সারমর্ম লিখন
১। বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর ................... সন্দেহ নাই মাত্র।
সারমর্ম: পৃথিবীর প্রকৃতি রূপে অপরূপ। প্রকৃতিতে আমরা অনেক কিছু দেখতে পাই। এসব সূত্র বিশ্লেষণ করে আনন্দ সহকারে শিক্ষা লাভ করে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করতে পারি, তাই প্রকৃতিই সবচেয়ে বড় শিক্ষালয়। আর আমরা সবাই তার ছাত্র।
২। নদী কভু পান নাহি করে ....................... ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।
সারমর্ম: পরের জন্য জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই রয়েছে মানুষের চরম এবং পরম সার্থকতা। প্রকৃতির সবকিছুই পরের জন্য উৎসর্গ করে। মহৎ ব্যক্তিরাও বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির মতো পরের কল্যাণের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন।
৩। সব সাধকের বড় সাধক আমার .............. চূর্ণ হউক ভণ্ড নেতার মান।
সারমর্ম: চাষিরা আমাদের সবার শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। রুক্ষ মাটি কর্ষণ করে ফসল ফলায় তারা। আর সে ফসল ভক্ষণ করে আমরা জীবন ধারণ করি। তারা আমাদের সবার আহার জোগায়। তাই তারা সব মুনি, ঋষি, রাজা, নেতার চেয়েও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। আমরা তাদের অবদানের জন্য শ্রদ্ধায় মাথা নত করি।
আরো পড়ুন : ১০টি সারমর্ম লিখন নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা ২য় পত্র
৪। আমি মরু কবি গাহি সেই বেদে বেদুঈনদের ........................রচে যাই, বন্দনা করি তারে।
সারমর্ম: যারা সংগ্রামমুখর জীবন অতিবাহিত করে এবং প্রতিনিয়ত সংগ্রামের মধ্যে বেড়ে ওঠে, যাদের জীবন উৎসর্গিত বর্ষার ফলার মুখে, কূপমণ্ডূকের দল তাদের সম্পর্কে অনেক কটুকথা বললেও তাদের জীবনই সার্থক এবং তারা সবার কাছে পূজ্য।
৫। আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা .......................... বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
সারমর্ম: মানবজীবন তাৎপর্যময়। জীবনে আঘাত-কষ্ট আসবেই। কিন্তু ‘আঘাতের প্রতিদান আঘাত’ মানব মূল্যবোধের পরিপন্থী। বরং প্রেম-ভালোবাসা, সেবা ও মানবিকতার মাধ্যমে শত্রুর হৃদয় জয় করাই সর্বোত্তম পন্থা।
৬। আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে ........................ তবু নতুন কিছু তো করে।
সারমর্ম: যৌবন অমিত শক্তির আধার। বাধার প্রাচীর ভেঙে তরুণরা সামনে এগিয়ে যায়। বিপদকে তারা হাসিমুখে বরণ করে। কষ্টে তারা ব্যথিত হয় কিন্তু পরাজিত হয় না। সংকীর্ণতা আর বাধার শৃঙ্খল গুঁড়িয়ে তারা নতুন ভুবন গড়ায় সদা ব্যস্ত।
৭। অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ................ খাদ্য আজ তাঁদের হৃদয়।
সারমর্ম: পৃথিবীর সবকিছুই আজ উল্টো পথে চলছে। যারা সৃষ্টিহীন, নীরস তারাই আজ সমাজের কেন্দ্রবিন্দুতে। মহৎ কর্ম, শিল্প-সাধনাও আজ তাদের হাতে। মিথ্যাই আজ সত্য প্রচারের দায়িত্ব পালন করছে। সুস্থ পৃথিবীতে যেন অরাজকতা নেমে এসেছে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর