গল্প : অতিথির স্মৃতি
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: লেখকের অতিথি কেন উপবাস থাকে?
উত্তর: লেখকের অতিথির উপবাস থাকার কারণ হলো তার আতিথ্যের প্রতি বাড়ির মালিনী ও চাকরদের আপত্তি ছিল।
কুকুরটিকে লেখক অতিথির মর্যাদা দিয়ে বেঁচে যাওয়া খাবার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, যা মালিনীর স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে। তাই সে কুকুরটিকে মেরে তাড়িয়ে দিত। এমনকি হাঁড়ি-পাতিলে উদ্বৃত্ত খাবার কুকুরটিকে না দিয়ে নিজে চেটে খেয়ে নিত। এ কারণেই লেখকের অতিথি উপবাস থাকে।
প্রশ্ন: কুলিদের সঙ্গে কুকুরটির ছোটাছুটি করার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কুলিদের সঙ্গে কুকুরটির ছোটাছুটি করার কারণ হলো- স্টেশনে লেখকের কোনো কিছু যেন খোয়া না যায়।
দেওঘর থেকে লেখকের যাওয়ার দিন কুলিরা ব্যস্ত হয়ে মালামাল গাড়িতে তুলতে লাগল। কুলিদের ব্যস্ততার সঙ্গে কুকুরটিও ছোটাছুটি করে একাত্মতা ঘোষণা করল। লেখকের ভালোবাসার প্রতিদানস্বরূপ সে যেন সাহায্য করতে চায় লেখককে। তাই কুকুরটি কুলিদের সঙ্গে খবরদারি করতে থাকে, যেন কোনো জিনিস খোয়া না যায়।
আরো পড়ুন : অতিথির স্মৃতি গল্পের ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব
প্রশ্ন: ‘হয়তো নিস্তব্ধ মধ্যাহ্নের কোনো ফাঁকে লুকিয়ে উপরে উঠে খুঁজে দেখবে আমার ঘরটা।’ কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য কথার মাধ্যমে অতিথি কুকুরটির প্রতি লেখকের মমতা প্রকাশ পেয়েছে এবং লেখকের প্রতি কুকুরের ভালোবাসার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে।
দেওঘরে অবস্থানকালে পথের কুকুরটির সঙ্গে লেখকের দারুণ সখ্য গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে যা লেখকের মনে একখণ্ড বেদনার সৃষ্টি করে। কারণ, লেখকের প্রস্থানের বিষয়টি কুকুরটা তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারবে না। তালাবদ্ধ গেটের সামনে অক্লান্তভাবে সে প্রতিদিন অপেক্ষা করবে। তারপর গোপনে লেখককে খুঁজবে। লেখকের প্রতি কুকুরটির এ নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কথা স্মরণ করেই লেখক ওপরের কথাটি বলেছেন।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক, বাংলা
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর