ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক তামিম ইকবাল রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল প্রতিশ্রুতি প্রদানে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন স্পিকার ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক গানে আর ফিরবেন না রিংকু ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ শাড়ির নিচে লুকিয়েও রক্ষা পেলেন না তৃণমূল নেতা কুষ্টিয়ায় ধর্ষককে গণধোলাই নোয়াখালীতে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি ধ্বংস, লাখ টাকা জরিমানা টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ এবং শত্রু-মিত্র খেলা এ যেন মাঠ ভরাট নয়, সম্প্রীতির উৎসব শেরপুরে প্রাইভেটকারে মদ, কারবারি আটক টেকনাফে সিএনজি-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, দুই এসআইসহ আহত ৪ নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন মজুরি বাড়াতে দৌলতপুরে বিড়ি শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু রোগীর বেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, রামুতে তিন নারী আটক ৬ নবজাতকের প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা
Nagad desktop

বইমেলার দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচিত ২০ বই

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
বইমেলার দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচিত ২০ বই

প্রতিটি বই এক একটি পৃথিবী। বই হলো বিনোদন ও শিক্ষার মাধ্যম। আর বইমেলা হলো জ্ঞানের উৎসব। এই উৎসবে অক্ষরের পর অক্ষর বসিয়ে শব্দ তৈরিতে, আর লিখিত শব্দগুলো একটি সেতুতে পরিণত হয়। 
যা আমাদের সাহিত্যযাত্রার অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকে সংযুক্ত করে। আমাদের জনগণের চেতনা সংরক্ষণ, উদযাপন এবং বিশ্বের সঙ্গে সেতু তৈরি করে বইয়ের পাতা...

নির্বাচিত নাটক 
মুনীর চৌধুরী
রামেন্দু মজুমদার (সংকলন ও সম্পাদনা)
শ্রেণি: নাটক ও নাট্যতত্ত্ব
প্রকাশনী: বাংলা একাডেমি
প্রকাশকাল: জুন ২০২৫
পৃষ্ঠা: ২৭০, মূল্য: ৫৬০ 

 

বর্তমান সংকলনে মুনীর চৌধুরীর পূর্ণাঙ্গ ও একাঙ্ক মিলিয়ে মোট আটটি নাটক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নাটকগুলোর রচনাকাল ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৯। তাঁর নাট্যরচনার বৈচিত্র্যের উদাহরণ হিসেবে নাটকগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ও একাঙ্ক মৌলিক নাটকে তাঁর সৃষ্টিশীলতার পরিচয় যেমন আমরা পাই, একইভাবে দৃষ্ট হয় অনুবাদ-রূপান্তরেও তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন। নাটকগুলোর সংলাপে বহু-অর্থময়তা, কৌণিক দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্রানুগত্যের সঙ্গে হাস্যরসও অনবরত যুক্ত হয়েছে। মুনীর চৌধুরীর প্রাগ্রসর জীবনদর্শন ও চারিত্রিক ঔদার্যের আলোকে রচিত ‘নির্বাচিত নাটকে’র এ সংকলন পাঠক-দর্শক-গবেষককে বিমোহিত করবে–এ আমাদের দৃঢ় প্রতীতি।

কয়েকটি নদী ও 
একটি সমুদ্র
জহির রায়হান, কাজী জাহিদুল হক (সম্পাদনা)
শ্রেণি: শিল্প ও সংগীত ব্যক্তিত্ব
প্রকাশনী: প্রথমা প্রকাশন
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ৬৩, মূল্য: ২২০ 

 

মাত্র ৩৬ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে জহির রায়হান শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা অঙ্গনে অতুলনীয় সৃষ্টিশীলতার পরিচয় রেখে গেছেন। জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র গল্পগ্রন্থ সূর্যগ্রহণ। তাঁর ছোটগল্পের বড় অংশই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে মৃত্যুর পর। এরপরও অব্যাহত অনুসন্ধানে অগ্রন্থিত তাঁর বেশ কয়েকটি গল্পের সন্ধান পাওয়া গেছে। ১৯৫৫ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত এমন পাঁচটি গল্প নিয়ে বর্তমান সংকলন। ওই কালপর্বের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমিতে লেখা এই গল্পগুলোতে মানুষের জীবনসংগ্রাম, ক্ষুধা, মহাজনি শোষণ, মানসিক টানাপোড়েন, সমাজে নারীর ভঙ্গুর অবস্থান, প্রেম ও মৃত্যুর মতো বিষয়গুলো লেখকের নিখুঁত সমাজবীক্ষণ ও নিপুণ শৈল্পিক দক্ষতায় উঠে এসেছে।


দ্বি-জাতি তত্ত্বের 
সত্য-মিথ্যা
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
শ্রেণি: রাজনীতি
প্রকাশনী: সময় প্রকাশন
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ২০৮, মূল্য: ৪০০ 

 

দ্বি-জাতি তত্ত্ব একটি রাজনৈতিক ধারণা। ধারণাটি বাস্তবিক চেহারা নিয়েছিল উপমহাদেশে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের সময়ে। তত্ত্বটি কিন্তু মোটেই সত্য ছিল না। আসলে ভারতবর্ষ একটি বা দুটি নয়, ছিল বহুজাতির উপমহাদেশ। সেই সত্যটিকে আড়াল করে সম্প্রদায়কেই জাতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। ফলে মুক্তির সংগ্রাম আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার নামে দেশভাগ হয় ওই দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতেই। পূর্ববঙ্গবাসীর কাছে তত্ত্বের মিথ্যাটি ধরা পড়তে বিলম্ব ঘটেনি। তারা ওই মিথ্যার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে ১৯৭১ সালে দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়। একাত্তরে দেশ স্বাধীন হয়েছে; স্বপ্ন ছিল অর্থনৈতিক দ্বি-জাতি তত্ত্ব মিথ্যা হয়ে যাবে। কিন্তু তেমনটি ঘটেনি। উল্টোটাই বরং বাস্তবিক সত্য হয়ে উঠেছে। শ্রেণিবৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ বৈষম্য সৃষ্টির মূলে রয়েছে পুঁজিবাদ। বাংলাদেশে যে উন্নয়ন ঘটেছে সেটি পুঁজিবাদী ধারায়। পুঁজিবাদকে বিদায় করতে না পারলে অর্থনৈতিক দ্বি-জাতি তত্ত্বের বাস্তবতা দূর হবে না এবং পুঁজিবাদ কিছুতেই বিদায় নেবে না সামাজিক বিপ্লব ছাড়া।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক
বদরুদ্দীন উমর
শ্রেণি: প্রবন্ধ
প্রকাশনী: বাতিঘর
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ১৭৬, মূল্য: ৪৫০

 

১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের পর বঙ্গদেশের ভূমিস্বত্ব ও উৎপাদন সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটে। কৃষকদের মধ্যে নিজেদের অধিকারবোধও জাগ্রত হয়। এ অধিকারবোধের ফলে পরবর্তীকালে তেভাগা আন্দোলনসহ অনেক কৃষক সংগ্রামের সূচনা হয়। জমিদারপ্রথারও বিলুপ্তি ঘটে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক বইতে বদরুদ্দীন উমর উপরিউক্ত পটভূমিতে আঠারো শতকের শেষ দশক থেকে বিশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত বঙ্গদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছেন। মোগল ভারতের ভূমিব্যবস্থা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি প্রাপ্তির প্রসঙ্গও আলোচিত হয়েছে। এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় বইটি অসাধারণ দলিল হিসেবে বিবেচ্য।

জর্নাল ২০০০-২০১৫
হাসনাত আবদুল হাই
শ্রেণি: দিনলিপি
প্রকাশনী: প্রথমা প্রকাশন
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পৃষ্ঠা: ৪২৮, মূল্য: ১৫০০ 

 

একই সঙ্গে দিনপঞ্জি, সাহিত্যালোচনা, শিল্পবিচার, চলচ্চিত্র বর্ণনা, ইতিহাসের কথা, দর্শনচিন্তা, সমকালের রাজনীতি, ভ্রমণকাহিনি এবং আত্মজৈবনিক আলাপ নিয়ে এ বইয়ের কোনো একটি নামকরণ সহজ নয়; ‘জর্নাল’ বলা যায় কেননা, জর্নাল ঠিক দিনপঞ্জি নয় যে জন্য এর ভেতর আসতে পারে বিবিধ বিষয়, এমনকি একটি উপন্যাসের সংক্ষিপ্তসার, যে সব নিয়ে এ ব্যতিক্রমী বই। বেতনভুক কর্মজীবন থেকে অবসরে গিয়ে লেখক বিশ্রাম নেননি, শুরু করেছেন আরেক কর্মজীবন, যে জীবন রুটিন বলে ধরাবাঁধা কিছু নেই, আছে তার নিজের অভিরুচি অনুযায়ী সময় যাপন। দ্বিতীয় এই জীবনে তিনি পড়েছেন দেশি-বিদেশি লেখকের অনেক বই, লিখেছেন বিচিত্র বিষয়ে, দেখেছেন কাছে এবং দূরের চিত্রনির্মাতাদের সিনেমা, অংশ নিয়েছেন দেশের চিত্রশিল্পীদের প্রদর্শনীতে, ভ্রমণ করেছেন দেশের ভেতরে এবং বাইরে, সহ্য করেছেন মৃত্যুশোক এবং অস্তিত্বসংহারী সংকট, অশীতিপর হওয়ার পরও সচেষ্ট থেকেছেন বোধ ও বোধিকে সক্রিয় রেখে সৃজনশীল থাকতে। বিচিত্র অভিজ্ঞতার বয়ান এই বই- জর্নাল, লেখকের দ্বিতীয় জীবনের আলেখ্য।

অমূল্য কথা গল্প যথা
হাশেম খান (চিত্রশিল্পী)
শ্রেণি: উক্তি, বাণী ও প্রবাদ-প্রবচন
প্রকাশনী: কথাপ্রকাশ
প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০২৫
পৃষ্ঠা: ২৪০, মূল্য: ৫০০ 

 

যে ব্যক্তি গরিব-দুঃখীর আর্তনাদ শুনে কান বন্ধ করে রাখে সেও একদিন আর্তনাদ করবে; কিন্তু কেউ শুনবে না–হজরত সোলায়মান (আ.)। তিনটি জিনিসের মূল্য তিন শ্রেণির মানুষ ভালো বুঝতে পারে। যৌবনের মূল্য বোঝে বৃদ্ধ, স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বোঝে অসুস্থ মানুষ এবং সম্পদের প্রয়োজনীয়তা বোঝে অভাবী মানুষ–ওমর খৈয়াম। বিদ্যা সহজ, শিক্ষা কঠিন। বিদ্যা আবরণে আর শিক্ষা আচরণে–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সবাই পৃথিবীকে বদলানোর কথা ভাবে কিন্তু কেউই নিজেকে বদলানোর কথা ভাবে না–লিও তলস্তয়। এমন সব অমূল্য কথা ও কিছু হাসির গল্পের, মানবিক গল্পের সংকলন এই গ্রন্থ। এমন একটি গ্রন্থ হতে পারে আপনার শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনে সার্বক্ষণিক বন্ধু।

মজলুম জনতার মওলানা ভাসানী ও অন্যান্য প্রবন্ধ
ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন
শ্রেণি: প্রবন্ধ
প্রকাশনী: কণ্ঠধ্বনি প্রকাশনী
প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০২৫
পৃষ্ঠা: ৯৬, মূল্য: ২৫০ 

 

সংকলিত ছয়টি প্রবন্ধ এ দেশের সমা ও রাজনীতিতে সব অসাম্প্রদায়িক মানুষের কথা বলা হয়েছে, এমন দাবি থাকছে না। তবে দুজন ব্যক্তিত্বের কর্মকাণ্ডে যে অসাম্প্রয়িকতা প্রতিফলিত তার চুম্বুক কথা আছে। সুতরাং বইটি প্রতিনিধিত্বমূলক। কিছু সাম্প্রদায়িক মানুষ ছাড়া এ দেশের সব মানুষই অসাম্প্রদায়িক।

ত্রিপুরা ১৯৭১
হারুন হাবীব
শ্রেণি: মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস
প্রকাশনী: নালন্দা
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ১০২, মূল্য: ৩০০ 

 

ত্রিপুরার মাটি বাংলাদেশকে জন্মঋণে আবদ্ধ করেছে। পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণ-নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রায় ১৫ লাখ বাঙালি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছে সে সময়ের ১৫ লাখ মানুষের ক্ষুদ্র ভারতীয় রাজ্যে। দেশত্যাগী বিশাল সে উদ্বাস্তু অসহায়কে আগলে রেখেছে ত্রিপুরাবাসী পরম মমতায়। শুধু আগরতলা নয়, ত্রিপুরার পাহাড়, সমতল, গ্রাম, শহর ও গঞ্জ সয়লাব হয়েছে অগণিত শরণার্থীর জনস্রোত এবং মুক্তিবাহিনীর দৃঢ় পদভারে। স্কুল, কলেজ, সরকারি- বেসরকারি অফিস পরিণত হয়েছে রিফিউজি ক্যাম্পে, হাসপাতালগুলো ভরে উঠেছে শতসহস্র দেশত্যাগী নারী-পুরুষে। রাজ্যের গণমানুষ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, শ্রমজীবী, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের অবিস্মরণীয় একাত্মতায় সৃষ্টি হয়েছে সৌহার্দ্যের এক নতুন ইতিহাস! ঐতিহাসিক সে ঘটনাপ্রবাহ প্রথমবারের মতো উঠে এসেছে মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক হারুন হাবীবের ‘ত্রিপুরা ১৯৭১’ উপন্যাসে। উপন্যাসটি সুবর্ণরেখায় ধারাবাহিক প্রকাশিত হয়েছিল।

কার্ল মার্ক্সের পুঁজি একটি পাঠ পর্যালোচনা
আনু মুহাম্মদ
শ্রেণি: পুঁজিবাদ
প্রকাশনী: প্রথমা প্রকাশন
প্রকাশকাল: এপ্রিল ২০২৫
পৃষ্ঠা: ২১৬, মূল্য: ৫৫০  

 

উনিশ শতকে পুঁজিবাদ যখন মানব ইতিহাসের আরেক পর্বে নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা, মূলধন সংবর্ধন আর গতিশীলতার নতুন ব্যবস্থা হিসেবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে; তখন নানা অসম্পূর্ণ, ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা থেকে মুক্ত করে পুঁজিবাদের শক্তি ও সংকট উপলব্ধি এবং তার মধ্যে মানুষের মুক্তির লড়াইয়ের ক্ষেত্র শনাক্ত করার কাজে হাত দেন ডক্টর কার্ল মার্ক্স। ১৮৫৭ সালে পুঁজি লেখার কাজ শুরু হয়, প্রথম খণ্ড শেষ হয় ১৮৬৭ সালের ১৬ আগস্ট। এর প্রথম ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৮৮৬ সালের শেষে মার্ক্সের মৃত্যুর পর। বর্তমান পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার গতি-প্রকৃতি বুঝতে মার্ক্সের এই গ্রন্থ অধ্যয়ন অপরিহার্য। সেই তাগিদ থেকেই  আনু মুহাম্মদের এই পাঠ পর্যালোচনা। মার্ক্সের পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের পর্যালোচনা করতে গিয়ে লেখক পুঁজি গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের বহুলাংশের তরজমা করেছেন প্রাঞ্জল ও সহজবোধ্য বাংলায়।

প্রজেক্ট ক্যাসিওপিয়া
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
শ্রেণি: সায়েন্স ফিকশন 
প্রকাশনী: জ্ঞানকোষ প্রকাশনী
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ১২০, মূল্য: ২৮০ 

 

মহাকাশ অভিযান প্রজেক্ট ক্যাসিওপিয়ার জন্য মহাকাশচারী নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে এটি বিপজ্জনক এবং অনিশ্চিত অভিযান বলে পৃথিবীতে যারা বন্ধনমুক্ত তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে! পৃথিবীর তিন প্রান্তের তিনজন বন্ধনমুক্ত নারী-পুরুষ এই অভিযানের জন্য নির্বাচিত হয়ে ধীরে ধীরে আবিষ্কার করেছে কেন এই অভিযানটি বিপজ্জনক এবং অনিশ্চিত ও কেন বিজ্ঞপ্তিতে বন্ধনমুক্ত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ‘প্রজেক্ট ক্যাসিওপিয়া’ বইটি ভবিষ্যৎ পৃথিবীর একটি প্রতিচ্ছবি, যখন পৃথিবীর মানুষ ভিন্ন ভিন্ন গ্রহে ছড়িয়ে পড়ে নিজেদের বিচিত্র একটি কালচার গড়ে তুলেছে, তার ভেতর দিয়ে এই বিপজ্জনক অভিযানের ‘বন্ধনমুক্ত’ অভিযাত্রীরা আবিষ্কার করেছে টিকে থাকার জন্য তাদের আবার নিজেদের ভেতর একটি বন্ধন গড়ে তুলতে হবে। ‘প্রজেক্ট ক্যাসিওপিয়া’ বইটি আবার নতুন করে সেই বন্ধন গড়ে তোলার কাহিনি।

১৯৭১ অবরুদ্ধ দেশে স্পার্টাকাস
মুনতাসীর মামুন
শ্রেণি: মুক্তিযুদ্ধের প্রবন্ধ ও সংকলন 
প্রকাশনী: অনন্যা
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ৪০০, মূল্য: ৬০০ 

 

১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা ঘেরাও করা বাংলাদেশে বাঙালিরা কীভাবে বসবাস করেছেন, তা আজকের প্রজন্মের জানা নেই। প্রতিদিন গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের শিকার হওয়া মানুষজন প্রমিথিউসের মতো বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে স্পার্টাকাসের স্পিরিট নিয়ে বেঁচে ছিলেন। সেই ইতিহাস লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম ভাষ্যকার, প্রথিতযশা ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসীর মামুন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চায় এ এক নতুন সংযোজন ৩৯টি অধ্যায়ে সমাপ্ত এ 
এক মহাকাব্য।


বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী ১৯৯৬-২০১০
মতিউর রহমান
শ্রেণি: রাজনীতি 
প্রকাশনী: প্রথম প্রকাশ
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পৃষ্ঠা: ২৫৬, মূল্য: ৪৫০ 

 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে বরাবরই একধরনের সংবেদনশীলতা রয়েছে। এ দেশে সেনাবাহিনী নিয়ে প্রকাশ্যে কখনোই খুব একটা আলোচনা হতে দেখা যায় না; যদিও এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে বেশ খানিকটা কৌতূহল কাজ করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কটি সব সময়ই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। নানা সময়ে ঘটা অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান পেরিয়ে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সম্পর্ক ভিন্ন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। এ অবস্থা কত দিন স্থায়ী হবে, এ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আমাদের করণীয় কী, সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের রাজনীতিতে কতটুকু সম্পৃক্ত হতে পারে–এসব প্রশ্নের মীমাংসা হওয়া বিশেষ জরুরি। আর সে জন্য প্রয়োজন রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা। এই বইয়ে তারই কিছু ইঙ্গিত বা পথনির্দেশ পাঠক পেতে পারেন।


কচদেবযানী
হরিশংকর জলদাস
শ্রেণি: সমকালীন উপন্যাস
প্রকাশনী: অবসর প্রকাশনা সংস্থা
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ১৪৪, মূল্য: ৫০০ 

 

নারীরা কি শুধু প্রতারিত হওয়ার জন্য জন্মায়? কান্নাই কি তাদের শেষ অবলম্বন? শুক্রাচার্যকন্যা দেবযানী কচকে ভালোবেসেছে। বৃহস্পতিপুত্র কচ কি বেসেছে ভালো, দেবযানীকে? কচ শঠতায় মন ভুলিয়েছে আশ্রম-তরুণী দেবযানীর। স্বার্থসিদ্ধির পর দেবযানীর প্রেমকে ধুলায় ছুড়েছে।
এই অপমান সয়ে নিল প্রবঞ্চিত দেবযানী? পুরুষের তৈরি অন্যায়ের প্রাচীর চুরমার করার বৃত্তান্ত নিয়ে হরিশংকর জলদাসের কচদেবযানী। একটা ঋষি-আশ্রম। দুজন নরনারী-কচ আর দেবযানী। মাঝখানে মঞ্জরী নামের স্বর্গ-তরুণী। সঞ্জীবনীবিদ্যা প্রাপ্তির জন্য শঠতা। প্রেমে-প্রতারিত দেবযানী। কার জয় হলো? প্রেমের, না প্রতারণার? এই নিয়েই কচদেবযানী।

জীবনানন্দ দাশ
জীবন ও কীর্তি
ফয়জুল লতিফ চৌধুরী
শ্রেণি: শিল্প ও সংগীত
প্রকাশনী: পাঠক সমাবেশ
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ৩৫০, মূল্য: ৭৯৫

 

তাদেরই একজন, কবি জীবনানন্দ দাশ, কালক্রমে বিংশ শতাব্দীর আধুনিক বাংলা কবিতার প্রতিভূ হয়ে ওঠেন- তার কবিতাবলিতে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার আবশ্যকীয় চারিত্র্য এবং বৈশিষ্ট্যাবলি অনপনেয়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কবি হিসেবে জীবনানন্দ দাশ আপাদমস্তক দার্শনিক হলেও সচেতন ছিলেন যে, কাব্য একটি শিল্প। কবিতার প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত ছিলেন। এ-ও আশ্চর্যজনক যে, জীবনানন্দ দাশ কবিতার সংজ্ঞা নিরূপণের পরিবর্তে প্রশ্ন তুলেছিলেন- কবি কে? তার অবিস্মরণীয় উচ্চারণ: সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি। অর্থাৎ কবিতা রচনার মাহাত্ম্যেই কেউ ‘কবি’ হয়ে যান না। তার মতে কবিতা সত্য ও বাস্তবকে ধারণ করবে এমন নতুনভাবে যেন পাঠক আকাশে নতুন জ্যোতিষ্ক অবলোকনের আনন্দ লাভ করে। কবি জীবনানন্দ দাশের কাব্যভাবনা ও কাব্যজগতের চৌহদ্দি এবং বিশ্ববীক্ষার একটি সামগ্রিক প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা সমস্যাসংকুল কেননা তার অধিকাংশ কবিতা হয় অপ্রকাশিত অথবা অপঠিত রয়ে গেছে। কিন্তু সেই চেষ্টাই নিরলস করে চলেছেন জীবনানন্দ-গবেষক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।

খালেদা
মহিউদ্দিন আহমদ
শ্রেণি: রাজনৈতিক উপন্যাস
প্রকাশনী: অনন্যা
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ৫৪৪, মূল্য: ১০০০

 

খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি উপন্যাস লেখা যায়। তবে তাতে রাজনীতি আসবেই। মুশকিল হলো, এ দেশে অনেকেই ব্যক্তিপূজায় অভ্যস্ত। তারা চান প্রিয় নেতাকে নিয়ে একটি বন্দনাগীতি। অথচ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চোখে তিনি দানব, তার সবটাই মন্দ। এই দুই ধারার পাঠকের মধ্যে পড়ে হিমশিম খেতে হয়। কেউ কেউ প্রশ্ন করেন- এই যে তথ্য দিলেন, এর সূত্র কী? অর্থাৎ কিছু লিখলে সঙ্গে সঙ্গে এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে এই তথ্য নির্ভুল। এটা মনগড়া কেচ্ছা নয়। সেজন্য ব্যবহার করতে হয় সূত্র। আর সূত্র ব্যবহার করলে উপন্যাসের মেজাজ থাকে না। নিজেকে সুরক্ষা দিতে তাই রেফারেন্স-কণ্টকিত একটি রচনা লিখতে হলো। এটি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের আখ্যান।

কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের গ্রন্থকথা
ড. মুহম্মদ এমদাদ হাসনায়েন
শ্রেণি: বই আলোচনা
প্রকাশনী: কণ্ঠধ্বনি প্রকাশনী
প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২৫
পৃষ্ঠা: ৩০৪, মূল্য: ৬০০ 

 

কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের যে-জীবন তা বহুবিধ ও বিচিত্র সৃষ্টিকর্মে আলোকিত। পেশায় আপাদমস্তক সাংবাদিক। নেশায় পুরোদস্তুর লেখক। তিনি জ্ঞানে, প্রজ্ঞায়, সৃষ্টিশীলতায় ধারণ করেছেন বাঙালি মনীষা। মোস্তফা কামালের সৃষ্টিজগৎ বিশাল ও বহুমাত্রিক। ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গবেষণা, গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, কিশোর গোয়েন্দা, রম্য রচনা, শিশুতোষ, টিভি নাটক সবক্ষেত্রে তিনি সমান সক্রিয়। বিশেষত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনব্যাপী ধ্যানের সারথি। এখানেই নিহিত রয়েছে তার জীবন ও সৃষ্টির শক্তিমত্তা ও সার্থকতা। একজন মানুষের বড় পরিচয় বহন করে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-শিক্ষার মাধ্যমে। কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা (১৯৯৩-২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে) যেসব গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা। অনেক ভাঙা-গড়ার সঙ্গে ‘কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের গ্রন্থকথা’ পলিমাটির মতো জেগে উঠবে আলোকচিত্র রূপে ছাপার অক্ষরে স্থায়ী সম্পদ হিসেবে।

মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশ: ব্যক্তিগত নোট ১৯৭১-১৯৭৩
সাজ্জাদ শরিফ
শ্রেণি: মুক্তিযুদ্ধের ডায়েরি, চিঠি ও স্মৃতিচারণ
প্রকাশনী: প্রথমা প্রকাশন
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ১৬৮, মূল্য: ৪২৫

 

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর হাল ধরেছেন তাজউদ্দীন আহমদ। ইতিহাসের তখন অগ্নিগর্ভ সময়। উত্তেজনা ও উদ্বেগে ভরা সেই সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকও চলছে একের পর এক। বৈঠকে প্রত্যেকের কথা তাজউদ্দীন টুকে টুকে রেখেছেন নিজের হাতে। দেশ স্বাধীন হলো, তাঁর নোট নেওয়া থামল না। এখন তিনি দায়িত্ববান অর্থমন্ত্রী। নতুন নির্মীয়মাণ রাষ্ট্রের প্রথম সংসদে, বাজেট অধিবেশনে, নানা উত্থানে-পতনে-সংকটে অব্যাহত রইল তাজউদ্দীনের নোট নেওয়া। নোটের মধ্যে রইল কখনো তাঁর নিজের গুরুত্ব আরোপণ, কখনোবা কারও কথার সূত্রে নিজের চকিত কোনো মন্তব্য। স্বাধীনতার অর্ধশতকেরও পরে আলোর মুখ দেখছে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নায়ক এবং বাংলাদেশের বুদ্ধিদীপ্ত সেই রাজনীতিকের লেখা অজানা ও অমূল্য দলিল। তাজউদ্দীন আহমদের এই ব্যক্তিগত নোট মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ নামে নবীন রাষ্ট্রের সূচনাকালকে নতুন আলোয় উদ্ভাসিত করে তুলেছে।

বৌদ্ধ ভারত
খান মাহবুব (সম্পাদনা)
শ্রেণি: ইতিহাস
প্রকাশনী: ঐতিহ্য
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ১০৪, মূল্য: ২৩০ 

 

‘বৌদ্ধ ভারত’ একটা শতবর্ষের সংস্করণের বই। মূলত ভারতে বৌদ্ধদের অধিগ্রহণ ও শাসন কীভাবে হলো তার সরস বর্ণনা রয়েছে। এক সময়ে ব্রাহ্মণ্যবাদের বাড়াবাড়ি ও শোষণ-পেষণে সমাজে রূঢ়ভাব ক্রিয়াশীল ছিল। বলা প্রয়োজন বৌদ্ধধর্মের অমিয় বাণী সনাতনী ভারতীয় সমাজকে আকৃষ্ট করেছিল। বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ যার জন্ম খ্রিষ্টপূর্ব ৫৬৬ (মতান্তরে ৫৪৩) অব্দে। তিনি উপনিষদের দার্শনিক তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই অনেকটা ধর্ম বা দর্শন প্রচার করেছিলেন। রাজা বিম্বিসার (৫৫৮ খ্রি.পূ.-৪১১ খ্রি.পূ.) তিনিই রাজা হিসেবে গৌতম বুদ্ধের বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। বিম্বসারের পূত্র সম্রাট অশোক। যিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারে কালজয়ী। এ বইতে পরম্পরায় সেই সব বিষয় বিবৃত হয়েছে। জোর দিয়ে বলা যায় তথ্য-তালাশের আলোকে খ্রিষ্ট জন্মের ৬০০ বছর আগে হিন্দু ভারত কীরূপে ধীরে ধীরে বৌদ্ধ ভারতে পরিণত হয়েছিল সেই বিষয়ের আখ্যান জানা যাবে গ্রন্থ পাঠে। নব যোজনাকৃত এই গ্রন্থ ইতিহাসের পাঠ, ধর্ম, দর্শন ও সমাজপ্রবাহ জানার জন্য আবশ্যক। শুধু পাঠ রেফারেন্স নয় জিজ্ঞাসু মনের নানা স্মারক থরে-থরে সাজানো।

প্রেম ও প্রার্থনায় সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
মো. শামীম রেজা
শ্রেণি: প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও গবেষণা/সংকলন
প্রকাশনী: কথাপ্রকাশ
প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০২৫
পৃষ্ঠা: ৩৯৮, মূল্য: ১০০০ 

 

‘মেধা’ আর ‘প্রতিভা’র সংশ্লেষে যার জন্ম তিনি সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। এমন বিরল অসাম্প্রদায়িক প্রতিভাবান কালেভদ্রে কোনো বিদ্বৎসমাজে আবির্ভূত হন মানুষের মঙ্গলের জন্য। মেধাবীরা সমাজ-রাষ্ট্র পরিচালনা করেন; প্রতিভাবানরা বেশির ভাগই ঝরে যান নিজস্ব অহংকারে। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সেই মানুষ, যিনি তার নিকটাত্মীয় সৈয়দ মুজতবা আলীর কাছ থেকে পেয়েছেন মুক্তমনের বহুমাত্রিক সৃজনশীল মানুষ হওয়ার প্রণোদনা। যেমন রসবোধ, তেমনি বাঙালিয়ানা; সৃজনশীল লেখার শৈলী নির্মাণের মধ্যে ঔপনিবেশিক আধুনিকতার ছাপ নেই বললেই চলে। যা দেখেছি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র বিশেষ করে ত্রিশের দশকের পঞ্চপাণ্ডবদের মধ্যে, এই সময়েও যার চর্চা বিদ্যমান। প্রকৃতই তিনি স্বার্থহীনভাবে মানুষকে কাছে টানতে ও ভালোবাসতে পারতেন।

শিলালিপি: বাংলার আরবি-ফারসি প্রত্নলেখমালা
মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিক
শ্রেণি: ইতিহাস ও ঐতিহ্য: গবেষণা ও প্রবন্ধ
প্রকাশনী: প্রথমা প্রকাশন
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ৩০৪, মূল্য: ১৫০০ 

 

ইতিহাসের অনেক তথ্যের উৎস হলো প্রত্নলিপি। পুরোনোকালের নানা তথ্য ও ঘটনা উৎকীর্ণ রয়েছে সে যুগের প্রত্ন বা শিলালিপিগুলোতে। ভবিষ্যতের মানুষের কথা ভেবেই সমকালীন ঘটনার বিবরণ, তথ্য ও বাণী-বিবৃতি লিখে রাখা হতো কঠিন পাথরের গায়ে। বলা বাহুল্য, সে যুগের মানুষের জীবনযাত্রা, চিন্তাচেতনা, ধর্ম ও সংস্কৃতির পরিচয় লাভের পক্ষে এগুলোর উপকরণগত মূল্য অপরিসীম। শিলালিপিতে আরবি-ফারসি ভাষার ব্যবহার দুনিয়ায় প্রথম যে অঞ্চলগুলোতে দেখা যায়, আমাদের বাংলাদেশ তার অন্যতম। বাংলার স্থাপত্য অলংকরণেও এসব শিলালিপির রয়েছে বিশিষ্ট স্থান। লিপিশৈলীর সৌন্দর্য, শৈল্পিক স্ফূর্তি আর রূপের বৈচিত্র্যেও এগুলো অনন্য। শিলালিপি: বাংলার আরবি-ফারসি প্রত্নলেখমালা নামের এ বইটিতে লেখক বাংলা অঞ্চলে প্রাপ্ত আরবি ও ফারসি ভাষায় লেখা শিলালিপির পাঠোদ্ধার ও পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি সেগুলোর ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেছেন।

ভারতের সিলেটভাষী অঞ্চলে যৌথ বইমেলার আহ্বান

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
ভারতের সিলেটভাষী অঞ্চলে যৌথ বইমেলার আহ্বান
সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে চৈতন্য প্রকাশনের প্রকাশকের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেট অঞ্চলের প্রতিবেশী ও সিলেটভাষী হিসেবে ভারতের শিলচর, আগরতলা ও গৌহাটিতে বইমেলার আয়োজন এবং সিলেটের বইমেলায় ভারতের প্রকাশক, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করতে সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে সিলেটে প্রকাশকদের আট দিনব্যাপী বইমেলার প্রেক্ষিতে সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে চৈতন্য প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী প্রকাশক জাহিদুল হক চৌধুরী রাজীব এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাতে দুই বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা শিল্পের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিময় নিয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ভারতের শিলচর, আগরতলা ও গৌহাটিতে আয়োজিত বিভিন্ন বইমেলায় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের প্রকাশকদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা। 

পাশাপাশি সিলেটের বইমেলা ও সাহিত্য আয়োজনগুলোতে ভারতের প্রকাশক, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ও গুরুত্ব পায়।

প্রকাশক রাজীব চৌধুরী বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি মানুষের হৃদয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী সেতুবন্ধন। সীমান্ত ও ভৌগোলিক দূরত্বের ঊর্ধ্বে উঠে বই, ভাষা ও চিন্তার আদান-প্রদান দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও মানবিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে। 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের লেখক, পাঠক, গবেষক ও প্রকাশকরা নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন পাঠকগোষ্ঠী এবং বিস্তৃত সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলগুলোর মধ্যে সাহিত্যিক মেলবন্ধন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মত প্রকাশ করা হয়।

প্রসঙ্গত, সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গত ১০ মে থেকে আট দিনব্যাপী বইমেলা চলছে। প্রকাশক পরিষদ সিলেট আয়োজিত এই মেলাটি চলবে ১৮ মে পর্যন্ত। 

বইমেলার আয়োজন করতে গিয়ে বিগত অন্তবর্তী সরকার আমলে বাধার সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার আমলেও একই রকম বাধার মুখে পড়ে বইমেলা বাতিল করা হয়েছিল। পরে অবশ্য পুলিশ অনুমতি দিলে বইমেলা শুরু হয়।

প্রকাশক জাহিদুল হক চৌধুরী রাজীব খবরের কাগজকে বলেন, সিলেট বইমেলা সফলভাবে সম্পন্নের পর বহির্বিশ্বে সিলেট বইমেলার আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে প্রকাশক পরিষদের। ব্যক্তিগত সৌজন্য সাক্ষাতে এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছি।

অমিয়/

আবারও বইমেলার ধারায় ফিরল সিলেট

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
আবারও বইমেলার ধারায় ফিরল সিলেট
প্রকাশক পরিষদ সিলেটের আয়োজনে গত রবিবার থেকে শুরু হয়েছে আট দিনের বইমেলা। গতকাল সোমবার মেলা প্রাঙ্গণে পাঠকদের ভিড় দেখা যায়। সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে তোলা। ছববরের কাগজ

নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আবারও বইমেলার ধারায় ফিরেছে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়ে ছিল বাধা, পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার এলেও সেই প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত সব বাধা কাটিয়ে আবারও বইমেলার আয়োজনে ফিরেছে নগরীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ।

গত রবিবার বিকেল ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের মুক্তমঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আট দিনব্যাপী বইমেলা। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সভাপতি নাজমুল হক নাজুর সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘আমরা সব সময় সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চাকে উৎসাহিত করি। এতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে আমরা ব্যথিত হই। সিলেটে বইমেলার আয়োজন অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আশা করি, এই বইমেলা প্রতিবছর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে সিটি করপোরেশন সব সময় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।’

বইমেলার প্রথম আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বইমেলার ধারা প্রায় এক দশকের পুরোনো। টিলাভূমির আদলে উঁচুতে নির্মিত শহিদ স্মারকস্তম্ভ ও মাঝখানে রক্তিম সূর্যের নকশায় পুনর্নির্মিত শহিদ মিনার উদ্বোধনের পর থেকেই নগরবাসীর দৃষ্টি কাড়ে। ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে একদল বইপ্রেমী তরুণ সেখানে প্রথম বইমেলার আয়োজন করেন। একটি পাঠক সংগঠনের উদ্যোগে তিন দিনের ছোট পরিসরের সেই আয়োজন পরের বছর ২০১৬ সালে আরও বিস্তৃত হয়। এরপর থেকেই শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে সাহিত্য-সংস্কৃতিজনের মিলনমেলা।

শহিদ মিনারে প্রথম বইমেলার পৃষ্ঠপোষক ছিল সিলেট মডেল লাইব্রেরি। পরে যুক্ত হয় সিটি করপোরেশন। প্রথম বইমেলার অন্যতম সংগঠক মোমেন মিয়া বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আর পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান সিলেট মডেল লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান দেশেই আছেন।

তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘সেই আয়োজনের পর যতবার বইমেলা হয়েছে, ততবারই গর্ববোধ করেছি। কারণ বইমেলার মতো একটি সৃজনশীল আয়োজনের শুরুতে আমারও অংশগ্রহণ ছিল।’

করোনাকালেও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বইমেলার ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েনি। তবে বইমেলার পরিসর বড় করতে প্রকাশক পরিষদ উদ্যোগী হলে একটি মহল নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলকে কেন্দ্র করে প্রকাশক পরিষদকে বইমেলার আয়োজন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলে। গত দুই বছর দফায় দফায় উদ্যোগ নিয়েও বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। এমনকি নির্বাচিত সরকার আমলেও অনুমতি দিয়ে পরে তা বাতিল করা হয়েছিল। অবশেষে পুনরায় অনুমতি মেলায় গত ১০ মে থেকে শুরু হয় বইমেলা।

প্রকাশনা জগৎ পুরোনো হলেও সিলেটে প্রকাশকদের সাংগঠনিক যাত্রা নতুন। ২০২৩ সালের ১৫ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় প্রকাশক পরিষদ সিলেট। এবারের বইমেলায় অংশ নেওয়া সদস্যভুক্ত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে দোআঁশ, মাছরাঙা, নাগরী, পাপড়ি, গ্রন্থকুটির, ঘাস, দ্যু, গাঙুর, চৈতন্য, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন, চিলেকোঠা, কালান্তর, স্বরবর্ণ, গ্রন্থিক, নোভা, স্বপ্ন ৭১, পাণ্ডুলিপি ও বুনন।

আগামী ১৮ মে পর্যন্ত চলবে বইমেলা। গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক সুফি সুফিয়ান জানান, প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলাকালে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, নাটক মঞ্চায়নসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে। গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজনে ছিল সংগীত পরিবেশনা ও নতুন বই প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা।

কোথায় হারালো লাল কাঁকড়া সান্দ্রা?

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
কোথায় হারালো লাল কাঁকড়া সান্দ্রা?
লাল কাঁকড়ার বাড়ি

ভোরের সূর্য উঁকি দিতেই ঘুম ভাঙে ছোট্ট লাল কাঁকড়ার। ঝুঁটি করা শিং দুটো আহ্লাদে নাড়ায়। ওর নাম সান্দ্রা।
মায়ের দিকে তাকায় সে। গভীর ঘুমে মা-বাবা। শব্দ না করে আস্তে আস্তে গর্ত থেকে মাথা বের করতেই মা ঘুমজড়ানো গলায় বলেন,
‘সান্দ্রা, বেশিদূর যেও না। আশেপাশেই থাকবে। আজকাল সৈকতে মানুষের খুব আনাগোনা বেড়েছে।’
আচ্ছা, সে যে বাইরে যাবে—এটা মা কীভাবে বুঝল?
মায়েরা তো সবই বুঝে যায়!
বেশি দূর না যাওয়ার অঙ্গীকার করে গর্ত থেকে বেরিয়ে পড়ে সান্দ্রা। তাকে দেখেই পিলপিল করে ছুটে আসে মারি—সান্দ্রার বন্ধু। আট পায়ের ছাপে বালুর ওপর আঁকে যেন আলপনা। পিলপিল করে দৌড়ায় তারা, খিলখিল করে হাসে। তাদের হাসিতে দুলে ওঠে ঝাউবন।
এরপর? শেষ হয়ে যায় খেলা। সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা লাবি আর শ্রেয়ের বাবার ঝুড়িতে ধরা পড়ে সান্দ্রা।
এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছ—সান্দ্রা একটি কাঁকড়া। লাল কাঁকড়া। মায়ের কথা না শুনে সৈকতে চলে এসেছিল সে, আর ধরা পড়ে মানুষের হাতে। তবে জানো কী? সেই মানুষ—শ্রেয় ও লাবিদের পরিবার—খুব ভালো। তাই তারা সান্দ্রাকে আবার ছেড়ে দেয়।
আসলে মানুষ কাঁকড়া ধরে খাওয়ার জন্য। তাই কাঁকড়ারা মানুষকে ভয় পায়, তাদের থেকে লুকিয়ে থাকে। কাঁকড়া সান্দ্রা, তার পরিবার আর লাবি-শ্রেয়দের পরিবারকে নিয়ে চমৎকার এক গল্প লিখেছেন লেখক আহমেদ মুশফিকা নাজনীন।
সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়ে তোমরা হয়তো বালিতে কাঁকড়াদের নানান নকশা করতে দেখেছ। আট পায়ের এই সুন্দর প্রাণীটিকে দেখে চমকিত হয়েছ। বাবা-মায়ের সঙ্গে মজা করে খেয়েছ কাঁকড়া ফ্রাইও। কিন্তু এই ছোট্ট প্রাণীটিকে নিয়ে কখনো ভেবেছ কি?
মানুষ দেখলে কেন ভয়ে বালির গর্তে লুকিয়ে পড়ে কাঁকড়ারা? কেন মানুষ তাদের ধরে নিয়ে খায়? মানুষ আর প্রকৃতি কি বন্ধু হতে পারে না?—এমন প্রশ্নগুলোই ভেবেছেন আহমেদ মুশফিকা নাজনীন।
এসব ভাবনা নিয়েই তিনি লিখেছেন শিশুতোষ গল্পের বই ‘লাল কাঁকড়ার বাড়ি’।
বইটিতে দেখা যায়, ছোট্ট লাল কাঁকড়া সান্দ্রা ধরা পড়ে শ্রেয়দের হাতে। পরে নানা বুদ্ধি করে সে আবার ফিরে আসে সৈকতে। লাবি-শ্রেয়ের বাবা তাকে সাহায্য করেন। তারা বুঝতে পারেন, এভাবে কাঁকড়া ধরা ঠিক নয়। প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণীরাও একে অন্যকে সাহায্য করে—যেমনটি আমরা টিকটিকি ও মশার ক্ষেত্রে বইটিতে দেখি।
শিশুমনে প্রকৃতির প্রতি মায়া জাগাতেই এই গল্প লেখা। গল্পটি চমৎকার আঙ্গিকে বই আকারে প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড। এর প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন তাপস সরকার।
তোমাদের যাদের বয়স দশ বা তার বেশি, তারা পড়ে ফেলতে পারো ‘লাল কাঁকড়ার বাড়ি’ বইটি। আর হারিয়ে যেতে পারো সান্দ্রার রঙিন জগতে।

মেলার মুখ এবারের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রস্তুতির ভিত্তি হয়ে উঠুক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
এবারের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রস্তুতির ভিত্তি হয়ে উঠুক
দীপংকর দাশ

এবারের একুশে বইমেলা যেন একধরনের দ্বিধা ও অনিশ্চয়তার আবহে পথচলা শুরু করেছিল। বইমেলা নিয়ে নানা শঙ্কা-সংশয়ের কারণে লেখক, প্রকাশক–কেউই খুব একটা প্রস্তুত হতে পারেননি। এমনকি আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলা একাডেমির প্রস্তুতিতেও ঘাটতি চোখে পড়েছে বলে অনেকেই মনে করেছেন। তবু সব অনিশ্চয়তার মাঝে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে, এও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তবে এই শঙ্কার কারণে পাঠকরাও বিভ্রান্ত হয়েছেন। ২১ ফেব্রুয়ারিসহ বিশেষ দিনগুলোতে পাঠকরা অনেকে মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে গেছেন। সার্বিকভাবে এবারের মেলায় পাঠকের উপস্থিতি কম, বিক্রিও আশাব্যঞ্জক নয়। এ ছাড়া মেলার শেষ দিকে হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে প্রকাশকরা অর্থনৈতিকভাবে বিরাট ধাক্কা খেলেন। অনেকের পক্ষে হয়তো ঘুরে দাঁড়ানোই কষ্টকর হবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নীতি গ্রহণ করা জরুরি। সরকারি উদ্যোগে ভালো বই কেনা, স্কুল-কলেজে বই পড়া উৎসাহিত করা, পাঠাগারগুলোর কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নিয়মিত বইমেলার আয়োজন করা–এ রকম নানা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বই পড়ার সংস্কৃতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের বইমেলার অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে আগামী বইমেলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

রয়্যালটি নিয়ে মাঝে মাঝে কিছু অভিযোগ শোনা যায়। তবে অনেক সময় যেসব বই খুব বেশি বিক্রি হয় না কিংবা যেসব বই লেখক নিজ খরচে প্রকাশ করেন, সেসব ক্ষেত্রে এই ধরনের অভিযোগ বেশি ওঠে। তবে পেশাদার লেখকদের ক্ষেত্রে রয়্যালটি একটি স্বাভাবিক ও স্বীকৃত প্রক্রিয়া। প্রকাশনা জগতে তা যথাযথভাবেই অনুসরণ করা হয়। এ ধরনের সমস্যা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো–লেখক ও প্রকাশকের মধ্যে স্পষ্ট চুক্তি থাকা। লিখিত চুক্তি থাকলে উভয় পক্ষের স্বার্থই সুরক্ষিত থাকে এবং ভুল-বোঝাবুঝির অবকাশ কমে যায়।

বাতিঘর প্রতিবছর বইমেলা শেষ হওয়ার পর পরই পরবর্তী বইমেলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। আমাদের চেষ্টা থাকে সারা বছরই নতুন বই প্রকাশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার। পাঠকের রুচি ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ভালো মানের পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করা হয়। পাণ্ডুলিপি যাচাই, সম্পাদনা, প্রুফ সংশোধন এবং প্রকাশ উপযোগী করে তোলার প্রতিটি ধাপেই আমরা যত্নবান থাকার চেষ্টা করি।

তবু এটি সত্যি যে, বর্তমানে সত্যিকারের ভালো মানের লেখার বড় অভাব। নানা অনিশ্চয়তা ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে এবারের বইমেলায় বাতিঘর ৪০টির মতো বই প্রকাশ করেছে। বাতিঘর প্রকাশনার পাশাপাশি যেহেতু পরিবেশকও, তাই আমরা চেষ্টা করি বইকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে। নিজস্ব কয়েকটি আউটলেটের মাধ্যমে আমরা সরাসরি পাঠকের কাছে পৌঁছাচ্ছি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও আমরা আউটলেট করেছি। এ ছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে আমরা পাঠকের কাছে সহজেই পৌঁছে যাচ্ছি।

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যেসব পাঠক ও ক্রেতা বইমেলায় আসছেন এবং বই কিনছেন, তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। পাঠকদের বলব, শুধু বইমেলাকে কেন্দ্র করে নয়, সারা বছর বই কিনুন এবং প্রিয়জনদের উপহার দিন। 

দীপংকর দাশ: স্বত্বাধিকারী, বাতিঘর। অনুলিখন: মুসতাক মুকুল।

শেষ মুহূর্তে বই সংগ্রহে মনোযোগী পাঠক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
শেষ মুহূর্তে বই সংগ্রহে মনোযোগী পাঠক
ছবি: খবরের কাগজ

আগের রাতের ঝোড়ো হাওয়া আর শিলাবৃষ্টির ক্ষত তখনো মেলা প্রাঙ্গণের সর্বত্র চোখে পড়ছিল। কোথাও জমে থাকা পানি, কোথাও প্যাচপেচে কাদা। কিন্তু প্রতিকূল প্রকৃতি হার মেনেছে বইপ্রেমীদের কাছে। 

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কর্দমাক্ত মাঠ মাড়িয়েই পাঠকদের ঢল নামে অমর একুশে বইমেলায়। মেলার শেষভাগে এসে নতুন বইয়ের ঘ্রাণে সব বাধা জয় করে মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলেন লেখক-পাঠক দর্শনার্থীরা।

মেলার মাঠের এখানে-ওখানে কাদা জমে গেলেও তা দমাতে পারেনি বই কেনা। বরং সন্ধ্যার পর ইফতার শেষে তরুণদের দলবেঁধে স্টলে স্টলে ঘোরার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

কথা হয় এক তরুণ পাঠকের সঙ্গে। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘মেলার শেষ সময় চলে এসেছে। আবহাওয়া যা-ই হোক, বছরের এই প্রিয় সময়টাতে নতুন বইগুলো সংগ্রহ না করলে চলে না। এবার দারুণ সব বই এসেছে, পছন্দের তালিকা থেকে যতটা সম্ভব সংগ্রহ করছি।’

বৃষ্টির কারণে কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিকেলের কড়া রোদে বই শুকানোর পাশাপাশি পাঠকদের সেবা দিতে তৎপর ছিলেন কর্মীরা। বিদ্যাপ্রকাশ, পুঁথিনিলয়সহ ক্ষতিগ্রস্ত স্টলগুলোর আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণে কাজ করতে দেখা গেছে বাংলা একাডেমির কর্মীদের।

এবারের মেলায় সবচেয়ে আশার দিক ছিল তরুণ পাঠকদের আগ্রহের পরিবর্তন। কেবল ফিকশন নয়, সিরিয়াস গবেষণা ও সমকালীন সাহিত্যের খোঁজে বিভিন্ন স্টলে তরুণদের আনাগোনা বেশি ছিল। প্রকাশকরা বলছেন, তরুণ প্রজন্মের পাঠাভ্যাসের এই পরিবর্তন মেলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

শিশুদের জন্য খোলা মঞ্চের পাশে রোদে বই শুকাতে দেখা গেলেও শিশু চত্বরে শিশু-কিশোরদের ভিড় কমেনি। মেলার শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় পাঠকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই জানান দিচ্ছে–সব দুর্যোগ ছাপিয়ে বইয়ের জয়গানই অমর একুশে বইমেলার শেষ কথা।

কাদামাখা পথ পেরিয়ে বিদ্যাপ্রকাশের স্টলে বৈকালিক আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল ও মোহিত কামাল। সময় প্রকাশনের স্টলের সামনে দেখা মিলল রহস্য-রোমাঞ্চ লেখক দীপু মাহমুদের। তিনি স্টলের অবকাঠামো নিয়ে কয়েকজন তরুণের সঙ্গে কী যেন শলাপরামর্শ করছিলেন।

গতকাল অমর একুশে বইমেলায় বেশ কয়েকটি নতুন বই এসেছে। টাঙ্গন থেকে এসেছে শামসুল হুদা সম্পাদিত ‘ইলা মিত্রের জন্মশতবর্ষ’; পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস এনেছে নাসির আলী মামুনের স্মৃতিচারণামূলক বই ‘যে জীবন যার’ এবং তাশরিক-ই-হাবিবের স্মৃতিচারণামূলক বই ‘কথাশিল্পী শহীদুল জহির’; চন্দ্রবিন্দু এনেছে ময়ুখ চৌধুরীর গবেষণাধর্মী বই ‘ঊনিশ শতকের নবচেতনা ও বাংলা কাব্যের গতিপ্রকৃতি’; অনন্যা এনেছে মুহাম্মদ সামাদের কাব্যগ্রন্থ ‘আমার জীবন সংগ্রামমুখর’; পুঁথিনিলয় এনেছে দিদার হাসানের ভ্রমণকথা ‘দেখা অদেখা’।

চন্দ্রবিন্দু এনেছে চিত্রশিল্পী ও কবি নির্ঝর নৈঃশব্দ্যের নিরীক্ষামূলক প্রথম উপন্যাস ‘সমুদ্রের দিকে’। ৫ আগস্ট ২৪ সালের পরের ঢাকা শহরের এক রাত্রির আখ্যানের এই বই। একটা ডিসটোপিয়ান শহর ছেড়ে সারারাত্রি দুঃস্বপ্নের পেটের ভেতর হেঁটে হেঁটে একজন লেখক-চিত্রী অবশেষে দেখা পায় সমুদ্রের।

বইমেলায় বিক্রি ৮০ শতাংশ কমেছে, দাবি প্রকাশক ঐক্যের
২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় বই বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেছে প্রকাশকদের সংগঠন প্রকাশক ঐক্য। গতকাল বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশক ঐক্যের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সামগ্রিকভাবে অন্যান্য স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এবারের বই বিক্রি প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। অংশগ্রহণকারী প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশকের স্টল নির্মাণের প্রাথমিক খরচটুকুও ওঠেনি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রকাশকের স্টলে ৫ হাজার টাকার বইও বিক্রি হয়নি।

প্রকাশনা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছে প্রকাশক ঐক্য। এর মধ্যে রয়েছে–ক্ষতিগ্রস্ত প্রকাশকদের সহায়তায় সরকারিভাবে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী প্রকাশকের অন্তত একটি করে মানসম্পন্ন বইয়ের ৩০০ থেকে ৫০০ কপি কেনা, প্রকাশনা খাতের জন্য সরকারি বই ক্রয়ের বাজেট বৃদ্ধি এবং প্রকাশনা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া স্কুল-কলেজের লাইব্রেরি উন্নয়ন, বন্ধ হয়ে যাওয়া লাইব্রেরি পুনরায় চালু করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘লাইব্রেরি ক্লাস’ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দেশব্যাপী পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়ার আহ্বান জানায় প্রকাশক ঐক্য।

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা 
প্রকাশনা শিল্পে অনন্য অবদানের জন্য এ বছর বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছে।

২০২৫ সালে বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশ পাচ্ছে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’। ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্য, প্রথমা, ইউপিএল ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ পাচ্ছে।

২০২৫ সালে গুণমান বিচারে সর্বাধিক শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস পাচ্ছে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’। গুণগতমান বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সহজ প্রকাশ পাবে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’। এবারের বইমেলায় নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্রিয়েটিভ ঢাকা পাবলিকেশনস, মাত্রা প্রকাশ, বেঙ্গলবুকস ‘শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ পাচ্ছে।

আজ রবিবার বেলা ৩টায় বইমেলার সমাপনী আয়োজনে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রকাশকদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেবেন।