চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত পাঁচ মাসে সাড়ে ছয় লাখ টনেরও বেশি মসলাজাতীয় পণ্য খালাস হয়েছে। সরবরাহ বাড়ায় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জেও কমেছে দাম। কিন্তু খুচরা বাজারে মাসের ব্যবধানে সব ধরনের মসলা পণ্যে ৩০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে খাতুনগঞ্জে মসলাজাতীয় পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। তাই মসলার দাম আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। কয়েক মাস আগে কেজিপ্রতি জিরা ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৬২০ টাকায়। শুকনা লালমরিচ ৩৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনির কেজিতে ৩০ টাকা কমে ৪০০ টাকা, তেজপাতা কেজিতে ১০ টাকা কমে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে চায়না রসুনের কেজিতে ২০ টাকা কমে ১৮০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজে আরও ১০ টাকা কমে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস খবরের কাগজকে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে আদা, রসুন, পেঁয়াজের বাজার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে, আমাদের দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজও বাজারে আসতে শুরু করেছে। আমরা প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০ টাকা ও কেরালা আদা ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। তবে দাম কমলেও ওই অনুপাতে বেচাকেনা নেই।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম নিম্নমুখী। পর্যাপ্ত আমদানি হওয়ায় দাম কমেছে। বাজারে ভোগ্যপণ্যের কোনো সংকট নেই। কিন্তু আমাদের এখানে বেচাকেনা কমে গেছে। এটাই আমাদের জন্য এখন দুশ্চিন্তার বিষয়।’
অথচ নগরের হালিশহর, বহদ্দারহাট ও আগ্রাবাদ এলাকাসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মসলা পণ্য। খুচরা বাজারে মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি লবঙ্গে ১০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা, কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে জিরা ৭৫০ টাকা, গোলমরিচ কেজিতে ২০০ টাকা বেড়ে ৮০০ টাকা, কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে কালোজিরা ৩৭০ টাকা, জয়ত্রী কেজিতে ২৫০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৭০০ টাকা, দারুচিনি কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ৪৮০ টাকা, তেজপাতা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া প্রতি কেজি জিরা ৬৫০ টাকা ও এলাচ ৩ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরায় প্রতি কেজি চায়না রসুন ২২০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরের হালিশহর এলাকায় মসলা খুচরা বিক্রেতা মো. শরীফুল আলম জানান, খাতুনগঞ্জে মসলাসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম কমেছে। কিন্তু আমাদের গাড়ি ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি, দোকান ভাড়া আছে। একটু বাড়তি দরে বিক্রি না করলে লোকসান গুনতে হবে।
পাঁচ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৬,৬৯,৩০১ টন মসলা খালাস
গত পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৩০১ টন মসলা পণ্য খালাস হয়েছে। চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত পাঁচ মাসে ১ হাজার ১১৪ টন এলাচ, ৫ হাজার ৪২৬ টন দারুচিনি, ৫৭২ টন লবঙ্গ, ৭৬৬ টন জিরা, ১৫১ টন জয়ত্রী, ২০৫ টন জায়ফল, ৫৮৯ টন গোলমরিচ, ১৭ হাজার ২৭ টন আদা, ৫৫ হাজার ৫৬০ টন রসুন, ১৩ হাজার ২৮২ টন পেঁয়াজ, ৩ হাজার ১৮১ টন হলুদ খালাস করেছেন ব্যবসায়ীরা।
সরকারি ওই দপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শাহ আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘রোজা উপলক্ষে ভোগ্যপণ্য আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। রোজাকে ঘিরে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছোলা, মসলা ও ফলসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য বেশি আমদানি হবে। আশা করছি ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ আরও বাড়বে। রোজায় ভোগ্যপণ্যের সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি হবে না।’
নগরের নাসিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. রিদুয়ানুল করিম বলেন, ‘পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরায় এর কোনো ধরনের প্রভাব পড়তে আমরা দেখি না। তাহলে ভোগ্যপণ্যের দাম কমে আমাদের লাভ কী? এখন খুচরা ব্যবসায়ীরা নানা কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা দরকার।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘পাইকারি বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম কমলেও খুচরায় সবজিসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্য বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। সুষ্ঠু তদারকির অভাবে এমনটা হচ্ছে, যা খুব দুঃখজনক। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা পাইকারের পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ে বাজার তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করবে না- ততক্ষণ এ সমস্যার সমাধান হবে না।