রাজধানীর হাতিরঝিল লেক থেকে ১৩ বছরের এক স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দি গলিত লাশ উদ্ধার করেছে দক্ষিণখান থানা-পুলিশ। উদ্ধার হওয়া কিশোরীকে পাঁচজন মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে লাশ গুমের জন্য হাতিরঝিলে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রবিন হোসেন (৩২) ও মো. রাব্বী মৃধা (২৬)।
গ্রেপ্তার রবিন পেশায় একজন গাড়িচালক। অন্যদিকে রাব্বির নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। বাকি তিনজন রাব্বির পরিচিত। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রবিন ও রাব্বি জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর সঙ্গে রবিনের অনলাইনে পরিচয় হয়। পরে সেই সূত্র ধরে মহাখালীর একটি ফ্ল্যাটে ডেকে আনা হয় কিশোরীকে। এরপর রবিনসহ পাঁচজন মিলে ওই কিশোরীর হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করেন। ধর্ষণের সময় কিশোরীর মুখে কাপড় গোঁজা ছিল। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের তথ্যের ভিত্তিতে গত রবিবার পুলিশ প্লাজার সামনে হাতিরঝিল লেক থেকে ওই কিশোরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক জাহান।
ডিসি রওনক জাহান বলেন, নিহত কিশোরী দক্ষিণখানের একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। মা-বাবার কাছে কেনাকাটার কথা বলে গত ১৬ জানুয়ারি বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। গত ১৯ জানুয়ারি দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ জানুয়ারি একটি মামলা করেন নিহতের বাবা। মামলার তদন্তে নেমে কিশোরীর মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে ৩০ জানুয়ারি রবিন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার রবিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাব্বি নামের আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। দুজনকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে দুই দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর রবিন ও রাব্বিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বরাতে ডিসি রওনক জানান, ওই কিশোরীকে পাঁচজন মিলে ধর্ষণের পর হত্যার বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন দুই যুবক। মেয়েটিকে হত্যার দায় স্বীকার করে গত রবিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন রবিন ও রাব্বি। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি রওনক জাহান বলেন, ধর্ষণের পর কিশোরী অচেতন হয়ে যায় এবং মারা যায়। তারা লাশ গুম করতে একটি পরিকল্পনা করে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বরিন ও রাব্বি জানান, কেউ যাতে বুঝতে না পারেন তাই তারা কৌশলে ওই কিশোরীকে একটি ছালার বস্তায় ভরেন। এরপর মধ্যরাতে মহাখালীর ওই বাসা থেকে রিকশাসহ বিভিন্ন পরিবহনের করে হাতিরঝিল পুলিশ প্লাজার সামনে আনেন। এরপর সেখানে বস্তাবন্দি ওই লাশ লেকের পানিতে ফেলে দেন রবিন।
জিজ্ঞাসাবাদে রবিন ও রাব্বি বাকি তিন আসামি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।