ভ্রমণকাহিনিমূলক রচনা : প্রবাস বন্ধু
(গত ২৫ অক্টোবর প্রকাশের পর)
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: আবদুর রহমানকে ‘সকল কাজের কাজি’ বলা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আবদুর রহমান জুতা বুরুশ থেকে শুরু করে সব কাজ করতে পারে বলে তাকে ‘সকল কাজের কাজি’ বলা হয়েছে।
কাবুলে লেখকের কাজে সহায়তা করার জন্য আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাকে লেখকের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেওয়ার সময় জিরার সাহেব লেখককে বলেন, ‘এর নাম আবদুর রহমান, আপনার সব কাজ করে দেবে, জুতো বুরুশ থেকে খুনখারাবি।’ তাকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং কথা বলে লেখকও আশ্বস্ত হলেন যে, সে ভীমসেনের মতো রান্না করবে এবং বিপদে-আপদে উদ্ধার করবে। কিন্তু কখনো যদি সে বিগড়ে যায়, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ দেখেও তাকে মনে হয়েছে ‘সকল কাজের কাজি’।
প্রশ্ন: ‘আফগানিস্তানের সংস্কার’ বলতে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিমূলক রচনায় কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘আফগানিস্তানের সংস্কার’ বলতে গুরুজনদের প্রতি বিশেষ সম্মান দেখানোকে বোঝানো হয়েছে।
লেখকের সব কাজ করে দেওয়ার জন্য নিযুক্ত হয় আবদুর রহমান। বিরাট চেহারা সত্ত্বেও সে কখনো লেখকের চোখে চোখ রাখেনি। কারণ, আফগানিস্তানের একটি সংস্কার হলো গুরুজনদের দিকে চোখে চোখ রেখে তাকাতে নেই। তাই এই সংস্কারকে আফগানিস্তানি সংস্কার হিসেবে অভিহিত করা হয়।
প্রশ্ন: ‘দুটো চিনেমাটির ভাবরে যেন দুটো পান্তুয়া ভেসে উঠেছে’ কথাটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: লেখক আবদুর রহমানের চোখে ভাবের খেলা দেখে তার চোখকে পান্তুয়া বলে আখ্যায়িত করেছেন।
আবদুর রহমান সবসময় মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকত। কখনো তাকে খুব একটা চোখ ওঠাতে দেখা যায়নি। কিন্তু লেখক তার চোখে ভাবের খেলা গোপনে দেখেছেন। তখন লেখকের কাছে আবদুর রহমানের চোখ দুটিকে চিনেমাটির ডাবরে দুটো ভাসমান পান্তুয়া মনে হয়েছে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর