প্রতিটি বই এক একটি পৃথিবী। বই হলো বিনোদন ও শিক্ষার মাধ্যম। আর বইমেলা হলো জ্ঞানের উৎসব। এই উৎসবে অক্ষরের পর অক্ষর বসিয়ে শব্দ তৈরিতে, আর লিখিত শব্দগুলো একটি সেতুতে পরিণত হয়।
যা আমাদের সাহিত্যযাত্রার অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকে সংযুক্ত করে। আমাদের জনগণের চেতনা সংরক্ষণ, উদযাপন এবং বিশ্বের সঙ্গে সেতু তৈরি করে বইয়ের পাতা...
নির্বাচিত নাটক
মুনীর চৌধুরী
রামেন্দু মজুমদার (সংকলন ও সম্পাদনা)
শ্রেণি: নাটক ও নাট্যতত্ত্ব
প্রকাশনী: বাংলা একাডেমি
প্রকাশকাল: জুন ২০২৫
পৃষ্ঠা: ২৭০, মূল্য: ৫৬০
বর্তমান সংকলনে মুনীর চৌধুরীর পূর্ণাঙ্গ ও একাঙ্ক মিলিয়ে মোট আটটি নাটক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নাটকগুলোর রচনাকাল ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৯। তাঁর নাট্যরচনার বৈচিত্র্যের উদাহরণ হিসেবে নাটকগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ও একাঙ্ক মৌলিক নাটকে তাঁর সৃষ্টিশীলতার পরিচয় যেমন আমরা পাই, একইভাবে দৃষ্ট হয় অনুবাদ-রূপান্তরেও তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন। নাটকগুলোর সংলাপে বহু-অর্থময়তা, কৌণিক দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্রানুগত্যের সঙ্গে হাস্যরসও অনবরত যুক্ত হয়েছে। মুনীর চৌধুরীর প্রাগ্রসর জীবনদর্শন ও চারিত্রিক ঔদার্যের আলোকে রচিত ‘নির্বাচিত নাটকে’র এ সংকলন পাঠক-দর্শক-গবেষককে বিমোহিত করবে–এ আমাদের দৃঢ় প্রতীতি।
কয়েকটি নদী ও
একটি সমুদ্র
জহির রায়হান, কাজী জাহিদুল হক (সম্পাদনা)
শ্রেণি: শিল্প ও সংগীত ব্যক্তিত্ব
প্রকাশনী: প্রথমা প্রকাশন
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ৬৩, মূল্য: ২২০
মাত্র ৩৬ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে জহির রায়হান শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা অঙ্গনে অতুলনীয় সৃষ্টিশীলতার পরিচয় রেখে গেছেন। জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র গল্পগ্রন্থ সূর্যগ্রহণ। তাঁর ছোটগল্পের বড় অংশই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে মৃত্যুর পর। এরপরও অব্যাহত অনুসন্ধানে অগ্রন্থিত তাঁর বেশ কয়েকটি গল্পের সন্ধান পাওয়া গেছে। ১৯৫৫ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত এমন পাঁচটি গল্প নিয়ে বর্তমান সংকলন। ওই কালপর্বের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমিতে লেখা এই গল্পগুলোতে মানুষের জীবনসংগ্রাম, ক্ষুধা, মহাজনি শোষণ, মানসিক টানাপোড়েন, সমাজে নারীর ভঙ্গুর অবস্থান, প্রেম ও মৃত্যুর মতো বিষয়গুলো লেখকের নিখুঁত সমাজবীক্ষণ ও নিপুণ শৈল্পিক দক্ষতায় উঠে এসেছে।
দ্বি-জাতি তত্ত্বের
সত্য-মিথ্যা
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
শ্রেণি: রাজনীতি
প্রকাশনী: সময় প্রকাশন
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ২০৮, মূল্য: ৪০০
দ্বি-জাতি তত্ত্ব একটি রাজনৈতিক ধারণা। ধারণাটি বাস্তবিক চেহারা নিয়েছিল উপমহাদেশে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের সময়ে। তত্ত্বটি কিন্তু মোটেই সত্য ছিল না। আসলে ভারতবর্ষ একটি বা দুটি নয়, ছিল বহুজাতির উপমহাদেশ। সেই সত্যটিকে আড়াল করে সম্প্রদায়কেই জাতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। ফলে মুক্তির সংগ্রাম আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার নামে দেশভাগ হয় ওই দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতেই। পূর্ববঙ্গবাসীর কাছে তত্ত্বের মিথ্যাটি ধরা পড়তে বিলম্ব ঘটেনি। তারা ওই মিথ্যার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে ১৯৭১ সালে দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়। একাত্তরে দেশ স্বাধীন হয়েছে; স্বপ্ন ছিল অর্থনৈতিক দ্বি-জাতি তত্ত্ব মিথ্যা হয়ে যাবে। কিন্তু তেমনটি ঘটেনি। উল্টোটাই বরং বাস্তবিক সত্য হয়ে উঠেছে। শ্রেণিবৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ বৈষম্য সৃষ্টির মূলে রয়েছে পুঁজিবাদ। বাংলাদেশে যে উন্নয়ন ঘটেছে সেটি পুঁজিবাদী ধারায়। পুঁজিবাদকে বিদায় করতে না পারলে অর্থনৈতিক দ্বি-জাতি তত্ত্বের বাস্তবতা দূর হবে না এবং পুঁজিবাদ কিছুতেই বিদায় নেবে না সামাজিক বিপ্লব ছাড়া।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক
বদরুদ্দীন উমর
শ্রেণি: প্রবন্ধ
প্রকাশনী: বাতিঘর
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ১৭৬, মূল্য: ৪৫০
১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের পর বঙ্গদেশের ভূমিস্বত্ব ও উৎপাদন সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটে। কৃষকদের মধ্যে নিজেদের অধিকারবোধও জাগ্রত হয়। এ অধিকারবোধের ফলে পরবর্তীকালে তেভাগা আন্দোলনসহ অনেক কৃষক সংগ্রামের সূচনা হয়। জমিদারপ্রথারও বিলুপ্তি ঘটে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক বইতে বদরুদ্দীন উমর উপরিউক্ত পটভূমিতে আঠারো শতকের শেষ দশক থেকে বিশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত বঙ্গদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছেন। মোগল ভারতের ভূমিব্যবস্থা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি প্রাপ্তির প্রসঙ্গও আলোচিত হয়েছে। এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় বইটি অসাধারণ দলিল হিসেবে বিবেচ্য।
জর্নাল ২০০০-২০১৫
হাসনাত আবদুল হাই
শ্রেণি: দিনলিপি
প্রকাশনী: প্রথমা প্রকাশন
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পৃষ্ঠা: ৪২৮, মূল্য: ১৫০০
একই সঙ্গে দিনপঞ্জি, সাহিত্যালোচনা, শিল্পবিচার, চলচ্চিত্র বর্ণনা, ইতিহাসের কথা, দর্শনচিন্তা, সমকালের রাজনীতি, ভ্রমণকাহিনি এবং আত্মজৈবনিক আলাপ নিয়ে এ বইয়ের কোনো একটি নামকরণ সহজ নয়; ‘জর্নাল’ বলা যায় কেননা, জর্নাল ঠিক দিনপঞ্জি নয় যে জন্য এর ভেতর আসতে পারে বিবিধ বিষয়, এমনকি একটি উপন্যাসের সংক্ষিপ্তসার, যে সব নিয়ে এ ব্যতিক্রমী বই। বেতনভুক কর্মজীবন থেকে অবসরে গিয়ে লেখক বিশ্রাম নেননি, শুরু করেছেন আরেক কর্মজীবন, যে জীবন রুটিন বলে ধরাবাঁধা কিছু নেই, আছে তার নিজের অভিরুচি অনুযায়ী সময় যাপন। দ্বিতীয় এই জীবনে তিনি পড়েছেন দেশি-বিদেশি লেখকের অনেক বই, লিখেছেন বিচিত্র বিষয়ে, দেখেছেন কাছে এবং দূরের চিত্রনির্মাতাদের সিনেমা, অংশ নিয়েছেন দেশের চিত্রশিল্পীদের প্রদর্শনীতে, ভ্রমণ করেছেন দেশের ভেতরে এবং বাইরে, সহ্য করেছেন মৃত্যুশোক এবং অস্তিত্বসংহারী সংকট, অশীতিপর হওয়ার পরও সচেষ্ট থেকেছেন বোধ ও বোধিকে সক্রিয় রেখে সৃজনশীল থাকতে। বিচিত্র অভিজ্ঞতার বয়ান এই বই- জর্নাল, লেখকের দ্বিতীয় জীবনের আলেখ্য।
অমূল্য কথা গল্প যথা
হাশেম খান (চিত্রশিল্পী)
শ্রেণি: উক্তি, বাণী ও প্রবাদ-প্রবচন
প্রকাশনী: কথাপ্রকাশ
প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০২৫
পৃষ্ঠা: ২৪০, মূল্য: ৫০০
যে ব্যক্তি গরিব-দুঃখীর আর্তনাদ শুনে কান বন্ধ করে রাখে সেও একদিন আর্তনাদ করবে; কিন্তু কেউ শুনবে না–হজরত সোলায়মান (আ.)। তিনটি জিনিসের মূল্য তিন শ্রেণির মানুষ ভালো বুঝতে পারে। যৌবনের মূল্য বোঝে বৃদ্ধ, স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বোঝে অসুস্থ মানুষ এবং সম্পদের প্রয়োজনীয়তা বোঝে অভাবী মানুষ–ওমর খৈয়াম। বিদ্যা সহজ, শিক্ষা কঠিন। বিদ্যা আবরণে আর শিক্ষা আচরণে–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সবাই পৃথিবীকে বদলানোর কথা ভাবে কিন্তু কেউই নিজেকে বদলানোর কথা ভাবে না–লিও তলস্তয়। এমন সব অমূল্য কথা ও কিছু হাসির গল্পের, মানবিক গল্পের সংকলন এই গ্রন্থ। এমন একটি গ্রন্থ হতে পারে আপনার শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনে সার্বক্ষণিক বন্ধু।
মজলুম জনতার মওলানা ভাসানী ও অন্যান্য প্রবন্ধ
ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন
শ্রেণি: প্রবন্ধ
প্রকাশনী: কণ্ঠধ্বনি প্রকাশনী
প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০২৫
পৃষ্ঠা: ৯৬, মূল্য: ২৫০
সংকলিত ছয়টি প্রবন্ধ এ দেশের সমা ও রাজনীতিতে সব অসাম্প্রদায়িক মানুষের কথা বলা হয়েছে, এমন দাবি থাকছে না। তবে দুজন ব্যক্তিত্বের কর্মকাণ্ডে যে অসাম্প্রয়িকতা প্রতিফলিত তার চুম্বুক কথা আছে। সুতরাং বইটি প্রতিনিধিত্বমূলক। কিছু সাম্প্রদায়িক মানুষ ছাড়া এ দেশের সব মানুষই অসাম্প্রদায়িক।
ত্রিপুরা ১৯৭১
হারুন হাবীব
শ্রেণি: মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস
প্রকাশনী: নালন্দা
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ১০২, মূল্য: ৩০০
ত্রিপুরার মাটি বাংলাদেশকে জন্মঋণে আবদ্ধ করেছে। পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণ-নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রায় ১৫ লাখ বাঙালি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছে সে সময়ের ১৫ লাখ মানুষের ক্ষুদ্র ভারতীয় রাজ্যে। দেশত্যাগী বিশাল সে উদ্বাস্তু অসহায়কে আগলে রেখেছে ত্রিপুরাবাসী পরম মমতায়। শুধু আগরতলা নয়, ত্রিপুরার পাহাড়, সমতল, গ্রাম, শহর ও গঞ্জ সয়লাব হয়েছে অগণিত শরণার্থীর জনস্রোত এবং মুক্তিবাহিনীর দৃঢ় পদভারে। স্কুল, কলেজ, সরকারি- বেসরকারি অফিস পরিণত হয়েছে রিফিউজি ক্যাম্পে, হাসপাতালগুলো ভরে উঠেছে শতসহস্র দেশত্যাগী নারী-পুরুষে। রাজ্যের গণমানুষ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, শ্রমজীবী, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের অবিস্মরণীয় একাত্মতায় সৃষ্টি হয়েছে সৌহার্দ্যের এক নতুন ইতিহাস! ঐতিহাসিক সে ঘটনাপ্রবাহ প্রথমবারের মতো উঠে এসেছে মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক হারুন হাবীবের ‘ত্রিপুরা ১৯৭১’ উপন্যাসে। উপন্যাসটি সুবর্ণরেখায় ধারাবাহিক প্রকাশিত হয়েছিল।
কার্ল মার্ক্সের পুঁজি একটি পাঠ পর্যালোচনা
আনু মুহাম্মদ
শ্রেণি: পুঁজিবাদ
প্রকাশনী: প্রথমা প্রকাশন
প্রকাশকাল: এপ্রিল ২০২৫
পৃষ্ঠা: ২১৬, মূল্য: ৫৫০
উনিশ শতকে পুঁজিবাদ যখন মানব ইতিহাসের আরেক পর্বে নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা, মূলধন সংবর্ধন আর গতিশীলতার নতুন ব্যবস্থা হিসেবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে; তখন নানা অসম্পূর্ণ, ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা থেকে মুক্ত করে পুঁজিবাদের শক্তি ও সংকট উপলব্ধি এবং তার মধ্যে মানুষের মুক্তির লড়াইয়ের ক্ষেত্র শনাক্ত করার কাজে হাত দেন ডক্টর কার্ল মার্ক্স। ১৮৫৭ সালে পুঁজি লেখার কাজ শুরু হয়, প্রথম খণ্ড শেষ হয় ১৮৬৭ সালের ১৬ আগস্ট। এর প্রথম ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৮৮৬ সালের শেষে মার্ক্সের মৃত্যুর পর। বর্তমান পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার গতি-প্রকৃতি বুঝতে মার্ক্সের এই গ্রন্থ অধ্যয়ন অপরিহার্য। সেই তাগিদ থেকেই আনু মুহাম্মদের এই পাঠ পর্যালোচনা। মার্ক্সের পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের পর্যালোচনা করতে গিয়ে লেখক পুঁজি গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের বহুলাংশের তরজমা করেছেন প্রাঞ্জল ও সহজবোধ্য বাংলায়।
প্রজেক্ট ক্যাসিওপিয়া
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
শ্রেণি: সায়েন্স ফিকশন
প্রকাশনী: জ্ঞানকোষ প্রকাশনী
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ১২০, মূল্য: ২৮০
মহাকাশ অভিযান প্রজেক্ট ক্যাসিওপিয়ার জন্য মহাকাশচারী নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে এটি বিপজ্জনক এবং অনিশ্চিত অভিযান বলে পৃথিবীতে যারা বন্ধনমুক্ত তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে! পৃথিবীর তিন প্রান্তের তিনজন বন্ধনমুক্ত নারী-পুরুষ এই অভিযানের জন্য নির্বাচিত হয়ে ধীরে ধীরে আবিষ্কার করেছে কেন এই অভিযানটি বিপজ্জনক এবং অনিশ্চিত ও কেন বিজ্ঞপ্তিতে বন্ধনমুক্ত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ‘প্রজেক্ট ক্যাসিওপিয়া’ বইটি ভবিষ্যৎ পৃথিবীর একটি প্রতিচ্ছবি, যখন পৃথিবীর মানুষ ভিন্ন ভিন্ন গ্রহে ছড়িয়ে পড়ে নিজেদের বিচিত্র একটি কালচার গড়ে তুলেছে, তার ভেতর দিয়ে এই বিপজ্জনক অভিযানের ‘বন্ধনমুক্ত’ অভিযাত্রীরা আবিষ্কার করেছে টিকে থাকার জন্য তাদের আবার নিজেদের ভেতর একটি বন্ধন গড়ে তুলতে হবে। ‘প্রজেক্ট ক্যাসিওপিয়া’ বইটি আবার নতুন করে সেই বন্ধন গড়ে তোলার কাহিনি।
১৯৭১ অবরুদ্ধ দেশে স্পার্টাকাস
মুনতাসীর মামুন
শ্রেণি: মুক্তিযুদ্ধের প্রবন্ধ ও সংকলন
প্রকাশনী: অনন্যা
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ৪০০, মূল্য: ৬০০
১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা ঘেরাও করা বাংলাদেশে বাঙালিরা কীভাবে বসবাস করেছেন, তা আজকের প্রজন্মের জানা নেই। প্রতিদিন গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের শিকার হওয়া মানুষজন প্রমিথিউসের মতো বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে স্পার্টাকাসের স্পিরিট নিয়ে বেঁচে ছিলেন। সেই ইতিহাস লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম ভাষ্যকার, প্রথিতযশা ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসীর মামুন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চায় এ এক নতুন সংযোজন ৩৯টি অধ্যায়ে সমাপ্ত এ
এক মহাকাব্য।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী ১৯৯৬-২০১০
মতিউর রহমান
শ্রেণি: রাজনীতি
প্রকাশনী: প্রথম প্রকাশ
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পৃষ্ঠা: ২৫৬, মূল্য: ৪৫০
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে বরাবরই একধরনের সংবেদনশীলতা রয়েছে। এ দেশে সেনাবাহিনী নিয়ে প্রকাশ্যে কখনোই খুব একটা আলোচনা হতে দেখা যায় না; যদিও এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে বেশ খানিকটা কৌতূহল কাজ করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কটি সব সময়ই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। নানা সময়ে ঘটা অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান পেরিয়ে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সম্পর্ক ভিন্ন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। এ অবস্থা কত দিন স্থায়ী হবে, এ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আমাদের করণীয় কী, সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের রাজনীতিতে কতটুকু সম্পৃক্ত হতে পারে–এসব প্রশ্নের মীমাংসা হওয়া বিশেষ জরুরি। আর সে জন্য প্রয়োজন রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা। এই বইয়ে তারই কিছু ইঙ্গিত বা পথনির্দেশ পাঠক পেতে পারেন।
কচদেবযানী
হরিশংকর জলদাস
শ্রেণি: সমকালীন উপন্যাস
প্রকাশনী: অবসর প্রকাশনা সংস্থা
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ১৪৪, মূল্য: ৫০০
নারীরা কি শুধু প্রতারিত হওয়ার জন্য জন্মায়? কান্নাই কি তাদের শেষ অবলম্বন? শুক্রাচার্যকন্যা দেবযানী কচকে ভালোবেসেছে। বৃহস্পতিপুত্র কচ কি বেসেছে ভালো, দেবযানীকে? কচ শঠতায় মন ভুলিয়েছে আশ্রম-তরুণী দেবযানীর। স্বার্থসিদ্ধির পর দেবযানীর প্রেমকে ধুলায় ছুড়েছে।
এই অপমান সয়ে নিল প্রবঞ্চিত দেবযানী? পুরুষের তৈরি অন্যায়ের প্রাচীর চুরমার করার বৃত্তান্ত নিয়ে হরিশংকর জলদাসের কচদেবযানী। একটা ঋষি-আশ্রম। দুজন নরনারী-কচ আর দেবযানী। মাঝখানে মঞ্জরী নামের স্বর্গ-তরুণী। সঞ্জীবনীবিদ্যা প্রাপ্তির জন্য শঠতা। প্রেমে-প্রতারিত দেবযানী। কার জয় হলো? প্রেমের, না প্রতারণার? এই নিয়েই কচদেবযানী।
জীবনানন্দ দাশ
জীবন ও কীর্তি
ফয়জুল লতিফ চৌধুরী
শ্রেণি: শিল্প ও সংগীত
প্রকাশনী: পাঠক সমাবেশ
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ৩৫০, মূল্য: ৭৯৫
তাদেরই একজন, কবি জীবনানন্দ দাশ, কালক্রমে বিংশ শতাব্দীর আধুনিক বাংলা কবিতার প্রতিভূ হয়ে ওঠেন- তার কবিতাবলিতে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার আবশ্যকীয় চারিত্র্য এবং বৈশিষ্ট্যাবলি অনপনেয়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কবি হিসেবে জীবনানন্দ দাশ আপাদমস্তক দার্শনিক হলেও সচেতন ছিলেন যে, কাব্য একটি শিল্প। কবিতার প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত ছিলেন। এ-ও আশ্চর্যজনক যে, জীবনানন্দ দাশ কবিতার সংজ্ঞা নিরূপণের পরিবর্তে প্রশ্ন তুলেছিলেন- কবি কে? তার অবিস্মরণীয় উচ্চারণ: সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি। অর্থাৎ কবিতা রচনার মাহাত্ম্যেই কেউ ‘কবি’ হয়ে যান না। তার মতে কবিতা সত্য ও বাস্তবকে ধারণ করবে এমন নতুনভাবে যেন পাঠক আকাশে নতুন জ্যোতিষ্ক অবলোকনের আনন্দ লাভ করে। কবি জীবনানন্দ দাশের কাব্যভাবনা ও কাব্যজগতের চৌহদ্দি এবং বিশ্ববীক্ষার একটি সামগ্রিক প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা সমস্যাসংকুল কেননা তার অধিকাংশ কবিতা হয় অপ্রকাশিত অথবা অপঠিত রয়ে গেছে। কিন্তু সেই চেষ্টাই নিরলস করে চলেছেন জীবনানন্দ-গবেষক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।
খালেদা
মহিউদ্দিন আহমদ
শ্রেণি: রাজনৈতিক উপন্যাস
প্রকাশনী: অনন্যা
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ৫৪৪, মূল্য: ১০০০
খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি উপন্যাস লেখা যায়। তবে তাতে রাজনীতি আসবেই। মুশকিল হলো, এ দেশে অনেকেই ব্যক্তিপূজায় অভ্যস্ত। তারা চান প্রিয় নেতাকে নিয়ে একটি বন্দনাগীতি। অথচ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চোখে তিনি দানব, তার সবটাই মন্দ। এই দুই ধারার পাঠকের মধ্যে পড়ে হিমশিম খেতে হয়। কেউ কেউ প্রশ্ন করেন- এই যে তথ্য দিলেন, এর সূত্র কী? অর্থাৎ কিছু লিখলে সঙ্গে সঙ্গে এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে এই তথ্য নির্ভুল। এটা মনগড়া কেচ্ছা নয়। সেজন্য ব্যবহার করতে হয় সূত্র। আর সূত্র ব্যবহার করলে উপন্যাসের মেজাজ থাকে না। নিজেকে সুরক্ষা দিতে তাই রেফারেন্স-কণ্টকিত একটি রচনা লিখতে হলো। এটি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের আখ্যান।
কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের গ্রন্থকথা
ড. মুহম্মদ এমদাদ হাসনায়েন
শ্রেণি: বই আলোচনা
প্রকাশনী: কণ্ঠধ্বনি প্রকাশনী
প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২৫
পৃষ্ঠা: ৩০৪, মূল্য: ৬০০
কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের যে-জীবন তা বহুবিধ ও বিচিত্র সৃষ্টিকর্মে আলোকিত। পেশায় আপাদমস্তক সাংবাদিক। নেশায় পুরোদস্তুর লেখক। তিনি জ্ঞানে, প্রজ্ঞায়, সৃষ্টিশীলতায় ধারণ করেছেন বাঙালি মনীষা। মোস্তফা কামালের সৃষ্টিজগৎ বিশাল ও বহুমাত্রিক। ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গবেষণা, গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, কিশোর গোয়েন্দা, রম্য রচনা, শিশুতোষ, টিভি নাটক সবক্ষেত্রে তিনি সমান সক্রিয়। বিশেষত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনব্যাপী ধ্যানের সারথি। এখানেই নিহিত রয়েছে তার জীবন ও সৃষ্টির শক্তিমত্তা ও সার্থকতা। একজন মানুষের বড় পরিচয় বহন করে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-শিক্ষার মাধ্যমে। কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা (১৯৯৩-২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে) যেসব গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা। অনেক ভাঙা-গড়ার সঙ্গে ‘কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের গ্রন্থকথা’ পলিমাটির মতো জেগে উঠবে আলোকচিত্র রূপে ছাপার অক্ষরে স্থায়ী সম্পদ হিসেবে।
মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশ: ব্যক্তিগত নোট ১৯৭১-১৯৭৩
সাজ্জাদ শরিফ
শ্রেণি: মুক্তিযুদ্ধের ডায়েরি, চিঠি ও স্মৃতিচারণ
প্রকাশনী: প্রথমা প্রকাশন
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ১৬৮, মূল্য: ৪২৫
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর হাল ধরেছেন তাজউদ্দীন আহমদ। ইতিহাসের তখন অগ্নিগর্ভ সময়। উত্তেজনা ও উদ্বেগে ভরা সেই সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকও চলছে একের পর এক। বৈঠকে প্রত্যেকের কথা তাজউদ্দীন টুকে টুকে রেখেছেন নিজের হাতে। দেশ স্বাধীন হলো, তাঁর নোট নেওয়া থামল না। এখন তিনি দায়িত্ববান অর্থমন্ত্রী। নতুন নির্মীয়মাণ রাষ্ট্রের প্রথম সংসদে, বাজেট অধিবেশনে, নানা উত্থানে-পতনে-সংকটে অব্যাহত রইল তাজউদ্দীনের নোট নেওয়া। নোটের মধ্যে রইল কখনো তাঁর নিজের গুরুত্ব আরোপণ, কখনোবা কারও কথার সূত্রে নিজের চকিত কোনো মন্তব্য। স্বাধীনতার অর্ধশতকেরও পরে আলোর মুখ দেখছে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নায়ক এবং বাংলাদেশের বুদ্ধিদীপ্ত সেই রাজনীতিকের লেখা অজানা ও অমূল্য দলিল। তাজউদ্দীন আহমদের এই ব্যক্তিগত নোট মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ নামে নবীন রাষ্ট্রের সূচনাকালকে নতুন আলোয় উদ্ভাসিত করে তুলেছে।
বৌদ্ধ ভারত
খান মাহবুব (সম্পাদনা)
শ্রেণি: ইতিহাস
প্রকাশনী: ঐতিহ্য
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ১০৪, মূল্য: ২৩০
‘বৌদ্ধ ভারত’ একটা শতবর্ষের সংস্করণের বই। মূলত ভারতে বৌদ্ধদের অধিগ্রহণ ও শাসন কীভাবে হলো তার সরস বর্ণনা রয়েছে। এক সময়ে ব্রাহ্মণ্যবাদের বাড়াবাড়ি ও শোষণ-পেষণে সমাজে রূঢ়ভাব ক্রিয়াশীল ছিল। বলা প্রয়োজন বৌদ্ধধর্মের অমিয় বাণী সনাতনী ভারতীয় সমাজকে আকৃষ্ট করেছিল। বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ যার জন্ম খ্রিষ্টপূর্ব ৫৬৬ (মতান্তরে ৫৪৩) অব্দে। তিনি উপনিষদের দার্শনিক তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই অনেকটা ধর্ম বা দর্শন প্রচার করেছিলেন। রাজা বিম্বিসার (৫৫৮ খ্রি.পূ.-৪১১ খ্রি.