ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের স্বপ্নের জাদুকর মুসিয়ালা পথপ্রদর্শক বাকুনা ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল পরাশক্তি জার্মানির সামনে পুঁচকে কুরাসাও ডার্কহর্স জাপান, সতর্ক নেদারল্যান্ডস ব্রাজিলের শুরুর একাদশে চমক অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের রুখে দিয়ে কাতারের বাজিমাত ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হারেনি ব্রাজিল নেইমারকে ছাড়াই নামছে ব্রাজিল, ভাঙছে ৪০ বছরের ঐতিহ্য পেনাল্টিতে এমবোলোর গোল, এগিয়ে সুইজারল্যান্ড ফিটনেস প্রশ্নে রোনালদো, ‘আমাকে খেলতে দেখেননি?’ ‘জাপানি মেসি’র সঙ্গী উয়েদা এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা?
Nagad desktop

আমন উঠেছে, আমদানিও হচ্ছে, তবুও চালের দাম বেশি

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৪১ এএম
আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২৪, ১১:৩০ এএম
আমন উঠেছে, আমদানিও হচ্ছে, তবুও চালের দাম বেশি
ভারত থেকে চাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাজারে উঠেছে নতুন ধানও। তারপরও কমছে না চালের দাম। ছবি: খবরের কাগজ

আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার পর ভারত থেকে চাল আসছে। উঠতে শুরু করেছে আমন ধানও। তার পরও কমছে না চালের দাম। এখনো মিনিকেট ৭২-৭৬ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। তবে ভারতীয় পেঁয়াজ কিছুটা কমে কেজি ১০০-১১০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ১৩০-১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ সবজি ৭০-৮০ টাকার ঘরে নেমেছে। বিভিন্ন বাজারে আগের মতোই ডিমের ডজন ১৪৫-১৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০-২০০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩০০-৩১০ টাকা কেজিতে বিক্রি বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজার, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। একই সবজি বাজারভেদে কেজিতে ১৫ টাকা পর্যন্ত কম-বেশি বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নতুন ধান উঠলেও কমেনি চালের দাম
বোরো ধান ওঠার পরও চালের দাম বাড়ছে। দাম কমাতে সরকার গত ৩১ অক্টোবর চাল আমদানিতে সম্পূর্ণ শুল্ক প্রত্যাহার করে। শুল্কমুক্ত ভারতীয় চাল পাইকারিতে কিছু কমেছে বলে দাবি করেছেন আমদানিকারকরা। তবে খুচরায় তেমন প্রভাব পড়েনি। 

কৃষি মার্কেটের সোহেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার মো. মাহাবুবুর রহমান সোহেল খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার চাল আমদানিতে সম্পূর্ণ শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। কম দামে চাল আসছে। তবে খুব বেশি চাল আমদানি হয়নি। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ধান উঠতে শুরু করেছে। নতুন চাল না আসায় দাম কমেনি। আগের মতোই খুচরায় সব চালই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।’

টাউন হল বাজারের চাল বিক্রেতা অহিদুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগের মতোই মিনিকেট ৭০-৭৬ টাকা, আটাশ চাল ৬০-৬২ টাকা ও মোটা চাল ৫২-৫৫ টাকা কেজি। এখনো ভারতের চাল খোলা বাজারে আসেনি। এলে কম দামে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া চিনিগুড়া খোলা চাল ১৩০-১৪০ টাকা ও প্যাকেটজাত ১৭০-১৮০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।’

একই বাজারের মেসার্স চাঁদপুর ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. জসিমসহ বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলেন, আগের মতোই ছোলা ১৪০-১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, মসুর ডাল ১১০-১৩৫ টাকা, ২ কেজির প্যাকেট আটা ১০০-১৩০ টাকা, খোলা আটা ৪০ টাকা, ১ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৬৭ টাকা ও ৫ লিটার ৮০০-৮১০ টাকা, চিনি ১৩০-১৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। 

কিছুটা কমেছে পেঁয়াজের দাম
ভারত থেকে আমদানি করার ফলে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। ভারতের পেঁয়াজ ১০০-১১০ টাকা বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। এর প্রভাবে দেশি পেঁয়াজের দামও ১০ টাকা কমে ১৪০ টাকায় নেমেছে। বিভিন্ন বাজারের বিক্রেতারা বলেন, দেশি পেঁয়াজের মজুত শেষ হলেও ভারত থেকে আমদানির ফলে সরবরাহ বাড়ছে। এ জন্য দাম কমছে। তবে আগের মতোই বিদেশি রসুন ২৪০ ও দেশিটা ২৮০ টাকা। দেশি আদার কেজি ১৬০ টাকা ও চায়না আদা ২৮০ টাকা কেজি। নতুন আলু কিছুটা উঠলেও কমছে না দাম, বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা কেজিতে। তবে পুরোনো আলু ৭০ টাকা কেজি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।  

কমের দিকে সবজি 
শীতের সবজি উঠতে থাকায় বাজারে কমছে দাম। সবজি বিক্রেতারা বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, শিমসহ অধিকাংশ সবজির দাম ১০ টাকা কমেছে। বেগুন ও শিমের কেজি ৮০-১২০ টাকায় নেমেছে। ঝিঙা ৭০-৮০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা, পটোল ৬০-৭০ টাকা, ধুন্দল ৬০-৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, শসা ৬০-৮০ টাকা, বরবটি, কচুরলতি ৮০ টাকা। গাজর ১৪০ টাকা, টমেটো ১৬০-২০০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের দামও কমে ১০০-১৬০ টাকা কেজি হয়েছে। ফুলকপি, লাউ, চালকুমড়ার পিস ৪০-৬০ টাকা। শাকের দামও কমেছে। পুঁইশাকের আঁটি ৪০ টাকা, লাল, পালং, কলমি ও পাটশাক ২০ টাকা আঁটি।

বাড়তি মুরগির দাম
বেঁধে দেওয়া দামে বাজারে ডিম ও মুরগি বিক্রি হচ্ছে না। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা ও সোনালি মুরগির দাম ২৭০ টাকা বেঁধে দেওয়া আছে। তার পরও বিভিন্ন বাজারে আগের মতোই ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩০০-৩১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। গরুর মাংসও আগের মতো ৭০০-৭৮০ টাকা কেজি এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি। তবে ডিমের দাম ১৪৫-১৫০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে। 

কমেনি মাছের দাম
ইলিশ মাছ বাজারে পাওয়া গেলেও কমছে না দাম। মাছ বিক্রেতারা বলেন, রুই-কাতলার কেজি ৩৫০-৬০০ টাকা। চিংড়ি ৬০০-১২০০ টাকা, কাজলি ১০০০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৫০০-৮০০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙাশের কেজি ২০০-২৫০ টাকা, চিংড়ি ৭০০-১০০০ টাকা কেজি। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম ১৮০০-২০০০ টাকা কেজি। এক কেজির কম ওজনের দাম ১৫০০ টাকা ও জাটকা ১০০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ
ছবি: সংগৃহীত

টানা চার দফা কমানোর পর দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৬ দফা।

আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

এর আগে, সবশেষ গত ১১ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

আমান/

মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রস্তাব রাখেন। 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে তা এই লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছেও নেই। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে।

এ বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশের প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাতে জনজীবনে একটু স্বস্তি ফিরে আসে।

নতুন বাজেট পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে নানা পদক্ষেপ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২২ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
নতুন বাজেট পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে নানা পদক্ষেপ
ছবি: খবরের কাগজ

পুঁজিবাজারকে আরও স্বচ্ছ, বহুমাত্রিক ও আস্থাভিত্তিক করতে মূলধন সংগ্রহ সহজীকরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। শিল্প, অবকাঠামো, নগর উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং সম্ভাবনাময় ব্যবসা শুধু ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করলে আর্থিক খাতের ওপর চাপ বাড়ে। তাই পুঁজিবাজারকে গভীর, বহুমাত্রিক, স্বচ্ছ ও আস্থাভিত্তিক করে উৎপাদনশীল খাত ও সম্ভাবনাময় কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা হবে। ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলো কেন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হয় না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত ব্যয়, একই ধরনের কাগজপত্র বারবার দাখিল এবং অনুমোদন ও পরিপালনসংক্রান্ত অস্পষ্টতা ধাপে ধাপে কমানো হবে। বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা অক্ষুণ্ন রেখে তালিকাভুক্তির মানদণ্ড আরও স্বচ্ছ, বাস্তবসম্মত এবং প্রবৃদ্ধিশীল কোম্পানির জন্য সহায়ক করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আইপিও প্রক্রিয়া সহজ, সময়াবদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। আবেদন, আনুষঙ্গিক দলিল, যাচাই-বাছাই, ফি পরিশোধ, সংশোধন ও অনুমোদনের ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন হবে। ইস্যুকারী কোম্পানি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হবে। যোগ্য ও পরিপক্ব কোম্পানির জন্য সরাসরি অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হবে।

পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে পেনশন তহবিল, বিমা প্রতিষ্ঠান, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি), মিউচুয়াল ফান্ড এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। নতুন এএমসি গড়ে তোলা, পেশাদার ফান্ড ম্যানেজমেন্ট জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তরের সুযোগ বাড়িয়ে মিউচুয়াল ফান্ডের আকার ও সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

ঘোষিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে করপোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে মিউনিসিপ্যাল বন্ড ইস্যুর ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বন্ড, সুকুক, অবকাঠামো ফান্ডের ব্যবহার বাড়ানো হবে, যাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমে। বিনিয়োগের সুযোগ ও বাণিজ্যিক কাঁচামালের পরিসর বাড়াতে দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কার্যকরভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদ্যমান লাইসেন্স কার্যকর করা, প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

দেশীয় কোম্পানির জন্য আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জে দুবার তালিকাভুক্তের সুযোগ এবং বাছাইকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। অনাবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ সহজ করতে এনআইটিএ হিসাব খোলা ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির তথ্য প্রকাশ, আর্থিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষা, শেয়ার মূল্যায়ন, ক্রেডিট রেটিং, আইপিও ব্যবস্থাপনা ও রিসার্চ রিপোর্টের মান উন্নত করা হবে। অডিটর, ভ্যালুয়ার, ইস্যু ম্যানেজার, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি, মার্চেন্ট ব্যাংকার, ব্রোকার ডিলার এবং অন্যান্য বাজার-মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করা হবে।

লেনদেনের পর শেয়ার ও অর্থ হস্তান্তর দ্রুত নিরাপদ করতে সেটেলমেন্টের সময় ধাপে ধাপে কমানো হবে। বর্তমানে টি+২ ভিত্তিক নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু থাকলেও তা টি+১-এ নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বাজার অবকাঠামো নিশ্চিত করে পরবর্তী ধাপে ১+০ বা একই দিনে নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, ব্যাংক, ব্রোকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্যব্যবস্থার সমন্বয় জোরদার করা হবে। পুঁজিবাজারসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা দ্রুত নিষ্পত্তি আদালত গঠনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে, যার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আইনি ক্ষমতা থাকবে। এতে বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়বে এবং বাজারে শৃঙ্খলা শক্তিশালী হবে।

এসব উদ্যোগ পুঁজিবাজারকে শুধু শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্র নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ, অবকাঠামো অর্থায়ন, সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তর এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করবে।

আইসিটিতে লক্ষ্য জিডিপির ১০ শতাংশ, স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
আইসিটিতে লক্ষ্য জিডিপির ১০ শতাংশ, স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব
ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নতুন বাজেটে ব্যাপক পরিকল্পনা ও বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইসিটি এবং টেলিকম খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জিডিপিতে এই খাতের অবদান আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমান ১-২ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর অব্যাহতি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মোটা অংকের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

বাজেট নথির তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থ বছরের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকা; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে ২ হাজার ৪৯ কোটি টাকা; বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ১৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দগুলো মূলত প্রযুক্তি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করার কাজে ব্যয় করা হবে।

বিশেষ করে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ 'স্টার্টআপ তহবিল' গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অর্থ নারী উদ্যোক্তা তৈরি, নারী উন্নয়ন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের বিকাশে ব্যবহৃত হবে।
প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার আমদানি শুল্ক কাঠামোতে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে।

ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ফ্ল্যাশ স্টোরেজ ডিভাইস এসএসডি আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বজায় রেখে অন্যান্য সকল শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি, সেবা আমদানি এবং অফিস ভাড়া গ্রহণের ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের দেওয়া সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার দেশব্যাপী সাশ্রয়ী ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে ১০০ এমবিপিএস থেকে ১ জিবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ১০ শতাংশ মানুষের কাছে ফাইভ-জি সেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং এআই- ড্রাইভেন ডেটা সেন্টার ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 


জয়ন্ত সাহা/এসএন

পরিবহন খাতের বরাদ্দে বড় কাটছাঁট, কমল ৪ বিভাগেরই

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
পরিবহন খাতের বরাদ্দে বড় কাটছাঁট, কমল ৪ বিভাগেরই
ছবি: সংগৃহীত

অবকাঠামোগত উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত পরিবহন খাতের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় বড় অঙ্কে কমানো হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিবহন খাতের বরাদ্দ হ্রাসের শীর্ষে রয়েছে সেতু বিভাগ (৩ হাজার ১১৪ কোটি টাকা)। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয় (২ হাজার ৩ কোটি টাকা)। এরপর যথাক্রমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ (১ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা) এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের (১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা) বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৬ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে, এ বছর বিভাগটির বরাদ্দ ১ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা কমছে। যদিও সংশোধিত বাজেটের ২৫ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকার তুলনায় নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বরাদ্দ বেশি, কিন্তু উন্নয়নের মূল ধারার বাজেট হ্রাসের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো নির্মাণে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপদ ও আধুনিক রেল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে রেলপথের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু নতুন অর্থবছরে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে পরিচালন খাতে ৪ হাজার ৫০১ কোটি এবং উন্নয়ন খাতে ৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, আগের বছরের তুলনায় বরাদ্দ কমছে ২ হাজার ৩ কোটি টাকা।

ব্যয় সাশ্রয়ী ও দক্ষ নৌপরিবহন খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বন্দর আধুনিকায়ন ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। নতুন অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয়ে ৮৭৪ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয়ে ৮ হাজার ২০৭ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই খাতে বরাদ্দ কমছে ১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে সেতু বিভাগে। এ বিভাগের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ১০ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয় ২ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সেতু বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় বরাদ্দ কমছে ৩ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের ৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকার তুলনায়ও এই বরাদ্দ বেশ কম।

যোগাযোগ খাত বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার যখন দেশকে মাল্টিমোডাল হাব হিসেবে গড়ে তোলা, হাজার কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড তৈরি এবং ইলেকট্রিক বাসের মাধ্যমে পরিবহন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তখন বাজেটে এই সংকোচন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিকে কতটা বাধাগ্রস্ত করবে, তা এখন দেখার বিষয়।’

বরাদ্দ কমলেও সরকার যোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বেশ কিছু মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে অগ্রাধিকার পেয়েছে সড়ক, রেলপথ ও নৌ-পথের সমন্বিত উন্নয়ন।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-এর আওতায় ১৪টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং ইলেকট্রনিক টোল ও স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড তৈরি, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রো ও মনোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, স্থানীয়ভাবে লোকোমোটিভ সংযোজন এবং সৈয়দপুর ও পাহাড়তলী ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার কমানোর ‘কর্ডলাইন’ প্রকল্প। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল নির্মাণের মতো মেগাপ্রকল্পগুলোতে গতি আনার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌপথ সচল রাখতে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জয়ন্ত সাহা/সালমান/