ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
১৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল অর্থবিল বিশ্লেষণ: পার পাচ্ছেন সম্পদশালীরা হাকিমি: আফ্রিকার আশা, মরক্কোর প্রাণ ভিনিসিয়ুস: এবার হলুদ জার্সিতে প্রমাণের পালা প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ
Nagad desktop

মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদলে এবার বৈশাখী শোভাযাত্রা, উদীচীর ক্ষোভ

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদলে এবার বৈশাখী শোভাযাত্রা, উদীচীর ক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে এবার ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী।

রবিবার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক প্রস্তুতি সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

জাতীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাঁওতাল ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি সভা শেষে তিনি বলেন, ‘শোভাযাত্রার নামকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনমনে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক ছিল। উৎসবটি যেন সব ধরনের বিভাজনের ঊর্ধ্বে থেকে দেশের সব মানুষের সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়, সে লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, এখন থেকে পূর্বের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বা ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে এটি কেবল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত হবে। তার ভাষ্য, সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নামকরণের মাধ্যমে ‘বিতর্কের অবসান ঘটবে’ এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
তবে নাম পরিবর্তন হলেও শোভাযাত্রার মূল কাঠামো ও ঐতিহ্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে এবং এর চিরাচরিত মোটিফ, লোকজ সাজসজ্জা ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন থাকবে। পাশাপাশি রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য আয়োজন আগের মতোই অনুষ্ঠিত হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মূল শক্তি বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। কোনো নির্দিষ্ট শব্দ বা নাম যেন উৎসবের আমেজ নষ্ট না করে এবং সমাজের কোনো অংশ যেন নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করে, সে দায়বদ্ধতা থেকেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ 

তিনি সব ধর্ম ও পেশার মানুষকে কোনো দ্বিধা বা বিতর্কে কান না দিয়ে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’য় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সচিব কানিজ মওলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

এদিকে, শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের ঘোষণায় ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা কেবল একটি নাম নয়, এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাঙালির সার্বজনীন ঐক্যের প্রতীক।’


বারবার নাম পরিবর্তনের প্রবণতাকে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সংস্কৃতির ওপর অযাচিত ও অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তারা সরকারের কাছে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামটি অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি জানান। একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত শতকের আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শোভাযাত্রার সূচনা হয় এবং পরে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে দেশ-বিদেশে স্বীকৃতি পায়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি এটিকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়। নাম পরিবর্তনের চেষ্টা ইতিহাস, সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতাকে অস্বীকার করার শামিল বলেও উল্লেখ করা হয়।

উদীচী নেতারা বলেন, সংস্কৃতি কখনো রাজনৈতিক সুবিধাবাদ, মতাদর্শিক চাপ বা ধর্মীয় সংকীর্ণতার কাছে নত হতে পারে না। ‘মঙ্গল’ শব্দটি অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য এবং মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এই শব্দ অপসারণ সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেবে।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি বহুত্ববাদ, সহনশীলতা ও মুক্তচিন্তার জন্য বিশ্বে সমাদৃত। সেই চেতনাকে অক্ষুণ্ন রাখা সবার নৈতিক দায়িত্ব, ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জাতির অস্তিত্ব ও পরিচয়ের সঙ্গে জড়িত।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
দেশাত্মবোধক গানের কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলা গানের অবিসংবাদিত সম্রাট, যার কণ্ঠস্বর কয়েক প্রজন্মের আবেগের নাম, সেই বরেণ্য সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী।

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীরও অধিক সময় ধরে সংগীতের সুধায় সিক্ত করে  তিনি পেয়েছেন এক বিশেষ সম্মাননা।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই কালজয়ী শিল্পীকে দেওয়া হলো বিশেষ সম্মাননা স্মারক।

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ আয়োজন।

জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনে অসামান্য অবদান রাখা গুণীজনদের মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের অবতারণা করা হয়।

সম্মাননা গ্রহণকালে আবেগময় কণ্ঠে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, ‘আমি সবার প্রশংসায় আকুণ্ঠ নিমজ্জিত হয়েছি। তবে আমার একটিই অনুরোধ; আমরা যেন নিজেদের ভারে দেশটাকে ভারাক্রান্ত না করে ফেলি। আসুন, আমরা সবাই দেশটাকে ভালোবাসি।’ 

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে। এরপর মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. জাহেদ উর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন জাসাস-এর আহ্বায়ক হেলাল খান।

‘সৈয়দ আব্দুল হাদী’ একটি মানদণ্ড
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘বাংলা গানের উচ্চতা এখন নির্ণিত হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর কণ্ঠস্বরকে ঘিরে। নতুন প্রজন্মের কোনো শিল্পী কেমন গাইলেন, তা যাচাই করতে গিয়ে আজও শ্রোতারা সৈয়দ আব্দুল হাদীর গায়কীর মানদণ্ডেই বিচার করেন। এটিই তার সার্থকতা।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘বিগত সময়ে আমাদের সংস্কৃতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠে সংস্কৃতি অঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে চাই। রবীন্দ্র-নজরুল থেকে শুরু করে সংগীতের প্রতিটি শাখাকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

গীতসন্ধ্যায় শ্রদ্ধাঞ্জলি
সম্মাননা পর্ব শেষে আয়োজিত হয় ‘গীতসন্ধ্যা’। এখানে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে সুরের মূর্ছনায় উঠে আসে সৈয়দ আব্দুল হাদীর কালজয়ী সব গান। স্মরণ, নোলক বাবু, অনন্যা আচার্য, পিয়াল হাসানসহ একঝাঁক শিল্পীর পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মিলনায়তন। ‘আছেন আমার মোক্তার’ ও ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’-এই দুটি গান সমবেত কণ্ঠে পরিবেশনের মাধ্যমে কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

সুর-ছন্দের আন্তর্জাতিক মেলবন্ধন চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষার আগমনী বার্তার মাঝেই সুরের মায়াজালে জড়াতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সঙ্গীত উৎসব 'ফেত দ্য লা মিউজিক ২০২৬'।

বুধবার (১০ জুন) থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে সুরের মূর্ছনা ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশ, ফ্রান্স, ব্রাজিল ও ফিনল্যান্ডের শিল্পীরা। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা (এএফডি) তাদের সহযোগী সাংস্কৃতিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করেছে, যা চলবে আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সৃজনশীল অনুসন্ধানের চেতনাকে কেন্দ্র করে এবারের সুরের আড্ডাকে সাজানো হয়েছে। চার দিনের এই আয়োজনে কর্মশালা, লাইভ পারফরম্যান্স এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতারা সমসাময়িক বৈশ্বিক সংগীতধারার এক অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন।

রাজধানীর গুলশানের ‘বাটারনোট – আ জ্যাজ ক্যাফেতে’ গতকাল বুধবার বিকেলে ইলেকট্রনিক মিউজিক কর্মশালার মাধ্যমে উৎসবের পর্দা ওঠে। ফরাসি সংগীতশিল্পী ও পারকাশনবাদক সুভাষ ধুনুচন্দ এই কর্মশালা পরিচালনা করেন। উৎসবের দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার দর্শকদের জন্য থাকছে বিশেষ কনসার্ট ‘বসা ও সোলেই কুশঁ’। এতে পারফর্ম করবেন ফিনল্যান্ডের মিরভা তুলিয়া, ব্রাজিলের আকিলা লিমা এবং বাংলাদেশের ইমরান আহমেদ, তৌফিক আরিফিন ও তানভীর হক। বোসা নোভার মনোমুগ্ধকর সুর ও ছন্দের মাধ্যমে সেখানে তৈরি হবে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সংলাপ। অন্যদিকে আজ সন্ধ্যায় ধানমন্ডির গ্যেটে-ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘তবলাট্রনিক’। সুভাষ ধুনুচন্দের লাইভ পারফরম্যান্সে তবলা, পারকাশন এবং ইলেকট্রনিক প্রোগ্রামিংয়ের সমন্বয়ে ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির এক দারুণ মেলবন্ধন দেখার অপেক্ষায় আছেন শ্রোতারা।

উৎসবে শুক্রবারের মূল আকর্ষণ অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সংগীত উদ্‌যাপন। তাদের নিজস্ব পরিবেশনার পাশাপাশি সেদিন ক্যাফে লা ভেরান্দায় গান শোনাবেন তপেশ চক্রবর্তী ও জ্যাজ ব্যান্ড ‘দ্য সোসাইটি’। আগামী শনিবার উৎসবের শেষ দিনে সমাপনী আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চস্থ হবে ‘বাংলা ব্রাজিল: দ্য সাউন্ড অব দ্য ইউনিভার্স’। ব্রাজিলের আকিলা লিমা এবং বাংলাদেশের মিঠুন চক্রের এক অনন্য পারকাশন যুগলবন্দির মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে চার দেশের শিল্পীদের এই মিলনমেলার।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

ক্যানভাসে জীবন, সমাজ ও প্রকৃতি আলিয়ঁসে শুরু  হচ্ছে তিন শিল্পীর ‘ত্রিবন্ধন’

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
আলিয়ঁসে শুরু  হচ্ছে তিন শিল্পীর ‘ত্রিবন্ধন’
ছবি: সংগৃহীত

একই গ্যালারি, অথচ তিনটি ভিন্ন চোখ দিয়ে দেখা চেনা-অচেনা জীবন। কেউ খুঁজে ফিরছেন প্রকৃতির মাঝে মানুষের আত্মিক আরোগ্য, কেউ মানুষের চোখের গভীরতায় খুঁজছেন মনের অলিগলি, আবার কারও তুলিতে মূর্ত হয়ে উঠছে ঢাকার রাস্তায় খেটে খাওয়া মানুষের নীরব লড়াই। তিন উদীয়মান শিল্পীর এমন তিন ঘরানার শিল্পভাষাকে এক সুতোয় বেঁধেছে ‘ত্রিবন্ধন’।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার ‘লা গ্যালারি’তে পর্দা উঠবে এই প্রদর্শনীর। তরুণ চিত্রশিল্পী মো. ফারিয়াজ ইমরান, নীহারিকা অহনা বারসাত এবং সুরভী আক্তারের সম্মিলিত চিত্রকর্ম নিয়ে সেজেছে এই প্রদর্শনী।

স্মৃতি, পরিচয়, প্রকৃতি, মানবিক সংযোগ এবং চেনা নগরজীবনের নানা অনুষঙ্গ উঠে এসেছে এই তিন তরুণের ক্যানভাসে। ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আর মাধ্যম ব্যবহার করলেও, শিল্পীদের কাজগুলো একসঙ্গে মিলে যেন গড়ে তুলেছে সহমর্মিতা, স্থিতিস্থাপকতা আর আত্মরূপান্তরের এক গভীর সংলাপ।

প্রদর্শনীতে শিল্পী নীহারিকা অহনা বারসাতের চিত্রকর্মগুলো দর্শকদের নিয়ে যায় এক কাব্যিক জগতে, যেখানে প্রকৃতি আর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মিলেমিশে একাকার। তার ক্যানভাসে বারবার ফিরে এসেছে পাখি, বৃক্ষ ও নারীমূর্তি। অ্যাক্রিলিক ও জলরঙে নির্মিত তার বহুস্তরবিশিষ্ট কম্পোজিশনে প্রকৃতি কেবল পটভূমি হয়ে থাকেনি, বরং রূপান্তরের এক সক্রিয় চরিত্র হয়ে উঠেছে। তার প্রতিটি কাজ যেন আরোগ্য, বিকাশ ও আত্ম-অন্বেষণের গল্প বলে; নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে মানুষ ও পরিবেশের অদৃশ্য সম্পর্ক নিয়ে।

শিল্পী সুরভী আক্তারের ক্যানভাসের মূল শক্তি মানুষের চোখ। মানবমুখের সবচেয়ে অভিব্যক্তিপূর্ণ এই উপাদানটিকে কেন্দ্র করেই তার পুরো শিল্পচর্চা। ব্রাউন পেপারের ওপর লাল বলপয়েন্ট কলম আর রঙিন পেন্সিলের সূক্ষ্ম টানে সুরভী ফুটিয়ে তুলেছেন একের পর এক প্রতিকৃতি। ক্ষণস্থায়ী আর চটজলদি ছবির এই যুগে সুরভীর কাজগুলো দর্শকদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে। প্রতিটি চোখের দৃষ্টিতে লুকিয়ে থাকা আবেগ, মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা আর মানবিক সংযোগকে নিবিড়ভাবে দেখার আহ্বান জানায় তার এই প্রতিকৃতিগুলো।

শহুরে জীবনের কোলাহল আর উপেক্ষিত মানুষের গল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন মো. ফারিয়াজ ইমরান। তার ক্যানভাসের অনুপ্রেরণা ঢাকার রাস্তাঘাট, বিশেষ করে রিকশাচালক ও নগরের পেছনের সারির খেটে খাওয়া মানুষ। জলরঙের স্তরবিন্যাস আর চমৎকার মানবকেন্দ্রিক কম্পোজিশনের মাধ্যমে ফারিয়াজ তুলে ধরেছেন শ্রমজীবী মানুষের নীরব মর্যাদা, সংগ্রাম ও আত্মমগ্নতার মুহূর্তগুলোকে। ঢাকার চাকা সচল রাখা যে মানুষগুলো জনপরিসরের আলোচনায় প্রায়শই অদৃশ্য থেকে যান, ফারিয়াজের তুলি তাদেরই দিয়েছে সামাজিক স্বীকৃতি ও পরিচয়ের নতুন ভাষা।

এই প্রদর্শনী আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র 'সাঁকোটা দুলছে'

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র 'সাঁকোটা দুলছে'
ছবি: খবরের কাগজ

সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬ এর ‘এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট কম্পিটিশন’ বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট’ (সাঁকোটা দুলছে)।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ।

আগামী ১২ থেকে ২১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চীনের সাংহাই শহরে অনুষ্ঠিত সাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে চলচ্চিত্রটি।

পরিচালক জিহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত।

তরুণ এই পরিচালকের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি। চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা করেছেন তার বিভাগেরই সহকারী অধ্যাপক ও জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক।

বাংলাদেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মনপাচিত্র’ এবং জার্মানির ‘মগডোর ফিল্ম’-এর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। প্রযোজক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটিরও প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক নির্মাণযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন জার্মান প্রযোজক ক্রিস্টোফ থোকে। তিনি সহযোগী প্রযোজক হিসেবে পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র সমালোচক, প্রযোজক ও প্রোগ্রামার ডার্সি প্যাকুয়েট চলচ্চিত্রটির কনসাল্টিং প্রযোজক হিসেবে এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক ফজলে হাসান শিশির সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

মূলত, গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন নারীর জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি।

যেখানে গল্পে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও সামাজিক নিপীড়নের বেড়াজাল থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখা এসব নারীর সংগ্রামের গল্প।

সম্পূর্ণ সাদা-কালোতে নির্মিত চলচ্চিত্রটি নারীর জীবন, বিশ্বাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নকে গ্রামীণ বাংলাদেশের বাস্তবতার আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছে।

এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ এই চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের প্রথম চলচ্চিত্রের নির্বাচনের বিষয়ে পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ বলেন, ‘গ্রামীণ বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি, কীভাবে কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা এবং সামাজিক বিধিনিষেধ নারীদের জীবনে প্রভাব ফেলে। এই চলচ্চিত্র সেই বাস্তবতা থেকেই জন্ম নিয়েছে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়া আমাদের পুরো টিমের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। পাশাপাচি চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত মানুষদের জীবন ও অভিজ্ঞতার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।’

চলচ্চিত্রটির বিষয়ে প্রযোজক মনোজ কুমার প্রামাণিক বলেন, ‘এই যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব সীমিত অর্থ, অল্প অভিজ্ঞতা এবং একদল স্বপ্নবান তরুণ চলচ্চিত্রকর্মীকে নিয়ে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়া আমাদের বহু বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি।’

তাসনিম হক/তামান্না রুপা/

বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরস্থ বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের একটি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে উপস্থিত হন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত লেখক ও লোকগবেষকরা। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুমন শিকদার, উদ্বোধন করেন সংগঠন সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাহীন।

কবি বঙ্গ রাখালের সঞ্চালনায় শুরু হয় প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকদের অভিব্যক্তি প্রকাশ ও পরামর্শ প্রদান পর্ব।

এ পর্বে আলোচনা করেন-আব্দুল্লাহ আল আমিন, শিকদার ওয়ালিউজ্জামান, কমল হাসান, সাইফুল ইসলাম, সৈয়দ জাহিদ হাসান, মোহাইমিনুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, মো. মসিউর রহমান, সুধন্য মণ্ডল, আবুল বাসার তালুকদার, আলী প্রয়াস, আবীর আকাশ, জাহিদ হোসেন বাবু, সরকার হুমায়ুন ও যাহিদ সুবহান।

এরপর পার্থ তালুকদারের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন-উপদেষ্টা সদস্য ড. বিএম রেজাউল করিম, নজমুল হেলাল, চন্দনকৃষ্ণ পাল, ম পানাউল্যাহ, সৈয়দ রবিউল আলম, রাখাল বিশ্বাস, অর্জুন বিশ্বাস প্রমুখ।

বক্তা ও আলোচকরা তাদের প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। কাজ করার ভালো মন্দ অভিজ্ঞতার কথাও সবিস্তারে শেয়ার করেন তারা। কক্সবাজার, রংপুর, জয়পুরহাট, লক্ষ্মীপুর, ঝিনাইদহ, ময়মনসিংহ, মেহেরপুর, পাবনা, সিলেট, চুয়াডাঙ্গা, সুনামগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, চট্টগ্রাম, মাগুরা, নেত্রকোনা, মানিকগঞ্জ, নোয়াখালী ইত্যাদি জেলা থেকে আগত লেখক ও গবেষকরা মতামত ব্যক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেন।

পারস্পরিক পরিচয় ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ও করেন তারা। 

সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক সুমন শিকদার। অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে এ দুজন ভবিষ্যৎ কর্মতৎপরতা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। জানান- কী করতে চান, নিজেদের চালিত করতে চান, কী করা যায়।

ড. অসীম সাহার সঞ্চালনায় দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে বাংলাদেশ লোকগবেষণা পরিষদ পত্রিকার ভলিউম-১ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এসময়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন সহসভাপতি শামসুল আরেফীন ও সুমন বনিক।

বার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন পরবর্তী রূপরেখা তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক সুমন শিকদার।

সমাপনী আলোচনা করেন সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাহীন। 

সবশেষে সংগীত পরিবেশন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও খ্যাতিমান শিল্পী অর্জুন বিশ্বাস।

এসএন/