পূ.) তিনিই রাজা হিসেবে গৌতম বুদ্ধের বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। বিম্বসারের পূত্র সম্রাট অশোক। যিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারে কালজয়ী। এ বইতে পরম্পরায় সেই সব বিষয় বিবৃত হয়েছে। জোর দিয়ে বলা যায় তথ্য-তালাশের আলোকে খ্রিষ্ট জন্মের ৬০০ বছর আগে হিন্দু ভারত কীরূপে ধীরে ধীরে বৌদ্ধ ভারতে পরিণত হয়েছিল সেই বিষয়ের আখ্যান জানা যাবে গ্রন্থ পাঠে। নব যোজনাকৃত এই গ্রন্থ ইতিহাসের পাঠ, ধর্ম, দর্শন ও সমাজপ্রবাহ জানার জন্য আবশ্যক। শুধু পাঠ রেফারেন্স নয় জিজ্ঞাসু মনের নানা স্মারক থরে-থরে সাজানো।
প্রেম ও প্রার্থনায় সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
মো. শামীম রেজা
শ্রেণি: প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও গবেষণা/সংকলন
প্রকাশনী: কথাপ্রকাশ
প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০২৫
পৃষ্ঠা: ৩৯৮, মূল্য: ১০০০
‘মেধা’ আর ‘প্রতিভা’র সংশ্লেষে যার জন্ম তিনি সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। এমন বিরল অসাম্প্রদায়িক প্রতিভাবান কালেভদ্রে কোনো বিদ্বৎসমাজে আবির্ভূত হন মানুষের মঙ্গলের জন্য। মেধাবীরা সমাজ-রাষ্ট্র পরিচালনা করেন; প্রতিভাবানরা বেশির ভাগই ঝরে যান নিজস্ব অহংকারে। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সেই মানুষ, যিনি তার নিকটাত্মীয় সৈয়দ মুজতবা আলীর কাছ থেকে পেয়েছেন মুক্তমনের বহুমাত্রিক সৃজনশীল মানুষ হওয়ার প্রণোদনা। যেমন রসবোধ, তেমনি বাঙালিয়ানা; সৃজনশীল লেখার শৈলী নির্মাণের মধ্যে ঔপনিবেশিক আধুনিকতার ছাপ নেই বললেই চলে। যা দেখেছি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র বিশেষ করে ত্রিশের দশকের পঞ্চপাণ্ডবদের মধ্যে, এই সময়েও যার চর্চা বিদ্যমান। প্রকৃতই তিনি স্বার্থহীনভাবে মানুষকে কাছে টানতে ও ভালোবাসতে পারতেন।
শিলালিপি: বাংলার আরবি-ফারসি প্রত্নলেখমালা
মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিক
শ্রেণি: ইতিহাস ও ঐতিহ্য: গবেষণা ও প্রবন্ধ
প্রকাশনী: প্রথমা প্রকাশন
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
পৃষ্ঠা: ৩০৪, মূল্য: ১৫০০
ইতিহাসের অনেক তথ্যের উৎস হলো প্রত্নলিপি। পুরোনোকালের নানা তথ্য ও ঘটনা উৎকীর্ণ রয়েছে সে যুগের প্রত্ন বা শিলালিপিগুলোতে। ভবিষ্যতের মানুষের কথা ভেবেই সমকালীন ঘটনার বিবরণ, তথ্য ও বাণী-বিবৃতি লিখে রাখা হতো কঠিন পাথরের গায়ে। বলা বাহুল্য, সে যুগের মানুষের জীবনযাত্রা, চিন্তাচেতনা, ধর্ম ও সংস্কৃতির পরিচয় লাভের পক্ষে এগুলোর উপকরণগত মূল্য অপরিসীম। শিলালিপিতে আরবি-ফারসি ভাষার ব্যবহার দুনিয়ায় প্রথম যে অঞ্চলগুলোতে দেখা যায়, আমাদের বাংলাদেশ তার অন্যতম। বাংলার স্থাপত্য অলংকরণেও এসব শিলালিপির রয়েছে বিশিষ্ট স্থান। লিপিশৈলীর সৌন্দর্য, শৈল্পিক স্ফূর্তি আর রূপের বৈচিত্র্যেও এগুলো অনন্য। শিলালিপি: বাংলার আরবি-ফারসি প্রত্নলেখমালা নামের এ বইটিতে লেখক বাংলা অঞ্চলে প্রাপ্ত আরবি ও ফারসি ভাষায় লেখা শিলালিপির পাঠোদ্ধার ও পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি সেগুলোর ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেছেন।