রাজশাহীতে হঠাৎ করেই তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের। বাজারে চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না প্রয়োজনীয় গ্যাস। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত, নিম্ন আয়ের পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গেল সপ্তাহেও যে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটির দাম এখন ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন বিক্রেতারা। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি সিলিন্ডারে দাম বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩৫০ টাকা। তবুও সব দোকানে গ্যাস মিলছে না।
খুচরা বিক্রেতারা বলেন, ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সীমিত পরিমাণে গ্যাস এলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে দাম বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না।
বাজারে বর্তমানে মূলত ওমেরা ও ফ্রেশ গ্যাস ছাড়া অন্য কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার প্রায় অনুপস্থিত। বিকল্প না থাকায় ক্রেতারা বাধ্য হচ্ছেন বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে।
নগরীর উপশহর নিউ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, আগে ১ হাজার ২৫০ টাকায় গ্যাস কিনতাম। এখন ১ হাজার ৬০০ টাকা চাচ্ছে। তাও আবার সব দোকানে পাওয়া যায় না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এ অবস্থা খুবই কষ্টকর।
শালবাগান পাওয়ার হাউজ এলাকার গৃহিণী রিমা বেগম বলেন, বাসায় রান্না করতে গ্যাস ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু দোকানে দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছি না। কোথাও পেলেও দাম অনেক বেশি।
লক্ষ্মীপুর এলাকার গৃহিনী সুলতানা পারভীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাসের এমন সংকট হলে সরকারকে আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা তো রান্না বন্ধ রেখে থাকতে পারি না।
গ্যাসের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে হোটেল, চা দোকান ও ক্ষুদ্র খাদ্য ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। অনেকেই অভিযোগ করে জানান, বাড়তি দামে গ্যাস কিনে আগের দামে খাবার বিক্রি করতে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে খাবারের দাম বাড়ানোর চিন্তাও করছেন।
সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ইব্রাহীম হোসেন বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। গত কয়েকদিন ধরে দাম বাড়ছে। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এনায়েত/মাহফুজ