ময়মনসিংহের ভালুকায় আলোচিত দীপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে, সোমবার (১৮ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- জেলার ত্রিশাল উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রিপন সরকারের ছেলে তাজমুল সরকার ওরফে সাদেক (২২), কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. রুবেল মিয়া (৩৬) এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে মো. রবিন (৩৭)।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তারা উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দিয়ে দীপু চন্দ্র দাসকে মারধর ও মরদেহের ওপর অমানবিক নির্যাতনে সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া, ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের স্লোগান দিয়ে উত্তেজিত করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলেন এবং জনতাকে বর্বরোচিত হামলায় উৎসাহিত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যেভাবে ঘটে নির্মম হত্যাকাণ্ড
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় দীপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন দিপু চন্দ্র দাস পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার ভেতরে ছিলেন। কারখানার সামনে মানুষ জড়ো হতে থাকলে দীপু চন্দ্র দাসকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। রাত ৯টার দিকে দীপু দাসকে কারখানা থেকে বের করে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে বিবস্ত্র করে গণপিটুনি দেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। হত্যাকাণ্ডটি দেশবাসীর মন নাড়িয়ে দেয়।
দীপু চন্দ্র দাসের পরিচয়
দীপু চন্দ্র দাস জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর ধরে তিনি ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় ১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেন। এখন পর্যন্ত এ মামলায় মোট ২৯ জন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।’
কামরুজ্জামান মিন্টু/সালমান/