ছবি: সংগৃহীত
পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ অন্যরকম হয়ে থাকে। তবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার আগে গাড়ির অবস্থা পরীক্ষা করা জরুরি। মাঝপথে গাড়ি বিকল হলে পুরো আনন্দ মাটি হতে পারে। তাই যাত্রার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করে নিলে ভ্রমণ হতে পারে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক।
ভ্রমণের শুরুতে গাড়ির ইঞ্জিন অয়েল, ব্রেক ফ্লুইড, কুল্যান্ট এবং উইন্ডশিল্ড ওয়াইপার ওয়াটার পরীক্ষা করুন। ইঞ্জিন অয়েল কম থাকলে বা পরিবর্তনের সময় হলে তা বদলে নিন। দীর্ঘ যাত্রায় ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া রোধ করতে কুল্যান্টের ভূমিকা অপরিসীম। রেডিয়েটরে কুল্যান্টের পরিমাণ ঠিক আছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।
গাড়ির টায়ার যাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সব টায়ারের এয়ার প্রেশার বা বাতাসের চাপ পরীক্ষা করুন। টায়ারে কোনো লিক, ফাটল বা ক্ষয় আছে কি না, তা ভালোভাবে দেখে নিন। দীর্ঘ ভ্রমণের সময় গাড়িতে অতিরিক্ত মালামাল থাকে, তাই সঠিক টায়ার প্রেশার বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে গাড়ির অতিরিক্ত চাকা বা স্পেয়ার টায়ারটি ব্যবহারের উপযোগী আছে কি না এবং চাকা পরিবর্তনের টুলসগুলো গাড়িতে আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
নিরাপদ যাত্রার জন্য ব্রেকের কার্যকারিতা যাচাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রেক চাপার সময় কোনো অস্বাভাবিক শব্দ হলে বা ব্রেক কম ধরলে দ্রুত মেকানিকের শরণাপন্ন হোন। এছাড়া গাড়ির হেডলাইট, ব্যাকলাইট, ইন্ডিকেটর এবং ফগলাইটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করুন। রাতের বেলা বা কুয়াশায় পরিষ্কার দেখার জন্য সব লাইট ঠিক থাকা আবশ্যক।
গাড়ির ব্যাটারির সংযোগস্থলগুলো পরিষ্কার আছে কি না এবং সেখানে কোনো মরিচা পড়েছে কি না, তা খেয়াল করুন। ব্যাটারির চার্জের অবস্থা দুর্বল মনে হলে তা পরিবর্তন করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। দীর্ঘ যাত্রায় গাড়ির এসি বা এয়ার কন্ডিশনার ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তাও দেখে নিন।
যাত্রার আগে গাড়ির প্রয়োজনীয় সব বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। এর মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট অন্যতম। বর্তমান সময়ে ডিজিটাল বা অনলাইন কপির পাশাপাশি মূল কাগজপত্রের প্রিন্ট কপি গাড়িতে রাখা নিরাপদ।
সবশেষে গাড়িতে একটি ফার্স্ট এইড বক্স, টর্চলাইট, ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার এবং কিছু জরুরি ওষুধ রাখুন। রাস্তায় ব্যবহারের জন্য বোতলজাত পানি এবং শুকনা খাবার সঙ্গে নেওয়া ভালো। এই ছোট ছোট প্রস্তুতি আপনার দীর্ঘ ভ্রমণকে নিরাপদ, আরামদায়ক ও দুশ্চিন্তামুক্ত রাখবে। সঠিক প্রস্তুতিই একটি সফল ভ্রমণের মূল চাবিকাঠি।