কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতা শহর জুড়ে রবীন্দ্রচর্চার নানান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যেই শনিবার (১৬ মে) বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ সভাগৃহে অনুষ্ঠিত হল ‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক একটি বিশেষ অনুষ্ঠান।
সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানট (কলকাতা) এবং কথাশিল্প আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল আলোচনার বিষয় ছিল 'রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞান চেতনা'।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র-গবেষক ড. মীনাক্ষী সিংহ।
তিনি তার সুচিন্তিত বক্তব্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, শিক্ষা-ভাবনা এবং গভীর মানবতাবাদের সঙ্গে তার বিজ্ঞানমনস্কতার নিবিড় সম্পর্কটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলেন।
ড. সিংহ উল্লেখ করেন, কবির কাছে বিজ্ঞান কেবল ল্যাবরেটরি বা পুঁথিগত জ্ঞানচর্চার বিষয় ছিল না, বরং তা ছিল সামগ্রিক মানবসভ্যতার মুক্তির অন্যতম প্রধান পথ।
এই বিশেষ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক শ্যামল চক্রবর্তী এবং বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের কর্মসচিব ড. শতাব্দী দাস চট্টোপাধ্যায়।
রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন প্রবন্ধ, চিঠিপত্র এবং বিশেষত তার 'বিশ্বপরিচয়' গ্রন্থের উদাহরণ টেনে কবির যুক্তিবাদী ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির নানাবিধ দিক দর্শকদের সামনে তারা মেলে ধরেন।
এই মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় ছায়ানটের সভাপতি সোমঋতা মল্লিকের কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে।
সোমঋতার কণ্ঠে 'বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি', 'কার মিলন চাও বিরহী', 'বহে নিরন্তর অনন্ত আনন্দধারা' দর্শকদের মুগ্ধ করে।
উদ্বোধনী সঙ্গীতের পর পর্যায়ক্রমে আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করেন আমন্ত্রিত শিল্পীরা।
কথাশিল্প আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের ছাত্রছাত্রীদের সমবেত আবৃত্তি পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে।
পাশাপাশি গান্ধর্বী ও কলাবতী সঙ্গীত বিদ্যালয়ের শিল্পীদের সুনির্বাচিত রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন অনুষ্ঠানটিকে সুমধুর করে তোলে।
শিশুশিল্পী জয়স্মিতা ঘোষ, প্রাযুক্তা চক্রবর্তী, স্বপ্নিকা দাস রায়, স্বর্ণিকা দাস রায়ের কণ্ঠে রবীন্দ্র কবিতা অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানে এককভাবে বিশ্বকবির কবিতা উচ্চারণ করেন উৎপল চৌধুরী, দেবযানী বিশ্বাস, তাপসী হালদার, ইন্দ্রাণী চৌধুরী, পারমিতা চৌধুরী, পিয়ালী ঘোষ, স্নেহা ঘোষ, কুমকুম সাহা, সবিতা ঘোষ, অর্পিতা জানা সাহু, নবনীপা রায়।
কবিপক্ষে রবীন্দ্র সাহিত্য, কবিগুরুর সুদূরপ্রসারী বিজ্ঞানচিন্তা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের এমন অপূর্ব মেলবন্ধন উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে এক দারুণ উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে, যা অনুষ্ঠানটিকে সফল করে তোলে।
এসএন/