যানজট ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা। এ শহরে যানজট নতুন কিছু নয়। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে এই যানজটের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। অনেকে এই যানজট এড়াতে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। বিশেষত অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবার কারণে মোটরসাইকেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে যানজটে মোটরসাইকেল চালানোর সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
অযথা হর্ন না বাজানো
যানজটে আটকে পড়লে অযথা হর্ন বাজানো মোটেও উচিত নয়। যানজটের কারণে অনেক সময় রাস্তায় বাইকের জন্য ছোট্ট একটা লেন তৈরি হয়ে যায়। সেই লেন দিয়ে বাইকাররা যাওয়া চেষ্টা করেন। তবে সিএনজি অটোরিকশা বা ব্যক্তিগত গাড়ির কারণে সেখানে এগোনো সম্ভব হয় না। এ সময় অনেক বাইকার অধৈর্য হয়ে হর্ন বাজাতে থাকেন, যা অন্যদের জন্য বিরক্তিকর। মনে রাখতে হবে, যানজট সবার জন্যই সমস্যা। তাই হর্ন বাজানোর পরিবর্তে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই শ্রেয়।
ফুটপাত এড়িয়ে যাওয়া
ফুটপাত পথচারীদের জন্য, বাইকের জন্য নয়। যানজটে আটকে পড়লে অনেক চালক ফুটপাত দিয়ে বাইক চালানোর চেষ্টা করেন। এতে পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে চাইলে বাসা বা অফিস থেকে কিছুটা আগে বের হওয়া উচিত। এটি ফুটপাত দখলের মতো অনৈতিক কাজ থেকে বিরত রাখবে।
সিগন্যাল মানা
যেকোনো সড়ক আইন বা ট্রাফিক সিগন্যাল যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। সিগন্যাল দেওয়ার পর বাইক থামানো আবশ্যক। সিগন্যাল অমান্য করে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
রাস্তায় নির্ধারিত জায়গায় থামা
জেব্রা ক্রসিং হলো পথচারীদের জন্য নির্ধারিত যাতায়াত পথ। সিগন্যালের সময় জেব্রা ক্রসিংয়ের সামনে সাদা রেখার আগে বাইক থামাতে হবে। জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর বাইক থামানো উচিত নয়, কারণ এতে পথচারীদের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা
যেকোনো সময় ট্রাফিক পুলিশের সংকেতে থামতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাইকের রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স ও ইনস্যুরেন্সের কাগজপত্র সঙ্গে থাকা জরুরি। কাগজপত্র ঠিক না থাকলে জরিমানা বা আইনগত জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা
যানজটে সামনের যানবাহন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। হঠাৎ ব্রেক করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে এই দূরত্ব সাহায্য করে। একইভাবে পেছনের বাইকের সঙ্গে ধাক্কা লাগা প্রতিরোধেও এটি কার্যকর।
যানজটে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা
যদি যানজট দীর্ঘায়িত হয়, সেক্ষেত্রে বাইকের ইঞ্জিন বন্ধ রাখা উচিত। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হয় ও পরিবেশের দূষণ কমে যায়।
নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা
বড় যানবাহন যেমন বাস ও ট্রাক থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ। কখনো বাস বা ট্রাকের ব্লাইন্ড জোনে বাইক নিয়ে দাঁড়াবেন না। ব্লাইন্ড জোনে থাকলে চালক আপনাকে দেখতে পারবেন না, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
ধীরগতিতে চালান
যানজটের ভেতর দ্রুতগতিতে বাইক চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুতগতির বাইক বা বড় যানবাহনের জন্য পথ ছেড়ে দিন এবং নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন। যানজটে শুধু সময়ের অপচয় হয় না, এটি বড় নিরাপত্তাঝুঁকিও তৈরি করে। তবে ধৈর্য ও সঠিক নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে এ ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বাইকারদের উচিত দায়িত্বশীল আচরণ করা।