প্রবন্ধ রচনা
(গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশের পর)
শ্রমের মর্যাদা
ছাত্র জীবনে শ্রমের উপযোগিতা: শ্রম যে শুধু সমষ্টির জীবনকেই সুন্দর ও মহিমাময় করে তা নয়, ছাত্রজীবনে তার গুরুত্ব ব্যাপক। যে ব্যক্তি অলস তার জীবনে নেমে আসে অভিশাপ। ব্যর্থতার গ্লানিতে তার জীবন হয় লাঞ্ছিত। মানুষের, স্নেহ ভালোবাসার অঙ্গন থেকে হয় তার নির্বাসন। ছাত্রজীবনে পড়ালেখায় পরিশ্রমী হতে না পারলে তাকে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হতে হয়। কিন্তু তখন যদি সে পরিশ্রমী হতো তবে তার জীবনে নেমে আসতো সাফল্য। শ্রমের ক্লান্তি তার জীবনে বিশ্রামের মাধুর্য ছড়িয়ে দেয়। ছাত্ররা মেধাবী ও পরিশ্রমী বলেই অন্যের কাছে মর্যাদার আসন করে নিতে পারে।
শ্রমজীবী মনীষীর দৃষ্টান্ত: বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তি ও মনীষীদের জীবনে সাফল্যের কারণ পরিশ্রম। জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, বৈজ্ঞানিক আইনস্টাইন প্রমুখ ব্যক্তি এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শুধু মেধার জোরে কেউ বিখ্যাত হননি বা মনীষী খেতাবও তারা পাননি। পরিশ্রমের কারণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কখনো দুপুরে ঘুমাননি। নজরুল ইসলাম রুটির দোকানে কাজ করতেন। পরিশ্রমী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ও ওয়াশিংটন জগদ্বিখ্যাত। পরিশ্রম করতে গিয়ে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন সাদাসিদে জীবনযাপন করেছেন। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন আরও কঠোর পরিশ্রমী। তিনি বলেছেন, ‘নিজ পরিশ্রমে উপার্জিত রুজি সর্বোত্তম।’
আরো পড়ুন : শ্রমের মূল্য প্রবন্ধ রচনার ৯টি পয়েন্ট, ২য় পর্ব, নবম-দশম, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা ২য় পত্র
শ্রমের মর্যাদা: মানব জীবন শ্রমের মর্যাদা অনেক। মানুষের পরিশ্রমই মানুষকে পরিচয় করে দেয়, নির্দিষ্ট করে দেয় স্থান, মর্যাদা ও ক্ষমতা। পরিশ্রমের কারণেই মানুষ, মানুষের কাছে শ্রদ্ধাভাজন হয়ে ওঠে। আবার পরিশ্রম না করার ফলে সে হয় লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত। জনৈক মনীষী শ্রমবিমুখ মানুষকে ‘চোর’ বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পরিশ্রম না করে খায়, সে চুরি করে খায়।’
খোলাফায়ে রাশেদিন নিজ হাতে সংসারে যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতেন। প্রখ্যাত ইংরেজি সাহিত্যিক কার্লাইল শারীরিক শ্রমকে ‘পবিত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। শ্রমের প্রতি মর্যাদা আছে বলেই আমেরিকার অনেক মেধাবী ছাত্রই অন্যের বাড়িতে পরিচারকের কাজ করে নিজের লেখাপড়ার খরচ বহন করেন। প্রতিটি মানুষেরই জীবনে মর্যাদার প্রশ্নে পরিশ্রমের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিটি ধর্ম ও সব মনীষী শ্রম ও শ্রমিকের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। পরিশ্রম না করলে প্রাণীদেরও বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ত।
শ্রম ও কীর্তি: বিশ্বে সব কালজয়ী কীর্তি শ্রমের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। তাজমহল, রোম নগরী, চীনের প্রাচীর, মিসরের পিরামিড প্রভৃতি শত বছর ও হাজার হাজার মানুষের পরিশ্রমের ফসল। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান কাল পর্যন্ত যত সভ্যতার উদ্ভব ঘটেছে সবই শ্রমের ফলে। যে দেশগুলো আজ উন্নতির শিখরে আসীন, সেই উন্নতির পেছনেই রয়েছে জাতিগত শ্রম।
উপসংহার: শ্রমের গৌরব আজ দিকে দিকে। সুতরাং জীবনকে সুষ্ঠু, স্বাভাবিকভাবে বাঁচিয়ে রাখার জন্য শ্রম ছাড়া অন্য কোনো সহজ পথ নেই। তাই শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া ব্যক্তিগত তথা জাতিগতভাবে প্রয়োজন।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা
কবীর