জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রদলের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার পেছনে ওই স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার স্ত্রীর সঙ্গে ছাত্রদল নেতার পরকীয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
মারধরের শিকার ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম (রেজা) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাগর আহমেদ ধামরাই পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত কাজে নবীনগর গেলে ছাত্রদল নেতা রেজাকে সাগর আহমেদ ও তার সহযোগীরা ধামরাইয়ের ইসলামপুর এলাকায় নিয়ে যান। সেখানেই তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ২০১৮ সালে সাগর আহমেদ বিয়ে করেন। তাদের তিন বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে। তবে গত দেড় বছর ধরে ছাত্রদল নেতা রেজার সঙ্গে সাগরের স্ত্রীর ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ তৈরি হয় বলে দাবি করেন সাগর। বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীকে সাবধান করা হলেও তার কথা স্ত্রী শোনেননি। পরকীয়ার সন্দেহে গত দুই-তিন মাস ধরে স্ত্রী ও রেজাকে পর্যবেক্ষণে রাখছিলেন বলে জানান সাগর।
বৃহস্পতিবার নবীনগরে দেখা হলে রেজাকে জোরপূর্বক ধামরাইয়ের ইসলামপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মারধরের পর সাগরের স্ত্রীর অনুরোধে রেজাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সাগরের দাবি, রেজার সঙ্গে তার স্ত্রীর মোবাইল কথোপকথনের মাধ্যমে তাদের সম্পর্কের প্রমাণ পেয়েছেন। যদিও রেজা বেশিরভাগ হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা ডিলিট করে ফেলেন বলে অভিযোগ সাগরের।
এদিকে সাগরের স্ত্রী দাবি করেন, রেজার সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু বন্ধুত্বের।
পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তার স্বামী সাগর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং নানা সময়ে তার কাছে টাকা দাবি করতেন। সর্বশেষ ১০ লাখ টাকা না দেওয়ায় ডিভোর্সের জন্য এমন নাটক সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। গত জুন মাসে সাগরের স্ত্রী ‘স্কিনচার্ম’ নামক রেজার একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগের প্রচারণা করেন। তাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটেও ঘনিষ্ঠ ভাষা ব্যবহারের নমুনা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে রেজাউল করিম বলেন, ‘‘বিয়ের আগ থেকেই তাদের পরিবারের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। এটি পারিবারিক যোগাযোগ, এর বাইরে কিছু নয়।’’
মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে রেজা বলেন, ‘‘এটা ব্যক্তিগত বিষয়, প্রায় মীমাংসা হয়ে গেছে। এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’’
সূত্র জানায়, ঘটনার পর রেজা আশুলিয়া থানায় যান। তবে পরকীয়ার মামলার ভয় থাকায় তিনি আর সাগরের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।
অন্যদিকে সাগর আহমেদ জানান, স্ত্রীকে ডিভোর্সের প্রক্রিয়া চলছে।
আমানউল্লাহ খান/মৌসুমী/