ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, বিভাগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন থাকলেও ঘটনার সময় তিনি বিভাগে একা হয়ে পড়েছিলেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান তার কক্ষে ঢুকে ছুরিকাঘাত করে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হন শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা। ঘটনার সময় বিভাগের অন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। যদিও সেদিন বিভাগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন ছিল।
ভবনের নিচে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ৩টা ৩৮ মিনিটে শিক্ষক হাবিবুর রহমান বিভাগ ত্যাগ করেন। এরপর বেলা ৩টা ৪১ মিনিটে বিভাগের কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক এবং কর্মচারী ফজলুল ও সোহাগ বিপরীত পাশের গেট দিয়ে ভবন থেকে বের হয়ে যান। যাওয়ার সময় তারা বিভাগের নৈশপ্রহরী সুমনের কাছে বিভাগের দায়িত্ব দিয়ে যান। তবে ঘটনার মাত্র তিন মিনিট আগে, বিকেল ৪টা ৯ মিনিটে নৈশপ্রহরী সুমনও একই গেট দিয়ে বেরিয়ে যান। একই সময়ে ভবনের সামনের গেট দিয়ে এক কর্মচারীকে ভবনে ঢুকে দোতলার ঘটনাস্থলের সামনে দিয়ে তৃতীয় তলার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে উঠতে দেখা যায়।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, বিকেল ৪টা ১ মিনিটে ফজলুর রহমান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কিচেন রুম থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তু পকেটে নিয়ে বের হন। এর আগে তাকে ওই কক্ষে বস্তুটি নিয়ে কিছুক্ষণ লুকোচুরি ও পায়চারি করতে দেখা যায়। পরে বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে তিনি তৃতীয় তলা থেকে দ্বিতীয় তলায় আসমা সাদিয়া রুনার কক্ষের দিকে যান এবং কয়েক মিনিট পর আবার ফিরে আসেন। এরপর বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে আবার সিঁড়ি দিয়ে নেমে রুনার কক্ষে প্রবেশ করেন।
দুই মিনিট পর, বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে ‘আল্লাহ বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার শোনা যায়। শব্দ শুনে ভবনের নিচে থাকা দুই আনসার সদস্য ও দুই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কক্ষের মধ্যেই আটকে পড়েন হত্যাকারী ফজলুর। পরে তারা দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে উপর দিয়ে তাকিয়ে রুনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
এ সময় ইফতার আয়োজনের স্থানে থাকা বিভাগের তিন শিক্ষার্থীও সেখানে এসে উপস্থিত হন। পরে তারা দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। তখন তারা ফজলুরকে নিজের গলায় ছুরি চালানো অবস্থায় দেখেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দাবি, গণপিটুনি থেকে বাঁচতে তিনি আত্মহত্যার নাটক করেন।
এদিকে সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি আসমা সাদিয়া রুনার কাছ থেকে ছুটি নিয়ে পাশের শেখপাড়া বাজারে ফল কিনতে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে ফজলুল ও সোহাগ ছিলেন। এ ছাড়া ফজলুল হক মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে এবং সোহাগ টিসিবির মালামাল আনতে বাইরে গিয়েছিলেন।’