সাতক্ষীরায় বিনম্র শ্রদ্ধা ও গানে গানে উদযাপন করা হয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’ এই আয়োজনে অংশ নিয়ে দুই মহান কবির সৃষ্টি ও দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জেলার শতাধিক শিল্পী।
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ সাতক্ষীরা শাখার আয়োজনে ঐতিহাসিক শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ও দুই কবির কালজয়ী গান পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ।
তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল বাঙালির মনন ও চেতনার দুই প্রধান আলোকবর্তিকা। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে সঠিক ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধ পৌঁছে দিতে দুই কবির সাহিত্য ও জীবনদর্শন চর্চার কোনো বিকল্প নেই।
শহিদ মিনারের পাদদেশ থেকে শুরু হওয়া একটি বর্ণাঢ্য র্যালি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ জহিরুল হক খান বলেন, বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাহসের আজন্ম সারথি রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল। তাদের দ্রোহ আর প্রেমের মেলবন্ধন জাতীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান শক্তি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষা, সিনিয়র সাংবাদিক শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, আমেনা বিলকিস ময়না প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, অপসংস্কৃতির ভিড়ে শেকড়ের সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা এবং শিশুদের হৃদয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনা গেঁথে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।
সাতক্ষীরায় প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ক্ষুদে শিল্পীরাও। প্রবীণ ও নবীনসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই উৎসব জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নাজমুল/আমান