিয়েটার।    

যাদের নিয়ে আমরা কথা বলি। যারা অভিনয় করে মঞ্চ দাবড়ে বেড়ায়। তারাই মূল। তাদের বলাই তো মূল। বলতে যেয়ে আমরা চুপ থাকি। তাদের কথায় আসি। 

‘পুণ্যাহ’ নাটকটিতে যারা অভিনয় করেছেন তাদের কথা না বললেই নয়। 

যারা সুন্দর অভিনয় করে দিনকে রাত রাতকে দিন বানায়। নিজেকে সাজিয়ে নাটকের কাহিনী এগিয়ে চলে তারা হলেন অভিনেতা। ‘পুণ্যাহ’ নাটকে যারা অভিনয় করেছেন- তারা হলেন: ঝুনা চৌধুরী। ছোটবেলায় ইটের উপর বসে যার নাটক দেখেছি। তাঁর অভিনয়ের চলন ভালো। একবারও তিনি অতি অভিনয় করেননি। লেখায় সবাইকে নিয়ে লেখা পাতা আটকে যায়। যারা অভিনয় করলেন। ইকবাল বাবু। ইউসুফ হাসান অর্ক, শেখ মাহবুবুর রহমান, রামকৃষ্ণ মিত্র হিমেল, হাবিব মাসুদ, মনামী ইসলাম কনক, শহিদুল্লাহ সবুজ প্রমুখ। 

‘পুণ্যাহ’ নাটকটি লিখেছেন বদরুজ্জামান আলমগীর মঞ্চ, সংগীত ও নির্দেশনা- ইউসুফ হাসান অর্ক। সহ নির্দেশনা- হাবিব মাসুদ, আলো -অম্লান বিশ্বাস, পোশাক-খন্দকার সাজিয়া আফরিন, আলোক চিত্র- বারীণ ঘোষ - ব্রুশিয়ার, স্মরণিকা -পংকজ নিনাদ, প্রযোজনা উপদেষ্টা- তারিক আনাম খান, প্রযোজনা অধিকর্তা-ঝুনা চৌধুরী। 

নাটক সত্যের কথা বলে। জীবনের কথা বলে। শরীরের চলনে-বলনে। সংগীতে সংগীতে। পুণ্যাহ হোক সবার। তাইতো পুণ্যাহ। আম্বিয়া তুমি হেরে যাওনি। বরং পুরুষ শাসিত সমাজে তুমি একজন প্রতিকী নারী। তুমি হেরে গেছো বলে তারা মিথ্যাবাদী। চলুক সত্যের সন্ধান। বাজিকর ইউসুফ হাসান অর্কের জয় হোক। অর্ক জিতে গেলে আমরা জিতে যাই। পূণ্য হোক ‘পুণ্যাহ’। 


সব শেষে বলি, ইউসুফ হাসান অর্কের ‘পুণ্যাহ’র জয় হোক। প্রতি রাত্রিতে বাজিকর ইউসুফ হাসান অর্কের হাতের বাজি হোক ‘পুণ্যাহ’। অঙ্গুলিতে ফুটে উঠুক ‘পুণ্যাহ’।

 কলি

সাহিত্যপিডিয়ার বর্ষপূর্তিতে সাড়ে ১৬ হাজার বই বিনিময়

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:১২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৪, ০৩:৪৫ পিএম
সাহিত্যপিডিয়ার বর্ষপূর্তিতে সাড়ে ১৬ হাজার বই বিনিময়
বই বিনিময় উৎসবে শুভেচ্ছা বিনিময়

রাজধানীর রমনা এলাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাহিত্যপিডিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত বই বিনিময় উৎসবে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার বই বিনিময় হয়েছে।

শুক্রবার (৭ জুন) অনুষ্ঠিত এই বই বিনিময় উৎসবে দেশের বিভিন্ন জায়গার মানুষ এ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। 

এই উৎসবে সাহিত্যপিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইব্রাহীম নিরব বলেন, ‘উৎসবে আমাদের ৩০ হাজারেরও অধিক বই বিনিময়ের লক্ষ্য ছিল। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করতে হয়। তবুও প্রায় সাড়ে ১৬ হাজারের মতো বই বিনিময় হয়েছে। উৎসবে আমাদের নতুন সংযোজন ছিল লোকগান ও কাওয়ালি সংগীত, সাহিত্যের সঙ্গে সংস্কৃতির মিশেল ঘটানো।’

সাহিত্যপিডিয়ার প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ উৎসবে প্রধান অতিথি কবি প্রাকৃতজ শামীমরুমি টিটন বলেন, ‘তরুণদের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতি নিয়ে যে নতুন বোধোদয় তৈরি হচ্ছে তা ধরে রাখতে পারলে দ্রুতই বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।’ 

এ অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা ছিলেন অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান মিন্টু। 

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন লেখক ও অধ্যাপক আসিফ নজরুল, বাউল প্রচার সমিতির সভাপতি আলম দেওয়ান, কবি ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক শাহজাহান সাজু, সাংবাদিক গবেষক ও কবি ইমরান মাহফুজ এবং লেখক ও সংগঠক নাজনীন মোসাব্বের।

নাজনীন মোসাব্বের বলেন, ‘যারা এ আয়োজন করেছে তারা একেকজন যোদ্ধা। তাদের এ আয়োজন আমার কৈশোরের স্মৃতি নাড়া দিয়েছে। এটা চলতে থাকলে আরও অগণিত পাঠক তৈরি হবে।’

উৎসবে আসা পাঠক সুরাইয়া সানজিদা বলেন, বইমেলার বাইরে এটা একটা দারুণ আয়োজন। যে বইগুলো আমি পড়ে ফেলেছি, সেগুলোর বিনিময়ে অন্য বই নিতে পারছি। এটা ভালো একটি উদ্যোগ। দেশের সাহিত্য, বই, শিল্প, সংস্কৃতি ইতিহাস, ধর্ম ও রাজনীতি বাঁচাতে সর্বস্তরের মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া খুবই প্রয়োজন। 

সাহিত্যপিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা বিপ্রতীপ শাহ তন্ময় বলেন, ‘মাত্র ১৫ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজকের এ আয়োজন। এত দ্রুত এ আয়োজন করতে গিয়ে আমাদের অনেক বিপত্তি এসেছে, সেগুলো উতরে আমরা সফল একটি আয়োজন সাহিত্যপ্রেমীদের উপহার দিতে পেরেছি। এ আয়োজনে ৫০ জন তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছে। এরা সবাই সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ভালোবেসে কাজ করছে। সামাজিক মুক্তির অংশ হিসেবে এমন উদ্যোগে সবার সার্বিক সহযোগিতা এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।’ 

সৃষ্টিশীল, বিচক্ষণ পাঠক তৈরির লক্ষ্যে সব শ্রেণির জন্য ২০২৩ সালের ২ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় সাহিত্যপিডিয়া। 

সাহিত্যপিডিয়া এমন একটি সাহিত্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, যা গড়ে তোলা হয়েছে সাহিত্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব কার্যক্রম ও সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্মতত্ত্ব, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প, সংগীত, দর্শন, ইতিহাস ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করার উন্মুক্ত ও উদার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। 

বই বিনিময় উৎসবে মূলত পঠিত বই দিয়ে অপঠিত বই বিনিময় করা হয়। এ উৎসবের মূল লক্ষ্য হলো পাঠক ধরে রাখা এবং পাঠককে নতুন বই সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। 

এখানে প্রায় ২০টি ক্যাটাগরি রাখা হয়েছিল উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাইকোলজি, শিশুতোষসহ আরও অন্যান্য জনরা।

এ ছাড়া এ উৎসবের অনন্য সংযোজন ছিল বই প্রদর্শন ও বিক্রয়ের একটি বিশেষ পয়েন্ট, যেখান দর্শনার্থীরা চাইলেই পছন্দের বই কিনে নিয়েছেন। 

সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠানে সুলতান দেওয়ান ও তার দল পরিবেশন করেন লোকসংগীত এবং সিলসিলা ব্যান্ড পরিবেশন করে কাওয়ালি সংগীত।

পপি/অমিয়/

কলকাতায় ‘মুজিব একটি জাতির রূপকার’

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:১২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:১২ পিএম
কলকাতায় ‘মুজিব একটি জাতির রূপকার’
কলকাতার নন্দন সিনেমা হলে শুক্রবারে ‘মুজিব একটি জাতির রূপকার’ ছবির বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ উপ-কমিশন। এতে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক পবিত্র সরকার ও সংগীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্যসহ বিশিষ্টজনেরা। ছবি: খবরের কাগজ

ভারত এবং বাংলাদেশ দুটি অভিন্ন হৃদয়ের প্রতিবেশী দেশ। এই দুই দেশেরই যৌথ প্রযোজনায় তৈরি ‘মুজিব একটি জাতির রূপকার’। 

শুক্রবার (৭ জুন) কলকাতার নন্দন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন বাংলাদেশের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘শুধু যৌথ প্রযোজনা বললে ঠিক হবে না। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে ভারত ও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের উদ্যোগ এই ছবিটি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একসঙ্গে ছবিটি ঘোষণা করেছিলেন। তিন ঘণ্টার এই ছবি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ভারতের বিশিষ্ট পরিচালক শ্যাম বেনেগালকে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর এটিই প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমানের প্রথম ভারত সফর। গতকাল সকালে দুই দিনের সফরে কলকাতায় পৌঁছেছেন তিনি। খবরের কাগজকে তিনি জানান, ঢাকায় বাজেট অধিবেশনের জন্য রবিবারই ঢাকায় ফিরবেন তিনি।

নন্দনে ‘মুজিব একটি জাতির রূপকার’ ছবির বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস। এই স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলায় অত্যন্ত পরিচিত সাবেক শিক্ষাবিদ, উপাচার্য ও প্রাবন্ধিক পবিত্র সরকার এবং সংগীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্যসহ বিশিষ্টজনেরা। আরও উপস্থিত ছিলেন কলকাতায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াসসহ বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

এর আগে গতকাল সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছেন মহিববুর রহমান। তাকে স্বাগত জানান কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস ও ইন্দো বাংলা প্রেস ক্লাবের কর্মকর্তারা।

গান-কবিতায় কবি আবদুল গফ্ফার দত্তচৌধুরীকে স্মরণ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ০৯:২২ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:০২ পিএম
গান-কবিতায় কবি আবদুল গফ্ফার দত্তচৌধুরীকে স্মরণ
ছবি : খবরের কাগজ

সিলেটে কবি আবদুল গফ্ফার দত্তচৌধুরীর ১১২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে তার নির্বাচিত কবিতাগ্রন্থের প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার (৭ জুন) বিকেল ৪টায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের শুরুতে আবদুল গফ্ফার দত্তচৌধুরী রচিত গানের প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়। 

আবদুল গফ্ফার দত্তচৌধুরী স্মৃতি পর্ষদ সিলেটের আয়োজনে বিকেল ৫টায় কবির নির্বাচিত কবিতাগ্রন্থের প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা তবারক হোসেইন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন (মানবিক অনুষদ) ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জফির সেতু, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার, লেখক ও গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী, লিডিং ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মোস্তাক আহমাদ দীন।

এতে সভাপতিত্ব করেন কবি ও প্রাবন্ধিক এ কে শেরাম।

জান্নাতুল নাজনিন আশার সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আবদুল গফ্ফার দত্তচৌধুরী স্মৃতি পর্ষদ, সিলেটের সভাপতি আলী মোস্তাফা চৌধুরী।

সভায় প্রধান অতিথি বলেন, কবি আবদুল গফ্ফার দত্তচৌধুরী একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ ছিলেন। ১৮ বছর বয়সে তিনি প্রথম সনেট লেখেন। আমি কবিকে সচক্ষে দেখেছি। তিনি চলে যাওয়ার পর যে সময় আমি শুনতে পেলাম তার সমস্ত কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের জন্য তার একজন অনুরাগী বাংলা একাডেমির একজন কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এসব পাণ্ডুলিপি প্রকাশ হয়নি। তখন আলী মোস্তফা চৌধুরীকে বললাম পাণ্ডুলিপি উদ্ধারের জন্য। এরপর ১৯৯৬ সালে পাণ্ডুলিপি উদ্ধারের পর কবির স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠানে জনসম্মুখে আবদুল গফ্ফার চৌধুরী প্রথম আত্মপ্রকাশ হয়। ওই আয়োজনের সঙ্গে থাকতে পারায় আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।

তিনি বলেন, তার সুপুত্রের কারণে তিনি এখনো আমাদের বর্তমান প্রজন্মের কাছে পরিচিত। শিশুদের মধ্যে গানগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ ভালো। এর মাধ্যমে কবির গানগুলো সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছাবে। তার গান, সনেট, নির্বাচিত কবিতার বইগুলো জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয়। নজরুল, জসীম উদদীন, সুফিয়া কামালের পরই কবি আবদুল গফ্ফার দত্তচৌধুরী নাম উচ্চারণ করা উচিত ছিল। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা সেটা করতে পারিনি। 

আলোচনা শেষে শিশুশিল্পী ও আমন্ত্রিত শিল্পীরা বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিলেন হিমাংশু বিশ্বাস, সুকোমল সেন, বিজন কান্তি রায়, মিতালী বঙ্গবর্তী, সুস্মিতা চন্দ ঐশী।

পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ ও পুরস্কার প্রদান করেন অতিথিরা।
 
শাকিলা ববি/অমিয়/

অহ নওরোজের কবিতার বই ‘কম্বুরেখপদাবলি’

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৪, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৪, ১২:৪৬ পিএম
অহ নওরোজের কবিতার বই ‘কম্বুরেখপদাবলি’

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে অহ নওরোজের কবিতার বই ‘কম্বুরেখপদাবলি’। বইটি প্রকাশ করেছে অনুপ্রাণন প্রকাশন। প্রচ্ছদ করেছেন রাজীব দত্ত। মুদ্রিত মূল্য ২৪০ টাকা। ২৫ শতাংশ ছাড়ে বইটি সংগ্রহ করা যাবে অনুপ্রাণন প্রকাশনের অনলাইন, কাঁটাবন ও বাংলাবাজারের বিক্রয়কেন্দ্র থেকে।

বইমেলা ছাড়াই বই প্রকাশ করার বিষয়ে অহ নওরোজ বলেন, ‘বই প্রকাশ বইমেলাকেন্দ্রিক হতে হবে এমন কোনো কারণ নেই, সারা বছরই বই প্রকাশ হতে পারে এবং সেটা বইমেলায় বই প্রকাশের চাপ কমায়। একই সঙ্গে প্রোডাকশানও তুলনামূলক ভালো হয়।’ 

বইটি প্রকাশ করার পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘অনুপ্রাণন প্রকাশন পাণ্ডুলিপি আহ্বান করে জেনে আমার পাণ্ডুলিপিটি জমা দিই এবং সম্পাদনা পরিষদ পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশের জন্য নির্বাচন করে।’

৫৬ পৃষ্ঠার বইটিতে সর্বমোট ৪৩টি কবিতা রয়েছে।

সালমান/