বহুমাত্রিক কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৬ আগস্ট। বাঙালি মুসলিম নারীলেখকদের অগ্রগণ্য এই কথাসাহিত্যিক ২০১৯ সালের এদিনে মৃত্যুবরণ করেন।
ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তান পেরিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তার জীবন। ফলে এই রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর, বিশেষ করে নারী-অগ্রযাত্রার ছবি তার লেখায় উজ্জ্বল।
রিজিয়া রহমান ১৯৩৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর কলকাতার ভবানীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। কবিতা দিয়ে লেখালেখির শুরু। ১৯৫০ সালে যখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী, তখন প্রথম গল্প ‘টারজান’ প্রকাশিত হয় ‘সত্যযুগ’ পত্রিকায় ছোটদের পাতায়। ছাত্রাবস্থায় ছাপা হয়েছিল ‘লাল টিলার আকাশ’ শীর্ষক উপন্যাস। বস্তির মানুষের দুঃখ-দুর্দশা-ক্লেদ নিয়ে রচিত এই উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।
১৯৭৭ সালে ‘উত্তর পুরুষ’ উপন্যাসে তিনি চট্টগ্রামে হার্মাদ জলদস্যুদের অত্যাচার এবং পর্তুগিজ ব্যবসায়ীদের দখলদারত্বের চিত্র তুলে ধরেছেন। যৌনপল্লির নারীদের নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘রক্তের অক্ষর’ উপন্যাসটি। বাংলাদেশের জাতিগঠন এবং ভাষার বিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে তিনি রচনা করেন ‘বং থেকে বাংলা’ উপন্যাসটি। কয়লা খনির শ্রমিকদের নিয়ে লেখেন ‘একাল চিরকাল’। সামাজিক বঞ্চনা, অবিচার-অন্যায়ের প্রতিবাদে তিনি লিখেছেন ‘বাঘবন্দি’ উপন্যাস। ‘প্রাচীন নগরীতে যাত্রা’ উপন্যাসে লিখেছেন ঢাকার অতীত এবং বর্তমান জীবনযাপন সম্পর্কে।
‘অভিবাসী আমি’ তার আত্মজীবনীমূলক প্রথম বই। ২০১১ সালে তার নানা গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় গল্পগ্রন্থ ‘চার দশকের গল্প’। ১৯৭৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লেখা গল্পগুলোতে তুলে ধরেছেন সামাজিক এবং রাজনৈতিক সমস্যার বহুমাত্রিক ছবি। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য রিজিয়া রহমান ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান।