বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ও সিনিয়র সাংবাদিক নাসির আহমেদের জন্মদিন আজ ৫ ডিসেম্বর। ১৯৫২ সালের এই দিনে দ্বীপজেলা ভোলা সদরের আলীনগর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ে পড়াশোনা করেছেন ভোলা সদরে। পরবর্তী সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিসহ এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
নাসির আহমেদ ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতা শুরু করেন। সাপ্তাহিক গণমুক্তি পত্রিকায় তার সাংবাদিকতার শুরু। দৈনিক বাংলা, দৈনিক জনকণ্ঠ, সমকাল, দৈনিক বর্তমানসহ বিভিন্ন দৈনিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনে পরিচালক (বার্তা) পদে চুক্তিভিত্তিক চার বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৯ সাল থেকে তিনি দৈনিক দেশের কণ্ঠ ও দ্য ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকায় উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন তিনি।
কবিতা, গান, টিভি নাটক, ছোটগল্প, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, শিশুসাহিত্য, কলামসহ সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় নাসির আহমেদ সমান দক্ষতায় নিজের সৃষ্টিশীলতা প্রকাশ করে চলেছেন।
কবিতায় অবদানের জন্য নাসির আহমেদ দেশ-বিদেশের বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (২০১০), পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণু দে পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পদক, কবি মোজাম্মেল হক ফাউন্ডেশন পুরস্কার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের স্মৃতি সম্মাননাসহ চন্দ্রাবতী একাডেমি পদক পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া সাংবাদিকতায় শিল্পী বশির আহমেদ স্মৃতি সম্মাননা পদক, নাটকের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সংস্থার বাচসাস পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই কবি নাসির আহমেদ।
তার ৩৪টি কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্য ‘আকুলতা শুভ্রতার জন্য’, ‘তোমাকেই আশালতা’, ‘বৃক্ষমঙ্গল’, ‘বিধ্বস্ত শহর ছেড়ে যেতে যেতে’, ‘ভালো থাকার নির্দেশ আছে’, ‘তোমার জন্য অনিন্দিতা’, ‘একাত্তরের পদাবলী’, ‘না হয় না দিলে আশা’, ‘আমি অন্য আর কেউ’ এবং ‘বিভ্রান্ত হৃদয়ের মানচিত্র’। শিশু-কিশোরপাঠ্য ছড়াগ্রন্থ ‘ঝুমুর ঝুমুর ছন্দ নূপুর’ বেরিয়েছে এ বছর সেপ্টেম্বর মাসে। তিন খণ্ডে রয়েছে তার ২২টি কাব্যগ্রন্থ।
প্রতিবছরের মতো এবারও সারগাম ললিতকলা একাডেমিসহ সারা দিন কবির মোহাম্মদপুরের বাড়িতে স্বজন, বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন সংগঠন তাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসবেন।