প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন। কক্সবাজার উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন লাগার ঘটনায় রোহিঙ্গাদের ৫৪৬ টি শেল্টার পুড়ে যায় এবং এক শিশুসহ দুজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়।
নিহতরা হলেন- কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১ সি ব্লকের মৃত সুলেমানের ছেলে আবুল খায়ের (৬০), কুতুপালং লম্বা শিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দার মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে মো. রাশেল (৭)।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১ ওয়েস্ট সি ব্লকে সিআইসি অফিস সংলগ্ন রোহিঙ্গা শেল্টার ঘরে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সুত্রপাত শুরু হয়। বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে এনজিও আইআরসি ও হ্যান্ডিক্যাপ অফিস, এসএমএস অফিসসহ রোহিঙ্গাদের সেল্টারে আগুন লাগে।
তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট, এনজিও কর্মী ও রোহিঙ্গা ভোলান্টিয়ারের সহযোগিতায় প্রায় তিন ঘন্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। আগুনে পুড়ে এক রোহিঙ্গা শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ৫০০টি রোহিঙ্গা শেল্টার ও ৩টি এনজিও অফিসসহ ক্যাম্প-১ ওয়েস্ট সিআইসি অফিস ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
নিহত আবুল খায়েরের ভাতিজা মো. মুজিবুল্লাহ বলেন, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা জানি না। হঠাৎ দাউ দাউ করে আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়। আগুন বেড়ে যাওয়ায় ঘর থেকে আমার চাচা বের হতে পারেনি। ঘরে থাকা সব পুড়ে যায়। অধিকাংশ ঘর থেকে কোনো কিছু বের করা সম্ভব হয়নি।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন ধরলে আগুন নিয়ন্ত্রণে ৮টি ইউনিট কাজ করছি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি। পরবর্তী সময়ে সাড়ে ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা হয়। মোট ৫৪৬ টি রোহিঙ্গাদের শেল্টার পুড়ে যায়। আগুন লাগার ঘটনায় এক শিশুসহ দুজনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে।
মো. শাহীন/মাহফুজ/এমএ/