ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফুটবলের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে রাজনীতি? প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শিরোপা কার? সব উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি হয় সাফল্যের রেসিপি ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ ১২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০টি কালজয়ী মন্তব্য স্বাগতিকের চোখে স্বপ্ন, প্যারাগুয়ের চোখে চমক শেষটায় মেসি-রোনালদোর প্রথম দ্বৈরথ দেখা যাবে? নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু আজ আশার প্রদীপ ডেভিড মরক্কো শিবিরে বড় ধাক্কা, নেইমারকে নিয়ে এখনো দোলাচলে ব্রাজিল গোলের চেয়ে লাল কার্ড বেশি, লজ্জার ইতিহাস ৪০ বছর বয়সেও অদম্য জিকো মাঠে উল্লাস, বাইরে মৃত্যু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ লাল কার্ড, জয়ে শুরু মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ফুটবল ও গাজাবাসীর বাস্তবতা কানাডার স্বপ্নযাত্রা নাকি বসনিয়ার চমক? রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হলেন মরিনিও পেনাল্টি শূন্য ম্যারাডোনা কুইনোনসের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে মেক্সিকো ৬০০ ভক্তের যাতায়াত খরচ দেবেন জার্মানির ফুটবলাররা ‘ফিফা বিশ্বের রাজা নয়’ শাকিরার সুরের মূর্ছনায় বিশ্বকাপের বর্ণিল উদ্বোধন দর্শকের ভালোবাসাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি: সূচরিতা বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দলে তাওহিদ-রবিউল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা বাংলাদেশের খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস পরাশক্তিরা যেদিন মাঠ ছেড়েছিল কান্নাভেজা চোখে দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত
Nagad desktop

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদত্যাগ অব্যাহত

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৪, ০১:৪০ এএম
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদত্যাগ অব্যাহত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের পদত্যাগ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রবিবার (১১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানসহ ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ঢাকার ৪টি কলেজের অধ্যক্ষ পদত্যাগ করেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি ও আন্দোলনের মুখে তারা পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য, উপ-উপাচার্যকে পদত্যাগের জন্য আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এসব শীর্ষ পদধারীদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে নানা অসংগতি তুলে ধরে তাদের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। যার প্রেক্ষিতে তাদের অনেকেই পদত্যাগে বাধ্য হন। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর তাদের অনেকে কর্মস্থলে যাওয়া থেকে বিরত ছিলেন। আজ সোমবার আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের পদত্যাগে বাধ্য করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

গতকাল শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে এ পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত ২৮ মে ২০২৩ তারিখ পূর্বাহ্নে আমি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান পদে যোগদান করি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অফিস আদেশ অনুযায়ী গত ২০ আগস্ট ২০২৩ তারিখ হতে চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছি। অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ এবং আমার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আমি কমিশনের চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করছি। এমতাবস্থায়, আমার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান পদ হতে পদত্যাগ পত্রটি গ্রহণপূর্বক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’

শিক্ষার্থীদের দেওয়া ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‘আমি আজ মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পদত্যাগ করেছি।’

গতকাল পদত্যাগ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান। তিনি শিক্ষা সচিবের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও শিক্ষা বিভাগের সচিবের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছান বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি লেখেন, বর্তমানে আমি আমার ব্যক্তিগত কারণে উপাচার্যের পদ থেকে এই পত্রের মাধ্যমে অদ্য অপরাহ্ণে পদত্যাগ করিতে আপনার নিকট পদত্যাগপত্র পেশ করিলাম। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন অব্যাহত থাকুক এই কামনা করছি। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আমাকে বাধিত করিবেন।’

যদিও এই উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অভিযোগে আন্দোলন করেন। সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী। শিক্ষার্থীরা তাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। গতকাল তিনি পদত্যাগ করেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো কামরুল আলম খান।

রাষ্ট্রপতির কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

অপরদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আমেনা বেগম। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজ না নেওয়া এবং আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হওয়ায় তাদের পদত্যাগের আহ্বান জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কসহ শিক্ষার্থীরা। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ‘আমি পদত্যাগ করলাম’ লেখে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করেন। একই অবস্থা হয়েছে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মোহসীন কবীরের বেলায়ও। শিক্ষার্থীরা পদত্যাগের দাবি জানালে তিনি স্বাক্ষর করে চলে যান। শিক্ষার্থীদের দাবির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে অপরাগ জানিয়ে পদত্যাগ করেন সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফেরদৌস আরা বেগম।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত ৮ আগস্ট থেকে বিক্ষোভ করেছেন ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকালও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্কুলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী এবং কলেজ শাখার অধ্যাপক ও গভর্নিং বডির (কলেজ) সদস্য ফারহানা খানম পদত্যাগ করেন।

ঢাবিতে ২ শিক্ষকের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ, রাজনীতিমুক্ত হল গড়ার শপথ

ঢাবি প্রতিনিধি: দুর্নীতি, অসদাচরণ, অনিয়ম ও নিপীড়নের অভিযোগ এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. এম. অহিদুজ্জামান এবং একই ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ইনস্টিটিউটের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে উপাচার্যের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

এদিকে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি মুক্ত হল গড়ার প্রত্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের শিক্ষার্থীরা শপথ নিয়েছেন। এ সময় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, হলের প্রভোস্ট, প্রক্টর ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবিও জানান তারা।

শপথবাক্য পাঠকালে শিক্ষার্থীরা বলেন, আজ হতে স্যার এ এফ রহমান হলে সকল প্রকার লেজুড়বৃত্তিক দলীয় রাজনীতি হতে আমি নিজেকে বিরত রাখব এবং হলে যেকোনো ছাত্ররাজনীতির অপচেষ্টা কায়েমের বিরুদ্ধে সচেষ্ট থাকব। হলকে শিক্ষা ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে গড়ে তুলব। হলের শৃঙ্খলা বজায় রাখব। শিক্ষার্থীবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলের প্রভোস্ট, আবাসিক শিক্ষক ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এর আগে ৯ আগস্ট রাজনীতিমুক্ত হল গড়ার শপথ নেন ঢাবির মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

অপরদিকে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান পদত্যাগ করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা তার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন।

জবিতে ১৩ দফা দাবি শিক্ষার্থীদের

সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নূর নবী। দাবির মধ্যে রয়েছে-ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ক্যাম্পাসের বাইরে রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও, ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে প্রবেশ করতে হবে। শহিদ ও আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে। 

ছাত্রলীগের পদধারী যারা ছিল এবং ছাত্ররাজনীতির ওপর ভিত্তি করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়েছে তারা এবং যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত এবং হতাহত শিক্ষার্থীদের নিয়ে এখনো ঠাট্টা করছে তাদের আগামী ২ দিনের মধ্যে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নীতিমালা প্রণয়ন করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। দখল হওয়া হলগুলো অনতিবিলম্বে দখলমুক্ত করতে হবে এবং মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন করতে হবে।

কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সে জন্য সেনাবাহিনীর কাছে কাজ দিতে হবে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং গবেষণা বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ক্যাফেটেরিয়ায় বাজেট বরাদ্দ দিয়ে খাবারের মান বাড়াতে হবে এবং অতি দ্রুত নতুন আরেকটি ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণ করতে হবে। নারী শিক্ষার্থীদের কমন রুমের মান উন্নত করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে শক্ত আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্যাম্পাসের আশপাশে চাঁদাবাজি, রাজনীতির নামে টেন্ডারবাজি বন্ধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পোষ্য কোটা বাতিল এবং রাজনৈতিক নিয়োগ-বাণিজ্য আজীবনের জন্য বন্ধ করতে হবে। গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠানের রূপ দিতে হবে।

কুয়েট উপাচার্য, উপ-উপাচার্যকে পদত্যাগের আলটিমেটাম

নিয়োগ বাণিজ্য, দলীয়করণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি ও সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনকে পৃষ্ঠপোষকতাসহ নানা অভিযোগে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিহির রঞ্জন হালদার ও উপ-উপাচার্য ড. সোবহান মিয়ার পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সভা করেছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষক-কর্মচারীরা।

গতকাল ‘কলুষিত রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক ভিসি ও প্রোভিসির পদত্যাগ চাই’ ব্যানার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে মিছিল বের হয়। পরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আফতাব হোসেন, ড. এম এম হাশেম, ড. শাহজাহান ও রাজিয়া খাতুন প্রমুখ।

সমাবেশ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যকে পদত্যাগ না করলে ক্যাম্পাসে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শেকৃবি রেজিস্ট্রারের উপর চড়াও বিএনপিপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তারা

শিক্ষার্থীদের অনুরোধে অফিসে আসার কারণে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিমের উপর চড়াও হ‌ওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী কিছু শিক্ষক- কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গতকাল স্মারকলিপি জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রেজিস্ট্রার অফিসে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। অফিস বন্ধ পেয়ে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিমকে দ্রুত অফিস আসার জন্য অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রার তার অফিসে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে রেজিস্ট্রারকে তার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলেন এবং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে যে কোনো বাধা আসলে শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন‌।

শিক্ষার্থীরা চলে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা রেজিস্ট্রারের রুমে ঢুকে তিনি কেন অফিসে আসলেন, অফিসের তালা খুলে কেন অফিসে বসলেন বলে চড়াও হন তার ওপর।

ঘটনাটি জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা এবং আবার গিয়ে শিক্ষাকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতির কারণে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ছিলাম। শিক্ষার্থীদের ফোনের কারণে আমি অফিসে আসি তারপর কিছুটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তবে শিক্ষার্থীরা পুনরায় গেলে আমি বেরিয়ে আসি অফিস থেকে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের (বিএনপিপন্থি) সভাপতি ড. আমিনুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন- ঢাবি প্রতিনিধি, কুবি প্রতিনিধি, শেকৃবি প্রতিনিধি, খুলনা প্রতিনিধি ও জবি প্রতিনিধি

আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিশেষ আবাসন বৃত্তি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৯ হাজার টাকা করে বৃত্তির চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১৫তম ব্যাচ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ২০তম ব্যাচ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১২৪ জন শিক্ষার্থী এ বিশেষ বৃত্তির আওতায় এসেছেন। উদ্বোধনী দিনে প্রতীকীভাবে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির সৌজন্যে প্রথম কিস্তির ৯ হাজার টাকার চেক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বৃত্তির অর্থ বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “চলতি সপ্তাহেই বৃত্তির অর্থ বিতরণের মূল পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। বৃত্তির অর্থ বিতরণের সার্বিক পদ্ধতি নিয়ে আগামীকাল বৃত্তি কমিটির একটি জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে আমাদের প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের কথা বিবেচনা করেই এই বিশেষ বৃত্তির অর্থ দ্রুত বিতরণের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। শুধু বৃত্তিই নয়, আমাদের মেগা প্রজেক্ট অর্থাৎ দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণকাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আমি নিজেই খুব দ্রুত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাবো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা সবসময় কাজ করে যাব।

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব
গুলশানে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ক্যাম্পাসে মৌসুমি ফল উৎসব। ছবি: খবরের কাগজ

দেশীয় ফলের ঐতিহ্য ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী ‘মৌসুমি ফল উৎসব’।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকাল ১১টায় উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আগ্রহে এ ফল উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিবারই আমাদের নবান্ন উৎসব, বৈশাখের আয়োজন করে থাকি। সব সময়ের মতো এবারও শিক্ষার্থীরা অনেক আগ্রহের সঙ্গে উপভোগ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম খান নাঈম, স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর আবুল কালাম, স্কুল অব ল’র ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড অ্যাডমিনের পরিচালক আফরোজা হেলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. জাহেদুর রহমান, প্রক্টর মো. আনিছুর রহমান, স্ট্র্যাটেজিক অপারেশন্স অ্যান্ড স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ও হেড মুশফিকুর রহমান ধ্রুব, এবং পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ও হেড জাহিদ হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির বলেন, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উপস্থিতিদের মধ্যে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন প্রজন্মকে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকুক এই প্রত্যাশা রাখছি।  

শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। আম, জাম, লিচু, কাউ, কাঁঠাল, লটকনসহ বিভিন্ন দেশীয় রসালো ফলের সমারোহ ও সুবাসে মুখরিত ছিল পুরো ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের ছাদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।  

সাগুফতা/এসএন

পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম
রাবি অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম কনক। ছবি: সংগৃহীত

একাডেমিক কাজের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম কনক।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে রেজিস্ট্রার দপ্তর বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, সম্প্রতি আমার একাডেমিক কাজ এবং গবেষণার কাজের ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছে। ছাত্র উপদেষ্টার মতো পদে থেকে যদি শিক্ষার্থীদেকেই সময় দিতে না পারি তাহলে এই পদে থাকার মানে হয় না।

তিনি আরও বলেন, গতকাল (বুধবার) এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি। সেই শিক্ষার্থী আমার সঙ্গে একবার কথাও বলেনি। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় না এই পদে আমি আর থাকতে পারি।

পদত্যাগপত্রে তিনি বলেছেন, একাডেমিক এবং গবেষণামূল কাজের ব্যস্ততার কারণে বর্তমানে আমার পক্ষে ছাত্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা সম্ভবপর নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল ইসলাম মাসউদ বলেন, পদত্যাগপত্র আমি পেয়েছি। বিষয়টা উপাচার্য স্যারকে  মৌখিকভাবে জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

উল্লেখ্য, তিনি ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।

শাকিবুল হাসান/নাঈম

মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা হবে এলইডি স্কিনে

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা হবে এলইডি স্কিনে
ছবি: খবরের কাগজ

‎আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা বড় পর্দায় দেখানোর ব্যবস্থা করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) প্রশাসন। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৮ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হচ্ছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে স্থাপিত এই স্ক্রিনে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি প্রদর্শন করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারেন এবং ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলামের উদ্যোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, খেলাধুলাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। ফুটবলের পাশাপাশি অন্যান্য খেলাধুলা, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

‎এর আগে,  শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে খেলা দেখার ব্যবস্থা করার দাবিতে মাভাবিপ্রবি ছাত্রদল উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়। গত ৯ জুন এ স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বড় পর্দার মাধ্যমে বিশ্বকাপের খেলা উপভোগের দাবি জানানো হয়। পরে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে বড় পর্দায় বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুযোগ তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। প্রশাসনের এ উদ্যোগে তারা আনন্দিত। তাদের মতে, একসঙ্গে খেলা দেখার আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করবে। 

‎এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অনেক শিক্ষার্থী উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্বকাপ ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের দল ও তারকা খেলোয়াড়দের ছবি নিয়ে থিমভিত্তিক ডিসপ্লেরও ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা স্মৃতিচারণমূলক ছবি তোলার সুযোগ পাবেন।

জুয়েল রানা/খাদিজা রুমি/

জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামের নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর তাদের পদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অধ্যাদেশ অনুসারে তাদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান আর বহাল নেই। তবে তারা এখনও জাকসুর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রি অর্ডিন্যান্সের ৬.১ ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ব্যর্থ হলে বা উত্তীর্ণ না হলে কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না। বিভাগীয় সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে একবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা জানান, নিয়মিত মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়তে হয়। এরপর তারা আর নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচিত হন না। প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি ও বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবেদা সুলতানাও একই কথা বলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নিয়মিত মাস্টার্স ২০২২-এ একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুসারে নিয়মিত মাস্টার্সে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বৈধ ভোটার হিসেবে বিবেচিত হন। কিন্তু নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচে) এর মাস্টার্স পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রত্বের বৈধতা হারিয়েছে জাকসু ভিপি জিতুর।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, “ইনস্টিটিউটের নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচ) পরীক্ষা শেষ হয়েছে। জিতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাকে বিধি অনুসারে বিশেষ পরীক্ষা দিতে হবে।”

অন্যদিকে জিএস মাজহারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থী। তবে তিনি একবছর ড্রপ দেওয়ায় গত মাসে অর্থাৎ মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে ছাত্রত্ব শেষ করেন জাকসু জিএস মাজহার। বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, জাকসুর জিএস মাজহার তার একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করেছে। এখন ফলাফল প্রকাশ করা বাকি রয়েছে।

জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জাকসুর সদস্য হওয়ার নীতিমালা সুস্পষ্ট থাকলেও নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষে পদ ছাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তবে আমি নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী কার্যনির্বাহী সভায় নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর পদত্যাগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব আনা হবে।”

ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “জাকসুর কারা প্রার্থী হতে পারবে তা উল্লেখ থাকলেও কারো ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলে তখন কী হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। যেহেতু গঠনতন্ত্রে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ নেই, তাই পদে থাকা না থাকা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।”

নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ এ জিতু পরীক্ষায় অংশ নেননি জানিয়ে বলেন, তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলেও অনিয়মিত হিসেবে এখনো শিক্ষাজীবন আছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।”

উল্লেখ্য যে, জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো কারণে জাকসুর ভিপি ও জিএস এর পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠ কার্যনির্বাহী সদস্য ও জ্যৈষ্ঠ সহসাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে ভারপ্রাপ্ত ভিপি ও ভারপ্রাপ্ত জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন  

আমানউল্লাহ খান/এসএন