রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে মশাল প্রজ্বলন করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে এই মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘তিস্তার পানি নিয়ে টালবাহানা চলবে না’, ‘ন্যায্য পানির হিস্যা দিতে হবে’, ‘ভারত যদি বন্ধু হও, ন্যায্য পানির হিস্যা দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম বলেন, ‘তিস্তা কোনোভাবেই ভারতের সম্পত্তি নয়, এটি আমাদের ন্যায্য অধিকার। তিস্তার উজানে বাঁধ দিয়ে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিণত করার যে চেষ্টা চলছে, তারই প্রতিবাদে আমরা এই মশাল প্রজ্বলন করেছি। অনতিবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে হবে।’
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রহমত আলী বলেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ বলে দাবি করে, কিন্তু তিস্তার পানি নিয়ে টালবাহানা করছে। বর্ষায় বাঁধ খুলে দিয়ে বন্যা সৃষ্টি করা হয়, আর শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে রেখে উত্তরাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করছি-আপনারা যাওয়ার আগেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করে দিন।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে অভিন্ন ৫৭টি নদীর অধিকাংশেই ভারত আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে বাঁধ নির্মাণ করেছে। পানি নিয়ে রাজনীতি করতেই আবরার ফাহাদ ভাইকে প্রাণ দিতে হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলা এখন ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানাই-অবিলম্বে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হোক।’
মশাল মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আজম/এসজি/