গল্প : অতিথির স্মৃতি
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: লেখক দেওঘর থেকে কেন বাড়ি ফিরে যাওয়ার আগ্রহ খুঁজে পাননি?
উত্তর: অতিথির প্রতি মায়া জন্মানোর কারণে লেখক বাড়ি ফিরে যাওয়ার আগ্রহ খুঁজে পাননি।
বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘর বেড়াতে গিয়ে লেখক একটি পথের কুকুর (অতিথি) দেখতে পেয়ে খাবার দেন। ক্রমে ক্রমে তার প্রতি লেখকের মমতা জন্মায়। অতিথিও লেখকের খুব ভক্ত হয়ে ওঠে। তারপর একদিন লেখকের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে গেলে দেওঘরে লেখক নানা ছলে অতিরিক্ত দিন-দুই দেরি করার পর অবশেষে বিদায়ের সময়েও অতিথি রেলস্টেশন পর্যন্ত যায়। দুপুরে ট্রেন ছেড়ে দিলেও লেখকের যাত্রাপথের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। অবোধ প্রাণীটির প্রতি মমত্বের কারণে লেখক মনের মধ্যে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আগ্রহ খুঁজে পাননি।
প্রশ্ন: লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন-দুই দেরি করেন কেন?
উত্তর: বেড়াতে যাওয়ার একমাত্র পথের সঙ্গী অতিথি কুকুরকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগার কারণে লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন-দুই দেরি করেন।
‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখক পথে বের হলে সঙ্গী হয় একটি কুকুর। তিনি তার নাম দেন অতিথি। প্রতিদিন কুকুরটি বাড়ির গেটের সামনে লেখকের জন্য অপেক্ষা করে সঙ্গে যাওয়ার জন্য। কুকুরটির এ আচরণে লেখকের মনে মমত্ববোধ জেগে ওঠে। তাই দেওঘর থেকে বিদায় নেওয়ার দিন কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগায় লেখক নানা অজুহাতে দিন-দুই দেরি করেন।
আরো পড়ুন : বঙ্গভূমির প্রতি কবিতার ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর, ১১তম পর্ব
প্রশ্ন: ‘আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন করে সে আরামে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে’ লেখক উক্ত কথা কেন বলেন?
উত্তর: ‘আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন করে সে আরামে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে’ বলতে বিনা নিমন্ত্রণে কুকুরটি ভোজ খাওয়ার আশায় নিশ্চিত হয়ে বসে আছে, যা আতিথ্যের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে বোঝানো হয়েছে।
কুকুরটির সঙ্গে লেখকের সখ্য হওয়ার পরের দিন কুকুরটি লেখকের নিমন্ত্রণ রক্ষা করে। পরের দিনও একই সময় কুকুরটি লেখকের বাড়িতে এসে হাজির হয়। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারও বাড়িতে কোনো অতিথি অধিক সময় থাকা আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন বোঝানো হয়। কুকুরটি লেখকের বাড়ির সামনে দীর্ঘক্ষণ এবং আরামে নিশ্চিন্তে থাকায় লেখক আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
প্রশ্ন: ‘ফোলা পায়ের লজ্জা ঢাকতে বেচারাদের কত না যত্ন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘ফোলা পায়ের লজ্জা ঢাকতে বেচারাদের কত না যত্ন’ কথাটি বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত মেয়েদের সম্পর্কে বলা হয়েছে।
বিকেল বেলা লেখকের বাড়ির সামনে দিয়ে পা ফোলা ফোলা মেয়েরা দলবেঁধে যেত। বেরিবেরি রোগের কারণে তাদের পা ফুলে গেছে, যা পায়ের সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলেছে। পায়ের এ সৌন্দর্যহীনতা ও লজ্জা ঢাকতেই তারা গরমের দিনেও মোজা পরত। এ ছাড়া তারা মাটি পর্যন্ত লুটিয়ে কাপড় পড়ত। আলোচ্য কথাটির মাধ্যমে মেয়েদের লজ্জা ঢাকার কথাই বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন: দরিদ্র ঘরের মেয়েটিকে দেখে লেখকের সবচেয়ে বেশি দুঃখ হতো কেন?
উত্তর: দরিদ্র ঘরের মেয়েটির দুরবস্থা দেখে লেখকের সবচেয়ে বেশি দুঃখ হতো।
২৪-২৫ বছরের দরিদ্র মেয়েটির কোনো আত্মীয়স্বজন ছিল না। সে একা একা পথ চলত। তার দেহ ছিল শীর্ণ আর পাণ্ডুর, যেন শরীরে কোনো রক্ত নেই। মেয়েটির তিনটি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে। শীর্ণ মেয়েটিকে নিজের দেহ টেনে নিয়ে যেতেই অনেক কষ্ট করতে হতো। তবু তার কোলে একটা বাচ্চা ছিল। মেয়েটির এ দুরবস্থা দেখে লেখকের মনে বেশি দুঃখ হতো।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক, বাংলা
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর