ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই দাঁতের চিকিৎসা ফ্রি! বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাতিয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ জমি নিয়ে বিরোধে রণক্ষেত্র খুলশি, আহত ১০ ফটিকছড়িতে মনজুর-সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহের সন্ধান এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া ঈশ্বরগঞ্জে বসতঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক লালমনিরহাটে ৩ সীমান্ত পয়েন্টে পুশইন ব্যর্থ, লোকজন ফিরিয়ে নিল বিএসএফ ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন চন্দনাইশে দ্রুতগামী অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু রাসুল (সা.) এর খাদ্য তালিকায় কেন দুধ ছিল সেরা নওগাঁ সীমান্তে ১৭ ব্যক্তিকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিল বিএসএফ গাইবান্ধায় দুই ভুয়া সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাইজদীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে পুলিশে দিল ছাত্রদল রংপুরে মাদকমুক্ত সামজ গঠনে শিক্ষার্থীদের শপথ অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল মহেশখালীতে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প গরমে কমেছে কাজের গতি নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন
Nagad desktop

জয়পুরহাটে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের গুরুত্ব নেই

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২২ এএম
আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৩২ এএম
জয়পুরহাটে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের গুরুত্ব নেই
রোগী কম থাকায় জয়পুরহাট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের বেডগুলো এভাবে ফাঁকা পড়ে থাকে। ছবি: খবরের কাগজ

নানান সমস্যা নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে জয়পুরহাটের মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে এখানে ওষুধের কোনো সরবরাহ নেই। নেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো যন্ত্রপাতি। একই সঙ্গে অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সেবার মান একেবারে ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবন জরাজীর্ণ হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই চলছে স্বাস্থ্যসেবা। তাই দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধান করে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করার দাবি রোগী ও তাদের স্বজনদের। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, একাধিক সংকট থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সমস্যাগুলো সমাধান করলে রোগীদের প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

জানা গেছে, মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৭৯ সালে জয়পুরহাট শহরের ধানমন্ডি এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয় সরকারি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র। এটি জয়পুরহাট মাতৃমঙ্গল হাসপাতাল নামেও পরিচিত। হাসপাতালটি এক সময় ব্যাপক সুনাম কুড়ালেও বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে চিকিৎসাসেবায় ধস নেমেছে। প্রায় আট মাস ধরে এখানে ওষুধের কোনো সরবরাহ নেই। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় বন্ধ রয়েছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা। আর জনবল সংকটসহ অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় দুই বছর ধরে এখানে কোনো অপারেশন হয় না। শুধু নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। এ ছাড়া পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। ভবনের অনেক জায়গায় ফাটল ধরেছে। কিছু জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে রোগীদের পাশাপাশি হাসপাতালে কর্মরতদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের দাবি রোগীসহ হাসপাতালটিতে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীদের। 

জয়পুরহাট শহরের সাহেবপাড়ার বাসিন্দা আবদুল আলিম বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছিলাম। তিনবার চেকআপ করালাম, কিন্তু একবারও ওষুধ পাইনি। মেশিন না থাকায় আলট্রাসনোগ্রামও করাতে পারিনি। রক্ত পরীক্ষাও করাতে পারিনি। এক কথায় এখানে ল্যাবই নেই। সরকার যদি দৃষ্টি দেয়, তা হলে হাসপাতালটি আবারও জেগে উঠবে।’

আমতলী এলাকার রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘এই হাসপাতালে আগে যে সেবা পাওয়া যেত, এখন তার কিছুই পাওয়া যায় না। আগে ওষুধ পাওয়া যেত, সিজার হতো- এখন কিছুই হয় না। এখানে ওষুধ লিখে দেয়। সেগুলো বাইরে থেকে কিনে নিয়ে আসতে হয়।’

পাঁচবিবির রতনপুর গ্রামের জোবাইদা খাতুন বলেন, ‘আমার ভাতিজি হাসপাতালে ভর্তি আছে। এখানে ভালো কোনো চিকিৎসা পাচ্ছে না। আমরা গরিব মানুষ, বাইরে থেকে ওষুধ কিনে খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। মনে হয় কখন যেন ভেঙে পড়বে। ভবনটি নতুন করে তৈরিসহ সব সমস্যা সমাধান করা হলে হাসপাতালটি আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসবে।’

এক রোগীর স্বজন বালিঘাটা গ্রামের আনিছুর রহমান বলেন, ‘মাতৃমঙ্গল হাসপাতালকে জয়পুরহাটে সবাই ভালো হাসপাতাল নামে চিনত। এখন হাসপাতালের নাম থাকলেও সেবার মান একেবারেই খারাপ। এখানে এলেই শুনি কিছুদিনের মধ্যে সব ঠিক হবে। কিন্তু তা আর হয় না। গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালটিকে কেউ গুরুত্ব দেয় না। এটি ভালো করে চালু করা হোক। অন্যথায় বন্ধ করে দেওয়া হোক।’

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স চম্পা পারভিন বলেন, ‘হাসপাতালে ওষুধ নেই। পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক নেই। এ জন্য সিজারিয়ান সেকশন থেকে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে। আগে রোগীরা অনেক ভিড় করলেও এখন আর রোগী তেমন আসে না। এ ছাড়া ভবনের অবস্থা খুব খারাপ। জনবল কম হওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফদের অনেক সময় ডাবল ডিউটি (অতিরিক্ত কাজ) করতে হয়। এতে রোগীদের পাশাপাশি হাসপাতালের স্টাফদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

হাসপাতালটির মেডিকেল অফিসার ডা. শাহানা পারভীন বলেন, ‘অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় এখানে দেড় বছর ধরে কোনো অপারেশন করতে পারছি না। জনবল সংকটের কারণে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছি না। ওষুধের সরবারহও নেই। যদি এসব সমস্যার সমাধান করা হয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি এসব বিষয়ে দৃষ্টি দেয়- তা হলে আমরা আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারব। এক সময় এই প্রতিষ্ঠানটি অনেক গুরুত্ব বহন করত।’

বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

বরগুনা সদর উপজেলায় বজ্রপাতে মো. মহিউদ্দিন নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে বরগুনা-পূরাকাটা মূল সড়কের পাশে মস্তুরটোনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. মহিউদ্দিন বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের কদমতলা বাজার এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজের কৃষিজমিতে কাজ করছিলেন মহিউদ্দিন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয় এবং তিনি বজ্রাঘাতের শিকার হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মহিউদ্দিন/আমান

সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহের সন্ধান

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:২৫ এএম
সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহের সন্ধান
সোনারগাঁয়ের একই দিনে দাফন হলো বাবা ও ছেলে। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলে উজ্জল হোসেনের (৩৬) ঝুলন্ত মরদেহ পেয়েছেন স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের দমদমা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজ্জ্বল দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। কয়েক বছর আগে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি একাই বসবাস করতেন।

পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাহজাহান মিয়া পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন। কিছুদিন আগে স্ট্রোক করার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহজাহান মিয়ার মৃত্যুর খবর জানাতে তার মেয়ের জামাতা জামাল হোসেন বাড়িতে গিয়ে উজ্জ্বলকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের জানালার একটি অংশ খুলে উজ্জ্বলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

এদিকে শুক্রবার সকালে শাহজাহান মিয়ার মরদেহ দাফন করা হয়। একইদিন বিকেলে দাফন করা হয় উজ্জ্বলের মরদেহ। বাবা-ছেলের একইদিনে দাফনের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত শেষে শুক্রবার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

ইমরান হোসেন/আজহার/

ঈশ্বরগঞ্জে বসতঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
ঈশ্বরগঞ্জে বসতঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মগটুলা ইউনিয়নের নাউরি গ্রাম থেকে সেলিম মিয়া (৩০) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (৬ জুন) নিজ বাড়িতে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

সেলিম মিয়া নাউরি গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাতে খাবার খাওয়ার পর সেলিম মিয়া তার স্ত্রীর কাছে নেশার জন্য টাকা চান। টাকা না পেয়ে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান। রাত সাড়ে তিনটায় বাড়িতে ফিরে পানি পান করে ঘুমাতে যান।

শুক্রবার (৬ জুন) ভোর ৫ টায় তার স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে দেখেন, ঘরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন সেলিম মিয়া। তার স্ত্রীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহ নিচে নামান।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সেলিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। 

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ফয়সল আহমেদ /খাদিজা রুমি/

হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে হরিপুর বিওপির বিপরীতে কাকরমনি বিএসএফ ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন- হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের মো. আলিমুল ইসলাম (৪৫) এবং কাদিরসুখা গ্রামের মো. করিম (৩৫)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, তারা ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময় ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের হাতে আটক হন। আটকের পর তাদের বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিজিবি।

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজীর আহম্মদ খবরের কাগজকে বলেন, দুই বাংলাদেশি নাগরিককে বিএসএফ আটক করেছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য বারবার সচেতন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।

নবীন হাসান/থিও

লালমনিরহাটে ৩ সীমান্ত পয়েন্টে পুশইন ব্যর্থ, লোকজন ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
লালমনিরহাটে ৩ সীমান্ত পয়েন্টে পুশইন ব্যর্থ, লোকজন ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের তিন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে জেলার তিনটি পৃথক সীমান্ত পয়েন্টে মোট ৩৩ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ১২ জন ছিলেন।

সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। ফলে দিনভর তারা শূন্যরেখা ও ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বুড়া সারডুবি সীমান্তের ৮৮৬ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় অবস্থান করা ১১ জনকে ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ছোট মধুসূদন ক্যাম্প সদস্যরা তারকাঁটার অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

একই রাতে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১২ জনকে বিএসএফ লাইট বন্ধ করে ভারতে সরিয়ে নেয়।

শনিবার (৬ জুন) ভোর আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপির  ৮৪৬/১-এস মেইন পিলার এলাকায় অবস্থান করা বাকি ১০ জনকেও সরিয়ে নেয় বিএসএফ।

বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত গেট খুলে ওই ব্যক্তিদের পিকআপভ্যানে করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানায়, সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা সবাইকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে তিনটি সীমান্ত পয়েন্টেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে রংপুর সেক্টর সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকা ও ফেন্সিং গেট ব্যবহার করে বাংলাদেশে লোকজন প্রবেশ করানোর চেষ্টা আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থি।

রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান, পিবিজিএম, বিজিওএম, পিএসসি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ লক্ষ্যে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এম আই বকুল/তামান্না রুপা/