সপ্তম অধ্যায় : রাসায়নিক বিক্রিয়া
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ধনাত্মক জারণ সংখ্যা কী?
উত্তর: ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হলে মৌলের জারণ সংখ্যাকে ধনাত্মক জারণ সংখ্যা বলে।
প্রশ্ন: ঋণাত্মক জারণ সংখ্যা কী?
উত্তর: ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হলে মৌলের জারণ সংখ্যাকে ঋণাত্মক জারণ সংখ্যা বলে।
প্রশ্ন: মৌলের জারণ সংখ্যা মূলত কীসের সঙ্গে সম্পর্কিত?
উত্তর: মৌলের জারণ সংখ্যা মূলত তার ইলেকট্রন বিন্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রশ্ন: প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া কী?
উত্তর: কোনো যৌগের একটি মৌল বা যৌগমূলককে অপর কোনো মৌল বা যৌগমূলকের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করে নতুন যৌগ উৎপন্ন করার প্রক্রিয়ার নাম প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া।
প্রশ্ন: অ্যালডিহাইডের জারণে কী উৎপন্ন হয়?
উত্তর: অ্যালডিহাইডের জারণে জৈব অ্যাসিড উৎপন্ন হয়।
প্রশ্ন: উভমুখী বিক্রিয়া বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যদি কোনো বিক্রিয়া একসঙ্গে সম্মুখদিক ও বিপরীত দিক থেকে সংঘটিত হয়, তবে ওই বিক্রিয়াকে উভমুখী বিক্রিয়া বলে। উভমুখী বিক্রিয়ায় বিক্রিয়কগুলো কখনোই সম্পূর্ণরূপে উৎপাদে পরিণত হয় না। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে বিক্রিয়কের একটি অংশমাত্র উৎপাদে পরিণত হয়। উভমুখী বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক এবং উৎপাদের মধ্যে উভমুখী তীর চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। যেমন–হাইড্রোজেন ও আয়োডিনকে একটি আবদ্ধ পাত্রে নিয়ে উত্তপ্ত করা হলে কিছুটা বিক্রিয়ক হাইড্রোজেন আয়োডাইড উৎপন্ন করে।
আরো পড়ুন : রাসায়নিক বিক্রিয়া অধ্যায়ের ২৫টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এসএসসি পরীক্ষার রসায়ন
প্রশ্ন: তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া কী?
উত্তর: যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয় তাকে তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া বলে। যেমন–হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেনের বিক্রিয়ায় অ্যামোনিয়া উৎপন্ন হয়। এতে তাপ উৎপন্ন হয়।
প্রশ্ন: তাপহারী বিক্রিয়া কী?
উত্তর: যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপ শোষিত বা গৃহীত হয় তাকে তাপহারী বা তাপগ্রাহী বা তাপ শোষক বিক্রিয়া বলে। যেমন–নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেনের সংযোগে নাইট্রিক অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয় এবং তাপ শোষিত হয়।
N2 + O2 = 2NO 180 kJ
প্রশ্ন: রেডক্স বিক্রিয়া কী?
উত্তর: রেডক্স অর্থ জারণ-বিজারণ। যে বিক্রিয়া ইলেকট্রন স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয় তাকে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া বা রেডক্স বিক্রিয়া বলে। এতে বিক্রিয়কের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন হয়।
প্রশ্ন: জারণ সংখ্যা কী?
উত্তর: যৌগ গঠনের সময় কোনো মৌল যত সংখ্যক ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্মক আয়ন উৎপন্ন করে অথবা যত সংখ্যক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন উৎপন্ন করে তাকে মৌলের জারণ সংখ্যা বলে। নিরপেক্ষ বা মুক্ত মৌলের জারণ সংখ্যা শূন্য (০) ধরা হয়। ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হলে মৌলের জারণ সংখ্যাকে ঋণাত্মক জারণ সংখ্যা এবং ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হলে মৌলের জারণ সংখ্যাকে ধনাত্মক জারণ সংখ্যা বলে।
প্রশ্ন: জারক ও বিজারক কাকে বলে?
উত্তর: জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সময় যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক বলে। O2, H2O2, O2, HNO3, গাঢ় H2SO4, হ্যালোজেন (F2, Cl2, Br2, I2), MnO2, KMnO4, K2Cr2O7, KClO3 প্রভৃতি জারক পদার্থ। H2, H2S, C, CO, SO2, Na, Mg, SnCl2, HI, HBr, NH3, HNO2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ।
প্রশ্ন: ইলেকট্রোপ্লেটিং কাকে বলে?
উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় লোহা, তামা, পিতল প্রভৃতি ধাতু বা ধাতু সংকরের তৈরি দ্রব্যের ওপর নিকেল, জিংক, সিলভার, গোল্ড, ক্রোমিয়াম প্রভৃতি ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে ইলেকট্রোপ্লেটিং বলা হয়। কোনো কোনো ধাতুর তৈরি জিনিসপত্রকে জলবায়ু এবং বায়ুর অক্সিজেনের প্রকোপ থেকে রক্ষা করা এবং দেখতে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য ওই জিনিসপত্রকে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর