আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার পর ভারত থেকে চাল আসছে। উঠতে শুরু করেছে আমন ধানও। তার পরও কমছে না চালের দাম। এখনো মিনিকেট ৭২-৭৬ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। তবে ভারতীয় পেঁয়াজ কিছুটা কমে কেজি ১০০-১১০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ১৩০-১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ সবজি ৭০-৮০ টাকার ঘরে নেমেছে। বিভিন্ন বাজারে আগের মতোই ডিমের ডজন ১৪৫-১৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০-২০০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩০০-৩১০ টাকা কেজিতে বিক্রি বিক্রি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজার, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। একই সবজি বাজারভেদে কেজিতে ১৫ টাকা পর্যন্ত কম-বেশি বিক্রি হতে দেখা গেছে।
নতুন ধান উঠলেও কমেনি চালের দাম
বোরো ধান ওঠার পরও চালের দাম বাড়ছে। দাম কমাতে সরকার গত ৩১ অক্টোবর চাল আমদানিতে সম্পূর্ণ শুল্ক প্রত্যাহার করে। শুল্কমুক্ত ভারতীয় চাল পাইকারিতে কিছু কমেছে বলে দাবি করেছেন আমদানিকারকরা। তবে খুচরায় তেমন প্রভাব পড়েনি।
কৃষি মার্কেটের সোহেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার মো. মাহাবুবুর রহমান সোহেল খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার চাল আমদানিতে সম্পূর্ণ শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। কম দামে চাল আসছে। তবে খুব বেশি চাল আমদানি হয়নি। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ধান উঠতে শুরু করেছে। নতুন চাল না আসায় দাম কমেনি। আগের মতোই খুচরায় সব চালই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।’
টাউন হল বাজারের চাল বিক্রেতা অহিদুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগের মতোই মিনিকেট ৭০-৭৬ টাকা, আটাশ চাল ৬০-৬২ টাকা ও মোটা চাল ৫২-৫৫ টাকা কেজি। এখনো ভারতের চাল খোলা বাজারে আসেনি। এলে কম দামে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া চিনিগুড়া খোলা চাল ১৩০-১৪০ টাকা ও প্যাকেটজাত ১৭০-১৮০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।’
একই বাজারের মেসার্স চাঁদপুর ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. জসিমসহ বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলেন, আগের মতোই ছোলা ১৪০-১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, মসুর ডাল ১১০-১৩৫ টাকা, ২ কেজির প্যাকেট আটা ১০০-১৩০ টাকা, খোলা আটা ৪০ টাকা, ১ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৬৭ টাকা ও ৫ লিটার ৮০০-৮১০ টাকা, চিনি ১৩০-১৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
কিছুটা কমেছে পেঁয়াজের দাম
ভারত থেকে আমদানি করার ফলে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। ভারতের পেঁয়াজ ১০০-১১০ টাকা বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। এর প্রভাবে দেশি পেঁয়াজের দামও ১০ টাকা কমে ১৪০ টাকায় নেমেছে। বিভিন্ন বাজারের বিক্রেতারা বলেন, দেশি পেঁয়াজের মজুত শেষ হলেও ভারত থেকে আমদানির ফলে সরবরাহ বাড়ছে। এ জন্য দাম কমছে। তবে আগের মতোই বিদেশি রসুন ২৪০ ও দেশিটা ২৮০ টাকা। দেশি আদার কেজি ১৬০ টাকা ও চায়না আদা ২৮০ টাকা কেজি। নতুন আলু কিছুটা উঠলেও কমছে না দাম, বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা কেজিতে। তবে পুরোনো আলু ৭০ টাকা কেজি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
কমের দিকে সবজি
শীতের সবজি উঠতে থাকায় বাজারে কমছে দাম। সবজি বিক্রেতারা বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, শিমসহ অধিকাংশ সবজির দাম ১০ টাকা কমেছে। বেগুন ও শিমের কেজি ৮০-১২০ টাকায় নেমেছে। ঝিঙা ৭০-৮০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা, পটোল ৬০-৭০ টাকা, ধুন্দল ৬০-৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, শসা ৬০-৮০ টাকা, বরবটি, কচুরলতি ৮০ টাকা। গাজর ১৪০ টাকা, টমেটো ১৬০-২০০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের দামও কমে ১০০-১৬০ টাকা কেজি হয়েছে। ফুলকপি, লাউ, চালকুমড়ার পিস ৪০-৬০ টাকা। শাকের দামও কমেছে। পুঁইশাকের আঁটি ৪০ টাকা, লাল, পালং, কলমি ও পাটশাক ২০ টাকা আঁটি।
বাড়তি মুরগির দাম
বেঁধে দেওয়া দামে বাজারে ডিম ও মুরগি বিক্রি হচ্ছে না। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা ও সোনালি মুরগির দাম ২৭০ টাকা বেঁধে দেওয়া আছে। তার পরও বিভিন্ন বাজারে আগের মতোই ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩০০-৩১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। গরুর মাংসও আগের মতো ৭০০-৭৮০ টাকা কেজি এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি। তবে ডিমের দাম ১৪৫-১৫০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে।
কমেনি মাছের দাম
ইলিশ মাছ বাজারে পাওয়া গেলেও কমছে না দাম। মাছ বিক্রেতারা বলেন, রুই-কাতলার কেজি ৩৫০-৬০০ টাকা। চিংড়ি ৬০০-১২০০ টাকা, কাজলি ১০০০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৫০০-৮০০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙাশের কেজি ২০০-২৫০ টাকা, চিংড়ি ৭০০-১০০০ টাকা কেজি। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম ১৮০০-২০০০ টাকা কেজি। এক কেজির কম ওজনের দাম ১৫০০ টাকা ও জাটকা ১০০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।