ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নিখোঁজ নাটকের অবসান, ‘গুপ্ত’ ছিলেন শিবির নেতা জিসান! যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পর ঐক্যের গান গাইলেন পচেত্তিনো মীনা বাজারে চাকরির সুযোগ, শুক্র-শনিবার ছুটি ইংল্যান্ডের ফুটবল ও বুট চুরি করল কে? গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ মদে ট্যাক্স বাড়ানোই বিরোধী দলের দুঃখ: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার বাজেটে জনগণের স্বস্তি হলেও বিরোধী দলের অস্বস্তি: প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ইউপি কার্যালয়ে চুরি শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কুইজ ও রিচার্জ অফার, থাকছে জামাল ভূঁইয়ার সাথে খেলা দেখার সুযোগ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বিশেষ আয়োজন জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গাড়ি ভেঙে ইংল্যান্ড দলের সরঞ্জাম চুরি, গ্রেপ্তার ২ কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি বোয়ালমারীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা যদি এই ছবিগুলো আপনি না দেখে থাকেন শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারক? কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী, চকরিয়া-পেকুয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি কক্সবাজারের ‘পাতলী খাল’ পুনর্খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত যেভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হলেন মাস্ক এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের
Nagad desktop

কলকাতায় মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে নজরুলের জন্মবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৫, ০৪:২৭ পিএম
আপডেট: ২৭ মে ২০২৫, ০৪:৪৩ পিএম
কলকাতায় মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে নজরুলের জন্মবার্ষিকী উদযাপন
কলকাতার মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ মে) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান ও পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান।

অনুষ্ঠানে ছায়ানট (কলকাতা)-এর পক্ষ থেকে নজরুলের ছবি ও তথ্য সম্বলিত স্মারক মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রাণের কবি নজরুলকে ছায়ানটের শিল্পীরা স্মরণ করেন তাঁর গান ও কবিতায়।

ছায়ানটের সভাপতি সোমঋতার পরিচালনায় সমবেত সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করেন - সোমা রায় বর্মন, গৌরী ধর, বিচিত্রা ঘোষ, প্রিয়াঙ্কা পাল, শ্রমণা বিশ্বাস, গোপা মজুমদার, কুহু সেনগুপ্ত, চম্পা মিত্র ও সুরূপা মল্লিক।

তাঁরা পরিবেশন করেন নজরুলের জাগরণমূলক গান।

কবিতা কোলাজ ‘সাম্যবাদী নজরুল’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন তিস্তা দে, দেবযানী বিশ্বাস, সুকন্যা রায়, ইন্দ্রাণী লাহিড়ী, অনিন্দিতা ঘোষ এবং দেবলীনা চৌধুরী।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পিয়ালী পাঠক।

১৯৩৪ সালে মহামেডান স্পোটিং ক্লাব লীগ চ্যাম্পিয়ান হওয়ায় ক্রীড়াপ্রেমী কাজী নজরুল ইসলাম ‘মোবারকবাদ’ কবিতাটি রচনা করেছিলেন। এই কবিতা শুধুমাত্র তাঁর ফুটবল-প্রীতির বহিঃপ্রকাশ নয়, তৎকালীন ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে উজ্জীবিত করেছিলেন নজরুল। নজরুলের ‘মোবারকবাদ’ কবিতাটিতে তারই ইঙ্গিত রয়েছে। এরপর মহামেডান ক্লাব পর পর ৫ বার লীগ জয় করে রেকর্ড তৈরি করে। নজরুল লিখলেন-

এই ভারতের অবনত শিরে তোমরা পরালে তাজ, সুযোগ পাইলে শক্তিতে মোরা অজেয়, দেখালে আজ!
এ কি অভিনব কীর্তি রাখিলে নিরাশাবাদীর দেশে, আঁধার গগনে আশার ঈদের চাঁদ উঠিল যে হেসে!

সওগাত সম্পাদক নাসিরুদ্দীন সাহেব মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সব খেলোয়াড়দের ফটো তুলে, খেলার বিবরণ ও ছবি সহযোগে সওগাতের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করলেন। তখন মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়রা কতটুকু জনপ্রিয় ছিলেন, তা জানা যায় তাঁর স্মৃতিকথায় -

‘বড় সাইজের আর্ট পেপারে সকল খেলোয়াড়ের ছবি ছাপালাম দেয়ালে রাখবার মত করে এবং তা দশ হাজার ছেপে বাজারে ছাড়লাম। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে গেল। পুনরায় মুদ্রণ করলাম। হাজার হাজার লোকের গৃহসজ্জা হলো মহামেডান দলের এই দেয়াল ছবি। কিছুকাল পরে দেখলাম, আমার উক্ত ছবি হুবহু নকল করে রুমালের ওপর ছাপা হয়ে কলকাতায় এসেছে জাপান থেকে। জাপানে ছাপা এই রুমালগুলিও অসংখ্য পরিমাণে বিক্রি হয়েছিল।’ 

টানা বেশ কয়েক বছর এই দলের বিজয়ী হওয়ার ঘটনা মুসলমান সমাজে নবপ্রাণের সঞ্চার করল।

অমিয়/

দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
দেশাত্মবোধক গানের কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলা গানের অবিসংবাদিত সম্রাট, যার কণ্ঠস্বর কয়েক প্রজন্মের আবেগের নাম, সেই বরেণ্য সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী।

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীরও অধিক সময় ধরে সংগীতের সুধায় সিক্ত করে  তিনি পেয়েছেন এক বিশেষ সম্মাননা।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই কালজয়ী শিল্পীকে দেওয়া হলো বিশেষ সম্মাননা স্মারক।

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ আয়োজন।

জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনে অসামান্য অবদান রাখা গুণীজনদের মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের অবতারণা করা হয়।

সম্মাননা গ্রহণকালে আবেগময় কণ্ঠে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, ‘আমি সবার প্রশংসায় আকুণ্ঠ নিমজ্জিত হয়েছি। তবে আমার একটিই অনুরোধ; আমরা যেন নিজেদের ভারে দেশটাকে ভারাক্রান্ত না করে ফেলি। আসুন, আমরা সবাই দেশটাকে ভালোবাসি।’ 

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে। এরপর মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. জাহেদ উর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন জাসাস-এর আহ্বায়ক হেলাল খান।

‘সৈয়দ আব্দুল হাদী’ একটি মানদণ্ড
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘বাংলা গানের উচ্চতা এখন নির্ণিত হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর কণ্ঠস্বরকে ঘিরে। নতুন প্রজন্মের কোনো শিল্পী কেমন গাইলেন, তা যাচাই করতে গিয়ে আজও শ্রোতারা সৈয়দ আব্দুল হাদীর গায়কীর মানদণ্ডেই বিচার করেন। এটিই তার সার্থকতা।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘বিগত সময়ে আমাদের সংস্কৃতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠে সংস্কৃতি অঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে চাই। রবীন্দ্র-নজরুল থেকে শুরু করে সংগীতের প্রতিটি শাখাকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

গীতসন্ধ্যায় শ্রদ্ধাঞ্জলি
সম্মাননা পর্ব শেষে আয়োজিত হয় ‘গীতসন্ধ্যা’। এখানে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে সুরের মূর্ছনায় উঠে আসে সৈয়দ আব্দুল হাদীর কালজয়ী সব গান। স্মরণ, নোলক বাবু, অনন্যা আচার্য, পিয়াল হাসানসহ একঝাঁক শিল্পীর পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মিলনায়তন। ‘আছেন আমার মোক্তার’ ও ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’-এই দুটি গান সমবেত কণ্ঠে পরিবেশনের মাধ্যমে কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

শিল্পের ক্যানভাসে তিন প্রাণের সেতুবন্ধন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
শিল্পের ক্যানভাসে তিন প্রাণের সেতুবন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

ক্যানভাস যেন এক নীরব ভাষা, যেখানে তুলির আঁচড়ে জমে ওঠে অস্ফুট অব্যক্ত কথা। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, মানুষের চোখের জলছবি আর রাজপথের সংগ্রামী মানুষদের নীরব মর্যাদার মিশেলে তৈরি এক অদ্ভুত সুরের মূর্ছনা এখন ঢাকার ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে। 

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় তিনটি ভিন্ন ধারার প্রতিভাবান শিল্পী মো. ফারিয়াজ ইমরান, নীহারিকা অহনা বারসাত এবং সুরভী আক্তারের শিল্পকর্মে সেজে উঠেছে প্রদর্শনী ‘ত্রিবন্ধন’। শিল্পীর মন ও ক্যানভাসের মধ্যকার এই যে নিবিড় সংযোগ, তা যেন আজ এক মূর্ত রূপ পেয়েছে শিল্পানুরাগীদের সামনে। উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী সাইদুল হক জুইস, রশীদ আমিন এবং অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আনিস। 

স্মৃতির অতল থেকে উঠে আসা পরিচয়, প্রকৃতির সাথে মানবিক বন্ধন আর নগরের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া জীবনের গল্পগুলো এখানে একে অপরের সাথে সংলাপে মগ্ন।

নীহারিকা অহনা বারসাত দর্শকদের নিয়ে গেছেন এক স্বপ্নিল কাব্যিক জগতে। তার জলরঙ ও অ্যাক্রিলিকের বহুস্তরবিশিষ্ট কাজগুলোতে বৃক্ষ, পাখি ও নারীমূর্তির পুনরাবৃত্তি যেন এক প্রকার আরোগ্যের মন্ত্র উচ্চারণ করে। প্রকৃতিকে তিনি কেবল দৃশ্যপট হিসেবে নয়, বরং আত্মরূপান্তরের এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

উল্টো পিঠেই আবার সুরভী আক্তারের শিল্পভাষায় ধরা দিয়েছে মানবিকতার সূক্ষ্ম রেখা। এই শিল্পী ব্রাউন পেপারের ধূসর জমিনে লাল বলপয়েন্ট কলমের আঁচড়ে মানুষের চোখের ভাষা পড়তে চেয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই যান্ত্রিক পৃথিবীতে যেখানে মানুষ একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, সেখানে তার প্রতিকৃতিগুলো দর্শককে থমকে দাঁড়াতে এবং দৃষ্টির গভীরে লুকিয়ে থাকা নীরব কথাগুলো শুনতে আহ্বান জানায়।

নগরজীবনের না বলা আখ্যানকে মলাটবন্দি করেছেন মো. ফারিয়াজ ইমরান। ঢাকার রাজপথ, রিকশাচালকদের ঘামভেজা শরীর আর প্রান্তিক মানুষের সংগ্রামগুলোকে তিনি জলরঙের মায়ায় জীবন্ত করে তুলেছেন। সমাজের জনপরিসরে যারা প্রায়শই অদৃশ্য থেকে যান, ফারিয়াজের তুলিতে তারাই হয়ে উঠেছেন অনন্য সাধারণ।

সামগ্রিকভাবে ‘ত্রিবন্ধন’ কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, এটি ব্যক্তি, সমাজ ও প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্কের এক নান্দনিক উদযাপন। আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

সুর-ছন্দের আন্তর্জাতিক মেলবন্ধন চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষার আগমনী বার্তার মাঝেই সুরের মায়াজালে জড়াতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সঙ্গীত উৎসব 'ফেত দ্য লা মিউজিক ২০২৬'।

বুধবার (১০ জুন) থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে সুরের মূর্ছনা ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশ, ফ্রান্স, ব্রাজিল ও ফিনল্যান্ডের শিল্পীরা। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা (এএফডি) তাদের সহযোগী সাংস্কৃতিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করেছে, যা চলবে আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সৃজনশীল অনুসন্ধানের চেতনাকে কেন্দ্র করে এবারের সুরের আড্ডাকে সাজানো হয়েছে। চার দিনের এই আয়োজনে কর্মশালা, লাইভ পারফরম্যান্স এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতারা সমসাময়িক বৈশ্বিক সংগীতধারার এক অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন।

রাজধানীর গুলশানের ‘বাটারনোট – আ জ্যাজ ক্যাফেতে’ গতকাল বুধবার বিকেলে ইলেকট্রনিক মিউজিক কর্মশালার মাধ্যমে উৎসবের পর্দা ওঠে। ফরাসি সংগীতশিল্পী ও পারকাশনবাদক সুভাষ ধুনুচন্দ এই কর্মশালা পরিচালনা করেন। উৎসবের দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার দর্শকদের জন্য থাকছে বিশেষ কনসার্ট ‘বসা ও সোলেই কুশঁ’। এতে পারফর্ম করবেন ফিনল্যান্ডের মিরভা তুলিয়া, ব্রাজিলের আকিলা লিমা এবং বাংলাদেশের ইমরান আহমেদ, তৌফিক আরিফিন ও তানভীর হক। বোসা নোভার মনোমুগ্ধকর সুর ও ছন্দের মাধ্যমে সেখানে তৈরি হবে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সংলাপ। অন্যদিকে আজ সন্ধ্যায় ধানমন্ডির গ্যেটে-ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘তবলাট্রনিক’। সুভাষ ধুনুচন্দের লাইভ পারফরম্যান্সে তবলা, পারকাশন এবং ইলেকট্রনিক প্রোগ্রামিংয়ের সমন্বয়ে ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির এক দারুণ মেলবন্ধন দেখার অপেক্ষায় আছেন শ্রোতারা।

উৎসবে শুক্রবারের মূল আকর্ষণ অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সংগীত উদ্‌যাপন। তাদের নিজস্ব পরিবেশনার পাশাপাশি সেদিন ক্যাফে লা ভেরান্দায় গান শোনাবেন তপেশ চক্রবর্তী ও জ্যাজ ব্যান্ড ‘দ্য সোসাইটি’। আগামী শনিবার উৎসবের শেষ দিনে সমাপনী আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চস্থ হবে ‘বাংলা ব্রাজিল: দ্য সাউন্ড অব দ্য ইউনিভার্স’। ব্রাজিলের আকিলা লিমা এবং বাংলাদেশের মিঠুন চক্রের এক অনন্য পারকাশন যুগলবন্দির মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে চার দেশের শিল্পীদের এই মিলনমেলার।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

ক্যানভাসে জীবন, সমাজ ও প্রকৃতি আলিয়ঁসে শুরু  হচ্ছে তিন শিল্পীর ‘ত্রিবন্ধন’

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
আলিয়ঁসে শুরু  হচ্ছে তিন শিল্পীর ‘ত্রিবন্ধন’
ছবি: সংগৃহীত

একই গ্যালারি, অথচ তিনটি ভিন্ন চোখ দিয়ে দেখা চেনা-অচেনা জীবন। কেউ খুঁজে ফিরছেন প্রকৃতির মাঝে মানুষের আত্মিক আরোগ্য, কেউ মানুষের চোখের গভীরতায় খুঁজছেন মনের অলিগলি, আবার কারও তুলিতে মূর্ত হয়ে উঠছে ঢাকার রাস্তায় খেটে খাওয়া মানুষের নীরব লড়াই। তিন উদীয়মান শিল্পীর এমন তিন ঘরানার শিল্পভাষাকে এক সুতোয় বেঁধেছে ‘ত্রিবন্ধন’।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার ‘লা গ্যালারি’তে পর্দা উঠবে এই প্রদর্শনীর। তরুণ চিত্রশিল্পী মো. ফারিয়াজ ইমরান, নীহারিকা অহনা বারসাত এবং সুরভী আক্তারের সম্মিলিত চিত্রকর্ম নিয়ে সেজেছে এই প্রদর্শনী।

স্মৃতি, পরিচয়, প্রকৃতি, মানবিক সংযোগ এবং চেনা নগরজীবনের নানা অনুষঙ্গ উঠে এসেছে এই তিন তরুণের ক্যানভাসে। ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আর মাধ্যম ব্যবহার করলেও, শিল্পীদের কাজগুলো একসঙ্গে মিলে যেন গড়ে তুলেছে সহমর্মিতা, স্থিতিস্থাপকতা আর আত্মরূপান্তরের এক গভীর সংলাপ।

প্রদর্শনীতে শিল্পী নীহারিকা অহনা বারসাতের চিত্রকর্মগুলো দর্শকদের নিয়ে যায় এক কাব্যিক জগতে, যেখানে প্রকৃতি আর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মিলেমিশে একাকার। তার ক্যানভাসে বারবার ফিরে এসেছে পাখি, বৃক্ষ ও নারীমূর্তি। অ্যাক্রিলিক ও জলরঙে নির্মিত তার বহুস্তরবিশিষ্ট কম্পোজিশনে প্রকৃতি কেবল পটভূমি হয়ে থাকেনি, বরং রূপান্তরের এক সক্রিয় চরিত্র হয়ে উঠেছে। তার প্রতিটি কাজ যেন আরোগ্য, বিকাশ ও আত্ম-অন্বেষণের গল্প বলে; নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে মানুষ ও পরিবেশের অদৃশ্য সম্পর্ক নিয়ে।

শিল্পী সুরভী আক্তারের ক্যানভাসের মূল শক্তি মানুষের চোখ। মানবমুখের সবচেয়ে অভিব্যক্তিপূর্ণ এই উপাদানটিকে কেন্দ্র করেই তার পুরো শিল্পচর্চা। ব্রাউন পেপারের ওপর লাল বলপয়েন্ট কলম আর রঙিন পেন্সিলের সূক্ষ্ম টানে সুরভী ফুটিয়ে তুলেছেন একের পর এক প্রতিকৃতি। ক্ষণস্থায়ী আর চটজলদি ছবির এই যুগে সুরভীর কাজগুলো দর্শকদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে। প্রতিটি চোখের দৃষ্টিতে লুকিয়ে থাকা আবেগ, মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা আর মানবিক সংযোগকে নিবিড়ভাবে দেখার আহ্বান জানায় তার এই প্রতিকৃতিগুলো।

শহুরে জীবনের কোলাহল আর উপেক্ষিত মানুষের গল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন মো. ফারিয়াজ ইমরান। তার ক্যানভাসের অনুপ্রেরণা ঢাকার রাস্তাঘাট, বিশেষ করে রিকশাচালক ও নগরের পেছনের সারির খেটে খাওয়া মানুষ। জলরঙের স্তরবিন্যাস আর চমৎকার মানবকেন্দ্রিক কম্পোজিশনের মাধ্যমে ফারিয়াজ তুলে ধরেছেন শ্রমজীবী মানুষের নীরব মর্যাদা, সংগ্রাম ও আত্মমগ্নতার মুহূর্তগুলোকে। ঢাকার চাকা সচল রাখা যে মানুষগুলো জনপরিসরের আলোচনায় প্রায়শই অদৃশ্য থেকে যান, ফারিয়াজের তুলি তাদেরই দিয়েছে সামাজিক স্বীকৃতি ও পরিচয়ের নতুন ভাষা।

এই প্রদর্শনী আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র 'সাঁকোটা দুলছে'

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র 'সাঁকোটা দুলছে'
ছবি: খবরের কাগজ

সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬ এর ‘এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট কম্পিটিশন’ বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট’ (সাঁকোটা দুলছে)।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ।

আগামী ১২ থেকে ২১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চীনের সাংহাই শহরে অনুষ্ঠিত সাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে চলচ্চিত্রটি।

পরিচালক জিহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত।

তরুণ এই পরিচালকের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি। চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা করেছেন তার বিভাগেরই সহকারী অধ্যাপক ও জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক।

বাংলাদেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মনপাচিত্র’ এবং জার্মানির ‘মগডোর ফিল্ম’-এর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। প্রযোজক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটিরও প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক নির্মাণযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন জার্মান প্রযোজক ক্রিস্টোফ থোকে। তিনি সহযোগী প্রযোজক হিসেবে পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র সমালোচক, প্রযোজক ও প্রোগ্রামার ডার্সি প্যাকুয়েট চলচ্চিত্রটির কনসাল্টিং প্রযোজক হিসেবে এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক ফজলে হাসান শিশির সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

মূলত, গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন নারীর জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি।

যেখানে গল্পে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও সামাজিক নিপীড়নের বেড়াজাল থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখা এসব নারীর সংগ্রামের গল্প।

সম্পূর্ণ সাদা-কালোতে নির্মিত চলচ্চিত্রটি নারীর জীবন, বিশ্বাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নকে গ্রামীণ বাংলাদেশের বাস্তবতার আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছে।

এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ এই চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের প্রথম চলচ্চিত্রের নির্বাচনের বিষয়ে পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ বলেন, ‘গ্রামীণ বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি, কীভাবে কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা এবং সামাজিক বিধিনিষেধ নারীদের জীবনে প্রভাব ফেলে। এই চলচ্চিত্র সেই বাস্তবতা থেকেই জন্ম নিয়েছে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়া আমাদের পুরো টিমের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। পাশাপাচি চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত মানুষদের জীবন ও অভিজ্ঞতার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।’

চলচ্চিত্রটির বিষয়ে প্রযোজক মনোজ কুমার প্রামাণিক বলেন, ‘এই যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব সীমিত অর্থ, অল্প অভিজ্ঞতা এবং একদল স্বপ্নবান তরুণ চলচ্চিত্রকর্মীকে নিয়ে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়া আমাদের বহু বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি।’

তাসনিম হক/তামান্না রুপা/